‘তারুণ্যের শক্তি আর সৌন্দর্যকে উপভোগ কর’-ডেভিড ব্রুকস

সাংবাদিক, লেখক ডেভিড ব্রুকস। আমেরিকার রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক ভাষ্যকার। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এবং দ্য ওয়াশিংটন টাইমস-এ তার চলচ্চিত্র সমালোচনা ছাপা হয়। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সিনিয়র রিপোর্টার ও পরে সম্পাদকীয় বিভাগের প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে দ্য উইকলি স্ট্যান্ডার্ড-এ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। ডর্টমাউথ কলেজের সমাবর্তন ভাষণে তিনি বলেন

মনে রেখ, সফলতা নির্দেশ করে শ্রেষ্ঠ ব্যর্থতার দিকে যেটা উদ্যত এবং গর্বের। ব্যর্থতা নেতৃত্ব দেয় শ্রেষ্ঠ সফলতার দিকে যেটা মানবিক আর শিক্ষণীয়। নিজেকে পরিপূর্ণ করতে চাইলে নিজেকে ভুলে যাও। নিজেকে খুঁজে পেতে চাইলে নিজেকে হারিয়ে ফেল। 
আজকের এ মহতী দিনে তোমাদের জীবন এক উত্তেজনাপূর্ণ বাঁক নিচ্ছে। এখন তোমার সামনে দুইটি পথ খোলা। একটি হলো করপোরেট মেশিনের দাঁতের নিচে আত্মাকে নিষ্পেশনকারী চাকরি। অন্যটি হলো তোমার স্বাধীনতাকে অক্ষুণœ রেখে সৃজনশীল কিছু করা। আমি এখানে দাঁড়িয়েছি তোমার জীবনের এ উত্তেজনাপূর্ণ বাঁকে তোমাকে সাহায্য করার জন্য। 
আমি এটা মনে করিয়ে দিয়ে শুরু করতে চাই যে, তোমরা জীবনের একটি চমৎকার অকুস্থলে দাঁড়িয়ে আছ। ফ্যাকাল্টির যে কোনো নবীনের চেয়ে তোমরা অনেকখানি পরিণত এবং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। এ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাও। 
আমারা (সমাবর্তন বক্তারা) এখানে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ আবর্জনাময় উপদেশ দিতে পছন্দ করি। তার পরিবর্তে তুমি তোমার অন্তঃস্থিত কণ্ঠস্বর শোনার চেষ্টা কর। নিজের প্রতি সত্যনিষ্ঠ হও। তোমার যৌক্তিক আবেগকে অনুসরণ কর। তোমার ভবিষ্যৎ সীমাহীন। প্রত্যেক প্রজন্ম তার পূর্ববর্তী প্রজন্মের কাছে ঋণী থাকে। তেমনিভাবে আমার প্রজন্মের কাছে তোমার ঋণের পাহাড় জমা আছে, এ ঋণের কিছুটা হলেও পূরণ করার জন্য উঠে দাঁড়াও। 
তারুণ্যের শক্তি আর সৌন্দর্যকে উপভোগ কর। বাস্তবতা হচ্ছে, ঝাপসা হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তুমি তারুণ্যের শক্তি আর সৌন্দর্যকে বুঝতে পারবে না। কিন্তু বিশ্বাস কর, আজ থেকে ২০ বছর পর যখন তুমি তোমার এখনকার ছবিগুলো দেখবে, তুমি অবাক হবে এ ভেবে যে, তুমি দেখতে কত চমৎকার ছিলে, তখন তোমার কত স্বপ্ন ছিল, কত আনন্দময় ছিল সেই সময়টা! তাই বর্তমান সময়টাকে আনন্দময় কর, ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা কর না। দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মনে জীবনের প্রকৃত সমস্যাগুলো ধরা পড়ে না। 
ঈর্ষা কর না। এতে খামোখা সময় নষ্ট হয়। কখনও তুমি এগিয়ে থাকবে আবার কখনও পিছিয়ে পড়বে, এটাই নিয়ম। সব সময় মনে রাখবে, জীবনের দৌড়টা অনেক লম্বা, এখানে শেষ পর্যন্ত লড়াইটা হবে তোমার নিজের সঙ্গেই। যে প্রশংসাগুলো পেয়েছ সেগুলো মনে রাখ, অপমানগুলো ভুলে যাও। 
কিছু অপরিবর্তনীয় সত্যকে মেনে নাও। দ্রব্যমূল্য বাড়বে, রাজনীতিবিদরা কথার খেলাপ করবে। তোমার বয়সও দিন দিন বাড়তে থাকবে। একটা সময় তুমি যখন সত্যিই বৃদ্ধ হয়ে যাবে। তখন তুমি ভাববে, তুমি যখন তরুণ ছিলে তখন জিনিসপত্রের দাম অনেক অল্প ছিল, রাজনীতিবিদরা ছিল মহৎ এবং ছোটরা বড়দের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিল। 
কখনও অন্যের সাহায্য আশা কর না। হতে পারে তোমার একটা ট্রাস্ট ফান্ড আছে। হতে পারে তোমার মা-বাবার কিংবা তোমার স্ত্রীর অনেক টাকা। কিন্তু তুমি জান না কখন তুমি তাদের হারিয়ে ফেলবে। 
তোমার মা-বাবার খবর নাও। তারা কখন তোমাকে ছেড়ে যাবে, তা কেউ বলতে পারে না। ভাই-বোনদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার কর, স্বপ্নময় অতীতের সঙ্গে তারাই তোমার মেলবন্ধন ঘটাবে। ভবিষ্যতেও তারাই তোমার সঙ্গে থাকবে। বন্ধুরা আসে যায়, তাদের মধ্যে অল্প ক’জনই মূল্যবান। সেই অল্প ক’জন মূল্যবান বন্ধুকে চিনে নাও, যাদের সারা জীবন তুমি ধরে রাখবে। 
সাবধান হও, কার উপদেশ তুমি গ্রহণ করবে। সবাই উপদেশ দেয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু সত্যিকার উপদেশ দিতে পারে হাতেগোনা অল্প ক’জন। তোমার জীবনের জন্য তাদের বাছাই কর। 
ইংরেজি থেকে সংক্ষেপিত ভাষান্তর 
করেছেন  মোঃ সাইদুর রহমান


আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ পেলেন ৯০ প্রাণী
পোলট্র্রির বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, সঠিকভাবে রোগবালাই নির্ণয়, চিকিৎসা এবং রোগ
বিস্তারিত
সবার উপরে বাবা-মা
যে-কোনো মানুষের গায়ে হাত তোলাই অপরাধ। আর সন্তান হয়ে বাবা-মায়ের
বিস্তারিত
স্মৃতির মানসপটে যুক্তরাজ্য সফর
বিদেশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়তো অনেকেরই হয়ে থাকে। তবে কলেজের প্রতিনিধি,
বিস্তারিত
ব্যবসার ধারণা : গড়তে চাইলে
নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা
বিস্তারিত
৭৫ শতাংশ বৃত্তিতে আইটি ও
বিভিন্ন কারণে যারা আইটিতে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত তাদের
বিস্তারিত
লক্ষ্য যখন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিপরীতে ক্রমাগত উর্বরা জমির পরিমাণ কমছে। জনসংখ্যার এ
বিস্তারিত