নাইজেরিয়ায় ইসলাম

মুসলিম নাইজেরিয়ানরা প্রত্যেকেই প্রাথমিক ইবাদতের জন্য প্রয়োজনীয় সূরা ও তার সহিহ তেলাওয়াত, তাসবিহ ও দোয়া এবং আনুষঙ্গিক মাসআলা সম্পর্কে জ্ঞাত। তাদের তেলাওয়াতগুলোও শ্রুতিমধুর

আটলান্টিক মহাসাগরের পাড়ে পূর্ব আফ্রিকার অনিন্দ ও সুন্দর এ দেশ নাইজেরিয়াতে হিজরি নবম শতাব্দীতে ইসলামের প্রথম আগমন ঘটে এবং ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগেই রাজা ইদ্রিস আলোমার (১৫৭২-১৬০৩) রাজত্বকালে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। বর্তমানে সেখানে ১৮ কোটি জনসংখ্যার প্রায় শতকরা ৫২ জন মুসলিম। সাব সাহারা আফ্রিকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুসলিম অধ্যুষিত দেশ হলো এ নাইজেরিয়া। মুসলিমদের পাশাপাশি শতকরা ৪৬ জন খ্রিস্টান এবং বাকি শতকরা ২ জন অন্য ধর্মের অনুসারী। অধিকাংশ মুসলিম দেশটির উত্তরাংশে বসবাস করে। অপরদিকে দক্ষিণ অঞ্চলে অধিকাংশ খ্রিস্টান অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে বিবেচিত।
নৃতাত্ত্বিক বিবেচনায় দেশটির উত্তরের ‘হাউসা’ নৃগোষ্ঠীর প্রায় সবাই মুসলিম। সেখানকার অধিকাংশ মুসলিম সুন্নি, তবে তাদের মধ্যে হানাফি মাজহাবের অনুসারী খুবই কম। অধিকাংশ মুসলিম মালেকি মাজহাবের অনুসারী। তবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শাফেয়ি মাজহাবেরও অনুসরণ করে। মসজিদের নামাজের সময় দুই একজনকে হাম্বলি মাজহাবের অনুসারী বলে মনে হয়েছে। তবে মাজহাবের ভিন্নতা তাদের একে অপরের শত্রু করে তোলেনি। দেশটির কাদুনা, কানু, কাটসিনা ও সকুটু রাজ্যের কিছু সংখ্যক মুসলিম শিয়া দেখা যায়। দেশটি ব্রিটিশদের কাছ থেকে ১ অক্টেবর ১৯৬০ সালে স্বাধীনতা লাভ করার পর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার পরিচালনা করছে।
রাষ্ট্রপতি মোহাম্মাদু বুহারির (২৯ মে ২০১৫- বর্তমান) নেতৃত্বে ভালোই চলছে বলে মনে হয়। অধিকাংশ নাইজেরিয়ান রাষ্ট্রপতিকে অত্যন্ত সৎ ও যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে। কিন্তু তাদের অভিযোগ, রাষ্ট্রপতির আশপাশের কিছু মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, যা সুষ্ঠু দেশ পরিচালনার পাশাপাশি মুসলিম শাসনের সুখ্যাতি নষ্ট করছে। খ্রিস্টান প্রফেসর এডাম বিষয়টিকে এমনভাবে প্রকাশ করলেন যে, যদি এসব দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তরা রাষ্ট্রপতির আশপাশে না থাকত তাহলে মুসলিমদের সৌন্দর্য আরও ভালোভাবে প্রস্ফুটিত হতে পারত। মুসলিম অধ্যুষিত রাজ্যগুলোয় ব্যক্তি, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জীবনে ইসলামী শিক্ষা এবং আইনের অনুসরণ লক্ষণীয়। সামাজিক বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান কোরআন তেলাওয়াত ও ইসলামী প্রার্থনার মাধ্যমে শুরু এবং শেষ হয়।
অবাক করার মতো বিষয় হলো, মুসলিম নাইজেরিয়ানরা প্রত্যেকেই প্রাথমিক ইবাদতের জন্য প্রয়োজনীয় সূরা ও তার সহিহ তেলাওয়াত, তাসবিহ ও দোয়া এবং আনুষঙ্গিক মাসআলা সম্পর্কে জ্ঞাত। তাদের তেলাওয়াতগুলোও শ্রুতিমধুর। ইসলামকে শেখানোর জন্য যে দুইটি ব্যবস্থা ব্যতিক্রম তা হলো, আঞ্চলিক ধর্মীয় নেতাদের পাশাপাশি সরকারিভাবে ‘আলকাই কোর্টস’ ধর্মের ইবাদত ও মুআমেলাতকেন্দ্রিক অবশ্যজ্ঞানীয় বিষয়গুলোকে জানার নিশ্চয়তা দিতে সক্ষম হয়েছে। নাইজেরিয়ার মুসলিম ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে যার অবদানকে লেখা হয়েছে তিনি হলেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ শায়খ ড. আদেলাবু।
