সুস্থ সংস্কৃতিচর্চায়

ঢাকা ইউনিভার্সিটি কালচারাল সোসাইটি

ঢাকা ইউনিভার্সিটি কালচারাল সোসাইটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আহসান রনি বলেন, আমাদের সংগঠনের উদ্দেশ্য শুধু বাংলাদেশে নয়, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরিসরে বাঙালি সংস্কৃতিকে পৌঁছে দেয়া

টিএসসির প্রবেশপথে ডানদিকে তাকালেই দেখা যায়, নান্দনিক ডিজাইনের একটি কাঠের তৈরি নোটিশ বোর্ড ও লেটার বক্স। ভালো লাগার আবেশে শিক্ষার্থীর মনে প্রশ্ন জাগে, এমন নান্দনিকভাবে নিজেদের কার্যক্রমকে কারা তুলে ধরছেন? উত্তরটি পাওয়া যায় কাগজে সাঁটানো ঢাকা ইউনিভার্সিটি কালচারাল সোসাইটির নাম দেখে। সত্যি বলতে কী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে শুধু কালচারাল সোসাইটির এমন নান্দনিক নোটিশ বোর্ড ও লেটার বক্স আছে। শুধু নোটিশ বোর্ডই নয়, তাদের মেম্বার রিক্র্যুটমেন্টসহ সব কাজেই এমন নান্দনিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। এই তো কিছু দিন আগে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে নতুন সদস্য আহ্বান করা হয়েছিল। ২০ টাকার ফরমের সঙ্গে উপহার হিসেবে তারা শিক্ষার্থীদের একটি চকলেট উপহার দিয়েছে, যা নিতান্ত ক্ষুদ্র হলেও নবীন সদস্য হতে আগ্রহীদের স্বাগত জানানোর ব্যতিক্রম একটি উদ্যোগ ছিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে বাংলাদেশে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করলেও এসব সাংস্কৃতিক কার্যক্রম হতো বিচ্ছিন্নভাবে। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বিত রূপ নিয়ে আসতে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সংস্কৃতিমনা শিক্ষার্থীর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা ইউনিভার্সিটি কালচারাল সোসাইটি (ডিইউসিএস)। এ সংগঠনের আবেগের একটি জায়গা হচ্ছে খোদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক এর নামকরণ করেন। সংগঠনটি তার যাত্রা শুরুর কয়েক মাস পরই বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) আয়োজিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়। তারপর আর সংগঠনটিকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তারা তাদের তিন শতাধিক সদস্যের প্রোফাইল উল্লেখ করে নিজস্ব ওয়েবসাইটের কার্যক্রমও শুরু করে। 
এ সংগঠনটি তাদের আয়োজনেও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রথমবারের মতো বসন্ত উৎসব আয়োজন করে এ বছর, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল। সেদিন ক্যাম্পাসের মল চত্বরে মেলার পাশাপাশি দিনজুড়ে ছিল পুতুলনাচ, গম্ভীরা, লোকগান, পুঁথি পাঠ, সাপের খেলা, বায়োস্কোপ, লাঠিখেলাসহ বাঙালির হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন। এটা শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের না, বরং বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বসন্ত উৎসব ছিল। 
ডিইউসিএস জুনে আয়োজন করে ঢাকা ইউনিভার্সিটি প্রেজেন্টেশন ক্যাম্প। যেখানে প্রশিক্ষক হিসেবে অংশ নেন দেশবরেণ্য ৩০ জন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। ১৫০ জন শিক্ষার্থী এ প্রেজেন্টেশন ক্যাম্পে অংশ নেন।
এ বছর সংগঠনটির ঈদ উৎসবে ডিইউসিএসের স্টুডেন্ট অ্যাডভাইজার, সাবেক ঢাবি শিক্ষার্থী ও সিসিমপুরের ইকরি বর্তমানে নাটক-চলচ্চিত্র অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদের উপস্থিতিতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদের কাপড় বিতরণ করা হয়। এছাড়া কিছু দিন আগে কিংবদন্তি লাকি আখান্দের জন্য আয়োজিত ‘অ্যা ট্রিবিউট টু লাকি আখান্দ’ প্রোগ্রামে ডিইউসিএসের নিজস্ব সাংস্কৃতিক টিম অংশ নেয়।
ডিইউসিএস আগস্টে আয়োজন করে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীর ওপর রিভিউ প্রতিযোগিতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রথমবারের মতো এমন আয়োজন ব্যাপক সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়।
আর এ মাসেই ভারতের বিশ্বমিলে ওপি জিন্দাল ইউনিভার্সিটিতে শর্ট ফিল্ম প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ডিইউসিএসের লজিস্টিকস সেক্রেটারি সাইফুল্লাহ মাহফুজ অর্ক নির্মিত শর্ট ফিল্ম ‘ইনভিজিবল লাইন’। যেখানে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন ডিইউসিএসের সহ-সভাপতি রায়হান ফিরদাউস। সমাজের অবহেলিত রিকশাওয়ালাদের প্রতি উচ্চবিত্তদের ভুল আচরণ চোখে আঙুল তুলে দেখিয়ে দিয়ে তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শনের শিক্ষা দেয় এ শর্ট ফিল্মটি।
ডিইউসিএস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, তাদের স্টুডেন্ট অ্যাডভাইজার হিসেবে সংগঠনটিতে যুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সংগীতশিল্পী পারভেজ, জয় শাহরিয়ার, লোপা হোসাইন, দেশের এফএম রেডিও যুগের খ্যাতিমান আরজে নীরব, সালমানসহ অনেকেই।
এ সংগঠনটির সম্মানিত অ্যাডভাইজার প্যানেলে রয়েছেন দেশের সংবাদ উপস্থাপনা জগতের পরিচিত মুখ সামিয়া রহমান ও বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব রোবায়েত ফেরদৌসসহ অনেক গুণী মানুষ। সংগঠনটির মডারেটর হিসেবে আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাবরিনা সুলতানা চৌধুরী।
এভাবেই এগিয়ে চলেছে ঢাকা ইউনিভার্সিটি কালচারাল সোসাইটির সব কার্যক্রম। এমন সব আয়োজনে ধারাবাহিকতা রক্ষার মাধ্যমে ডিইউসিএসকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন ডিইউসিএসের অন্যতম সহ-সভাপতি মুস্তাফিজ।
ঢাকা ইউনিভার্সিটি কালচারাল সোসাইটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আহসান রনি বলেন, আমাদের সংগঠনের উদ্দেশ্য শুধু বাংলাদেশে নয়, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরিসরে বাঙালি সংস্কৃতিকে পৌঁছে দেয়া। এজন্য আমরা এরই মধ্যে কালচার এক্সচেঞ্জ করার ব্যাপারে ভারত, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আলাপ করেছি। 
পরিশেষে বলা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতিমনা শিক্ষার্থীদের আস্থা ও ভালোলাগার প্রতীকে পরিণত হয়েছে ডিইউসিএস। তাই তো কিছু দিন আগে সংগঠনটির নবীন সদস্য সংগ্রহের সময় শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সাড়া লক্ষ করা যায়।


ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টে উচ্চশিক্ষা
মো. সাইফুল ইসলাম খান এইচএসসি পরীক্ষা শেষে মাথায় নতুন ভাবনাÑ কোন
বিস্তারিত
পড়তে চাইলে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ
আজকাল শিক্ষিত, উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, অথবা নিম্নবিত্ত কারোর জীবনেই মিডিয়ার অনুপস্থিতি
বিস্তারিত
সম্ভাবনাময় বিষয় মাল্টিমিডিয়া অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ
মো. সাইফুল ইসলাম খান মাল্টিমিডিয়া প্রযুক্তি ও সৃজনশীল আর্টসের মধ্যে সমন্বয়
বিস্তারিত
ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহযোগিতায় আয়োজিত ‘এন্ট্রাপ্রেনারশিপ
ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের সহযোগিতায় বাংলাদেশ ইউকে অ্যালুমনাই নেটওয়ার্কের (ইটকঅঘ) ব্যানারে
বিস্তারিত
পড়ার বিষয় যখন পুষ্টি ও খাদ্য
মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনের জন্য যে পাঁচটি মৌলিক উপাদান রয়েছে তার
বিস্তারিত
যুগোপযোগী শিক্ষা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং
মানুষের জীবিকার জন্য প্রয়োজন একটি নিশ্চিত এবং নিরাপদ কর্মসংস্থান। নিশ্চিত
বিস্তারিত