শিক্ষার্থীদের সামরিক প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে উন্নত মানসিকতার শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন গঠন, সেইসঙ্গে জাতীয় দুর্যোগে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ভূমিকা রাখা এবং প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে সেকেন্ড লাইন ডিফেন্স বা দ্বিতীয় সারির প্রতিরক্ষা বাহিনী হিসেবে ক্যাডেটদের প্রস্তুত করে

নেতৃত্ব বিকাশে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)

শিক্ষার্থীদের জীবনে সামরিক বাহিনীর কুচকাওয়াজের ছন্দ নিয়ে আসে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)। সরাসরি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর অধীনে শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করিয়ে দেয়াই বিএনসিসির লক্ষ্য। যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পেয়ে থাকে দেশ সেবার মানসিকতায় নেতৃত্ব দেয়ার প্রশিক্ষণ। বিএনসিসি একজন শিক্ষার্থীকে শুধু শরীর গঠন করার প্রশিক্ষণটুকুই করায় না, বরং উন্নত চরিত্র গঠনের মাধ্যমে প্রয়োজনের সময় একজন শিক্ষার্থী যেন দেশমাতৃকার সেবায় অবদান রাখতে পারে, ঠিক সেভাবেই বিএনসিসি তার ক্যাডেটদের গড়ে তোলে।
‘জ্ঞান, শৃঙ্খলা ও একতা’ এ মূলমন্ত্র ধারণ করে বিএনসিসি তার পথচলা অব্যাহত রেখেছে ১৯৭৯ সাল থেকে। শিক্ষার্থীদের সামরিক প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে উন্নত মানসিকতার শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনগঠন, সেই সঙ্গে জাতীয় দুর্যোগে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ভূমিকা রাখা এবং প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে সেকেন্ড লাইন ডিফেন্স বা দ্বিতীয় সারির প্রতিরক্ষা বাহিনী হিসেবে বিএনসিসি ক্যাডেটদের প্রস্তুত করে।
বিএনসিসি পরিচালিত হয় একজন ডিরেক্টর জেনারেল বা ডিজির মাধ্যমে। বর্তমানে ডিজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম ফেরদৌস এনডিসি, পিএসসি। ডিজির অধীনে সেনা, নৌ ও বিমান শাখা পরিচালিত হয় তিনজন ডেপুটি ডিরেক্টরের অধীনে। সেনা শাখার জন্য পাঁচটি রেজিমেন্ট, নৌ শাখার জন্য তিনটি ফ্লোটিলা এবং বিমান শাখার জন্য তিনটি স্কোয়াড্রন রয়েছে।
বিএনসিসি করে কী লাভ? এ প্রশ্ন অনেক শিক্ষার্থীর মনেই তৈরি হয়। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে বিএনসিসির কার্যক্রম রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই বিএনসিসি সম্পর্কে জানতে বেশি আগ্রহী হয়ে থাকে। শুক্রবার সকালে বিএনসিসির ক্যাডেটদের শারীরিক প্রশিক্ষণ অথবা ক্যাম্পে সামরিক প্রশিক্ষণের ছবি দেখে অনেক শিক্ষার্থীই বিএনসিসিতে যোগ দেয়। অবশ্য বিএনসিসি যারা করে, তারা সরাসরি সামরিক বাহিনীর অফিসার নিয়োগের আইএসএসবি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে। এক্ষেত্রে বিএনসিসি তাদের ক্যাডেটদের মধ্যে সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে আগ্রহীদের যথাযথভাবে প্রস্তুত করেই আইএসএসবি পরীক্ষায় পাঠিয়ে থাকে।
তবে শিক্ষার্থীদের অনেকেই মনে করে থাকেন, বিএনসিসি শুধু তাদের জন্যই, যারা সামরিক বাহিনীতে যোগদানের ইচ্ছে পোষণ করে থাকে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন কথা বলে, বিএনসিসিতে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই যোগ দেয় সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা পেতে। তবে সামরিক বাহিনীতে যোগ দেয়ার ইচ্ছে যে থাকে না, এমনটা নয়। দেখা যায় যে, বিএনসিসির সাবেক ক্যাডেটরা যেমনিভাবে সামরিক বাহিনীতে যোগ দিচ্ছেন, তেমনি পুলিশ কর্মকর্তা, ডিজিএফআই ও এনএসআইয়েও যোগ দিচ্ছেন।
