‘অঘ্রাণে তোর ভরা ক্ষেতে’

নদীতীরের কাশফুল ঝরে গেছে; কিন্তু ভৌতিক অস্তিত্ব তখনও জানান দিচ্ছে। মাঠ নবীন ধান্যে কমলা রঙের রোদে ভ্যানগগের ছবির মতো ঝকঝক করছে। যে-সব ধানক্ষেতে আমন একটু তড়িঘড়ি করে পেকেছে, সেখানে বেশ ব্যস্ততা কৃষকের, মুখে হাসি, গালভরা হাসির প্রবাহ

শরতের শেষ নিঃশ্বাস আর হেমন্তের আগমন-ধ্বনি ও দৃশ্য গ্রামবাংলা থেকেই দেখার সুযোগ হলো এবার। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের লাউফতেপুর আর আমার গ্রাম বরিশালের উলানিয়া থেকে এই বিরল অভিজ্ঞতা। না, ঢাকায় অন্য কোনো শহরে বসে এ-রকম অভিজ্ঞতা প্রায় অসম্ভব, আর পরিবেশবাদীরা এমনকি সরকারও রামপাল নিয়ে এমন মাতা মেতেছে থাক, এ প্রসঙ্গ।
নদীতীরের কাশফুল ঝরে গেছে; কিন্তু ভৌতিক অস্তিত্ব তখনও জানান দিচ্ছে। মাঠ নবীন ধান্যে কমলা রঙের রোদে ভ্যানগগের ছবির মতো ঝকঝক করছে। যে-সব ধানক্ষেতে আমন একটু তড়িঘড়ি করে পেকেছে, সেখানে বেশ ব্যস্ততা কৃষকের, মুখে হাসি, গালভরা হাসির প্রবাহ। আবার হঠাৎ করেই অকাল বৃষ্টি (একেবারে অকাল বলি কী ক’রে প্রায়ই তো এ সময়ে বৃষ্টির জুলুম সহ্য করতে হয়) ফলে কৃষকের কপালে নতুন ভাঁজ। যারা ধান কেটে নিয়েছেন এবার রবিশস্যের জন্য এই বৃষ্টি তো আশীর্বাদ।
রবীন্দ্রনাথের দুইটি গান (তিনি মাত্র ৩/৪টি গানই তো লিখেছেন হেমন্তকে নিয়ে) গুনগুন করছিলাম।
হিমের রাতের ওই গগনের দীপগুলিরে
হেমন্তিকা করল গোপন আঁচল ঘিরে।
শূন্য এখন ফুলের বাগান
দোয়েল কোয়েল গাহে না গান
কাশ ঝরে যায় নদীর তীরে।

আরেকটি গান, অনেক দিন শোনা হয়নি,

হায় হেমন্তলক্ষ্মী, তোমার নয়ন কেন ঢাকা
হিমের ঘন ঘোমটাখানি ধূমল রঙে আঁকা।
সন্ধ্যাপ্রদীপ তোমার হাতে
মলিন হেরি কুয়াশাতে
কণ্ঠ তোমার বাণী যেন করুণ বাষ্পে মাখা।
ধরার আঁচল ভরে দিলে প্রচুর সোনার ধানে।
দিগঙ্গনার অঙ্গন আজ পূর্ণ তোমার দানে।...

অবশ্য জীবনানন্দ দাশের একটি কবিতায় (সবার ওপর) ইশারায় অনেক কিছুই বলা হয়েছে, সামান্য ক’টি টুকরো হাজির করি

মনে হয়, সৃষ্টির অগ্নিমরালী পৃথিবীকে বঞ্চিত করে যদিও
পৃথিবী মানুষকে,
যুদ্ধের অবিস্মরণীয় প্রতিভা ভাইকে আকর্ষণ করে যদিও
ভাইবোনকে নিঃশেষ করে দেবার জন্যে
রক্ত নদীর ভিতর থেকে ফুলে ওঠা শাদা মিনার,
মহৎ দার্শনিকের মু-চ্ছেদ করে জেগে ওঠে খুলির বাটি
নির্বোধ প্রণয়ীদের নবান্নরসে উপচে ওঠে খুলির বাটি
মিষ্টি, মলিন, রুক্ষ ভূকম্পনহীন অন্নোৎবে জেগে ওঠে বাসনা
কৃষ্ণার শাড়ি টেনে নেয়ার,
সাম্রাজ্য ভেঙে যায়
হেমন্তের মেঘের মতো মিলিয়ে যায় সম্রাটদের চিৎকার,
তবুও দুর্বার সৃষ্টির কুয়াশা সরিয়ে দেবার জন্যে তুমি
ডান হাত হলে তোমার,
একটি কালো তিলের নিখুঁত থেকে অপরিমেয় পদ্মের মতো
হলে তুমি তোমার বাম হাত।
নজরুলে, কাজী নজরুল ইসলামের গানে এই উপলব্ধি অপরিসীম বিষণœতার ছিটেফোঁটাও নেই, কৃষকের উৎসবের আনন্দ এবং উল্লাস হীরের দ্যুতির মতো ঠিকরে পড়ছে
ঋতুর খাঞ্চা ভরিয়া এলো কি ধরনীর সওগাত?
নবীন ধানের আঘ্রাণে আজি অঘ্রাণ হলো মাৎ।
‘বিন্নী পলাশ’ চালের ফিরনি
তশতরী ভরে নবীনা গিন্নি
হাসিতে হাসিতে দিতেছে স্বামীরে, খুশিতে কাঁপিছে হাত।
শিরনি রাঁধেন বড় বিবি, বাড়ি গন্ধে তেলেসমাত।
হেমন্তের প্রধান উৎসব নবান্নের আনন্দ, উল্লাসের এমন ছবি, নজরুলের সঙ্গে আর কারও লেখায় পেয়েছি বলে মনে করতে পারছি না।


আরব ছোটগল্পের রাজকুমারী
সামিরা আজ্জম ১৯২৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ফিলিস্তিনের আর্কে একটি গোঁড়া
বিস্তারিত
অমায়ার আনবেশে
সাদা মুখোশে থাকতে গেলে ছুড়ে দেওয়া কালি  হয়ে যায় সার্কাসের রংমুখ, 
বিস্তারিত
শারদীয় বিকেল
ঝিরিঝিরি বাতাসের অবিরাম দোলায় মননের মুকুরে ফুটে ওঠে মুঠো মুঠো শেফালিকা
বিস্তারিত
গল্পের পটভূমি ইতিহাস ও বর্তমানের
গল্পের বই ‘দশজন দিগম্বর একজন সাধক’। লেখক শাহাব আহমেদ। বইয়ে
বিস্তারিত
ধোঁয়াশার তামাটে রঙ
দীর্ঘ অবহেলায় যদি ক্লান্ত হয়ে উঠি বিষণœ সন্ধ্যায়Ñ মনে রেখো
বিস্তারিত
নজরুলকে দেখা
আমাদের পরম সৌভাগ্য, এই উন্নত-মস্তকটি অনেক দেরিতে হলেও পৃথিবীর নজরে
বিস্তারিত