মদিনা শরিফের জুমার খুতবা

মুসলিম জাতির সফলতার উপায়

সফলতা বাস্তবায়ন করা একটি বৃহৎ লক্ষ্য। এ উম্মাহর জন্য সে সফলতা নির্ভর করে তার সত্যনিষ্ঠ সচেতন কর্মের ওপর, যা পরিচালিত হবে সৎ কাজের আদেশ, অসৎ কাজের নিষেধ নীতির ভিত্তিতে। যেখানে পরস্পর এমন কল্যাণকামিতা থাকবে, যা একটি উন্নত পন্থা, প্রজ্ঞাসুলভ পদ্ধতি, মহান লক্ষ্য ও উৎকৃষ্ট গন্তব্যের আলোকে সব কাজকে পরিশীলিত করবে, সব মানসিকতা ও প্রবণতাকে সঠিক খাতে প্রবাহিত করবে 

মুসলিম উম্মাহ বর্তমান সময়ে তমসাচ্ছন্ন সংকটের ঘনঘটা, নানা অরাজকতা, আতঙ্কজনক অসংখ্য চ্যালেঞ্জ এবং বিভিন্ন কুটিল ষড়যন্ত্রের বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। ইসলামের অনুসারী ব্যক্তি ও সরকার সবাই এমন কিছুর প্রতি তাকিয়ে আছে, যা তাদের অবস্থার উন্নয়ন ঘটাবে, তাদের জীবন সুখময় করবে, তাদের শান্তি ও সচ্ছলতা বাস্তবায়ন করবে এবং তাদের সংকট ও বিপদ হটিয়ে দেবে। মুসলিম উম্মাহর কাক্সিক্ষত সব বিষয়ের সফলতা ও বিজয়, সব ধরনের আতঙ্ক থেকে মুক্তি এবং যাবতীয় সংকট থেকে উত্তরণে সঠিক ইসলামকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা ছাড়া কিছুতেই বাস্তবায়িত হবে না। যে ইসলাম জীবনের সব ক্ষেত্রে এবং প্রতিটি কর্মতৎপরতায় ধারণ করে বিশুদ্ধ তৌহিদ, সঠিক আকিদা ও অদ্বিতীয় মাবুদের প্রতি নিরঙ্কুশ আত্মসমর্পণ। আল্লাহ বলেন, ‘মোমিন লোকেরাই সফলতা লাভ করেছে।’ (সূরা মোমিনুন : ১)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “হে মানুষেরা, তোমরা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বল, তোমরা সফল হবে।” (ইবনে খুজাইমাহ)। 
মুসলিম উম্মাহ যতক্ষণ তার জীবনের সব নীতিমালা ও যাবতীয় কর্মকা- আল্লাহর শরিয়তের অনুগত না করবে, সে কিছুতেই সৌভাগ্যের দেখা পাবে না এবং তার অবস্থার উন্নতি হবে না। আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের ইবাদত করো এবং কল্যাণকর কাজ করো, তবেই তোমরা সফল হতে পারবে।’ (সূরা হজ : ৭৭)। আমাদের নবী করিম (সা.) বলেন, ‘যে ইসলাম গ্রহণ করল আর আল্লাহ তাকে পর্যাপ্ত জীবিকা দান করলেন এবং যতটুকু দিয়েছেন ততটুকুতে তাকে সন্তুষ্ট রাখলেন, সে ব্যক্তি সফল হলো।’ (মুসলিম)। আল্লাহর নির্দেশের সামনে আত্মসমর্পণ ও তাঁর রাসুলের পূর্ণ আনুগত্য করে আল্লাহর শরিয়ত কার্যকর না করলে মুসলিম সমাজজীবনে কখনও শান্তি, নিরাপত্তা, সুখ ও স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব হবে না। আল্লাহ বলেন, ‘মোমিনদের যখন আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পথে ডাকা হয় তাদের মাঝে ফয়সালা করার জন্য তখন তাদের মুখে শুধু এ কথাই থাকেÑ আমরা শুনলাম ও মেনে নিলাম। তারাই প্রকৃত সফল।’ (সূরা নূর : ৫১)।
