কল্যাণের ঘর

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সবসময় মসজিদকে আলোকিত করে রাখতেন। তার প্রিয় সাহাবিরাও মসজিদকে আলোকিত করে রাখার কৌশল জানতেন। মসজিদ আলোকিত তখনই হবে, যখন মুসল্লিরা সেখান থেকে হেদায়েতের শিক্ষা লাভ করবেন। দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমানে সম্মানিত ইমামরা অনেক সময় যা বলার তা বলতে পারেন না। মুসল্লিরাও অনেক বিষয় আছে, যা তাদের জানা নেই, তারা মসজিদে গিয়ে তা জানতে চান। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন, ‘মসজিদগুলো আল্লাহর জন্যই। সুতরাং তোমরা আল্লাহর সঙ্গে আর কাউকে ডেকো না।’ (সূরা জিন : ১৮)। 
যদি মসজিদে গিয়ে মহান আল্লাহর দাসত্ব করার নিয়ম-কানুন মুসল্লিরা শিখতে পারেন, তাহলে সর্বক্ষেত্রে তারা একমাত্র রাব্বুল আলামিনের কাছে সমর্পিত হবেন। দুনিয়ার কাছে কখনোই তারা সমর্পিত হবেন না। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কোবায় কয়েক দিন অবস্থান করেছিলেন, তিনি সেখানে মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। অর্থাৎ তিনি যেখানে যেতেন, সেখানেই বায়তুল্লাহ নির্মাণকে গুরুত্ব দিতেন। নবী করিম (সা.) মসজিদে সাহাবিদের আলোকিত মানুষ করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। মসজিদকে তিনি হেদায়েতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছিলেন। মসজিদে এসে সাহাবিরা তাদের সুখ-দুঃখের কথা পরস্পরের কাছে বলতেন এবং সমাধান পেয়ে যেতেন।
সূরা বাকারায় মহান রাব্বুল আলামিন বলেছেন, ‘সে ব্যক্তির চেয়ে অপরাধী আর কে আছে, যে আল্লাহর মসজিদে জিকির ও ইবাদত করতে বাধা দেয় এবং মসজিদকে বিরান করতে চেষ্টা করে।’ সূরা নূরে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন, ‘তারা এ ধরনের ঘরগুলোয় ইবাদত-বন্দেগি করে, যার ভক্তি করার জন্য এবং তাতে আল্লাহর জিকির করার হুকুম দেয়া হয়েছে।’ অর্থাৎ এ আয়াত দ্বারা মহান রাব্বুল আলামিন মসজিদকেই বুঝিয়েছেন। হালাল উপার্জন দ্বারা যে ব্যক্তি মহান রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টির জন্য মসজিদ নির্মাণে অবদান রাখবেন, তাদের ব্যাপারে বোখারি শরিফে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে যে ব্যক্তি মসজিদ নির্মাণ করবে (অর্থাৎ মসজিদ নির্মাণের কাজে অংশগ্রহণ করবেন) আল্লাহ রাব্বুল আলামিন (তার কাজ অনুসারে) বেহেশতের মধ্যে তার জন্য ইমারত নির্মাণ করে দেবেন।’ 
যদি কোনো ব্যক্তি মসজিদে অতি সামান্য পরিমাণ বালু, সিমেন্ট, ইট বা অর্থ দ্বারা অথবা কায়িক পরিশ্রম দ্বারা সহযোগিতা করে মহান আল্লাহ তাকেও পুরস্কৃত করবেন। আর যারা মসজিদকে অন্তরের অন্তস্তল থেকে ভালোবাসবেন, তাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, মসজিদগুলোকে ওইসব লোকেই তৈরি করে, যারা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ও আখেরাতের ওপর ঈমান রাখে। (তিরমিজি)। 
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘যার অন্তরে মসজিদের আকর্ষণ থাকে, সে কেয়ামতের দিন আরশের ছায়ায় স্থান পাবে। হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বলেছেন, রাসুল (সা.) নামাজ পড়ার বিশেষ জায়গা তৈরি করার এবং তাকে পবিত্র রাখার জন্য আদেশ দিয়েছেন। এ আদেশ সর্বক্ষেত্রে তখনই প্রযোজ্য হবে, যখন মসজিদ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পরহেজগার ব্যক্তিরা পালন করবে। তারা নিজেরা কোরআনের আলোয় আলোকিত থাকবেন, তারপর তারা মসজিদকে আলোকিত করতে পারবেন। 
মসজিদ মুসলিম সমাজের যাবতীয় সমস্যা, সমাধান ও সমাজকে দিকনির্দেশনা দেয়ার বাতিঘরে পরিণত হোকÑ আমরা মনেপ্রাণে এ কামনা করি।

সৈয়দ রশিদ আলম


সালাত মোমিনের আশ্রয় ও অবলম্বন
কতই না মহান এর মর্যাদা। কি সমুচ্চ এর অবস্থান। এটি
বিস্তারিত
বিশুদ্ধ মাতৃভাষায় বেড়ে উঠুক আমাদের
ভাষার মাস শেষ হওয়ার পথে। এ মাসে আমাদের মাতৃভাষার প্রতি
বিস্তারিত
হায় আওরঙ্গজেবের ভারত!
মুসলিম শাসনামলে ভারতের সাধারণ হিন্দু, পুরোহিত, ধর্মনেতা ও ধর্মালয়গুলো “বিশেষ
বিস্তারিত
টঙ্গীর আন-নূর মসজিদে অনুষ্ঠিত হলো
গত জুমায় টঙ্গীর দত্তপাড়া হাসান লেনের আন-নূর জামে মসজিদের উদ্যোগে
বিস্তারিত
মহামারি-রোগব্যাধি থেকে শিক্ষা
জীবন-মৃত্যু আল্লাহর সৃষ্টি। তিনি বান্দাকে পরীক্ষাস্বরূপ সুুস্থতা-অসুস্থতা, আনন্দ-বেদনা ও সুখ-দুঃখ
বিস্তারিত
মুফতি সাহাবি মুয়াজ বিন জাবাল
মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) একজন আনসারি সাহাবি। উপনাম আবু আবদুর
বিস্তারিত