মক্কা শরিফের জুমার খুতবা

মুসলিম জাতির একতার পথ

ঐক্য বাস্তবায়ন সহজ। একতার উপাদান পর্যাপ্ত। প্রতিবন্ধক দূর করাও কঠিন নয়। বিশেষ করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে, যখন শত্রুদের চক্রান্ত উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। উম্মাহর মাঝে বিরোধ সৃষ্টি, বিরোধের আগুনে ফুঁ দেয়া এবং বিরোধ, বিভক্তি ও অন্তর্ঘাত ছড়াতে তাদের তাড়না এবং তৎপরতা পরিষ্কার হয়ে গেছে, যা রক্ত ঝরিয়েছে, দেশগুলোকে খন্ডিত করেছে এবং একতাকে খন্ডবিখন্ড করে দিয়েছে।
হে মুহাম্মদ (সা.) এর উম্মত, যে কেউ মনে করে শত্রুরা চাইছে মুসলমানদের যুধ্যমান পক্ষদ্বয়ের একটিকে আরেকটির বিরুদ্ধে সাহায্য করতে অথবা এক দলের বিপরীতে অপর দলের স্বার্থ রক্ষা করতে, তিনি যেন দ্বীন সম্পর্কে নিজের প্রাজ্ঞতা, রাজনৈতিক বিচক্ষণতা এবং শত্রুদের ক্ষেত্রে নিজের অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করেন। সেই সত্তার শপথ, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, ইসলামের অনুসারী সবাই টার্গেট; এ থেকে কেউ ব্যতিক্রম নয়। আল্লাহর বাণী কতই না সত্য। তিনি বলেন, ‘বস্তুত তারা তো সর্বদাই তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে থাকবে, যাতে তোমাদেরকে দ্বীন থেকে ফিরিয়ে দিতে পারে যদি সম্ভব হয়।’ (সূরা বাকারা : ২১৭)। আল্লাহ আরও বলেন, ‘আহলে কিতাবদের অনেকেই প্রতিহিংসাবশত চায়, মুসলমান হওয়ার পর তোমাদের কোনো রকমে কাফের বানিয়ে দেয়। তাদের কাছে সত্য প্রকাশিত হওয়ার পর (তারা এটা চায়)।’ (সূরা বাকারা : ১০৯)। প্রথমোক্ত আয়াতে ‘সর্বদাই’ শব্দটি দুশমনের ধারাবাহিকতা এবং গোত্রীয় কোন্দল ও উপদলীয় বিভক্তি জিইয়ে রাখতে বিরতিহীন ও ত্বরিত প্রচেষ্টার ইঙ্গিত বহন করে। আল্লাহর কসম, পুনরায় আল্লাহর কসম, এরা শুধু এক দলের পেছনে লেগে নেই, বরং উম্মাহর এক দলকে এরা ব্যস্ত রেখেছে আরেক দলের সঙ্গে। তাই কেউ যেন মনে না করেন, আমি তাদের ব্যাপারে নীরব কিংবা ওরা নীরব আমার ব্যাপারে অথবা তাকে কিছু সহযোগিতা করছে বলে ওরা তাদের ছেড়ে দেবে। রোজই ওরা ইসলাম-অনুসারীদের মাঝে ফেতনা ও আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে। শুধু নিজেদের মতলব হাসিলে তারা প্ররোচিত করছে মুসলমানদের একে অপরের বিরুদ্ধে লড়তে। তারা যখন নিজেদের মিথ্যার ওপর একতাবদ্ধ, তখন ইসলামের অনুসারীরা কেন তাদের পক্ষে একে অপরের সঙ্গে বিবাদে লিপ্ত!
হে মুহাম্মদ (সা.) এর উম্মত, আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.) আমাদের রেখে গেছেন পরিষ্কার প্রমাণের ওপর। যার দিন ও রাত সমান। তিনি আমাদের মাঝে এমন জিনিস রেখে গেছেন, যাকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরলে তাঁর পরে আমরা পথহারা হব না। তা হলো, আল্লাহর কোরআন ও তাঁর সুন্নাহ। মহাগ্রন্থে এরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা সবাই আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ় হস্তে ধারণ করো; পরস্পর বিচ্ছিন্ন হইও না।’ (সূরা আলে ইমরান : ১০৩)। আল্লাহ আরও বলেন, ‘আর আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ মান্য করো এবং তাঁর রাসুলের। তাছাড়া তোমরা পরস্পরে বিবাদে লিপ্ত হইও না। যদি তা করো, তবে তোমরা কাপুরুষ হয়ে পড়বে এবং তোমাদের প্রভাব চলে যাবে।’ (সূরা আনফাল : ৪৬)। অন্যত্র আল্লাহ বলেন, ‘আপনাদের এই উম্মত সব তো একই ধর্মের অনুসারী।’ (সূরা মোমিনুন : ৪২)। হ্যাঁ, আল্লাহ বলেছেন, ‘একই ধর্মের অনুসারী’, তিনি বলেননি, ‘একতাবদ্ধ উম্মত’। যা থেকে বোঝা যায়, বাস্তবতা হলো ইসলামের অনুসারীরা এ ধর্মে শুরু থেকেই এক জাতিস্বরূপ। এমন নয় যে, তারা প্রথমে বিভক্ত ছিল আর পরে গিয়ে একতাবদ্ধ হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তোমাদের পিতা ইবরাহিমের ধর্মে কায়েম থাক। তিনিই তোমাদের নাম মুসলমান রেখেছেন।’ (সূরা হজ : ৭৮)।
ধর্ম এক, কিতাব এক, কেবলা এক, জগৎ এক, গন্তব্যও অভিন্ন। মুসলমানদের ঘিরে আছে আল্লাহর সঙ্গ ও সাহায্য যদি তারা একতাবদ্ধ থাকে তাঁর নির্দেশিত তাওহিদ ও উত্তম ইবাদতে। যদি তারা এক হাত হয়ে যায় বিজাতির মোকাবিলায়। আল্লাহর ছায়া ও রক্ষাবেষ্টনী তাদের হেফাজত করে কষ্ট, ভয় ও অস্থিরতা থেকে। তারা যদি বিচ্ছিন্ন হয়, তাদের স্থিরতা দূর হয়ে যায়। আল্লাহ তাদের পতিত করেন তাদেরই পরস্পর সংকটে। দুনিয়া ও আখেরাতে এবং ইহ ও পরজগতে উম্মাহর কল্যাণ তখনই অর্জিত হবে, যখন তারা আল্লাহর কিতাবকে রাখবে সামনে, নেতৃত্বে ও কান্ডারিত্বে। আল্লাহর রাসুলের সুন্নাহকে বানাবে নিজেদের আলো ও পথ। তখনই শুধু তাদের ইমেজ উঁচু হবে, মর্যাদা বাড়বে এবং তাদের পতাকা সুরক্ষিত থাকবে।
মুসলিম উম্মাহকে একত্রিত রাখে আকিদার একতা। ইবাদত, আখলাক ও শিক্ষায় আল্লাহর নির্দেশ এবং নিদর্শনের একতা। তাওহিদ, নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, জিহাদ, সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ এবং আদব ও উপদেশে অভিন্নতা। ইসলামী একতার সামনে বিদ্বেষ ও উত্তেজনা, লোভ ও পতাকা, সাম্প্রদায়িকতা এবং দলান্ধতা তুচ্ছ। সবাই ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’র পতাকাতলে সমবেত। আল্লাহু আকবার, সম্মান তো আল্লাহ, তাঁর রাসুল (সা.) ও মোমিনদের জন্যই। এ হলো ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক একতা। এ দ্বীনের ভালোবাসা, একে আঁকড়ে ধরা, এ নিয়ে সম্মানবোধ করা এবং এর মশাল তুলে ধরায় মুসলমান একতাবদ্ধ।
উম্মাহর একতার একমাত্র পথ হলো কেবলাধারীদের সঙ্গে যথাযথ আচরণ করা, যা নির্ধারিত হবে শরিয়তের নীতি ও ওহিদ্বয় তথা কোরআন-সুন্নাহর মূলনীতি এবং সালাফে সালেহ তথা উত্তম পূর্বসূরিদের পথের ভিত্তিতে। প্রত্যেক কেবলাধারীর জন্যই তার অবকাশ রয়েছে, যার অবকাশ ছিল প্রথম পূর্বসূরি তথা আনসারী-মুহাজিরদের জন্য। যারাই রাসুল (সা.) ও তাঁর সাহাবিরা (রা.) অবস্থান, অবস্থা ও বৈচিত্র্যে যা ছিলেন তার অনুরূপ হবে, তারাই নিম্নোক্ত আয়াতে উল্লিখিত ‘মনোনীতদের’ অন্তর্ভুক্ত হবেন। আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর আমি কিতাবের অধিকারী করেছি তাদের, যাদের আমি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে মনোনীত করেছি। তাদের কেউ কেউ নিজের প্রতি অত্যাচারী, কেউ মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর নির্দেশক্রমে কল্যাণের পথে এগিয়ে গেছে।’ (সূরা ফাতির : ৩২)।

