মাইকওয়ালা হতে চেয়েছিল মেয়েটি

রব্বান মাইকওয়ালা জানে না, মন যা চায় তাই করতে হয়। সেদিন তাকে এ কথাটা বলা হয়নি। মনের মধ্যে এ ইচ্ছেটা পুরেই বড় হয় মেয়েটা। মাইকওয়ালা হওয়া তার হয় না। মাধ্যমিকের গন্ডি না পেরুতেই বসতে হয় বিয়ের পিঁড়িতে। তার বিয়েতেও ডাক পড়ে রব্বান মাইকওয়ালার

লীলাবালি লীলাবালি/বড় যুবতী সই গো/কি দিয়া সাজাইমু তোরে... কিংবা হলুদ বাটো, মেন্দি বাটো, বাটো ফুলের মৌ... দূর থেকে ভেসে আসছে গান। পাড়ায় ঠিক নয়, তবে এক পাড়া বাদেই হয়তো কারও বিয়ে। তাই তো মাইকে বাজছে বিয়ের গান। সে গান ভেসে আসছে রাতের আঁধারে... গায়ে হলুদ থেকে শুরু করে বৌভাত পর্যন্ত বিয়ে বাড়িতে গান-বাজানো হয়। ভাড়া করা হয় মাইক। শহরে না হলেও গ্রামের বাড়িতে প্রায় সব বাড়িতেই বিয়েতে মাইক বাজানো হয়।
বিয়ে বাড়িতে গান বাজানো ও বরযাত্রীর গাড়ির সঙ্গে গান বাজাতে বাজাতে যাওয়ার জন্য মাইকওয়ালা হতে চেয়েছিল মেয়েটি। শৈশবে মনের মধ্যে গেঁথে গিয়েছিল একটাই ভাবনা, সে বড় হলে মাইকওয়ালা হবে। মনে পড়ে বড় বোনের বিয়েতে তিন দিনের জন্য ভাড়া নেয়া হয়েছিল রব্বান মাইকওয়ালাকে। রব্বান মাইকওয়ালার বাড়ি মেয়েটির বাড়ির কয়েকটি বাড়ি পরেই। দিনের বেশিরভাগ সময় রব্বান মাইকওয়ালার রাস্তায় কাটত। বিশেষ করে গরমের সময়। কারণ সে সময় আইসক্রিম বিক্রি করত সে। সেই সকালে গান বাজাতে বাজাতে এক বক্স আইসক্রিম নিয়ে বের হতো বাড়ি থেকে, ফিরত বিকালে। কখনও বা সন্ধ্যায়, সূর্য যখন বাড়ি ফিরে ঠিক সে সময়। আর মাঝে মাঝে যদি কোনো বিয়ে বাড়ি বা অনুষ্ঠানের বায়না পেত, সেদিন আলাদা কথা। সেই রব্বান মাইকওয়ালা যেদিন বড় বোনের বিয়েতে তাদের বাড়িতে এলো তার জন্য সে কি প্রস্তুতি। পুরো একটা চৌকি ছেড়ে দেয়া হয়েছিল তাকে। ব্যাটারি আর মাইকের সরঞ্জাম রাখার জন্য। আর তার কি দাপট। চৌকির কাছাকাছি হলেই এই এদিকে আইসো না, এদিকে আইসো না করে তেড়ে আসে। শুধু তাই নয়! গানগুলোও বাজায় তার পছন্দে। বললেও এর রদবদল হয় না। বড়রা বললে কখনও কখনও যদিও শোনে, ছোটদের মোটেই পাত্তা দেয় না। তাই সেদিন থেকে মেয়েটির মাইকওয়ালা হওয়ার ইচ্ছেটা আরও পাকাপোক্ত হলো। কতদিন স্বপ্নে দেখেছে সেও রব্বান মাইকওয়ালার মতো বসে বসে পান খাচ্ছে আর মাইকে বাজাচ্ছে তার পছন্দের গান। সেও কারও কথা শুনছে না। তবে বড়রা বললে মাঝে মাঝে শুনতেই হয়। কিংবা এ গ্রাম থেকে ও গ্রাম আইসক্রিমওয়ালা ঘুরে বেড়াচ্ছে আইসক্রিমের বাক্স নিয়ে। