জামেউল কোরআন ওসমান বিন আফফান (রা.)

রাসুল (সা.) এর প্রিয়তম জামাতা ওসমান বিন আফফান (রা.)। মূল নাম ওসমান। উপনাম আবু আবদুল্লাহ। উপাধি জুন্নুরাইন। বাবা আফফান। মা আরওয়া বিনতে কুরাইজ। তিনি কোরাইশ বংশের উমাইয়্যা শাখার সন্তান। ওসমান (রা.) এর নানি ছিলেন রাসুল (সা.) এর আপন ফুফু। ঐতিহাসিকদের মতে, হস্তি বছরের ৩ বছর পর ওসমান (রা.) তায়েফে জন্মগ্রহণ করেন। এ হিসাবে তিনি রাসুল (সা.) এর ৩ বছরের ছোট।
ওসমান (রা.) ছিলেন মধ্যম আকৃতির সুঠাম দেহের অধিকারী। গায়ের রঙ ছিল ফর্সা। চুল ছিল ঘন কালো। তার চেহারায় বসন্তের দাগ ছিল। ঐতিহাসিকরা ওসমান (রা.) এর বাল্যজীবন সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তিনি ‘আস সাবেকুনাল আওয়ালুন’ অর্থাৎ প্রথম সারির ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে অন্যতম। সাইয়্যেদেনা আবু বকর (রা.) এর দাওয়াতে তিনি ইসলাম কবুল করেন। তিনি ‘আশারায়ে মুবাশশারা’ অর্থাৎ বেহেশতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ১০ জনের একজন। ইবনে ইসহাকের মতে, ইসলাম গ্রহণের দিক থেকে তিনি চতুর্থ ব্যক্তি। আলী, জায়েদ ও আবু বকরের পরই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণকালে তার বয়স ৩০ এর কিছু বেশি ছিল।
ইবনে সাআদাত তার তাবাকাতে তৃতীয় খর ৫৫ পৃষ্ঠায় লেখেন, “মক্কার শ্রেষ্ঠ ধনী হওয়া সত্ত্বেও ইসলাম গ্রহণ করার কারণে ওসমান (রা.) কঠিন নির্যাতনের শিকার হন। তার চাচা হাকাম ইবনে আস প্রায়ই তাকে রশি দিয়ে বেঁধে বেদম মারধর করত। রাসুল (সা.) ওসমান (রা.) এর কাছে নিজ কন্যা রুকাইয়্যাকে বিয়ে দেন। হিজরির দ্বিতীয় সনে রুকাইয়্যা মারা গেলে এক বছর পর হজরতের অপর কন্যা উম্মে কুলসুমকেও ওসমান (রা.) বিয়ে করেন। এক বর্ণনায় পাওয়া যায়, আল্লাহর নির্দেশক্রমেই রাসুল (সা.) ওসমান (রা.) এর সঙ্গে দ্বিতীয় কন্যার বিয়ে দেন। রাসুল (সা.) এর দুই কন্যা বিয়ে করার কারণেই তিনি ‘জুন্নুরাইন’ তথা দুই নূরের অধিকারী উপাধিতে ভূষিত হন।”
চরম জুলুম-নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে যে দলটি প্রথম হাবসায় হিজরত করে, সেখানে ওসমান এবং তার স্ত্রী রুকাইয়্যাও ছিলেন। এ সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর নবী লুত (আ.) এর পর পরিবার-পরিজনসহ ওসমানই প্রথম হিজরতকারী।’ হাবসায় থাকা অবস্থায় তিনি শুনতে পেলেন মক্কার নেতারা ইসলাম গ্রহণ করেছে। তাই মক্কা মুসলমানদের জন্য নিরাপদ। মূলত এটি ছিল একটি গুজব। ওসমান (রা.) মক্কায় এসে বিষয়টি বুঝতে পারলেন। রাসুল (সা.) মদিনায় হিজরত করলে তিনিও মদিনায় হিজরত করেন। এভাবে তিনি বিরল ‘জুল-হিজরাতাইন’ তথা দুই হিজরতের অধিকারী হয়ে যান।
বদরযুদ্ধ ছাড়া সব যুদ্ধেই ওসমান (রা.) রাসুল (সা.) এর সঙ্গে সশরীরে অংশগ্রহণ করেন। বদরযুদ্ধের সময় ওসমান (রা.) এর স্ত্রী প্রচ- অসুস্থ থাকায় রাসুল (সা.) তাকে ছুটি দেন। এ সত্ত্বেও রাসুল (সা.) ওসমান (রা.) কে বদরি সাহাবির মর্যাদা দিয়েছেন। তার জন্য গনিমতের অংশ নির্ধারণ করেছেন। তাবুক যুদ্ধের সময় তিনি সবচেয়ে বেশি সম্পদ দান করেন। রাসুল (সা.) খুশি হয়ে তার জন্য মাগফিরাতের দোয়া করেন এবং তাকে জান্নাতের ওয়াদা করেন। হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় রাসুল (সা.) এর প্রতিনিধি হয়ে কাফেরদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে কাফেররা তাকে গুম করে হত্যার গুজব ছড়িয়ে দেয়। রাসুল (সা.) ও সাহাবিরা ওসমান হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য হাতে হাত রেখে শপথ গ্রহণ করেন। এ দৃশ্য আল্লাহর কাছে খুই ভালো লাগে। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা সূরা ফাতহে আয়াত নাজিল করেন।
