কিউবান মুসলিমদের জীবনাচার

কিউবার অধিবাসী ৪৫ বছর 
বয়সী হাজী ঈসা বলেন, বিভিন্ন দেশের মুসলিমরা আমাদের বলে থাকেন কিউবার মুসলিমরাই প্রকৃত মুসলিম। কেননা, ইসলামের ধর্মীয় অনুশাসনগুলো পালন করা অন্যান্য দেশের তুলনায় এখানে অনেকটা কষ্টকর। কিউবার নওমুসলিম নাগরিক হাসান জান বলেন, খাবারের বিষয়টি এখানে বেশ জটিল। কারণ, ইসলামে নিষিদ্ধ খাবারের পরিমাণই এখানে বেশি। অধিকাংশ খাবারের সঙ্গেই শূকরের
মাংস মিশ্রিত থাকে 

কিউবা। পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের বৃহত্তম ও সবচেয়ে পশ্চিমে অবস্থিত একটি দ্বীপ। চে গুয়েভারা থেকে শুরু করে ফিদেল কাস্ত্রো পর্যন্ত বহু বিপ্লবীর উত্থান দেখেছে এই ভূখ-। কিউবার উত্তরে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাহামা দ্বীপপুঞ্জ, পশ্চিমে মেক্সিকো আর দক্ষিণে জ্যামাইকা। উর্বর ভূমি এবং আখ ও তামাকের ফলনের প্রাচুর্যের ফলে কিউবা ইতিহাসের অধিকাংশ সময় ধরেই ক্যারিবীয় অঞ্চলের সবচেয়ে ধনী রাষ্ট্র।
মুসলিমদের অবস্থা : মধ্যপ্রাচ্য ও কিউবার মাঝে রয়েছে প্রায় শত বছরের পুরনো সাংস্কৃতিক সম্পর্ক। মুসলিমদের মধ্যে আন্দালুসিয়া থেকে মুর জাতি সর্বপ্রথম এখানে আসে। পরবর্তী কয়েক শতাব্দী ধরে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম ও খ্রিস্টান ব্যবসায়ীদের দৃষ্টি কিউবার চিনি বাণিজ্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়। সে সব ব্যবসায়ীর বেশিরভাগই দেশটির রাজধানী হাভানা বা দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সান্তিয়াগোতে বসবাস শুরু করেন। তবে অভিবাসী আরবের অনেকেই নিজেদের ধর্মীয় কৃষ্টি-কালচার থেকে দূরে সরে যান। এক্ষেত্রে মুসলিম ও খ্রিস্টান সবাই একই পথে হেঁটেছেন। কিউবার সংস্কৃতি মুসলমানদের জন্য এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।
অ্যালকোহল মিশ্রিত ড্রিংক ‘রাম’ সে দেশে একটি জনপ্রিয় পানীয়। কারণ অন্যান্য কোমল পানীয়র চেয়ে এর খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কম। শূকরের মাংসও বেশ জনপ্রিয়। যে কোনো অনুষ্ঠানের মেন্যুতে খুব স্বাভাবিকভাবেই এটি থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে বড় সুপার শপগুলো ব্রাজিল থেকে হালাল মুরগি আমদানি করতে শুরু করেছে। তবে এর মূল্য অনেকেরই সাধ্যাতীত। নারীদের ব্যবহার্য ইসলামী পোশাকগুলোর বেশিরভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করা অথবা সেখানকার মুসলিম অভিবাসীরা উপহার দিয়ে থাকেন। কিউবার অধিবাসী ৪৫ বছর বয়সী হাজী ঈসা বলেন, বিভিন্ন দেশের মুসলিমরা আমাদের বলে থাকেন কিউবার মুসলিমরাই প্রকৃত মুসলিম। কেননা, ইসলামের ধর্মীয় অনুশাসনগুলো পালন করা অন্যান্য দেশের তুলনায় এখানে অনেকটা কষ্টকর। কিউবার নওমুসলিম নাগরিক হাসান জান বলেন, খাবারের বিষয়টি এখানে বেশ জটিল। কারণ, ইসলামে নিষিদ্ধ খাবারের পরিমাণই এখানে বেশি। অধিকাংশ খাবারের সঙ্গেই শূকরের মাংস মিশ্রিত থাকে। আর ওয়াইনযুক্ত খাবার তো আছেই। রাস্তায় বেরুলে নানা ধরনের অশ্লীলতা খুব সহজেই চোখে পড়ে। খ্রিস্টধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহণ করেছেন খালিদ। তিনি খাবারের ব্যবসা করছেন। এক্ষেত্রে তিনি ইসলামী শরিয়া অনুমোদিত খাবার পরিবেশনের চেষ্টা করছেন। তিনি জানান, ‘কিউবানরা শূকরের মাংসের প্রতি বেশ আসক্ত। তবে আমরা নতুন করে অ্যালকোহলমুক্ত খাবার এবং ভেজিটেবল পিজা তৈরি করছি। আমাদের ক্যাফে সম্পূর্ণ শূকরের মাংসমুক্ত। এতে আমরা বেশ সাড়াও পাচ্ছি। মুসলমানরাও এ ব্যাপারে বেশ সচেতন।’ 
ইসলাম বিষয়ে মনোভাব : ইসলাম বিষয়ে মিডিয়াকেন্দ্রিক মনোভাবই বেশি পোষণ করে থাকেন এখানকার জনগণ। মধ্যপ্রাচ্যসহ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন সন্ত্রাসী ঘটনা মিডিয়া খুব ফলাও করে প্রচার করে। ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে ইসলাম বিষয়ে একটা আতঙ্ক থেকেই যায়। পাশ্চাত্যের ইসলাম ফোবিয়া কিউবায় বেশ দাপটের সঙ্গেই আছে। এর ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি পোহাতে হয় যারা নতুন করে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। কিউবার নাগরিক হাজী ঈসা বলেন, ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম। এ বিষয়টি আমরা সবাইকে বোঝাতে চেষ্টা করছি। সবাই ইসলাম গ্রহণ করবে আমাদের প্রত্যাশা এমনটি নয়। বরং আমরা চাই অন্তত নওমুসলিমরা যেন ভালো থাকতে পারেন এবং সবাই যেন মুসলমানদের সঙ্গে চলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।’ 
ইসলাম প্রচার : মূলত বিভিন্ন মুসলিম দেশ থেকে আসা নাগরিকদের মাধ্যমেই এখানে ইসলাম প্রচারের কাজ চলছে। সান্তিয়াগো শহরের ট্যাক্সি ড্রাইভার হাজী জামাল বলেন, ‘আমি একজন খ্রিস্টান ছিলাম। খ্রিস্টবাদ নিয়ে আমার বেশ জানাশোনা ছিল। তবে ত্রিত্ববাদের বিষয়টি আমি কখনোই খুব ভালোভাবে বুঝতে পারিনি। তারপর আমি একজন মুসলিম বন্ধুর সঙ্গে ইসলাম বিষয়ে কথা বলি, যিনি মাত্র ক’বছর আগেই ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তিনি আমাকে কোরআনের একটি কপি দিলেন এবং বললেন, এটি পড়। আমি কোরআন পড়তে শুরু করলাম এবং এখানে আমি যুক্তি খুঁজে পেলাম। অবশেষে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, আমি ইসলাম গ্রহণ করব। তারপর ২০০৯ সালে আমি ইসলাম গ্রহণ করি। আমার এ সিদ্ধান্তে আমার মাসহ আত্মীয়স্বজন আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন। তারপর আমরা তাদের বোঝাতে থাকি। এভাবেই পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। অনেক নওমুসলিম নারী তাদের কর্মক্ষেত্রে হিজাব ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আলোচনা ও ইসলামের সঠিক ব্যাখার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করা গেছে। পাশ্চাত্যের অনেক দেশের মতো কিউবার মুসলিম নারীরাও নিজ ঘরে চাইল্ড কেয়ারের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করছেন, যা ইসলামী শরিয়ার সীমার মাঝে থেকেই অর্থ উপার্জনের বেশ বড় সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে। 

