শেরিল সেন্ডবার্গ। প্রযুক্তি দুনিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী নারী। ফেসবুকের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা। ২০১২ সালে প্রথম এবং একমাত্র নারী হিসেবে ফেসবুকের পরিচালনা পর্ষদে যোগ দেন। বার্কলের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি (১৪ মে ২০১৬) সমাবর্তন ভাষণে স্বামীর মৃ

নিজের সঙ্গে সৎ থাক, সময়টা ঘুরবেই- শেরিল সেন্ডবার্গ

অভিনন্দন মেরি, সম্মানিত ফ্যাকাল্টি সদস্য, গর্বিত অভিভাবক এবং একনিষ্ঠ বন্ধুদের। বিশেষ অভিনন্দন, তোমরা যারা ২০১৬ সালে স্নাতক সম্পন্ন করলে। তোমাদের সৌভাগ্য, তোমরা এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছ যেটা সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকে। এ বিশ্ববিদ্যালয় জন্ম দিয়েছে অনেক নোবেল বিজয়ী, বিজ্ঞানী, নভোচারী, কংগ্রেস সদস্য, অলিম্পিকে স্বর্ণপদক বিজয়ী...। আজকের দিনটা ধন্যবাদের দিন। ধন্যবাদ দাও তাদের যারা তোমায় লালন করেছে, শিখিয়েছে, আনন্দ দিয়েছে, তোমার অশ্রু মুছে দিয়েছে।
সমাবর্তন হলো যৌবন এবং প্রজ্ঞার মধ্যে এক বিশেষ নৃত্য। তোমাদের আছে যৌবন এবং সেই সঙ্গে এখানে বক্তারা প্রজ্ঞার কণ্ঠস্বর নিয়ে আগমন করে। এ এক অসাধারণ মেলবন্ধন! আমি এখানে দাঁড়িয়েছি তোমাদের আমার অর্জিত অভিজ্ঞতার কথা বলতে আর তোমার বাতাসে ছুড়ে দিচ্ছ তোমাদের টুপিগুলো। যেন জানান দিচ্ছ, আমরা আসছি!
আমি এখানে তোমাদের বলতে আসিনি যে, আমি জীবন থেকে কী শিখেছি, বরং আজ আমি তোমাদের বলার চেষ্টা করব, আমি মৃত্যু থেকে কী শিখেছি। আজ থেকে ১ বছর ১৩ দিন আগে আমি আমার স্বামীকে হারিয়েছি। তার মৃত্যু ছিল আকস্মিক এবং অপ্রত্যাশিত। আমরা ছিলাম আমাদের এক বন্ধুর জন্মদিনের পার্টিতে। আমার একটু তন্দ্রা লাগছিল। কিছুক্ষণ পর ডেভ গোল্ডবার্গকে (শেরিল সেন্ডবার্গের স্বামী) ফ্লোরে আবিষ্কার করলাম, মৃত! বিষাদের ঘন কুয়াশা আমাকে গ্রাস করল। ডেভের মৃত্যু আমাকে অত্যন্ত গভীর থেকে পরিবর্তিত করেছে। আমি শিখেছি, বিষণœতার গভীরতা এবং হারানোর নিষ্ঠুরতা থেকে।
আমি অনেক আশা নিয়ে এ ঘটনা তোমাদের সঙ্গে শেয়ার করছি, যখন তোমরা জীবনের পরবর্তী ধাপে পা বাড়াচ্ছ। আমার মতো তোমরাও ‘আশা’র শিক্ষা নিতে পার ‘নিরাশা’ থেকে! শিক্ষা নাও, ঝড়ের সময়ও কীভাবে সর্বশক্তি দিয়ে বাতিটাকে জ্বালিয়ে রাখতে হয়। হোক তা ক্ষীণ, জ্বালিয়ে রাখতে পারলে সেটা একদিন ধপ করে জ্বলে উঠবেই।
তুমি হয়তো ‘এ’ চাইলে; কিন্তু তুমি পেলে ‘বি’। সমস্যা নেই, তুমি সৎ থাক। হয়তো কেউ একজন ছিল তোমার জীবনের ভালোবাসা; কিন্তু তোমাকে আঘাত করে চলে গেল! সমস্যা নেই, তুমি চুপ থাক। মনে রেখ, তুমি কী অর্জন করলে এটা দিয়ে তুমি সংজ্ঞায়িত হবে না, বরং তুমি দুঃসময়ে কীভাবে টিকে ছিলেÑ তা দিয়েই তোমার বিচার করা হবে। ধরে নাও, তুমি তোমার জীবনে প্রায় নিশ্চিতভাবেই আমার চেয়ে বেশি বৈরী অবস্থার মোকাবিলা করবে।
