১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর সমর সেনের জন্ম। দিন-মাস-সন গণনার সেই নিরিখে পরশু তার জন্ম শতাব্দ। তিনি বেঁচেছিলেন ৭১ বছর। কবিতা লেখেন মাত্র এক যুগ বা তার একটু বেশি। কবিতায় সূক্ষ্ম-শ্লেষ-বিদ্রুপ বাণ তিনি যেভাবে হেনেছেন, তির্যক মন্তব্য যেভাবে প্রকাশ করেছেন, আর কেউ সে

শতাব্দেও না যায় সমর বিস্ময়

রবীন্দ্রনাথ ও পঞ্চকবি যখন বাংলার সাহিত্যাকাশে ধ্রুবতারার মতো দীপ্তমান, তখনই উচ্চারিত হয় সমর সেনের স্বাতন্ত্র্য ও মৌলসুরের ডঙ্কানিনাদ। জীবনানন্দ-অমিয়-প্রেমেন্দ্র-বুদ্ধদেব-বিষ্ণু দে’র ঠিক সমসাময়িক তিনি নন, একটু পরের। ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর তার জন্ম। দিন-মাস-সন গণনার সেই নিরিখে পরশু তার জন্ম শতাব্দ। বেঁচেছিলেন ৭১ বছর। কবিতা লিখেন মাত্র এক যুগ বা তার একটু বেশি। স্বেচ্ছায় কবিতাকে বিদায় জানান তারপর, কিন্তু কেন? এসবের সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি আজও। যদিও তার আত্মজীবনীতে বলেছেন কিঞ্চিৎ, ‘বয়স আর একটু বাড়লে কবিতার দিকে মন গেল। রাজনীতিতে তখন গরম হাওয়া। রবীন্দ্রনাথকে মনে হতো জোলো। ফৌজি কবি যিনি জেল খেটেছেন, যার কয়েকটি বই বাজেয়াপ্ত হয়েছে অর্থাৎ নজরুল-আমাদের বিপ্লবী নায়ক ছিলেন। এদিকে বয়সের দোষে কল্লোল কালিকলম ইত্যাদি পত্রিকা চিত্তচাঞ্চল্যের সৃষ্টি করতে শুরু করল। এদের লেখকরাও তো এক হিসেবে বিপ্লবী, স্থবির ভ- সমাজের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী। ১৯৪৪ সালের জুনে মিত্রশক্তিরা পশ্চিম ইউরোপে দ্বিতীয় ফ্রন্ট খোলাতে বিবেক হালকা হয়ে গেল, সরকারি চাকরি নিয়ে রেডিওর সংবাদ বিভাগে ঢুকলাম। সংবাদের চাপে, দেশের দাঙ্গাহাঙ্গামায় আস্তে আস্তে কবিতা লেখা বন্ধ হয়ে এলো ছক মেলানো কঠিন হয়ে পড়েছিল।’ (বাবুবৃত্তান্ত)।
সমর সেন লিখেছিলেন, ‘মৃত্যু হয়তো মিতালী আনে :/ ভবলীলা সাঙ্গ হলে সবাই সমান/ বিহারীর হিন্দু আর নোয়াখালীর মুসলমান/ নোয়াখালীর হিন্দু আর বিহারের মুসলমান। শুনি না আর সমুদ্রের গান/ থেমেছে রক্তে ট্রামবাসের বেতাল স্পন্দন/ রোমান্টিক ব্যাধি আর রূপান্তরিত হয় না কবিতায়।’ (সমর সেনের কবিতা : ১৪০)। দাঙ্গার বিরুদ্ধে কবিতায় যিনি এভাবে উচ্চকিত, তিনি যদি বলেন, ‘সংবাদের চাপে, দেশের দাঙ্গাহাঙ্গামায় আস্তে আস্তে কবিতা লেখা বন্ধ হয়ে এলো-ছক মেলানো কঠিন হয়ে পড়েছিল’ তাই ছেড়ে দিলাম কবিতা লেখা। এ উত্তর গ্রহণীয়, না যুক্তিযুক্ত?
