নতুন-পুরনো মেলবন্ধন

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাব

বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের আয়োজন থাকে নিয়মিত, আয়োজন করা হয় বিতর্ক উৎসবেরও। এসব কিছু হলেও ক্যারিয়ার নিয়ে কোনো কর্মশালা বা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয় না। ক্যারিয়ার লাইফ নিয়ে ধারণা দেয়ারও কেউ নেই। ক্যারিয়ার ক্লাবের শুরুটা এসব অভাবের জায়গা থেকে। বলছিলাম শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাস্ট) কিছু শিক্ষার্থীর কথা, যারা প্রয়োজন অনুভব করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ক্যারিয়ার ক্লাব গঠনের। যাদের প্রচেষ্টায় ২০১২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৫ জন সদস্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাব। সে সময় ক্লাবের প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয় ‘স্টেপস টুওয়ার্ডস ইওর ড্রিম’। ক্লাব শুরুর গল্প জানতে চাইলে এভাবেই বলেন ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম নোমান।
শুরু থেকে ক্লাবটি তিনটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। এক. সাস্টের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মাঝে মেলবন্ধন তৈরি করা। দুই. সাস্টের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা। তিন. দেশ ও দেশের বাইরে সাস্টের প্রতিটি বিভাগকে সুপরিচিত করা। এ লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য সাস্ট ক্যারিয়ার ক্লাবের রয়েছে তিনটি শাখাÑ স্কুল অব স্কিল ডেভেলপমেন্ট, স্কুল অব নলেজ ডেভেলপমেন্ট এবং স্কুল অব এন্টারপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্ট। এসব শাখার অধীনে এ ক্লাব নিয়মিত কিছু অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। তিন মাস পর পর বিভিন্ন বিষয়ের ওপর কর্মশালার আয়োজন করা হয়ে থাকে। এসব কর্মশালায় সিভি রাইটিং থেকে শুরু করে করপোরেট চাকরির খুঁটিনাটি সব বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ক্লাবের সদস্যদের জন্য প্রতি ১৫ দিন অন্তর বিসিএস এবং জিআরই’র প্রস্তুতি নিয়ে ‘স্টাডি সার্কেল’র আয়োজন করা হয়। আবার ক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্যদের জন্য ‘পাবলিক স্পিকিং’ নামে আলাদা একটি সেগমেন্ট থাকে। এ সেগমেন্টে সদস্যরা কীভাবে বক্তৃতা করতে হয়, কিংবা অনেক মানুষের সামনে কথা বলার যে ক্ষমতা সেটা কীভাবে অর্জন করতে হয়Ñ এসব নিয়ে কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা।
‘ক্যারিয়ার টক’ এ ক্লাবের অন্যতম একটি প্রোগ্রাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে শুরু করে বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা সর্বোচ্চ পর্যায়ে আছেন তাদের নিয়ে এ প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়। তারা এসে নিজেদের জীবনের অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শেয়ার করেন। এতে করে সাস্টের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মাঝে একটি সম্পর্কের সূচনা হয়, যা এ ক্লাবের অন্যতম লক্ষ্য।
কিছুদিন আগেই সাস্ট ক্যারিয়ার ক্লাব আয়োজন করে ‘ক্যারিয়ার অ্যান্ড লিডারশিপ কার্নিভাল’ নামে একটি প্রোগ্রাম। এ প্রোগ্রাম নিয়ে ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান মিল্টন বলেন, ‘প্রোগ্রামটি অনুষ্ঠিত হয় ১৯ আগস্ট। এ প্রোগ্রামকে আমরা তিন ভাগে ভাগ করেছিলাম। তিন বিভাগের জন্য তিনজন বক্তা ছিলেন। প্রথম ভাগে ছিল ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট নিয়ে আলোচনা। দ্বিতীয় ভাগে ছিল লিডারশিপ ও কমিউনিকেশন নিয়ে আলোচনা। এরপর তৃতীয় ভাগে ছিল পেশাদারিত্ব ও নেতৃত্বকে কীভাবে সমন্বয় করা যায়, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেয়া। এছাড়া ৫ নভেম্বর আমরা ক্যাম্পাসে সিভি রাইটিংয়ের ওপর দিনব্যাপী একটি কর্মশালার আয়োজন করি।’
মাত্র ১৫ জন সদস্য নিয়ে শুরু করা ক্লাবের বর্তমান সদস্য সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০। প্রাথমিকভাবে যেসব লক্ষ্য নিয়ে এ ক্লাব গঠিত হয় তা পূরণে যথাসাধ্য কাজ করে যাচ্ছেন ক্লাবের সদস্যরা। এখন থেকে ৫ কিংবা ১০ বছর পর ক্লাবকে কোথায় দেখতে চানÑ এমন প্রশ্নের জবাবে ক্লাবের সভাপতি সাকিব হাসান বলেন, ‘ঢাকা থেকে বাইরে হওয়ায় আমরা কিছু বিষয়ে পিছিয়ে থাকি, এটি অস্বীকারের কোনো উপায় নেই। ঢাকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেসব সুযোগ-সুবিধা পায় তা আমরা সহজে পাই না। এ দূরত্বটা দূর করতেই আমরা এতদিন কাজ করেছি। বলতে গেলে এক্ষেত্রে আমরা সফল।’
সাস্ট ক্যারিয়ার ক্লাব শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার নিয়ে ধারণাই বদলে দিয়েছে। শুধু একাডেমিক পড়াশোনাই করতে হবেÑ এমন ধারণা থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে আনতে সক্ষম হয়েছে। এ ক্লাব ভবিষ্যতে আরও অনেকদূর এগিয়ে যাবে, এমনটা আশা করেন তারা। হ


আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ পেলেন ৯০ প্রাণী
পোলট্র্রির বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, সঠিকভাবে রোগবালাই নির্ণয়, চিকিৎসা এবং রোগ
বিস্তারিত
সবার উপরে বাবা-মা
যে-কোনো মানুষের গায়ে হাত তোলাই অপরাধ। আর সন্তান হয়ে বাবা-মায়ের
বিস্তারিত
স্মৃতির মানসপটে যুক্তরাজ্য সফর
বিদেশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়তো অনেকেরই হয়ে থাকে। তবে কলেজের প্রতিনিধি,
বিস্তারিত
ব্যবসার ধারণা : গড়তে চাইলে
নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা
বিস্তারিত
৭৫ শতাংশ বৃত্তিতে আইটি ও
বিভিন্ন কারণে যারা আইটিতে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত তাদের
বিস্তারিত
লক্ষ্য যখন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিপরীতে ক্রমাগত উর্বরা জমির পরিমাণ কমছে। জনসংখ্যার এ
বিস্তারিত