পড়তে চাইলে উন্নয়ন অধ্যয়ন

 বিভাগীয় অধ্যাপক ড. তৈয়বুর 
রহমান বলেন, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ হলো মাল্টিডিসিপ্লিনারি ও গতিশীল সাবজেক্ট। এখানে অর্থনীতি, রাজনীতি, পরিবেশ, সমাজবিজ্ঞান, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, জাতীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রতœতত্ত্ব, পরিবেশসংক্রান্ত নীতি, নিরাপত্তা ও নীতিনির্ধারণসহ উন্নয়নসংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে জানার সুযোগ পান শিক্ষার্থীরা

সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে কাজের ক্ষেত্র, বাড়ছে পড়ালেখা করার বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় খোলা হচ্ছে নতুন নতুন ডিসিপ্লিন। আগের অনেক বিষয়ই এখন ক্যারিয়ার গড়ার নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। তাই নতুন অনেক বিষয়ে পড়ালেখা করে ভালো ক্যারিয়ার গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশে এমনই একটি তুলনামূলকভাবে নতুন বিষয় ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বা উন্নয়ন অধ্যয়ন। ধীরে ধীরে এ বিষয়ে পড়ালেখা করা শিক্ষার্থীদের কদর বাড়ছে। 
সার্বিকভাবে একটি সমাজ এবং দেশের উন্নয়নের ধারণাটি বদলে গেছে অনেক আগেই। আর সেই উন্নয়নের ধারাকে সঠিকভাবে বোঝার জন্য যে নতুন বিষয়টি চালু হয়েছে পড়ালেখার জন্য, তার নাম ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বা উন্নয়ন অধ্যয়ন। কয়েক বছরে এ বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে সবার। 
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে উন্নয়ন সহযোগী সরকারি, বেসরকারি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে কাজ করার জন্য এখন এ বিষয় থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়ে থাকে।
সাধারণ কথায়, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ হলো উন্নয়নসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ের পাঠ বা অধ্যয়নের একটি ভিন্নমাত্রার বিষয়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের আওতায় এ বিষয়টি পড়ানো হয়।
২০ শতকের শেষ সময়ে বিশ্বের মানুষের উন্নয়নের জন্য বড় বড় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ সৃষ্টি হয়। দারিদ্র্যকে পরাস্ত করা মানেই উন্নয়নÑ এমন সেকেলে ধারণার দিন শেষ হয়েছে, উন্নয়ন ধারণার ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়েছে। মানুষের সাংস্কৃতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে সার্বিক উন্নয়ন সাধিত হয়। ব্যবহারিক পর্যায়ে উন্নয়নের সংজ্ঞা, সীমাবদ্ধতা, কাজের পরিধি খুঁজে বের করা, বিভিন্ন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সমস্যার ব্যবহারিক সমাধান নিয়ে পড়াশোনার বিষয়ই হলো উন্নয়ন অধ্যয়ন।
বিভিন্ন পেশার লোকজন এ বিষয়ে পড়তে আসছেন। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সামরিক বাহিনীর লোকজন, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, এনজিও, আইএনজিওসহ বহু লোক উন্নয়ন অধ্যয়নে মাস্টার্স কিংবা পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা কোর্স করতে আগ্রহী হচ্ছেন। এমনকি আইবিএ’র শিক্ষার্থীরাও এ বিষয়ে পড়তে আসছেন। প্রতিটি মানুষই কোনো না কোনোভাবে উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আর উন্নয়নের শিক্ষাটাই হচ্ছে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ।

কোথায় পড়বেন
বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে উন্নয়ন অধ্যয়ন বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ন অধ্যয়ন বিষয়টি পড়ানো হয়। তবে অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে উন্নয়ন অধ্যয়ন পড়ার সুযোগ রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ বছর মেয়াদি অনার্স, ২ বছর মেয়াদি মাস্টার্স পর্যায়ে পড়াশোনার পাশাপাশি এমফিল, পিএইচডি, গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা ও বিভিন্ন সার্টিফিকেট কোর্স করারও সুযোগ আছে। উল্লেখ্য, ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বপ্রথম উন্নয়ন অধ্যয়ন বিষয়টি পড়ানো শুরু হয়।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি), ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ন অধ্যয়ন বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। 

কাজের ক্ষেত্র
এই বিভাগ থেকে পাস করে অনেকেই শিক্ষকতায় যুক্ত হচ্ছেন। এছাড়া বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডার, পুলিশ, প্রশাসনসহ অন্যান্য ক্যাডারেও ভালো করছেন এ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পান দেশি-বিদেশি এনজিওগুলোতে। বিশেষ করে ইউএনডিপি, অক্সফাম, অ্যাকশন এইড, বিশ্বব্যাংক, ওয়ার্ল্ড ভিশন, কেয়ার, পিকেএসএফ, বিইআই, ইউনিসেফের মতো এনজিও কিংবা আইএনজিওতে উন্নয়ন অধ্যয়নের শিক্ষার্থীদের ব্যাপক চাহিদা। বাংলাদেশ ব্যাংক ছাড়াও দেশের সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে এখানকার শিক্ষার্থীদের বেশ চাহিদা। 
এ ব্যাপারে বিভাগীয় অধ্যাপক ড. তৈয়বুর রহমান বলেন, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ মাল্টিডিসিপ্লিনারি ও গতিশীল সাবজেক্ট। এখানে অর্থনীতি, রাজনীতি, পরিবেশ, সমাজবিজ্ঞান, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, জাতীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রতœতত্ত্ব, পরিবেশসংক্রান্ত নীতি, নিরাপত্তা ও নীতিনির্ধারণসহ উন্নয়নসংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে জানার সুযোগ পান শিক্ষার্থীরা। বিসিএস, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক সংগঠন, আইএনজিও, এনজিও, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা, মানবাধিকার সংস্থা, পরিবেশ নিয়ে কাজ করে; এমন প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় সব প্রতিষ্ঠানেই উন্নয়ন অধ্যয়নের শিক্ষার্থীদের চাকরির ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। তাই ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ এ যুগের শিক্ষার্থীদের বিষয় পছন্দক্রমের শীর্ষস্থান দখল করতে যাচ্ছে। কয়েক বছরে এটি শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।


‘ট্রেনিং দ্য ট্রেইনার্স’ কর্মসূচিতে কানাডার
একজন উচ্চ-আশাবাদী মানুষ হিসেবে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের জন্য পৃথিবীব্যাপী
বিস্তারিত
পথশিশুদের জন্য ‘এক টুকরো হাসি’
‘এক টুকরো হাসি’ মূলত একটি পরিবার। যে পরিবারটি বিভিন্ন স্থান
বিস্তারিত
ড্যাফোডিল পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীদের জন্য জব
৮ অক্টোবর ড্যাফোডিল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের চাকরির সুযোগ তৈরির উদ্দেশ্যে
বিস্তারিত
কর্মক্ষমতা বাড়ানোর উপায়
নিজেকে আরও কর্মঠ করে তোলার ক্ষেত্রে একটু চটপটে হওয়া ও
বিস্তারিত
ভ্রমণেও শেখার আছে অনেক
বর্তমানে তরুণ সমাজের মাঝে ভ্রমণের নেশাটা বেশ জেঁকে বসেছে, যা
বিস্তারিত
অনলাইন ব্যবসায় প্রচারণা কৌশল
ব্যবসা অনলাইন হোক বা অফলাইনে প্রচারণা খুবই জরুরি। তবে অফলাইনের
বিস্তারিত