বাংলা কবিতায় সমর সেনের আবির্ভাব যতটা নাটকীয়, তার চেয়ে অধিক বেশি মহিমা ও মর্যাদার। তখন রবীন্দ্রনাথের কাল-পঞ্চকবির যুগ। রবীন্দ্র বন্দনা-বিরোধিতায় বাংলা কবিতা বাঁক বদল করছে, নব-যৌবনাপ্রাপ্ত হচ্ছে। ঠিক এ সময় এসবের ধার না ধেরে, তিনি হয়ে উঠলেন নিজের মতো, হাজির করলেন ভিন্নস্বর ও সুরের কাব্যব্যঞ্জনা। যা কোনোভাবেই কবিতার চেনা সিলসিলার সঙ্গে ট্যাগ করার মতো নয়। বরং বন্দনা ও বিরোধিতার মধ্যেও একটা ট্যাবুতে আটকে ছিল কবিতার অভিমুখ। সমর সেন সেখানে সঞ্চার করলেন নতুন হাওয়া।
পঞ্চকবির অন্যতম কান্ডারি বুদ্ধদেব বসু তার কবিতায় মুগ্ধ হলেন অকস্মাৎ ও আকস্মিকভাবেই। তিনি লিখলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে, ‘একজন কবির রচনা আমরাই প্রথম প্রকাশ করলাম সমর সেন। এঁর ছোটো-ছোটো কবিতাগুলো আমার নিজের খুব ভালো লেগেছে। এঁর বয়েস অল্প, সাহিত্যক্ষেত্রে ইনি এখন পর্যন্ত অপরিচিত-কিন্তু এঁর রচনার একটি বিশেষ স্বকীয়তা আছে যাতে এঁর সম্বন্ধে মস্ত আশা পোষণ করতে বাধে না।’ বুদ্ধদেবের চিঠির প্রতিক্রিয়ায় রবীন্দ্রনাথের মন্তব্য শুধু চমকপ্রদ নয়, আত্মশ্লাঘারও। তিনি লিখলেন, ‘সমর সেনের কবিতা কয়টিতে গদ্যের রূঢ়তার ভিতর দিয়ে কাব্যের লাবণ্য প্রকাশ পেয়েছে। সাহিত্যে এঁর লেখা ট্যাঁকসই হবে বলেই বোধ হচ্ছে।’ রবীন্দ্রনাথের এ মূল্যায়নে প্রীত ও গৌরববোধ করেছিলেন, বুদ্ধদেব বসু। কারণ এতে তার (বু. ব.) সম্পাদকীয়তার পারঙ্গমতা হয়েছে মূর্ত ও প্রশংসিত। বুদ্ধদেবের মধ্যে হয়তো কিঞ্চিৎ সংশয় ছিল সমরের কবিতা প্রসঙ্গে। কারণ তা একেবারেই অন্যরকম। রবীন্দ্রনাথের জোরালো সমর্থন ও অকুণ্ঠ প্রশংসা ‘ট্যাঁকসই’ হবে বলা, বুদ্ধদেবকে জুগিয়েছে সাহস ও আত্মবিশ্বাস। রবীন্দ্রনাথের চিঠির জবাবে তিনি লিখেছেন, ‘সমর সেনের কবিতা আপনার ভালো লেগেছে জেনে বিশেষ কারণে খুশি হলাম। এঁর বয়েস অল্প, লিখছেন অল্পদিন ধরে, কিন্তু এঁর কবিতা প্রথম দেখেই আমার মনে হয়েছিলো বাংলা গদ্যছন্দে সম্পূর্ণ নতুন একটি সুর ইনি ধরেছেন। তাছাড়া যেটা প্রকৃত কাব্যবস্তু, তারও অভাব নেই।’

 

রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে সমর সেন (ছবির একদম বাঁ দিকে), বুদ্ধদেব বসু, প্রতিভা বসু, কামাক্ষী প্রসাদ, (সামনে) শিশু মীনাক্ষী


প্রকৃত কাব্যবস্তুর অভাব না রেখে সমর সেন কতটা নতুন সুরে ধরেছিলেন, অবলোকন করা যাক কতিপয় উদাহরণ টেনে। তিনি লিখেছেন :
এক.
