আনন্দময় শিক্ষা সমাপনী

গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি লাভের শেষ সময়ে শিক্ষা সমাপনী বা র‌্যাগ ডে পালিত হয়ে থাকে। শিক্ষার্থীরা এ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে চান নানা রকম বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে। ডিপার্টমেন্টকে বর্ণিলভাবে সাজানো, ঘোড়ার গাড়িতে করে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ, সাউন্ডস্পিকারে গান বাজানো, স্ট্রিট ড্যান্স, রঙ মেখে আনন্দ আর ক্যাম্পাসে ফ্লাশ মব এখন র‌্যাগ ডের অপরিহার্য অনুষঙ্গ। শুধু আনন্দই নয়, সেদিন সবাই টিএসসি অডিটরিয়ামে সম্মানিত শিক্ষকদের পরামর্শও মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তারপর কেক কাটার পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সবাই মিলে ব্যাপক আনন্দ করেন। যে লাজুক ক্লাসমেটটি কোনো দিন কারও সামনে পারফর্ম করেননি, তাকেও বন্ধুদের জোরাজুরিতে সেদিন মাইক্রোফোন হাতে কিছু একটা পারফর্ম করতে দেখা যায়। সে সঙ্গে চলতে থাকে সেলফি স্টিক দিয়ে দফায় দফায় ছবি তোলা আর পারফরম্যান্সগুলো ভিডিও করে রাখা। সবার জন্য দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে সাদা টি-শার্টের ব্যবস্থা করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা রঙিন কলমে একে অন্যের প্রতি ৪ বছরের অনুভূতিগুলো সংক্ষেপে লিখে দেন। 
‘অদম্য আঠারো’, ‘দ্য কুল কালেকশন’, ‘দ্য ক্লোজড চ্যাপটার’, ‘টর্নেডো এবার উড়ে যাবে সব’, ‘জামিন নামঞ্জুর’ এমন সব আকর্ষণীয় শিরোনামে র‌্যাগ ডে পালিত হয়। সব আয়োজনে আনন্দের ঢেউ প্রকাশ পেলেও দিন শেষে যখন অনুভূত হয় বিদায় নেয়ার সময় এসে গেছে, তখন হঠাৎ করেই মনটা স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ে। এমনভাবেই র‌্যাগ ডে পালনের অভিজ্ঞতা জানালেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুকান্ত দাশ। কিছুদিন আগে হয়ে যাওয়া ডিপার্টমেন্টের র‌্যাগ ডে সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বিদায়ের দিনে সারাদিন সবাই মিলে হৈ-হুল্লোড় করে যখন বিদায় নেয়ার সময় এলো, তখন অজান্তেই চোখের চশমাটা ঝাপসা হয়ে আসছিল। বুকের ভেতরে বিচ্ছেদ বেদনার স্রোত বয়ে যাচ্ছিল। আজকের পর হয়তো কারও সঙ্গে যোগাযোগ থাকবে; কিন্তু বিদায়বেলায় টি-শার্টে রঙিন কালিতে লেখা বন্ধুদের ৪ বছরের অনুভূতি ও শুভকামনাগুলোই হয়তো বহু বছর পর তাদের নিয়ে ভাবার খোরাক জোগাবে। স্মৃতির পাতায় তখন ভেসে উঠবে বন্ধুদের সঙ্গে টিএসসি, কলাভবন আর কার্জন হলে আড্ডা দেয়ার পুরনো স্মৃতিগুলো।’
র‌্যাগ ডে’তে রঙ মাখামাখি ছাড়া আনন্দটাই যেন জমে না। এ আনন্দকে শৈল্পিক ভাষায় ব্যাখ্যা করলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শুভ সরকার। তিনি বলেন, ‘কখনও জীবন ঠিক পথে আর কখনও ভীষণ সঙিন জীবন মানেই বিবর্ণ সব, জীবন মানেই রঙিন।’ র‌্যাগ ডে’তে রঙ মাখা ছবি তিনি ফেসবুকে প্রোফাইল পিকচার হিসেবে রেখেছেন। এছাড়া বন্ধুদের সঙ্গে রঙ মেখে আনন্দের ছবিগুলোও তিনি ফেসবুকে শেয়ার করেছেন।