১১ সফর ১৪৩৮ হি. মক্কার মসজিদে হারামে প্রদত্ত জুমার খুতবার সংক্ষিপ্ত ভাষান্তর আলী হাসান তৈয়ব


আশুরা ও কারবালার চেতনা
আশুরার দিন তিনি সেনাপতির মতো শত্রুবাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যূহ রচনা করেন।
বিস্তারিত
মেঘ নেমেছে কাশবনে
মুগ্ধ হয়ে দেখি শরতের মনকাড়া এসব রূপের বাহার। আশ্চর্য হয়ে
বিস্তারিত
মোবাইলে বিয়ের সঠিক পদ্ধতি!
পাত্র বা পাত্রী তার আপনজন বা পরিচিত যে কাউকে চিঠি,
বিস্তারিত
কাছের টিকিটে দূরে ভ্রমণ
প্রশ্ন : অনেক সময় বাসের লোকজন সীমাতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে থাকে।
বিস্তারিত
তুরস্কে শিশুদের জামাতে ফজর আদায়ে
মসজিদের প্রতি শিশুদের ভালোবাসা গড়ে তোলার জন্য তুরস্কের কাওনিয়া রাজ্যের
বিস্তারিত
আফগানিস্তানে কি আবার ফিরছে তালেবান
আফগানিস্তানে একসময় হতাহতের ঘটনা সংবাদের শিরোনামে উঠে এলেও এখন সেগুলো
বিস্তারিত