ফেসবুক ইদানীং সর্বশেষ খবর পাওয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনলাইন সংবাদ মাধ্যমগুলো তো বটেই, কাগজের মুদ্রণের জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোর অনলাইন সংস্করণগুলোও ফেসবুকের মাধ্যমে সর্বশেষ সংবাদগুলো পাঠকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে

ফেসবুকের গঠনমূলক ব্যবহার

ফেসবুক বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের জীবনযাপনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফেসবুক ছাড়া এখন যেন শিক্ষার্থীদের জীবন কল্পনাই করা যায় না। ইন্টারনেটের সুবিধার আওতাভুক্ত অধিকাংশ শিক্ষার্থী এখন নিয়মিত ফেসবুক ব্যবহার করে থাকে। বাংলাদেশের জনজীবনে ফেসবুকের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির ঢেউ সময়ের সঙ্গে শিক্ষার্থীদেরও ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে। বর্তমানে ক্লাস ও পড়াশোনা সংক্রান্ত আপডেট খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই ফেসবুকে পাওয়া যায়। অবশ্য ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষার্থীদের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্যই ফেসবুকের উদ্ভব ঘটিয়েছিলেন।
শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপের মাধ্যমে শুধু নিজেদের ব্যাচমেটদের মধ্যেই শিক্ষাগত কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখে না, বর্তমানে বিসিএসসহ বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার পড়াশোনাও তারা গ্রুপ স্টাডির মতো ফেসবুকেই করে থাকে । ইংরেজি ও গণিত, সাধারণ জ্ঞানসহ বিভিন্ন মৌলিক বিষয়ের চর্চার জন্য তারা ফেসবুককে উপযুক্ত মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে। ফেসবুকের এমন বহুবিধ ব্যবহার যেন ডিজিটাল বাংলাদেশেরই প্রতিচ্ছবি। এখন শুধুমাত্র বেসরকারি  প্রতিষ্ঠান নয়, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যাবহারের নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে চাকরি প্রার্থীদের চাকরি প্রদানের ক্ষেত্রে ফেসবুকের মাধ্যমে নেটওয়ার্কিংয়ের দক্ষতা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। যার ফলে এ যুগে ফেসবুক বিমুখ হয়ে থাকার সুযোগটি কমে আসছে।
তাছাড়া ফেসবুক ইদানীং সর্বশেষ খবর পাওয়ার একটি প্লাটফর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনলাইন সংবাদ মাধ্যমগুলো তো বটেই, কাগজের মুদ্রণের জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোর অনলাইন সংস্করণগুলোও ফেসবুকের মাধ্যমেই সর্বশেষ সংবাদগুলো পাঠকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। তবে নীতিমালা না থাকায় অনেক অনলাইন সংবাদ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে থাকে।
ফেসবুক বিকল্প সংবাদপত্র হিসেবেও ভূমিকা রাখছে। মানুষ ফেসবুকে সাহিত্যচর্চা করছে, তাদের দৈনন্দিন যাপিতজীবনের মনোভাব ও সামাজিক বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য বিভিন্নভাবে তাদের মতামত ফেসবুক স্ট্যাটাসে শেয়ার করছে। যে কোনো বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা অথবা সবাইকে সচেতন করার মাধ্যমে সামাজিক আন্দোলন তৈরিতেও ফেসবুক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে। ফেসবুক ব্যবহার নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মন্তব্য জানতে গিয়ে উঠে আসে ফেসবুক ব্যবহার সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য কিছু তথ্য।
আবদুস সবুর তানুর মতে, শিক্ষার ক্ষেত্রে ফেসবুক খুবই কার্যকরী একটি মাধ্যম। এটা শুধু পারস্পরিক যোগাযোগ নয়, বিভিন্ন জ্ঞানভিত্তিক গঠনমূলক চিন্তাভাবনা সবার সঙ্গে শেয়ার করার দারুণ একটি প্লাটফর্ম। ফেসবুক শুধু পড়াশোনার ক্ষেত্রেই সাহায্য করে না বরং ই-কমার্সের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতেও সহায়তা করে।