আমরা যখন কোনো দুঃখে পতিত হই, তখন ভাবি, এটা বোধহয় চিরস্থায়ীভাবে আমাকে গ্রাস করল। ব্যাপারটা আসলে তা নয়। সময়কে বয়ে যেতে দাও, এটাই আরোগ্য। একটু অপেক্ষা কর, চুপ করে থাক, নিজের সঙ্গে সৎ থাকÑ সময়টা ঘুরবেই। দুঃখের সময় আমাদের মধ্যে নেতিবাচক আবেগ কাজ করে, তাই সে সময়ের চিন্তায় নিজেকে পরিচালনা করতে নেই। ওই সময় যদি তুমি টের পাও যে, তুমি কোনো ফাঁদে পড়ে যাচ্ছ, তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই নিজেকে ধরে ফেল। আমাদের শরীরের যেমন একটা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা আছে, তেমনি আমাদের মস্তিষ্কেরও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা আছে। শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্কের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়াতে হবে, তাহলে নেতিবাচক আবেগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। এগিয়ে যাও, তোমার সামনে অনেক আনন্দের মুহূর্ত পড়ে আছে। উপভোগ কর তোমাকে ঘিরে থাকা প্রত্যেক মুহূর্ত এবং প্রত্যেককেই। তোমরা জীবনের মধ্যে বাঁচো, তাহলে প্রত্যেক পদক্ষেপকেই কৃতজ্ঞতাপূর্ণ মনে হবে। যখন সামনে কোনো চ্যালেঞ্জ আসে, তখন গভীর বিশ্বাস নিয়ে তা মোকাবিলা কর, সমাধানটা একটু সামনেই ঘাপটি মেরে বসে আছে।
বর্তমান মুহূর্তটাকে উপভোগ কর। তাকাও, পুরো পৃথিবী তোমার সামনে পড়ে আছে। তুমি কীভাবে সেই পৃথিবীটাকে ব্যবহার কর, তা দেখার অপেক্ষায় থাকলাম। তোমাদের সবাইকে ধন্যবাদ।

সূত্র : লস এঞ্জেলস টাইমস


আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ পেলেন ৯০ প্রাণী
পোলট্র্রির বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, সঠিকভাবে রোগবালাই নির্ণয়, চিকিৎসা এবং রোগ
বিস্তারিত
সবার উপরে বাবা-মা
যে-কোনো মানুষের গায়ে হাত তোলাই অপরাধ। আর সন্তান হয়ে বাবা-মায়ের
বিস্তারিত
স্মৃতির মানসপটে যুক্তরাজ্য সফর
বিদেশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়তো অনেকেরই হয়ে থাকে। তবে কলেজের প্রতিনিধি,
বিস্তারিত
ব্যবসার ধারণা : গড়তে চাইলে
নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা
বিস্তারিত
৭৫ শতাংশ বৃত্তিতে আইটি ও
বিভিন্ন কারণে যারা আইটিতে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত তাদের
বিস্তারিত
লক্ষ্য যখন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিপরীতে ক্রমাগত উর্বরা জমির পরিমাণ কমছে। জনসংখ্যার এ
বিস্তারিত