মাইশার প্রশ্ন

মাইশা চুপচাপ স্বভাবের মেয়ে। তাই সে ধীরে বলল, কিছু বলব না, আমি ছবি এঁকেছি, সেটা দেখাতে চাই

মাইশা এলো আমার কাছে হাতে একটা কাগজ নিয়ে। বুঝতে পারলাম, কাগজে কিছু লেখা আছে। বললাম, কিছু বলতে চাও মাইশা?
মাইশা চুপচাপ স্বভাবের মেয়ে। তাই সে ধীরে বলল, কিছু বলব না, আমি ছবি এঁকেছি, সেটা দেখাতে চাই।
আগ্রহ নিয়ে বললাম, তাই! তুমি ছুবি এঁকেছ? বের কর আমি দেখব।
ভাঁজ করা কাগজটা আমার সামনে খুলল মাইশা। দেখি আকাশের ছবি আঁকা। মুগ্ধ হয়ে বললাম, ছবিটা তো বেশ সুন্দর এঁকেছ তুমি।
মাইশা বলল, ধন্যবাদ আপনাকে। তবে আকাশের ছবি আঁকতে আমার মনের ভেতর একটা প্রশ্ন এসেছে, সেটা জানতে চাই আমি।
মনে পড়ে গেল, পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের কথা। মাইশার প্রশ্নের কথা শুনে ভয় পেলাম। কারণ এখনকার ছেলেমেয়েরা অনেক বুদ্ধিমান। কী না কী প্রশ্ন করে, কে জানে। যদি উত্তর জানা না থাকে তাহলে ভুল উত্তর দেয়া যাবে না। উত্তর জেনে অন্য সময় বলে দেব। ভুল উত্তর দিয়ে নিজেকে সবজান্তা ভাবা যাবে না। ভুল শিক্ষা দেয়া ঠিক না শিশুদের। বিভ্রান্ত করাও উচিত না। নানা কিছু ভাবতে ভাবতে বললাম, কী প্রশ্ন মাইশা?
মাইশা বলল, আকাশ কী?
বললাম, আকাশটা শূন্য, মহাশূন্য। ফাঁকা, একদম ফাঁকা।
মাইশা অবাক হয়ে বলল, কী! শূন্য আকাশে সূর্য উঠে, চাঁদ উঠে, তারা উঠে, মেঘও উড়ে বেড়ায়।
আমিও অবাক হয়ে বললাম, তাই তো মাইশা, তুমি তো ঠিকই ধরেছ। আগে ভাবিনি তো কখনও। কথাটা বলেই, ভাবতে লাগলাম, সঠিক উত্তর জানি না। মাইশাকে ভুল উত্তর দেব না আজ। ও যখন সঠিক উত্তর জানবে তখন বিভ্রান্তিতে পড়ে যাবে। আমাকে ভুল ভাববে। মূল্যায়ন করবে না। জানার জন্য আর কোনো প্রশ্নও করবে না। আজ থাক, এ বিষয়ে পড়ালেখা করব। বিষয়টা জানার পর মাইশাকে সঠিক উত্তর দেব।
মাইশা বলল, চাচা কী হলো?
সঠিক উত্তর না জানায় বললাম, আমার এখন সময় কম। অন্যদিন এ বিষয়ে কথা বলব মাইশা।
মাইশা হয়তো আশা করেছিল, আমার কাছ থেকে জানতে পারবে আকাশ সম্পর্কে। কিন্তু পেল না। তার মুখ দেখে বুঝতে পারলাম। মাইশা মন খারাপ করে বলল, আপনার কাছ থেকে আকাশ সম্পর্কে জানতে চাই আমি।
মাইশার প্রশ্ন করার অভ্যাস দেখে খুশি হলাম। ও অনেক বড় হবে। তার জানার আগ্রহ আছে। প্রশ্ন করার অভ্যাস ভালো একটা অভ্যাস। মাইশার মুখের দিকে তাকিয়ে বললাম, অবশ্যই বলব। তুমি অপেক্ষা কর। উত্তর দিতে অনেক সময় লাগবে। এখন না, অন্যদিন সময় করে বলব।
মাইশা আবার বলল, আচ্ছা, আকাশটা এত দূরে কেন?
এবার একটু রেগে বললাম, মাইশা, তোমাকে তো বললাম, আকাশ সম্পর্কে সময় করে সব বলব।
মাইশা মন ভার করে বলল, চাচা আপনাকে বিরক্ত করার জন্য সরি।
মাইশার সরি বলাতে লজ্জা পেলাম আমি। মাথা নিচু হয়ে গেল আমার। আকাশ আঁকা কাগজটা নিয়ে চলে গেল মাইশা। মাইশার মন খারাপ করে চলে যাওয়া দেখে নিজেকে বড় অপরাধী মনে হলো।


ভাইয়ের ভালোবাসা
রুহানকে ভাইয়ের ভালোবাসা বোঝানোর জন্যই মামার এই কৌশল। এ কথা
বিস্তারিত
শরৎ সাজ
শরৎ সাজ পাই খুঁজে আজ শিউলি ফোটা ভোরে পল্লী গাঁয়ের মাঠে
বিস্তারিত
মশারাজ্যে
প্যাঁপো লাফাতে লাফাতে বলল, ‘আমি আগেই সন্দেহ করেছিলাম, আপনি বিদেশি
বিস্তারিত
আবার শরৎ এলো
নদীর ধারে শাদা ফুলের দোলা,
বিস্তারিত
জাতীয় কবি
ছোট্টবেলায় বাবা মারা যান অসহায় হন ‘দুখু’ সংসারে তার হাল ধরা
বিস্তারিত
বিদ্রোহী নজরুল
চুরুলিয়ার সেই ছেলে তুমি  কবিতার নজরুল, রণাঙ্গনের বীর সৈনিক প্রাণেরই বুলবুল। কেঁদেছো তুমি দুখীর
বিস্তারিত