ডিইউডিএস-হেল্পএজ

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্কযজ্ঞ

বাংলাদেশে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজনের পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করে আসছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি (ডিইউডিএস)। সম্ভবত ১৯৯৩ সালে দ্বিতীয় জাতীয় বিতর্ক উৎসবের সময় থেকেই এমন আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজন শুরু হয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক চ্যাম্পিয়ন দলের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বিজয়ী দল বুয়েট ডিবেটিং ক্লাবের উল্লাস দেখা গেল টিএসসি অডিটোরিয়ামে। পরে পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে শেষ হলো পুরো বাংলাদেশ থেকে আসা ৩২টি টিমের অংশগ্রহণে ডিইউডিএস-হেল্পএজ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার বিরাট আয়োজন। এ প্রতিযোগিতায় রানার্সআপ হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি। ফাইনাল বিতর্কের টপিক ছিলÑ এ সংসদ উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ তাদের প্রবীণ পিতামাতাকে প্রদানে আইনত বাধ্য করবে।
‘বয়স বৈষম্যের বিরুদ্ধে, রুখে দাঁড়াই একসাথে’ সেøাগানকে ধারণ করে গত ৬, ৭ ও ৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিতর্কের সবচেয়ে বড় এ আয়োজনটি। আয়োজন করে ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি (ডিইউডিএস)। এবারের আয়োজনের অনন্য একটি দিক ছিল সাংস্কৃতিক উৎসব। যেখানে ৬ তারিখের সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নিয়েছে ব্যান্ড দল চিৎকার। সেই সঙ্গে নেত্রকোনা, মানিকগঞ্জ, নওগাঁ এবং দিনাজপুর থেকে আগত শিল্পীদের অংশগ্রহণে ছিল জমজমাট সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। আর ৮ অক্টোবর সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেয় বর্তমান সময়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্যান্ড দল জলের গান। সঙ্গে ছিল গম্ভীরা গান, মাইম ও একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়ের গান।
কেমন ছিল এ বিতর্ক আয়োজন? এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিজয়ী দল বুয়েট ডিবেটিং ক্লাবের এনায়েত জানান, অত্যন্ত গোছালো ও বর্ণাঢ্য আয়োজন ছিল এটি। বিতর্কের টপিকগুলো ছিল অসাধারণ আর সেই সঙ্গে বিচারকরা ছিলেন অনেক অভিজ্ঞ। সব মিলিয়ে এমন আয়োজন পেয়ে আমরা সন্তুষ্ট।
এ আয়োজন সফল করে তোলার পেছনে দিন রাত একাকার করে কাজ করেছেন একঝাঁক স্বেচ্ছাসেবক। বিতার্কিকদের জন্য ভেন্যু ব্যবস্থাপনা, রেজিস্ট্রেশন বুথ, আপ্যায়নসহ সব ধরনের আতিথেয়তায় সবাইকে দিন রাত ধরে ছুটতে দেখা গেছে। সারা রাত ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পোস্টারিং করেছে ফয়সাল, জিসান, শোভনসহ অনেকেই। রিজভী তো প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার আগের রাতে হলে যাওয়ার সময় পায়নি, ডিইউডিএস অফিসেই চেয়ারে ঘুমিয়ে পড়েছে। শাফি ৬ তারিখ সকাল থেকেই মানববন্ধন আয়োজন থেকে শুরু করে টিএসসিজুড়ে ব্যানার লাগানো ও তিনদিন ধরে ভলান্টিয়ারদের ব্যবস্থাপনা করেছে। দোলা, ওয়ালি ও ইশতি ইংরেজি বিতর্কের পরিচিত মুখ হলেও বাংলা বিতর্কের আয়োজনেও দক্ষ সংগঠকের পরিচয় দিয়েছে। ইভানা, স্বর্ণা, রাইসা, মাহমুদ ও মিলন হাসিমুখে রেজিস্ট্রেশন বুথে দায়িত্ব পালন করেছে। সবাই বিতর্ক প্রতিযোগিতা উপভোগ করছে অথচ অফিসে বসে ডিউটি করার মতো বোরিং কাজটা হাসিমুখেই করেছে নওরীন, সুমন ও জন। এছাড়া অনাবাসিক হওয়ায় দায়িত্ব পালন শেষ করে ক্যাম্পাসের লাল বাসের শেষ ট্রিপটি দৌড় দিয়ে ধরেছে শুভ। জয়ের বাসা পুরান ঢাকায় হওয়ায় হলে থাকে না, তাই কাজ শেষে রাতে বাসায় চলে গেছে। পান্থর মোটরসাইকেল থাকায় বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজনের কাজে পুরো ঢাকা শহরের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত ছুটে বেড়িয়েছে। প্রোগ্রামজুড়ে ছবি তোলার কাজটি করেছে ফারিয়া রিফাত। আর পুরো প্রোগ্রামের সব কিছু মাথায় রেখে হাসিমুখে সবাইকে নিয়ে কাজ করেছে সদা হাসিমুখে থাকা ডিইউডিএসের সহসভাপতি রায়হান ফিরদাউস।