রাসুল (সা.) এর ওফাতের পর তিনি আবু বকর (রা.) এর হাতে বায়াত গ্রহণ করেন। আবু বকর (রা.) এর ওফাতের পর ওমরের হাতে তিনিই প্রথম বায়াতকারী। ওমর (রা.) এর শাহাদতের পর ওসমান (রা.) খলিফা নিযুক্ত হন। ওসমান (রা.) অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে খেলাফতের দায়িত্ব পালন করেন।
কোরআন সংরক্ষণের মতো মহান কাজের জন্য মুসলিম উম্মাহ কেয়ামত পর্যন্ত তার কাছে ঋণী থাকবে। ওসমান (রা.) কর্তৃক সংরক্ষিত কোরআনের কপিই আজ বিশ্বব্যাপী পঠিত হচ্ছে। কোরআন সংরক্ষণের এ অনন্য খেদমতের জন্য মুসলিম উম্মাহ তাকে ‘জামেউল কোরআন’ অর্থাৎ কোরআন সংরক্ষণকারী হিসেবে চিনে থাকে।
খেলাফতের প্রাথমিক পর্যায় ভালোভাবে অতিবাহিত করলেও শেষের দিকে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ দানা বেঁধে ওঠে। ইহুদি ও মোনাফেকরা তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অবান্তর অভিযোগ তুলে সাধারণ মানুষকে উসকাতে থাকে। মূলত ওসমান (রা.) এর বিরুদ্ধে আনীত একটি অভিযোগও প্রমাণিত নয়। বিদ্রোহীরা ওসমান (রা.) কে বারবার পদত্যাগের হুমকি দিতে থাকে। তারা খলিফার বাসস্থান ঘেরাও করে খাদ্য-পানীয় সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। হিজরি ৩৫ সনের ১৮ জিলহজ আসর নামাজের পর কোরআন তেলাওয়াত ও রোজা অবস্থায় বিদ্রোহীদের হাতে নির্মমভাবে শহীদ হন ওসমান (রা.)। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।
ওসমান (রা.) রাসুল (সা.) এর খুব কাছের মানুষ ছিলেন। রাসুল (সা.) তাকে বারবার জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। কাতিবে ওহি বা ওহির লেখক ছিলেন। আবু বকর (রা.) এর সময় তিনি রাষ্ট্রীয় পরামর্শক ছিলেন। তার সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেন, ‘সব নবীরই জান্নাতে একজন বন্ধু থাকবে। আর আমার বন্ধু হলো ওসমান।’ তার লজ্জাশীলতার প্রশংসায় রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে ওসমানই সবচেয়ে বেশি লজ্জাশীল। তাকে দেখে ফেরেশতারাও লজ্জা পায়।’ তিনি প্রতি বছর হজ করতেন। সারা বছর রোজা রাখতেন। দিনে রাষ্ট্রীয় কাজ করতেন আর রাতে তাহাজ্জুদ পড়তেন। ধনাঢ্যতার জন্য তাকে ‘গনি’ বা ধনী উপাধিতেও ভূষিত করা হয়। শুধু ধনীই নয়, তিনি দানবীর ও দয়ালু হিসেবেও খ্যাত ছিলেন।


রক্তনেশার আক্রোশে ইদলিব : তারপর
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আভাস জোরেশোরেই দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। বিশ্বযুদ্ধের অবয়ব কী? সিরিয়ায়
বিস্তারিত
ইমাম বোখারির আসনে যুগের বোখারির দরস
আলোচনায় তিনি বলেন, ‘ইমাম বোখারি এ ভূমিতেই বেড়ে উঠেছেন। এখানেই
বিস্তারিত
সৌদির জাতীয় দিবসে মক্কা-মদিনার পরিষদ
সৌদি আরবের ৮৮তম  জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীর উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বাণী
বিস্তারিত
প্রাচীন মসজিদে ঘেরা বারোবাজার শহর
ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ থানার বারোবাজার ইউনিয়ন। পূর্বনাম শহর মোহাম্মদাবাদ। প্রায়
বিস্তারিত
পিতামাতার প্রতি করণীয়
সমগ্র বিশ্বের স্রষ্টা আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন স্বীয় ‘রহমত’ গুণটির ছায়া-প্রভাব
বিস্তারিত
নবীজির পোশাক কেমন ছিল
প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর কথাই কি শুধু তাঁর
বিস্তারিত