এ দিকে র‌্যাগ ডে পালনের জন্য ২ মাস আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বছরের এ সময়টিকে তারা র‌্যাগ ডে সিজন হিসেবে গণ্য করেন। তারা দীর্ঘদিন ধরেই র‌্যাগ ডে’তে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক সবার কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ, স্পন্সর জোগাড় ও বর্ণিল রঙের টি-শার্ট ডিজাইনসহ ডিপার্টমেন্টকে সাজানোর পরিকল্পনা করেন। প্রোগ্রাম উপলক্ষে রিহার্সালও চলতে থাকে দুই সপ্তাহ আগে থেকেই। প্রোগ্রামের চেয়ে তাদের এ রিহার্সালকে কেন্দ্র করেই অনেক মজার মজার স্মৃতি তৈরি হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উম্মে হানি লাবণী জানান, র‌্যাগ ডের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের রিহার্সাল, রঙ মেখে আনন্দ করাসহ ডিপার্টমেন্টকে মনের মাধুরী মিশিয়ে সাজিয়ে তোলার কথা ভাবতেই ভালো লাগছে। আশা করছি, ক্যাম্পাসকে বিদায় জানানোর এ আয়োজনটিতে অনেক মজা হবে।
এ দিনটি কী শুধুই আনন্দের একটি দিন? কখনও কি মনে পড়বে না এ সময়ের কথা? এমন প্রশ্নে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী কাজী সাবরিনা তাবাসসুম। তিনি জানান, র‌্যাগ ডে নিয়ে আমার অনুভূতিটা আকাশছোঁয়া। অনেক মমতায় শুধু এ দিনটিকেই না, বরং পুরো ডিপার্টমেন্টের ৪ বছরের স্মৃতিকেই আমি আগলে রাখব। এটা মোটেও আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ দিন নয়, বরং এ দিনটি যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ককে আরও দীর্ঘস্থায়ী করে তুলবে আপন স্মৃতির পাতায়। 
একই ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী লোমান সরকার র‌্যাগ ডে নিয়ে জানান, চারটি বছর বন্ধুরা সবাই একসঙ্গে কাটিয়েছি, সবাই মিলে একটা আনন্দঘন মুহূর্ত উপভোগ করার জন্যই র‌্যাগ ডে করছি। তাছাড়া এটা একটা আগাম বার্তা যে, আমরা স্নাতক সম্মান শেষ করেছি, আমরা শিগগিরই গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করতে যাচ্ছি।
র‌্যাগ ডে’তে বিভিন্ন কারণেই ক্লাসের সবাইকে পাওয়া যায় না। তারপরও স্মৃতিচারণের এ শেষ আয়োজনটিতে অনেকেই অংশ নেন, বন্ধুরা সবাই মিলে স্মরণিকা বের করেন। স্মরণিকার লেখাগুলোতে ফুটে ওঠে ৪ বছরের হাসি, আনন্দ বা মান-অভিমানের শব্দগুলো। র‌্যাগ ডে শেষে ৪ বছর ক্লাস প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করা নাসরিন কলি জানান, মান-অভিমানগুলো ভুলে শুধু আনন্দকেই আমরা উদযাপন করেছি র‌্যাগ ডে’তে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এ দিন ক্যাম্পাসে লাউডস্পিকারে গান বাজিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দাম আনন্দে বাধা দেন না। হয়তো আনমনে তারাও হারিয়ে যান নিজেদের ক্যাম্পাস জীবনের স্মৃতিতে। এভাবেই নানা আয়োজনে স্মৃতিমুখর হয়ে থাকে ক্যাম্পাস জীবনের র‌্যাগ ডে পালন, যা সময়ের খাতায় লেখা থাকে সারাজীবন।


আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ পেলেন ৯০ প্রাণী
পোলট্র্রির বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, সঠিকভাবে রোগবালাই নির্ণয়, চিকিৎসা এবং রোগ
বিস্তারিত
সবার উপরে বাবা-মা
যে-কোনো মানুষের গায়ে হাত তোলাই অপরাধ। আর সন্তান হয়ে বাবা-মায়ের
বিস্তারিত
স্মৃতির মানসপটে যুক্তরাজ্য সফর
বিদেশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়তো অনেকেরই হয়ে থাকে। তবে কলেজের প্রতিনিধি,
বিস্তারিত
ব্যবসার ধারণা : গড়তে চাইলে
নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা
বিস্তারিত
৭৫ শতাংশ বৃত্তিতে আইটি ও
বিভিন্ন কারণে যারা আইটিতে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত তাদের
বিস্তারিত
লক্ষ্য যখন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিপরীতে ক্রমাগত উর্বরা জমির পরিমাণ কমছে। জনসংখ্যার এ
বিস্তারিত