ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশন

মূকাভিনয় শেখানোর জন্য ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশন বছরে দুইটি কর্মশালা পরিচালনা করে থাকে। এছাড়া তাদের সাপ্তাহিক সেশন রয়েছে, প্রতি মাসে বড় একটি সেশন তারা আয়োজন করে থাকে। টিএসসির দোতলায় তাদের অফিস রয়েছে

‘না বলা কথাগুলো না বলেই হোক বলা’ সেøাগান নিয়ে ২০১১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করে ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশন। বাংলাদেশে মাইম বা মূকাভিনয়ের চর্চা অনেক আগে থেকে শুরু হলেও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই প্রথম ক্যাম্পাসভিত্তিক মাইম চর্চার সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে তাদের সক্রিয় পৃষ্ঠপোষকতা ও উদ্যোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়েও মাইম সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এছাড়া বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও শিগগিরই মাইম চর্চার সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হবে। এমনভাবেই মাইম চর্চাকে পুরো দেশে ছড়িয়ে দেয়ার কথা জানালেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশনের প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান পরিচালক মীর লোকমান।
তিনি মাইম বা মূকাভিনয়কে শুধু একটি শিল্প হিসেবে দেখেন না বরং এটিকে সামাজিক আন্দোলন বলে মনে করেন। তাই তো দেশ-বিদেশের যে কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদে তারা মূকাভিনয় দিয়ে প্রতিবাদ করেন। এ যেন ঠিক চার্লি চ্যাপলিনের হিটলারের বিরদ্ধে অভিনয়ের মাধ্যমে প্রতিবাদ করাকে মনে করিয়ে দেয়।
তারা প্রথম যখন ক্যাম্পাসে মূকাভিনয়ের কাজ শুরু করেন তখন সবাই একটু অন্য চোখে তাদের দেখতেন, কেননা এ শিল্পটি তখন খুব বেশি পরিচিত ছিল না। কিন্তু তাদের ত্যাগ, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের ফলে আজ তারা ক্যাম্পাসে ব্যাপকভাবে পরিচিত। ইদানীং ক্যাম্পাসভিত্তিক অনেক সংগঠনের সাংস্কৃতিক আয়োজন মূকাভিনয় ছাড়া জমেই না। বরং এখন মূকাভিনয়ই সাংস্কৃতিক আয়োজনগুলোর প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
কালো ড্রেস পরে মুখে সাদা মেকআপ দিয়ে নানা অঙ্গভঙ্গি করে মানুষের সামনে কোনো একটি কাহিনী তুলে ধরা হয় মূকাভিনয়ে।
এটি শেখা কি খুব কঠিন কিছু? এমন প্রশ্নের উত্তরে ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশনের সভাপতি শাহরিয়ার শাওন জানান, যে কোনো শিল্পই পরিশ্রমসাধ্য। তবে যারা শিখতে আগ্রহী তাদের জন্য চেষ্টা ও পরিশ্রম দিয়ে কোনো কিছু শেখা অসম্ভব কিছু নয়।
মূকাভিনয় শেখানোর জন্য ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশন বছরে দুইটি কর্মশালা পরিচালনা করে থাকে। এছাড়া তাদের সাপ্তাহিক সেশন রয়েছে, প্রতি মাসে বড় একটি সেশন তারা আয়োজন করে থাকে। টিএসসির দোতলায় তাদের অফিস রয়েছে।


ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশনের সাধারণ সম্পাদক খায়রল বাসারও মূকাভিনয় চর্চাকে পুরো বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে বলেন, দেশের প্রখ্যাত মূকাভিনয় শিল্পীদের নিয়ে তারা প্রশিক্ষণের আয়োজন করে থাকেন। আর তাদের কার্যক্রমে এখন নারী সদস্যরাও যুক্ত হচ্ছে বলে তিনি জানান।
গেল মাসে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের সনিপাতে অবস্থিত ওপি জিন্দাল ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসবে মূকাভিনয় প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশন ‘সর্ব রোগের মহাচিকিৎসক’ শিরোনামে মূকাভিনয় প্রদর্শন করে প্রথম স্থান লাভ করে, যা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের মূকাভিনয় চর্চার বড় একটি অর্জন। ভারতে মাইম অ্যাকশনের প্রতিনিধি হিসেবে যাওয়া সাইফুল্লাহ সাদেক এ প্রসঙ্গে জানান, মূকাভিনয় একটি প্রাচীন শিল্প মাধ্যম, যা যুগ যুগ বিনোদনের মধ্য দিয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এক্ষেত্রে ঢাবি মাইম অ্যাকশন দেশের মূকাভিনয় শিল্প বিকাশে কাজ করছে। দেশ-দেশান্তরে ঢাবি মূকাভিনয় দল নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছে।
মাইম অ্যাকশন তাদের কার্যক্রম বিকশিত করার ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য সামাজিক সংগঠনগুলোর কাছ থেকে ব্যাপক সহযোগিতা পেয়েছে। বিশেষ করে কালচারাল সোসাইটি ও ডিবেটিং সোসাইটির বিভিন্ন আয়োজনে মাইম অ্যাকশন তাদের পরিবেশনা উপস্থাপন করেছে। ডিইউডিএস’সহ হল ডিবেটিং ক্লাবগুলোর বিতর্ক প্রতিযোগিতা শেষে মাইম অ্যাকশনের পরিবেশনা সবাইকে মুগ্ধ করেছে। সারা দিন বিতর্কের তাত্ত্বিক আলোচনা শেষে মূকাভিনয়ের মতো শিল্প মাধ্যমে সমাজের অন্যায়-অবিচার দূর করার আহ্বানগুলো সবার কাছে খুব সুন্দরভাবেই পৌঁছে গেছে। এমন অভিজ্ঞতার কথাই জানালেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির আপ্যায়নবিষয়ক সম্পাদক ইভানা ইশরাত। তিনি বলেন, কিছু দিন আগে পুরো দেশ থেকে আসা ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রবীণদের অধিকার নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। বিতর্ক শেষে যখন বৃদ্ধাশ্রম নিয়ে মূকাভিনয় হয়েছে, তখন তা সবাইকে আবেগাপ্লুত করে ফেলেছিল।
এভাবেই নির্বাক ভাষায় মূকাভিনয় মানুষকে তার কথাগুলোকে কাজে পরিণত করার আহ্বান জানায়। তাই তো ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশনের উদ্যোগে দেশব্যাপী মূকাভিনয় চর্চার উদ্যোগ সবার কাছেই ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করতে সক্ষম হচ্ছে।


আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ পেলেন ৯০ প্রাণী
পোলট্র্রির বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, সঠিকভাবে রোগবালাই নির্ণয়, চিকিৎসা এবং রোগ
বিস্তারিত
সবার উপরে বাবা-মা
যে-কোনো মানুষের গায়ে হাত তোলাই অপরাধ। আর সন্তান হয়ে বাবা-মায়ের
বিস্তারিত
স্মৃতির মানসপটে যুক্তরাজ্য সফর
বিদেশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়তো অনেকেরই হয়ে থাকে। তবে কলেজের প্রতিনিধি,
বিস্তারিত
ব্যবসার ধারণা : গড়তে চাইলে
নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা
বিস্তারিত
৭৫ শতাংশ বৃত্তিতে আইটি ও
বিভিন্ন কারণে যারা আইটিতে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত তাদের
বিস্তারিত
লক্ষ্য যখন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিপরীতে ক্রমাগত উর্বরা জমির পরিমাণ কমছে। জনসংখ্যার এ
বিস্তারিত