‘শহরের রাস্তায় যখন/ সদলবলে আর্তনাদ করবে দুর্ভিক্ষের স্বেচ্ছাসেবক,/ তোমার মনে তখন মিলনের বিলাস/ ফিরে তুমি যাবে বিবাহিত প্রেমিকের কাছে।/হে ম্লান মেয়ে, প্রেমে কী আনন্দ পাও,/ কী আনন্দ পাও সন্তানধারণে?’ (মেঘদূত)।
দুই.
চোরাবাজারে দিনের পর দিন ঘুরি
সকালে কলতলায়
ক্লান্ত গণিকারা কোলাহল করে,
খিদিরপুর ডকে রাত্রে জাহাজের শব্দ শুনি;
মাঝেমাঝে ক্লান্তভাবে কি যেন ভাবি-
হে প্রেমের দেবতা, ঘুম যে আসে না, সিগারেট টানি;
আর শহরের রাস্তায় কখনো বা প্রাণপণে দেখি
ফিরিঙ্গি মেয়ের উদ্ধত নরম বুক। (একটি বেকার প্রেমিক)
তিন.
যৌবনের প্রেম শেষ প্রবীণের কামে
বছর দশেকে পরে যাব কাশীধামে। (জন্মদিনে)।
কবিতার কী নেই এখানে? রয়েছে ‘প্রকৃত কাব্যবস্তু’র সব উপকরণ। কিন্তু তার উপস্থাপন অন্যরকম। সমরের শব্দ চয়ন ও শব্দ শাসনের জুড়ি মেলা ভার। তিনি গদ্যকবিতা লিখলেও তাতে সঞ্চার করলেন অন্যরকমের ছন্দ। রূঢ়তার ভেতর দিয়ে লাবণ্যের প্রকাশে সমর ধী-মান ও অনন্য। বাংলা কবিতা পাইনি সেরকম দ্বিতীয় প্রতিভা। কবিতায় সূক্ষ্ম-শ্লেষ-বিদ্রƒপ বাণ তিনি যেভাবে হেনেছেন, তির্যক মন্তব্য যেভাবে প্রকাশ করেছেন, আর কেউ সেভাবে করেননি। স্বতন্ত্র সত্তার হয়েও, খ্যাতির গগনে থাকার পরও সমর একযুগের পর আর কবিতা লেখেননি। ১৯৩৪ এ শুরু ১৯৪৬ এ শেষ। সেই হিসেবে তিনি মাত্র এক ঋতুর কবি। সে ঋতু যৌবনের। বায়সিকতায় ১৮ থেকে ৩০ অবধি তিনি লিখেছিলেন, তারপর গুটিয়েছেন পাততাড়ি। জীবনের অন্য বাস্তবতা ও ব্যস্ততায় থিতু হয়েছেন, কবিতায় নয়। এর নেপথ্য কারণ আজও অজ্ঞাত। যদিও তিনি ‘বাবুবৃত্তান্ত’ এ হাজির করেছেন সেই কৈফিয়ত। কিন্তু সেটা যথার্থ কিনা, তা আজও রয়েছে অমীমাংসিত। তিনি লিখেছেন, ‘এক. কীর্তনে বিশেষ মোহ শৈশবে। আবেগপ্রধান পুনরাবৃত্তিতে কেন জানি না বিদ্রƒপের একটা ভাব জেগে উঠতো। দুই. আমার বেশি অনুরাগ ছিল এলিয়টের প্রতি। চড়বঃৎু রং হড়ঃ ধ ঃঁৎহরহম ষড়ড়ংব ড়ভ বসড়ঃরড়হ কথাটি এখনো মনে পড়ে বাংলা কবিতা পড়লে।’ (বাবুবৃত্তান্ত)।
‘আমাদের অভিজ্ঞতা এখনও অনেকটা ধার করা, বইপড়া; দেশের মাটির, দেশের ঐতিহ্যের সঙ্গে আমার পরিচয় সবেমাত্র শুরু হয়েছে, আত্মীয়তার এখনো পরিচয় হয়নি, ফলে নতুন প্রভাবে বাগাড়ম্বরের দিকে বাঙালির স্বাভাবিক ঝোঁক আরও প্রখর হতে পারে, মানবিকতার নামে কীর্তনের ভাবালুতা আবার আসতে পারে এবং কবিরা ভুলে যেতে পারেন যে বুদ্ধি ও আবেগের সমন্বয়ই কবিতার উৎস।’ (সাম্প্রতিক বাংলা কবিতা, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সম্পাদিত কৃত্তিবাস পত্রিকার প্রথম সংখ্যা শ্রাবণ ১৩৬০)।
