গ্রন্থ আলোচনা

বাংলার জনপদের প্রামাণ্য

নব্বই দশকের কবি আমিনুল ইসলাম যখন উচ্চারণ করেন ‘বয়ে যাও, তবু হে নদী,/ সবখানি জল/ নিয়ে নাকো মোহনায়!/ অই জলে ভাগ আছে/ খাল বিল নালা ও দিঘির/ অই জলে ভাগ আছে/ পাখপাখালি বৃক্ষলতার/ অই জলে ভাগ আছে/ দুপাশের তৃষ্ণাগর্ভ মৃত্তিকার।’ তখন যে কোনো সচেতন পাঠকের মনে উঁকি মারতে পারে চেশোয়াভ মিউসের শাশ্বত একটি বাণী ‘যে কবিতা দেশ ও মানুষকে বাঁচাতে অক্ষম সে কবিতার দরকার কী।’
সম্প্রতি প্রকাশিত আমিনুল ইসলামের ‘প্রণয়ী নদীর কাছে’ কাব্যগ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে আমরা উপলব্ধি করতে সক্ষম হই যে, দেশ ও মানুষের জন্য একজন কবির বক্তব্য কতটা দায়িত্বশীল হওয়া উচিত এবং পৃথিবীর কাছে তার দায়বদ্ধতা কতটুকু। তাছাড়া ‘প্রেমিক হেরে গেলে প্রেমের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হয়, লাম্পট্যের জগৎশেঠরা ঘিরে ধরে সিংহাসন।’ এ বক্তব্য থেকে কবির প্রেম এবং ইতিহাস সচেতনতার বিষয়টিও মুগ্ধ করে আমাদের। পাশাপাশি নারীর চিরকালীন দ্রোহ এবং দেশপ্রেমের বিরল দৃষ্টান্তকে কবিতার ভাষায় রূপ দিতে গিয়ে তিনি যখন বলেন ‘লুৎফা কখনো গদিজয়ী মীরজাফরের বাঈজী হতে পারে না।’ তখন সোনালি কাবিনের কবি আল মাহমুদের বিখ্যাত একটি বাক্যের সত্যতা যেন চোখ ধাঁধিয়ে দিতে চায় ‘পরাজিত নই নারী, পরাজিত হয় না কবিরা।’
আমিনুল ইসলামের কাব্যে নদ-নদী, মেঘ-বৃষ্টি, পাখপাখালি, ঝর্ণাধারা ও পাহাড়-পর্বতের বিষয়টি অনেক বেশি রিপিটেশন ঘটতে দেখা যায়, তবে সেখানে বাহুল্যবিবর্জিত উপস্থাপনশৈলীর কারণে তা আরোপিত মনে হয় না, তার রিপিটেশনের মধ্যেও পাওয়া যায় নান্দনিকতার নির্যাস। সে কারণেই হয়তো ‘অতৃপ্ত নদীর চোরা-ক্ষুব্ধ বুকে’ মাথা রেখে তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছেন চুড়িভাঙা কাচ, ছেড়া কাবিননামা ও শ্রমিকের কংকালকে পেছনে রেখে কবিতা লেখা সম্ভব নয়। ফলে বহুবর্ণিল পৃথিবীর ছবি আঁকতে গিয়ে বারবার তিনি একটি মাত্র শ্যামল মুখেরই ছবিই এঁকে চলেছেন সারাজীবন সে ছবি আমাদের সবারই চেনা, পাঠকমাত্রই জানেন যে এ ছবি তাবৎ বিশ্বের যে কোনো সৌন্দর্যময়তার সঙ্গে টেক্কা দেয়ার মতো ক্ষমতা রাখে। তার হৃদয়ের হার্ডডিস্কে জমে থাকা গ্রাম-বাংলার আদিম জনপদগুলোর ইতিহাসও অত্যন্ত চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন পাঠকের সামনে।
তার কবিতার বৈপ্লবিক সুর সমকালকে ধারণ করে মহাকালের সমুদ্রের দিকে প্রবল বেগে প্রবাহিত হতে দেখা যায়। ‘যে শিল্প সম্পূর্ণ ও সকলের ঊর্ধ্বে তা হলো কাব্য।’ হেগেলের মুখনিঃসৃত এ বাক্যটিকে আরাধ্য মনে করেই যেন প্রতিনিয়ত কবিতার খাতায় কলম চালিয়ে যান কবি আমিনুল ইসলাম। তাই তার কবিতায় মাঝেমধ্যে জীবনানন্দ দাশ এবং আবুল হাসানসহ অনেক অগ্রজ কবির ঘ্রাণ পাওয়া গেলেও তার সৃষ্টিশীল জগৎ একেবারেই ভিন্ন, পুরোপুরি স্বতন্ত্রÑ সেখানে অন্য কারো প্রবেশাধিকার নেই।
লেখা প্রকাশ থেকে প্রকাশিত ‘প্রণয়ী নদীর কাছে’ গ্রন্থের প্রচ্ছদ করেছেন মোস্তাফিজ কারিগর। দাম : ১৭৫ টাকা মাত্র।


আত্মজীবনী লিখলে ঘরে ও বাইরে
ঢাকায় বাতিঘর আয়োজন করে ‘আমার জীবন আমার রচনা’ শীর্ষক আলাপচারিতা।
বিস্তারিত
যে নদীর মন বোঝে
পদ্মা মেঘনার মতো দুই ভাগ হয়ে গেছে মানুষ চলে পাশাপাশি তবুও
বিস্তারিত
সেই তুমুল অঘ্রানলোকে
সবকিছু উগরে দিয়েছে ওরা  প্রীতি ও বিচ্ছেদ, সুর ও সুরভী, রতি
বিস্তারিত
চোরাচালানি
কুয়াশায় আচ্ছন্ন প্রতিদিনের সন্ধ্যা গভীর রাতে শিয়ালের কান্না শীতের আগমনী
বিস্তারিত
অভিশাপ
অভিশাপে কপালের আধখান শেষ। ভাগ্যরা আর পাশে নেই। উড়ে গেছে
বিস্তারিত
যে বৃক্ষে বাতাস জমেনি
আমাদের দুই জোড়া হাতে যে বৃক্ষটি রোপণ করেছি। সেটি যেদিন
বিস্তারিত