ঈশিতা ম-লের মতে, ভার্সিটির ক্লাস সংক্রান্ত আপডেট ফেসবুকের মাধ্যমে খুব দ্রুত সবার কাছে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয়। যা মোবাইলের ফোন কল ও এসএমএসের মাধ্যমে জানানো অনেক সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। তবে উম্মে হানি লাবণী একটু ভিন্ন মত পোষণ করে জানায়, ফেসবুক আসলে পড়াশোনার জন্য উপযুক্ত জায়গা নয়। এটি বরং দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বন্ধুদের সঙ্গে আবারও সহজে যোগাযোগ রাখার একটি প্ল্যাটফর্ম। আর ইদানীং মোবাইলে কথা বলার পরিবর্তে বন্ধুদের সঙ্গে বরং ফেসবুকেই বেশি যোগাযোগ হয়ে থাকে। লাবণী মনে করে, ফেসবুক পড়াশোনার জন্য উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করে থাকে।
মেহেদি হাসান দিনারও জানায়, ছাত্রজীবনের জন্য ফেসবুক আসলে জরুরি কিছু নয়। তবে ইদানীং প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে শিক্ষা ছড়িয়ে দেয়ার প্রয়াসে ফেসবুকে টেন মিনিটস স্কুলের মত ভালো কিছু কাজও হচ্ছে। তবে ফেসবুক সহজলভ্য হয়ে যাওয়ায় বন্ধুরা নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এটাকে ব্যবহার করলেও মাঝে মাঝেই এটার অপব্যবহার হয়ে থাকে কারও প্রাইভেসি নষ্ট করার মাধ্যমে। যার ফলে সম্পর্ক নষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে মারামারি পর্যন্ত হয় । আর খুব সহজেই এমন সব পোস্ট ফেসবুকে শেয়ার করা হয় যা ছোটদের মানসিক বিকাশে ক্ষতিকর ভূমিকা রাখে।
এদিকে বন্ধুত্বের প্রসঙ্গে বিপাশা জাহান জানায়, ফেসবুকে বন্ধু সংখ্যা বেশি থাকলে আলাদা ভাব দেখিয়ে শোঅফের একটি মনোভাব তৈরি হয়। তবে বন্ধু সংখ্যা যতই থাকুক না কেন, যারা প্রকৃত বন্ধু ফেসবুকে তাদের সঙ্গেই নিয়মিত যোগাযোগ হয়।
এ তো গেল শিক্ষার্থীদের কথা, ফেসবুক ব্যবহার নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী এ এস এম নুরুল হুদা বলেন, মানুষের অনেক আবিষ্কারেরই ভালোমন্দ নির্ভর করে মানুষ সেটাকে কীভাবে ব্যবহার করে তার ওপর। একইভাবে বলতে গেলে ফেসবুকের ব্যবহার ভালো না খারাপ তা জানতে হলে ব্যক্তি মানুষ একে কীভাবে ব্যবহার করছে তা জানতে হবে। একে অন্যের সঙ্গে ভাবের আদান-প্রদান যেমন ফেসবুকের কারণে সহজ হয়েছে, তেমনি সমাজে ফেসবুকের কারণে অনেক জটিলতাও তৈরি হয়েছে। এরকম বিষয় মাথায় রেখে যদি কোনো শিক্ষার্থী পরিমিতভাবে ফেসবুক ব্যবহার করে, তাহলে শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগের এ জনপ্রিয় মাধ্যমের সুফল পাবে বলে আমি মনে করি।
তাহলে দেখা গেল যে, ফেসবুক শুধু পড়াশোনাই নয়, বিভিন্ন সামাজিক সচেতনতা তৈরিতেও ভূমিকা রাখছে। বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা ফেসবুকের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের সমৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের কল্যাণেও ভূমিকা রাখবে, আমরা সে প্রত্যাশাই করি।


আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ পেলেন ৯০ প্রাণী
পোলট্র্রির বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, সঠিকভাবে রোগবালাই নির্ণয়, চিকিৎসা এবং রোগ
বিস্তারিত
সবার উপরে বাবা-মা
যে-কোনো মানুষের গায়ে হাত তোলাই অপরাধ। আর সন্তান হয়ে বাবা-মায়ের
বিস্তারিত
স্মৃতির মানসপটে যুক্তরাজ্য সফর
বিদেশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়তো অনেকেরই হয়ে থাকে। তবে কলেজের প্রতিনিধি,
বিস্তারিত
ব্যবসার ধারণা : গড়তে চাইলে
নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা
বিস্তারিত
৭৫ শতাংশ বৃত্তিতে আইটি ও
বিভিন্ন কারণে যারা আইটিতে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত তাদের
বিস্তারিত
লক্ষ্য যখন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিপরীতে ক্রমাগত উর্বরা জমির পরিমাণ কমছে। জনসংখ্যার এ
বিস্তারিত