আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের অনুচিত সমালোচনা

জোনাথন পাওয়ার

আফ্রিকার অনেক নেতাই রাগান্বিত অবস্থায় আছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কর্মকা-ে। কেননা তারা রুয়ান্ডা ও সিয়েরালিওনের যুদ্ধাপরাধ আদালতের সঙ্গে বিশেষভাবে আফ্রিকায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ খুঁজতে রুয়ান্ডা, লাইবেরিয়া, সিয়েরালিওন, কঙ্গো, আইভরি কোস্ট, উগান্ডা, কেনিয়া ও সোমালিয়ায় কাজ করছেন। 
গেল মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সঙ্গে নিজেদের কার্যক্রম প্রত্যাহার করেছে। আফ্রিকার দেশ বুরুন্ডিও একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ দুইটি দেশের মতো গাম্বিয়াও পর্যবেক্ষক হিসেবে অন্যদের একই পথ অনুসরণ করার কথা বলবেÑ এমনটাই মনে হচ্ছে। কয়েক বছর ধরে আইসিসিতে আফ্রিকার দেশগুলো এভাবেই নিজেদের উপস্থাপন করছে। 
এদিকে আইসিসির প্রধান প্রসিকিউটর একজন আফ্রিকান মহিলা ও সেখানে ১৭ জন বিচারকের পাঁচজনই আফ্রিকান। আইসিসিতে কয়েক বছর ধরে স্ব-আগ্রহেই উগান্ডা, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রী কঙ্গো, মালি, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, কমোরোস, গ্যাবন প্রমুখ দেশগুলো উপস্থাপিত হয়েছে। কিন্তু এই দেশগুলো এ সময়ে কোনো প্রতিবন্ধকতা বা বিদ্রোহের সম্মুখীনও হয়নি।
আফ্রিকার সরকারগুলো রুয়ান্ডার গণহত্যার জন্য দোষী সাব্যস্ত নেতাদের আটক করতে তৎপর ছিল। সেসব নেতা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে পালিয়ে যেতে বারবার চেষ্টা করছিল। আফ্রিকার দেশগুলোর একটি অংশ মুখে মুখে আইসিসির সমালোচনা করলেও অন্যান্য দেশ জোর করেই আইসিসিকে কাজে লাগাচ্ছে নিজেদের মহৎ উদ্দেশ্যগুলো সামনে রেখে। যেমন তানজানিয়া আইসিসিকে তাদের অনুমতির অপেক্ষা না করে আইসিসির প্রসিকিউটরকে সে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত অনুসন্ধান চালানোর আহ্বান জানিয়েছে। 
অন্যদিকে যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে বিশেষজ্ঞ আমেরিকার সাবেক কূটনীতিক ডেভিড শেফার বলেছেন, আফ্রিকার দেশগুলো নিজেরাই এমন উদ্যোগ নিতে পারে। এক্ষেত্রে তিনি আইসিসির প্রসঙ্গে আফ্রিকার বাইরের দেশ হিসেবে আফগানিস্তানের উদাহরণ দেন।
এদিকে বাস্তবতা বলছে, আফ্রিকার দেশগুলো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে চাপ প্রয়োগ করলে বরং অধিক কার্যকর ফল পেতে পারে। এক্ষেত্রে তারা যদি নিজেদের তদন্ত অনুসন্ধান বন্ধ করে শুধু নিরাপত্তা পরিষদের কার্যক্রমকে প্ররোচিত করে, তবেই এ ফল পাওয়া যেতে পারে। তবে আফ্রিকার এটি ভাবার কোনো যুক্তি নেই যে, তাদের পুরো বিশ্ব গ্রহণ করছে, বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্ব। আর পৃথিবীর অধিকাংশ দেশই এখন আইসিসির সদস্য। ২৫ বছর ধরে বিশ্বে যুদ্ধ ও নৈরাজ্যের অধ্যায়গুলো শেষ হতে চলেছে, শুধু আফ্রিকায় তা হয়নি। আফ্রিকানদের এটা বোঝা উচিত, আইসিসি তাদের এক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে সক্ষম। আইসিসি অবশ্যই আফ্রিকানদের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করবে, তবে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আফ্রিকানদের অবশ্যই এ বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করতে হবে। 
আরব নিউজ অবলম্বনে 


নির্বাচনি ইশতেহারে ইসলামের প্রেরণা
ইশতেহারে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- বন্ধের ব্যাপারে স্পষ্ট বক্তব্য দেখতে পাওয়া যায়
বিস্তারিত
মানুষ মানুষের জন্য
শুক্রবার মানেই সাপ্তাহিক ছুটি। ছুটির দিন নানাজন নানাভাবে কাজে লাগিয়ে
বিস্তারিত
শীতের নেয়ামত বিচিত্র পিঠা
  প্রকৃতিতে বইছে শীতের সমীরণ। কুহেলিঘেরা সকাল মনে হয় শ্বেত হিমালয়।
বিস্তারিত
মহামানবের অমীয় বাণী
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে আমার উম্মতের স্বার্থে
বিস্তারিত
যুদ্ধাহত শিশুদের কথা
৩ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে ‘নিউ এরাব’ আরব বিশ্বের
বিস্তারিত
সুদানে গ্রামীণ ছাত্রদের শহুরে জীবন
যেসব সুদানি ছাত্র পড়াশোনা করতে গ্রাম থেকে শহরে এসেছে তারা
বিস্তারিত