বিএনসিসির ক্যাডেটদের মধ্যে পাঁচটি স্তর রয়েছে। ক্যাডেট, ক্যাডেট ল্যান্স করপোরাল, ক্যাডেট করপোরাল, ক্যাডেট সার্জেন্ট ও ক্যাডেট আন্ডার অফিসার। বিএনসিসিতে সাপ্তাহিক ড্রিল ক্লাস ছাড়াও বছরে তিনটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। ক্যাপসুল ক্যাম্প, বার্ষিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ও কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ ক্যাম্প। এছাড়া সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ন্যাশনাল ক্যাম্প ও শীতকালীন যুদ্ধ মহড়ায়ও বিএনসিসির ক্যাডেটরা অংশ নিয়ে থাকেন। যুদ্ধ মহড়ায় অংশ নেয়ার অভিজ্ঞতা অসাধারণ একটি অর্জন হিসেবে বিএনসিসি ক্যাডেটদের জীবনে স্থান পায়।
বিশেষ করে সরাসরি সামরিক বাহিনীর অধীনে ক্যাম্প করার অভিজ্ঞতা একজন শিক্ষার্থীর সারা জীবন মনে থাকার মতো স্মৃতি হয়ে যায়। বিএনসিসির ক্যাম্পে বেস্ট ক্যাডেট হিসেবে পুরস্কার পাওয়া এক্স ক্যাডেট বর্তমানে ভারতের শান্তি নিকেতনে অধ্যয়নরত তমাশ্রী ম-ল এমনটাই জানান। তমাশ্রী ক্যাম্পের রোমাঞ্চকর দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে হঠাৎ করেই স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন।
বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কন্টিনজেন্ট বিএনসিসি বিমান শাখার ক্যাডেট আন্ডার অফিসার খালিদ মু’তাসিম বিল্লাহ বলেন, বিএনসিসি প্রতিরক্ষার সঙ্গে সংযুক্ত একটি জাতীয় সংগঠন। যেখানে শিক্ষার্থীরা সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণের সঙ্গে নেতৃত্ব বিকাশের প্রশিক্ষণও পেয়ে থাকেন।
দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অনুষ্ঠানে বিএনসিসির ক্যাডেটরা দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এমনই একটি জাতীয় বড় আয়োজন পালিত হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে কেন্দ্র করে ২১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায়। যেখানে সারা রাত বিএনসিসির ক্যাডেটরা শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করে থাকেন। রাতভর দায়িত্ব পালন করার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে সেনা শাখার ক্যাডেট আবু সালেম বলেন, বিএনসিসির ক্যাডেট হিসেবে শহীদ মিনারে দায়িত্ব পালন করতে আমার খুবই ভালো লেগেছে। বিএনসিসির যে বিষয়টি আমাকে সব সময় আকৃষ্ট করে, তা হচ্ছে শৃঙ্খলার ভিত্তিতে প্রত্যেকটি কাজ সম্পাদন করা।
বিএনসিসি তার ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে বাছাই করা ক্যাডেটদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিদেশে পাঠিয়ে থাকে, আবার বিএনসিসির আমন্ত্রণে বিদেশ থেকে ক্যাডেটরাও এ দেশে রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে আসেন। বিএনসিসির মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে বিদেশে ঘুরতে যাওয়া নিঃসন্দেহে একজন ক্যাডেটের জন্য অনেক বড় একটি অর্জন। এমনই অভিজ্ঞতা জানালেন বিএনসিসি থেকে ইন্ডিয়া ট্যুরে অংশ নেয়া ক্যাডেট সার্জেন্ট জাহিদ। জাহিদের মতে, বিএনসিসি থেকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে বিদেশ ভ্রমণ একজন ক্যাডেটের দেশপ্রেমকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।


আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ পেলেন ৯০ প্রাণী
পোলট্র্রির বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, সঠিকভাবে রোগবালাই নির্ণয়, চিকিৎসা এবং রোগ
বিস্তারিত
সবার উপরে বাবা-মা
যে-কোনো মানুষের গায়ে হাত তোলাই অপরাধ। আর সন্তান হয়ে বাবা-মায়ের
বিস্তারিত
স্মৃতির মানসপটে যুক্তরাজ্য সফর
বিদেশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়তো অনেকেরই হয়ে থাকে। তবে কলেজের প্রতিনিধি,
বিস্তারিত
ব্যবসার ধারণা : গড়তে চাইলে
নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা
বিস্তারিত
৭৫ শতাংশ বৃত্তিতে আইটি ও
বিভিন্ন কারণে যারা আইটিতে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত তাদের
বিস্তারিত
লক্ষ্য যখন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিপরীতে ক্রমাগত উর্বরা জমির পরিমাণ কমছে। জনসংখ্যার এ
বিস্তারিত