বিচারপতি সোনিয়া সোটোমায়ার। জন্ম ২৫ জুন ১৯৫৪। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিমকোর্টের সহযোগী বিচারপতি। দেশটির সুপ্রিমকোর্টের ইতিহাসে তিনি প্রথম হিস্পানিক এবং তৃতীয় নারী বিচারপতি। ২২ মে দক্ষিণ কিংসটনের রোড আইল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ডক্টর অব ল’ গ্রহণ করেন। বিশ্ববি

‘উহ্’ সময়কে আলিঙ্গন কর- সোনিয়া সোটোমায়ার

আজকের দিনটি তোমাদের প্রত্যেকের জীবনে এক অসাধারণ দিন। কারণ, তোমরা যা শেষ করতে চেয়েছিলে তা শেষ করতে পেরেছ। আমি খুব গর্বিত যে, আমি তার সাক্ষী হলাম। এ দিনটি শুরু, কোনো পরিসমাপ্তি নয়। শেষ ক’বছরে তোমরা যে অভিজ্ঞতা এবং স্মৃতি জোগাড় করেছ, এখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সেগুলো তোমাদের সহায়তা করবে।
জীবনের ‘উহ্’ সময়টা খুবই মূল্যবান। এটাকে যত বেশি লালন করতে পারবে পরবর্তী জীবনে তত বেশি ধরা দিবে ‘আহ্’ সময়টা। জ্ঞানী হয়ে ওঠার কালে ভুল, ব্যর্থতা, বিমূঢ়তা, হতাশা জরুরি অনুষঙ্গ। ‘খুব ভালো’ অভিজ্ঞতার চেয়ে ‘খুব একটা ভালো না’ অভিজ্ঞতাগুলো থেকে আমরা বেশি শিখতে পারি।
তুমি যখন প্রথমবারের মতো ‘আহ্’ সময়কে অর্জন করবে, তখন তোমার পেছনে পড়ে থাকবে ‘উহ্’ সময়টা। ‘আহ্’ সময়টা তোমাকে মনে করিয়ে দেবে এর উল্টোটা (উহ্ সময়টা), কী উদারভাবে শিক্ষা দিয়েছে তোমাকে। ওই সময়ে তোমার ভুল সিন্ধান্ত এবং ভুল শুরু বর্তমানের তোমাকে এগিয়ে দিচ্ছে ক্রমান্বয়ে। সব সময় মনে রাখবে, অন্যকে এভাবে চ্যালেঞ্জ নিতে শেখানোটা তোমার দায়িত্ব, যেটা তুমি পার করে এসেছ।  
স্বপ্ন খুব সহজেই সত্যি হয় না, কারণ এর অপর পাশে থাকে ভাগ্য এবং সহজাত প্রতিভা। এটা (স্বপ্ন) তখনই সত্যি হয়, যখন এটাকে সত্যি করার জন্য আমরা কঠিন পরিশ্রম করি। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে আলাদা করে সজ্ঞায়িত কর, কাজে লাগাও।
আমি শিখেছি কীভাবে বিমূঢ়তাকে ডিঙ্গিয়ে যেতে হয়। কি ঘটল, সেদিকে তাকিয়েছি এবং চিন্তা করেছি, ঘটনাটা আমাকে কি শিখিয়ে গেল। তোমাদেরও উচিত সেটা করা। জগতে এমন কোনো ব্যাপার নেই যেখান থেকে আমরা শিখতে পারি না, এমনকি সেটা যদি হয় পার্টিতে গিয়ে বেশি খেয়ে ফেলা কিংবা পরীক্ষার হলে দেরিতে পৌঁছানো।   
আমি তোমাদের আহ্বান করছি, এ অনুষ্ঠান শেষে বেরিয়ে পড় বড় কোনো চাকরির সাক্ষাৎকারের উদ্দেশ্যে। যদি সহজ কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারায় বিমূঢ়তার সঙ্গে নেতিয়ে পড়, তাতেও কোনো সমস্যা নেই। কঠিন পরিশ্রম কর, কেননা শুধু আত্মবিশ্বাস কখনও সাফল্যে অনূদিত হয় না।  
সামান্য ভীত হও। চ্যালেঞ্জগুলোকে উত্তেজনা নিয়ে গ্রহণ কর। আমি আমার জীবনের প্রতিটি পর্বকে এভাবেই গ্রহণ করেছি। এমনকি যখন সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি, তখনও। কিন্তু আমি আশাবাদী ছিলাম। আমার অভিজ্ঞতাগুলো আমার পাশে ছিল, সেগুলো আমাকে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে সাহায্য করেছে।
তোমার এতদিনের পথচলাকে যারা মসৃণ করেছেন, তাদের প্রতিদান দাও, সাহায্য কর। আমি এখানে এসেছি, কারণ আমি তোমাদের সাহায্য করতে চাই। একইভাবে আমাকে সম্মান করে তোমরা আমাকে সাহায্য করছ। এটা মনে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, তুমি কোথা থেকে এলে এবং তোমার উত্থানটা কী উপায়ে হয়েছিল, কারা তোমাকে সাহায্য করেছিল। একটি শুঁয়োপোকা প্রজাপতি হয়েই তার মূলের দিকে ফিরে আসে!
আমি আশাকরি, তোমরা এখান থেকে তোমাদের স্মৃতিতে জীবনব্যাপী গর্ব নিয়ে বের হবে, সেটা ভালো-মন্দ যাই হোক। যদি ‘উহ্’ নিয়েও বেরোতে হয় তাহলে তাই নিয়েই বেরোবে। কঠিন পরিশ্রম কর, এটাই সাফল্যের চাবি। বড় স্বপ্ন দেখ, নতুন কিছু শেখার প্রক্রিয়াকে উপভোগ কর, অনেক অর্জন কর।
তোমাদের সবাইকে ধন্যবাদ।


আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ পেলেন ৯০ প্রাণী
পোলট্র্রির বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, সঠিকভাবে রোগবালাই নির্ণয়, চিকিৎসা এবং রোগ
বিস্তারিত
সবার উপরে বাবা-মা
যে-কোনো মানুষের গায়ে হাত তোলাই অপরাধ। আর সন্তান হয়ে বাবা-মায়ের
বিস্তারিত
স্মৃতির মানসপটে যুক্তরাজ্য সফর
বিদেশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়তো অনেকেরই হয়ে থাকে। তবে কলেজের প্রতিনিধি,
বিস্তারিত
ব্যবসার ধারণা : গড়তে চাইলে
নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা
বিস্তারিত
৭৫ শতাংশ বৃত্তিতে আইটি ও
বিভিন্ন কারণে যারা আইটিতে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত তাদের
বিস্তারিত
লক্ষ্য যখন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিপরীতে ক্রমাগত উর্বরা জমির পরিমাণ কমছে। জনসংখ্যার এ
বিস্তারিত