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা তার কাছ থেকে আইসক্রিম নিচ্ছে আর পয়সা দিচ্ছে। খুচরো পয়সায় তার হাত দুটো ভর্তি। আর ঠিক তখনই ঘুম ভাঙে মা’র ডাকে। এই রুবি কি বলছিস বিড়বিড় করে। ওঠ স্কুলে যাবি না। মায়ের ডাকে হকচকিয়ে উঠে বসে। তখনও মুষ্টিবদ্ধ তার হাত। চোখের পাতায় স্বপ্নটা এখনও আবছা আবছা রয়েই গেছে। কি বসে থাকলি যে, ওঠ যা হাতমুখ ধুয়ে নাস্তা করে স্কুলে যা। মুষ্টিবদ্ধ হাত খুলে দেখে হাত ফাঁকা। মা আমার হাতে পয়সা ছিল, কই? পয়সা ছিল মানে, যা হাতেমুখে পানি দে...। সে স্বপ্নে পাওয়া পয়সা খুঁজছে...। দেখিস পেলে আবার তা দিয়ে কবিরাজি শুরু করিস না যেন। যত সব, বলেই মা বাইরে বেরিয়ে যায়। রুবিও হাতমুখ ধুয়ে নাস্তা করে স্কুলের পথে পা বাড়ায়... মাথায় তার স্বপ্নই খেলা করে...।
একবার স্কুলে জীবনের লক্ষ্য রচনা লিখতে গিয়েও লিখে ফেলেছিল মাইকওয়ালা হওয়ার কথা। অট্টহাসিতে ফেটে পড়েছে পুরো ক্লাস। কিন্তু সে অনড়, মাইকওয়ালা হবেই। কিন্তু একদিন রব্বান মাইকওয়ালাকে তার মনের কথা জানাতে বলল বোনরে লেখাপড়া শিখছো মাইকওয়ালা হবা কেনে! ডাক্তার-ইঞ্জনিয়ার হবা।
রব্বান মাইকওয়ালা জানে না, মন যা চায় তাই করতে হয়। সেদিন তাকে এ কথাটা বলা হয়নি। মনের মধ্যে এ ইচ্ছেটা পুরেই বড় হয় মেয়েটা। মাইকওয়ালা হওয়া তার হয় না। মাধ্যমিকের গন্ডিনা পেরুতেই বসতে হয় বিয়ের পিঁড়িতে। তার বিয়েতেও ডাক পড়ে রব্বান মাইকওয়ালার।
রব্বান মাইওয়ালা বলে বোন আজ সব তোমার পছন্দের গান শুনাবো। যে গান তুমি শুনতে চাও। আজ মেয়েটির কোনো গানই মন ছোঁয় না। মনের মধ্যে অজানা আশঙ্কা দানা বাঁধে। মনে পড়ে স্কুলের দিনগুলোর কথা। আর ভাবে বড় বোনের বিয়েতে অনেক আনন্দ করলেও আজ কেন তার এত মন খারাপ। মনে পড়ে বড় বোনের বলা সেই কথাটা বোনরে যেদিন তোর বিয়ে হবে সেদিন বুঝবি আজ আমি কেন কাঁদছি।
ছলছল চোখে বলে, আজ কোনো গানই বাজাবেন না আপনি...।


আরব ছোটগল্পের রাজকুমারী
সামিরা আজ্জম ১৯২৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ফিলিস্তিনের আর্কে একটি গোঁড়া
বিস্তারিত
অমায়ার আনবেশে
সাদা মুখোশে থাকতে গেলে ছুড়ে দেওয়া কালি  হয়ে যায় সার্কাসের রংমুখ, 
বিস্তারিত
শারদীয় বিকেল
ঝিরিঝিরি বাতাসের অবিরাম দোলায় মননের মুকুরে ফুটে ওঠে মুঠো মুঠো শেফালিকা
বিস্তারিত
গল্পের পটভূমি ইতিহাস ও বর্তমানের
গল্পের বই ‘দশজন দিগম্বর একজন সাধক’। লেখক শাহাব আহমেদ। বইয়ে
বিস্তারিত
ধোঁয়াশার তামাটে রঙ
দীর্ঘ অবহেলায় যদি ক্লান্ত হয়ে উঠি বিষণœ সন্ধ্যায়Ñ মনে রেখো
বিস্তারিত
নজরুলকে দেখা
আমাদের পরম সৌভাগ্য, এই উন্নত-মস্তকটি অনেক দেরিতে হলেও পৃথিবীর নজরে
বিস্তারিত