মাছ চাষ করে লাখপতি ফয়সাল

নরসিংদীর পলাশ উপজেলার জিনারদীর মধ্য পারুলীয়া গ্রামের মাহাতাব উদ্দিন ফয়সাল মাছ ও মাছের পোনা চাষ করে আজ লাখপতি। ঘুড়েছে তার ভাগ্যের চাঁকা, পেয়েছেন সম্মান। মৎস চাষে বিশেষ অবদান রাখায় তিনি ২০০৯ সালে উপজেলা সংসদ সদস্যর হাতে বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট ও ২০১৬ সালে ২৫ জুলাই নরসিংদীর জেলা প্রশাসকের নিকট থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট গ্রহণ করেন। বর্তমানে তার পুকুরে চাষকৃত বিভিন্ন প্রকারের মাছ ও পোনা এলাকার চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান হচ্ছে। মধ্যপারুলীয়া গ্রামের হারিস উদ্দিনের ছেলে মাহাতাব উদ্দিন ফয়সাল বলেন, স্কুল জীবনে শখের বসে ৪ বিঘা জমিতে  দেশীয়, মাছের চাষ শুরু করেন। আর সেই থেকে শুরু হওয়া মাছ চাষের যুদ্ধের এক সফল মানুষ আজকের এই ফয়সাল। পারুলীয়া গ্রাম সহ আশেপাশের গ্রামের ৩২০শতাংশ জমি নিয়ে উৎপাদন করে আসছেন বিভিন্ন প্রকারের বড় মাছ ও মাছের পোনা। 
তিনি বলেন, বর্তমানে তার পুকুরে হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন রকমের দেশি জাতের মাছ যেমন-দেশি মাগুর, কৈ, শিং, পাবদা, পাঙ্গাস, কাতল, রুইসহ সব রকমের মাছের পোনা উৎপাদন করা হচ্ছে। পোনার সঙ্গে তিনি চাষ করছেন বড় বড় মাছ। তার পুকুরে উৎপাদিত মাছ নিজের এলাকার চাহিদা পূরণ করে চালান হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা এসে তার কাছ থেকে পোনাসহ বিভিন্ন প্রকারের মাছ কিনে নিয়ে যায়।  প্রতি বছর সব খরচ বাদে ৫লাখ টাকা লাভ করছেন বলে ফয়সাল জানান। তার পুকুরে কর্মসংস্থান রয়েছে এলাকার বেকার ১০জন লোকের যারা কাজের পাশাপাশি শিখছেন মাছ চাষের নিয়ম। বর্তমানে মাছ চাষ করে তিনি অস্বচ্ছল জীবন থেকে আজ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে স্বচ্ছল ভাবে জীবন-যাপন করছেন। পাশাপাশি তিনি ২ হাজার সিটের একটি পল্ট্রি খামারও গড়েছেন। 
তিনি বলেন, মাছ চাষে যেমন লাভ আছে তেমনি আছে লোকসান। মাছ চাষের প্রথম দিকে তিনি কিছুই জানতেন না। আশেপাশের মাছ চাষীদের কাছ থেকে তিনি পরামর্শ নিতেন। পরবর্তিতে তিনি উপজেলা মৎস্য অফিসের সার্বিক সহযোগিতা পেয়েছেন। তিনি আরও বলেন, বড় মাছ চাষের চেয়ে পোনা চাষে লাভ বেশি তাই নরসিংদীর এক মৎস কর্মকর্তার পরার্মশে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সরকারী হ্যাচারি থেকে রেনু পোনা সংগ্রহ করে শুরু করেন পোনা চাষ। ১ থেকে দেড় মাসে মধ্যে তা বিক্রির উপযোগী হয় তাই সময়ও কম লাগে। 
তিনি বলেন, রেনু পোনা গুলোকে প্রথমে একটি ছোট হ্যাচারি পুকুরে রাখা হয় এরপর ১৭ থেকে ১৮ দিন পর তা বড় আকারের পুকুরে ছাড়া হয়।  তিনি আরও বলেন, এক লাখ টাকা পোনা চাষে ব্যায় করলে তা থেকে তিন লাখ টাকা লাভ করা যায়। দৃঢ় মনোবল, কঠিন পরিশ্রম আর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের সার্বিক সহযোগিতায় আজ তার মাছ ও পোনা চাষের এই সফলতা। স্বপ্ন তিনি একদিন এই মাছ চাষ প্রকল্পকে আরও অনেক বড় করবেন। তার প্রকল্পে কাজ করবে এলাকার অসহায় দিনমজুররা। 
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রুবানা ফেরদৌস বলেন, মাছ চাষী ফয়সালের সফলতার পেছনে রয়েছে তার ঐকান্ত নিরলস প্রচেষ্টা। তিনি পলাশ উপজেলায় সফল মানুষের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। উপজেলা মৎস্য অফিস তাকে সব সময় সার্বিক পরামর্শ দিয়ে আসছে।


কৃষি সংস্থার সবাই যেন একেকজন
মেধা, ইচ্ছা শক্তি আর অভিজ্ঞতা থাকলে কোন বাধাই কাউকে থামিয়ে
বিস্তারিত
পীরগঞ্জের রাজা নীলাম্বরের রাজধানীকে পর্যটন
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা ইউনিয়নের রাজা নীলাম্বরের রাজধানীকে পর্যটন কেন্দ্র
বিস্তারিত
রংপুরে কৃষকরা শীতের আগাম সবজি
রংপুরের কৃষকরা এখন শীতের আগাম সবজি চাষে উঠে-পড়ে লেগেছে। আগাম
বিস্তারিত
ড্রাগনে রঙিন স্বপ্ন দেখছেন নকলার
ড্রাগন ফল চাষে রঙিন স্বপ্ন দেখছেন শেরপুরের নকলা উপজেলার অনেক
বিস্তারিত
দেশি মাছ চাষে লাখপতি নকলার
গত এক দশক ধরে শেরপুরের প্রতিটি উপজেলায় মাছ চাষ বাড়ছে।
বিস্তারিত
গাভী পালন করে স্বাবলম্বী কচুয়ার
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার পথ দক্ষিণে
বিস্তারিত