সমরের কবিতার মতো এসব প্রবন্ধও তির্যকতাপূর্ণ। জীবনে কোনো কিছুর সঙ্গে আপস করার প্রবণতা তার মধ্যে ছিল না। মৃত্যু অবধি ছিলেন মেধা মনন ও কর্মে ঋজু এক সত্তার অধিকারী। জীবনে সততা আর ঋজুতার এ বৈভব ছাড়া তার কোনো পাথেয় ছিল না। কতটা খাপ খোলা তলোয়ার তিনি যাপিত জীবনের প্রতিটি স্তরে তার নির্ভেজাল সাক্ষ্য মেলে বাবুবৃত্তান্তে। আত্মজীবনীর জহুরিতুল্য এ গ্রন্থে। দাদা দীনেশচন্দ্র সেন, বাবা অরূণচন্দ্র সেন এমনকি নিজেকেও তিনি উদোম করেছেন সত্য প্রকাশের রূঢ় বাস্তবতায়। যাতে স্পষ্টত তিনি ঢাক ঢাক গুড় গুড়-এ আস্থাশীল নন। তিনি লিখেছেন, এক. “একটু বড়ো হয়ে পড়াশুনোর দিকে আমার ঝোঁক ছিল বলে ঠাকুর্দা আমাকে স্নেহ করতেন। তিরিশের দশকে অবশ্য আমার সাহিত্যচর্চা ও দৃষ্টিভঙ্গির কথা উঠলে বলতেন, ‘তুই একটা এ্যাংলো ইন্ডিয়ান।’ আমাদের আলাপআলোচনা সরস ছিল। বি.এ.-তে ভালো করলে বিলেত পাঠাবার প্রতিশ্রুতি মনে করিয়ে দেওয়াতে বললেন যে অর্ধেক খরচ দেবেন, বাকিটা বিয়ে করে যোগাড় করতে। বললাম- ‘দাদু পুরুষাঙ্গ বাঁধা দিয়ে বিলেত যাব না।’ উত্তরে অট্টহাসি হেসেছিলেন।”
দুই. “মা’র মৃত্যুকালে যে বোন তিন মাসের সে যখন তিন বছরের (আমার ঠিক পরের বোন তার দেখাশুনো করত) তখন একদিন দেখলাম বাবা বেশ সেজেগুজে সন্ধেবেলায় বেরচ্ছেন। পরিহাসচ্ছলে জিজ্ঞেস করলাম, ‘বরের মতো দেখাচ্ছে, বিয়ে করতে যাচ্ছো না কি?’ পরদিন এলেন নতুন বধূ, বয়সে অনেক কম, সুন্দরী বিধবা। প্রথমে ভাব ছিল, কিন্তু পরে কী একটা কারণে সেই যে কথা বন্ধ হলো, এখনও দেখলে মুখ ফোটে না। আমরা প্রথম পক্ষে, আগেই লিখেছি ন’জন, দ্বিতীয় পক্ষে সাত জন।”
তিন. ‘আমার সেজোমাসিমা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার আগে কলকাতায় গিয়ে রাত জেগে তাঁর সেবা করতাম। সেই বয়সে রোগটা ছোঁয়াচে বলে বাবা আপত্তি করাতে রাগ করে একটা হোস্টেলে উঠি মাস তিনেকের জন্য। তারপর ফিরে আসি। হোস্টেলে আবাসিকদের অনেকে ছিলেন বিজ্ঞানের ছাত্র। একেজনকে বলে পটাশিয়াম সায়ানাইড জোগাড় করি। একটি অন্তিম রাত্রে কিছুটা মুখে দিয়ে সৃষ্টির আগে ব্রহ্মার মতো অবর্ণনীয় অবস্থায় থাকি-কিছু হ’ল না-জিনিসটা সুগার অফ্ মিল্ক।’
