নবীদের বৈশিষ্ট্য ইস্তেগফার

ইস্তেগফার অর্থ আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। নবীরা (আ.) ইস্তেগফার তথা ক্ষমা প্রার্থনায় সবচেয়ে দ্রুত অগ্রসর ছিলেন। যখন শয়তানের প্ররোচনায় আদম ও হাওয়া (আ.) আল্লাহর অবাধ্যতা করে ফেলেন তখনই সঙ্গে সঙ্গে তওবা করেন। আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে ক্ষমা প্রার্থনা শুরু করেন। তারা স্বামী-স্ত্রী উভয়ে বলতে থাকেন, ‘হে আমাদের প্রভু, আমরা নিজেদের ওপর জুলুম করেছি। যদি আপনি আমাদের ক্ষমা ও দয়া না করেন তাহলে নিশ্চয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাব।’ (সূরা আল আরাফ : ২৩)।

নুহ (আ.) আল্লাহর কাছে বন্যা থেকে নিজ ছেলেকে পরিত্রাণ দেয়ার আবেদন করেন। কিন্তু এটিকে আল্লাহ তায়ালা অন্যায় বলে গণ্য করলে নুহ (আ.) এ বলে ইস্তেগফার করেন, ‘হে প্রভু, আমি আপনার কাছে এমন বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করা থেকে পানাহ চাই যার ব্যাপারে আমার কোনো জ্ঞান নেই। আপনি আমাকে ক্ষমা ও দয়া না করলে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাব।’ (সূরা হুদ : ৪৭)।
মুসা (আ.) এক মিসরিকে হত্যা করে ফেললে তৎক্ষণাৎ অনুতপ্ত হয়ে এ বলে ক্ষমা প্রার্থনা করেন, ‘হে রব, আমি নিজের ওপর জুলুম করেছি। তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন।’ (সূরা কাসাস : ১৬)।
ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে বলেন, ‘আল্লাহ তো তিনি যার ব্যাপারে আমি আশা রাখি যে, তিনি আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।’ (সূরা শুআরা : ৮২)।
ইউনুস (আ.) মাছের পেটে গিয়ে আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করেন, ‘আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আপনি মহান। নিশ্চয় আমি জুলুমকারীদের অন্তর্ভুক্ত।’ (সূরা আম্বিয়া : ৮৭)।
দাউদ (আ.) এর ব্যাপারে এসেছে, ‘আর দাউদ মনে করল আমি তাকে পরীক্ষায় নিপতিত করেছি। তখন সে তার রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করল।’ (সূরা সোয়াদ : ২৪)।
আর আমাদের প্রিয় নবী (সা.) কী পরিমাণ ইস্তেগফার পড়তেন, তা নিম্নের হাদিসটি দ্বারা বোঝা যায়। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর শপথ, আমি আল্লাহর কাছে দৈনিক ৭০ বার থেকেও বেশি ইস্তেগফার পাঠ করি।’ (বোখারি)।
সাহাবায়ে কেরাম (রা.) ইস্তেগফারের ক্ষেত্রে নবীদের উত্তম নমুনা ছিলেন। নবীজির পর উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি আবু বকর (রা.) অধিক পরিমাণে ইস্তেগফার পাঠ করতেন। হজরত ওমর (রা.) নবীজি (সা.) কে বলেন, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ, আপনি আমার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ওমর (রা.) বাচ্চাদের দেখলে বলতেন, তোমরা আমার জন্য ইস্তেগফার পাঠ করো। কেননা তোমরা গোনাহমুক্ত।’ হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘আমি দৈনিক এক হাজারবার ইস্তেগফার পাঠ করি।’ তিনি মক্তবের বাচ্চাদের বলতেন, ‘তোমরা আবু হুরায়রার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো।’ তখন বাচ্চারা দোয়া করলে তিনি তাদের দোয়ায় আমিন বলতেন। আবু জর (রা.) বলতেন, ‘প্রত্যেক রোগের ওষুধ আছে। আর গোনাহের ওষুধ হচ্ছে ইস্তেগফার।’
তাই আসুন গোনাহ হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। ইস্তেগফারের ফজিলত অনেক। মোমিন বান্দা দুনিয়ায় ইস্তেগফার করলে তাৎক্ষণিক প্রতিদান পায়। ইস্তেগফারের বিশেষ কিছু উপকার হচ্ছেÑ ১. এটি গোনাহকে মুছে ফেলে ও বান্দার মর্যাদা উন্নীত করে। ২. এর মাধ্যমে বালামুসিবত দূর হয়। ৩. রিজিক প্রশস্ত হয়। ৪. পরিবারে শান্তি আসে। ৫. শরীরে ঈমানি শক্তি বৃদ্ধি পায়। ৬. হৃদয় স্বচ্ছ ও নির্মল হয়। ৭. আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হয়। ৮. চিন্তা-পেরেশানি দূর হয়।


রহমতের নবী (সা.) ও হিলফুল
‘আমি তো আপনাকে বিশ^জগতের প্রতি শুধু রহমতরূপেই প্রেরণ করেছি।’ (সূরা
বিস্তারিত
বিশ্বনবী : আঁধারে আলোর পরশ
পৃথিবী। মানব সৃষ্টির আগে যার সৃষ্টি। সৃষ্টিকর্তা মানুষকে পাঠানোর আগে
বিস্তারিত
সেই ফুলেরই খুশবুতে
ভালোবাসা পবিত্র জিনিস। ফুল পবিত্রতার প্রতীক। ফুল দিয়ে ভালোবাসা বিনিময়
বিস্তারিত
নবীজির ১০টি বিশেষ উপদেশ
নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন বিশ্ববাসীর রহমতস্বরূপ। আজীবন মানুষের
বিস্তারিত
সৃষ্টির সেরা আদর্শ
সূর্যের আলো থেকে মানুষ বেঁচে থাকার উপাদান পেলেও মানুষ হওয়ার
বিস্তারিত
ইরাকিদের তাড়িয়ে ফিরছে দারিদ্র্য
  ইরাকের জনগণের একটি বড় অংশ সুস্পষ্ট জাতীয় অর্থনৈতিক নীতির অভাবে
বিস্তারিত