আল জাজিরা অবলম্বনে 


মহান আদর্শের মহানায়ক
  মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) ছিলেন সব শ্রেণিপেশার মানুষের জন্য এক
বিস্তারিত
জ্ঞান সাধনায় মুসলিম মনীষীদের অবদান
আল-বেরুনী ‘মা লিল-হিন্দ’ গ্রন্থটি বিশ্বে আল-বেরুনীর ভারত দর্শন নামে পরিচয়
বিস্তারিত
নৌবাহিনীর বার্ষিক কেরাত ও আজান
নৌবাহিনীর বার্ষিক কেরাত ও আজান প্রতিযোগিতা-২০১৮ শুক্রবার ঢাকা সেনানিবাসে নৌবাহিনী
বিস্তারিত
বেনামে সুদ : একটি শরয়ি
অনেক ওলামায়ে কেরাম জমি বন্ধকের এ মুয়ামালাটিকে জায়েজ করার জন্য
বিস্তারিত
মিতব্যয়িতা ইসলামে পছন্দনীয় কাজ
মানুষকে মিতব্যয়ী হতে উৎসাহিত করতে প্রতি বছর ৩১ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে
বিস্তারিত
ইসলামের দৃষ্টিতে উপহার বিনিময়
পারস্পরিক উপহার আদান-প্রদান আমাদের সামাজিক জীবনের একটি সাধারণ বাস্তবতা। বিষয়টি
বিস্তারিত