চার. ‘মার মৃত্যুর পর বিশ্বকোষ লেনে বাড়িতে নিয়মশৃঙ্খলার কোন বালাই রইল না। দিদিমা কিছুদিন চেষ্টা করে সেজমাসির ওখানে ফিরে গেলেন। আমাদের সামলানো তাঁর সাধ্যাতীত। বাবার দিন কাটতো কলেজে ও আড্ডায়। বিচিত্র স্বভাবের এতগুলো পুত্রকন্যার তদারক করা তাঁর স্বভাব-বিরুদ্ধ। ফলে আমরা আমাদের ইচ্ছামতো মানুষ বা অমানুষ হতে লাগলাম।’
‘অমানুষ’ হতে লাগলাম বললেও অমানুষ হননি সমর সেন। ৭১ বছরের জীবনে তিনি সোনা ফলিয়েছেনে আর মেরুদ- টান টান করে জীবনের প্রতিটি পর্যায়ের লড়াইকে মোকাবিলা করেছেন। আমাদের চেনা বুদ্ধিজীবিতায় তিনি সংযোগ ঘটিয়েছেন নতুন এক আলো। সে আলোয় সুবিধাবাদিতা নেই, না রাষ্ট্রের কাছে না প্রতিষ্ঠান-সমাজ-ব্যক্তির কাছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন শুধু করেননি, প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়েছেন। তারপরও তার জীবন গেছে ঘষে ঘষে। সাংবাদিকতায়, সম্পাদকীয়তাও তিনি রেখেছেন আদর্শে আপসহীন, যা আজও তুলনারহিত।
সমরকে নিয়ে বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত কবিতার কয়েকটি পঙ্কক্তি এখানে স্মরণযোগ্য, তিনি লিখেছেন, ‘সবাই যখন রাজবাড়িতে/ বেচতে গেলন দাঁতের মাজন/ একা তিনি চৌরাস্তায়/ দাঁড়িয়ে শোনেন শিবের গাজন/ ঢ্যাম-কুড়কুড় ঢ্যাম কুড়কুড়/ দূর থেকে সেই বাদ্যি আসে/ বাদ্যি ঘিরে নাচছে আগুন/ আগুন যে তাঁর শ্রদ্ধাভাজন।’
সমর সেনের কবিতার মৌলসুর আজও যেমন অধরা, তেমন কবি-সাংবাদিক-সম্পাদক সত্তারও অচর্চিত। কারণ সে পথ সহজপ্রাপ্তির নয়। এ কারণে তিনি আজও এক বিস্ময়ের নাম। কীভাবে, কেমন করে সমর সেন সেই বিস্ময়নামা সৃজন-নির্মাণ করলেন, তার জন্ম শতাব্দেও না যায় সেই বিস্ময়।


রাজধানীর রাজহাঁস সাপ-পাখি ও ডাহর
আটটি রাজহাঁস দশ-বারো ফুট দূরে হল্লা করে ভেজা ঘাস খাচ্ছে।
বিস্তারিত
নোঙর
গভীর গহনস্রোতে চোখ রেখে বলি হাতে হাতখানি ধরোÑ এসো, ঝাঁপ দিই অতল
বিস্তারিত
মহিউদ্দিন -বিনে পয়সায় বৃষ্টি
    এসো বৃষ্টি দেখি, বিনে পয়সায় বৃষ্টি। এ শহরের বৃষ্টি বড়ই লাজুক
বিস্তারিত
টিপু সুলতান-নারকেল পাতার চশমা
      আমার একটা ভাবনা ছিল কারোর আঙ্গিনায় গাছ হই। রোদ ভাঙা সন্ধ্যেয়
বিস্তারিত
বিবর্তন
    আভিজাত্য সম্মান জাদুঘরে নির্বাসিত   আমাদের সমাজ এখন ভেড়ার বদলে  কুকুর পালনে মনোনিবেশ
বিস্তারিত
ডুডল
  দীর্ঘ বিরতির পর এই দেখলামÑ তোমার বয়সের ছাপ এসে গেছেÑ চোখের নিচে
বিস্তারিত