পাশ্চাত্য সংস্কৃতির ছাপ এখানকার প্রত্যেকটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে। ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক জীবন তাই অনেকটা মিশ্রিত হয়ে আছে। মুসলিমদের ক্ষেত্রেও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। অন্যান্য মুসলিম দেশের মতো এখানকার গ্রামের এবং বয়স্ক নারীরাই মূলত অধিকাংশ ক্ষেত্রে সত্যিকারের পর্দা মেনে চলেন। তবে অমুসলিমদের পোশাক পুরোপরি পাশ্চাত্য অনুসরণ বললে অত্যুক্তি হবে না।
এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়েছে যারা ৩ থেকে ৫ বছর মাদরাসায় পড়েছেন এবং আরবিতে কথোপকথন করার চেষ্টা করেছেন। অনুমান হয় যে তাদের মাদরাসাগুলোতে আরবি শেখানো হয় বেশ গুরুত্ব সহকারে। তাছাড়া অধিকাংশ মুসলিম মাদরাসায় পড়াশোনা করে। আমাদের দেশের মতো উচ্চবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েরা আধুনিক শিক্ষার নামে মূলত পাশ্চাত্য শিক্ষাই গ্রহণ করছে। ধর্মের ব্যাপারে তারা যথেষ্ট সতর্ক। যদিও তাদের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে দারিদ্র্যের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তারপরও ধর্ম, ধর্মীয় আচরণ ও মূল্যবোধকে গর্বের বিষয় করে রেখেছে তারা।
তাদের মসজিদগুলোকে শুধু ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করে রাখা হয়নি বরং সেখানে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের যেমন বিয়ে, বিবাহোত্তর সংবর্ধনা, খতনা, ইসলামিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি।
নাইজেরিয়ায় রাজনৈতিকভাবে মুসলমানদের অনেক গ্রুপ এবং সেগুলো নেতৃত্ব দিচ্ছেন নামকরা সব আলেমরা। আশার দিক হলো, কেন্দ্রীয়ভাবে তারা চেষ্টা করছে বিভিন্ন বিষয়ে মতানৈক্য থাকা সত্ত্বেও সংঘবদ্ধ হওয়ার।
সেক্ষেত্রে তারা অনেকদূর এগিয়ে গেছে। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে নাইজেরিয়ান মুসলিমরা এক এবং একক গোষ্ঠী হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচিত হবে।


প্রাণীর প্রতি নবীজির মমতা
‘আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।’ (সূরা আম্বিয়া :
বিস্তারিত
স্রষ্টাকে খুঁজি সাগরের বিশালতায়
বিশাল জলরাশির উত্তাল তরঙ্গমালায় প্রবাহিত সমুদ্র আল্লাহর এক অপূর্ব সৃষ্টি।
বিস্তারিত
দুধপানের উপকারিতা
দুধের পুষ্টিগুণ বিচারে এটি মহান আল্লাহ তায়ালার বড় একটি নেয়ামত।
বিস্তারিত
পবিত্র শবে মেরাজ ২২ মার্চ
বাংলাদেশের আকাশে সোমবার রজব মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। বুধবার থেকে
বিস্তারিত
পবিত্র শবে মেরাজ কবে, জানা
১৪৪১ হিজরি সনের পবিত্র শবে মেরাজের তারিখ নির্ধারণ এবং রজব
বিস্তারিত
মাতৃভাষার নেয়ামত ছড়িয়ে পড়ুক
ভাষা আল্লাহ তায়ালার বিরাট একটি দান। ভাষার রয়েছে প্রচ- শক্তি;
বিস্তারিত