বাংলাদেশে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজনের পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করে আসছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি (ডিইউডিএস)। সম্ভবত ১৯৯৩ সালে দ্বিতীয় জাতীয় বিতর্ক উৎসবের সময় থেকেই এমন আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজন শুরু হয় বলে জানান বর্তমানে বিসিএস অ্যাডমিন ক্যাডার ও ডিইউডিএসের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হাসান।
ডিইউডিএস যেহেতু বাংলাদেশের বিতর্ক চর্চার সবচেয়ে বড় প্লাটফর্ম, সেহেতু পুরো বাংলাদেশের বিতর্ক অঙ্গনের দৃষ্টি থাকে ডিইউডিএসের প্রতিটি আয়োজনে। ডিইউডিএসের আহ্বানে সাড়া দিয়ে পুরো দেশ থেকে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও এ আয়োজনে অংশ নিয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অংশ নিয়েছে ঢাকা কলেজ ডিবেটিং সোসাইটি ও ইডেন মহিলা কলেজ ডিবেটিং ক্লাব।
পুরো প্রতিযোগিতাটি নকআউট ফরম্যাটে ছিল। বিতার্কিক, আয়োজক ও ভলান্টিয়ারদের জন্য টি-শার্টের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সবার গলায় ঝুলছিল দৃষ্টিনন্দন আইডি কার্ড আর হাতে ছিল নান্দনিক ডিজাইনের প্যাড ও ফোল্ডার।
ডিইউডিএস-হেল্পএজ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির (ডিইউডিএস) সভাপতি রায়হান সানন বলেন, ডিইউডিএস সব সময় সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক বিষয় নিয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। সে ধারাবাহিকতায় দেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর প্রতি পারিবারিক ও সামাজিকভাবে যথাযথ শ্রদ্ধা পোষণ করার মতো সামাজিক সচেতনতা নিশ্চিত করতে এ বিতর্ক প্রতিযোগিতাটির আয়োজন করা হয়।
ডিইউডিএস মানেই বাংলাদেশের বিতর্ক আয়োজনে নেতৃস্থানীয় কিছু, যা এ দেশের বিতর্ক শিল্পের অঙ্গনকে শুরু থেকেই পথ প্রদর্শন করে আসছে। তাই আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা সম্পর্কে ডিইউডিএসের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল কবির শয়ন বলেন, ডিইউডিএস বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সবচেয়ে পুরনো ডিবেটিং ক্লাব, ডিইউডিএস প্রতি বছর ভিন্ন ভিন্ন থিম নিয়ে নিয়মিতভাবে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজন করে থাকে। আর ডিইউডিএস বাংলাদেশের একমাত্র ডিবেটিং ক্লাব যারা বিতর্ক প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বাগতিক টিমকে দিয়ে বিতর্ক করায় না। এমনিভাবেই একেকটি বিতর্ক আয়োজন শেষ হয় আর রেখে যায় একগুচ্ছ প্রেরণাদায়ক স্মৃতি, যা বিতর্কপ্রেমী তরুণ সমাজকে উদ্বুদ্ধ করে যুক্তিবাদী মানসিকতায় জীবনকে সাজিয়ে তুলতে।


আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ পেলেন ৯০ প্রাণী
পোলট্র্রির বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, সঠিকভাবে রোগবালাই নির্ণয়, চিকিৎসা এবং রোগ
বিস্তারিত
সবার উপরে বাবা-মা
যে-কোনো মানুষের গায়ে হাত তোলাই অপরাধ। আর সন্তান হয়ে বাবা-মায়ের
বিস্তারিত
স্মৃতির মানসপটে যুক্তরাজ্য সফর
বিদেশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়তো অনেকেরই হয়ে থাকে। তবে কলেজের প্রতিনিধি,
বিস্তারিত
ব্যবসার ধারণা : গড়তে চাইলে
নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা
বিস্তারিত
৭৫ শতাংশ বৃত্তিতে আইটি ও
বিভিন্ন কারণে যারা আইটিতে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত তাদের
বিস্তারিত
লক্ষ্য যখন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিপরীতে ক্রমাগত উর্বরা জমির পরিমাণ কমছে। জনসংখ্যার এ
বিস্তারিত