বর্তমান বাস্তবতায় আমরা আল্লাহর পথ ও তাঁর রাসুলের দিকনির্দেশনার যে লঙ্ঘন করে যাচ্ছি তার থেকে সঠিক তওবা না করলে যত চেষ্টাই করি এসব দুর্ভাগ্য কিছুতেই দূর হবে না। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা সবাই আল্লাহর দিকে ফিরে আস। তবেই তোমরা সফল হবে।’ (সূরা নূর : ৩১)। পাপ ও অপরাধে লিপ্ত থাকলে সফলতা ও উন্নতির পথ অধরাই থেকে যাবে। ‘তোমরা শয়তানের কর্ম পরিহার কর। তবেই সফল হতে পারবে।’ (সূরা মায়েদা : ৯০)। মুসলিম উম্মাহ আজ এ কারণেই অধঃপতন, অবক্ষয়, রক্তপাত আর বিরোধের মধ্যে জর্জরিত। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা বিরোধে জড়িও না, তাহলে তোমরা ব্যর্থ হবে, তোমাদের শক্তি খর্ব হবে।’ (সূরা আনফাল : ৪৬)। মুসলিম জাতি আজ অর্থনৈতিক ও আর্থিক ক্ষেত্রে বড় ধরনের বিপাকে পড়েছে। এ সংকট থেকে বাঁচার উপায় একটাইÑ আল্লাহর বিধান অনুসারে চলা। এ পথ থেকে সরলেই তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে দ্বিগুণ করে সুদ খেয়ো না। আর আল্লাহকে ভয় করো। তবেই তোমরা সফল হবে।’ (সূরা আলে ইমরান : ১৩১)।
সফলতা বাস্তবায়ন করা একটি বৃহৎ লক্ষ্য। এ উম্মাহর জন্য সে সফলতা নির্ভর করে তার সত্যনিষ্ঠ সচেতন কর্মের ওপর, যা পরিচালিত হবে সৎ কাজের আদেশ, অসৎ কাজের নিষেধ নীতির ভিত্তিতে। যেখানে পরস্পর এমন কল্যাণকামিতা থাকবে, যা একটি উন্নত পন্থা, প্রজ্ঞাসুলভ পদ্ধতি, মহান লক্ষ্য ও উৎকৃষ্ট গন্তব্যের আলোকে সব কাজকে পরিশীলিত করবে, সব মানসিকতা ও প্রবণতাকে সঠিক খাতে প্রবাহিত করবে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে একটি দল থাকবে যারা কল্যাণের দিকে ডাকবে, সৎ কাজের আদেশ দেবে, মন্দ কাজ থেকে বাধা দেবে, আর তারাই সফল।’ (সূরা আলে ইমরান)। মুসলমানের সফলতা নিহিত আছে নিরেট ইসলামকে অনুধাবনের মধ্যে। যে ইসলাম মুহাম্মদ (সা.) নিয়ে এসেছেন। ভারসাম্যপূর্ণ ধর্ম। বাড়াবাড়ি, কড়াকড়ি ও অতিরঞ্জন থেকে মুক্ত। কোরআন ও সুন্নাহর মৌলিক বিধানের ক্ষেত্রে শিথিলতা ও অবহেলা প্রদর্শন থেকেও মুক্ত। বাড়াবাড়ি কিংবা অবহেলার কারণেই মুসলমানের ওপর আজ ভয়াবহ সংকট বিদ্যমান। আল্লাহ বলেন, ‘আর এরকম করেই আমি তোমাদের একটি মধ্যপন্থাবলম্বনকারী জাতি বানিয়েছি।’ (সূরা বাকারা : ১৪৩)।
তথাকথিত উপনিবেশবাদ নামক ধ্বংসাত্মক যুগ পার হওয়ার পর অনেক মুসলমান দুই শতাব্দীরও বেশি সময় তাদের জীবনে বিজাতীয় অনুপ্রবিষ্ট আমদানিকৃত বিভিন্ন মতবাদ পরীক্ষা করে দেখেছে। মুসলিম সমাজগুলো সেখানে চৈন্তিক মহামারী, সামরিক দুর্বলতা, অর্থনৈতিক মন্দা, চারিত্রিক অবক্ষয় আর সামাজিক ভাঙন ছাড়া আর কিছুই পায়নি। এগুলো দিয়ে তাদের পার্থিব জীবনও তো সুন্দর হয়নি, বরং তাদের ধর্মের অনেক মৌলিক ভিত্তি নষ্ট করে দিয়েছে। পৃথিবীতে এসব মতাদর্শের দুঃখজনক প্রায়োগিক ফল প্রত্যক্ষ করার পর এখন কোরাআন ও সুন্নাহর আলোকে পথে ফিরে আসার সময় হয়েছে। মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মূল্যবোধ ও নীতিমালার বুলি আওড়ানো এসব চোখ ধাঁধানো সভ্যতার দংশনে যারা অবশ হয়ে গেছে, তাদের জন্য ইসলামের ওহির পথে প্রত্যাবর্তনের সময় এসে গেছে। নিজস্ব ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে ইসলামের শত্রুদের মুখোশধারী সভ্যতার আসল চেহারা বের হয়ে আসে। সেখানে কোনো ধর্মীয়, নৈতিক, মানবিক কিংবা আদর্শিক কোনো ধরনের মানদ-ের বালাই নেই। তাই হে মুসলিম জাতি, তোমরা তোমাদের দ্বীনের দিকে ফিরে আস। তবেই তোমাদের অবস্থার উন্নতি হবে।

২৫ সফর ১৪৩৮ হি. মসজিদে নববির জুমার খুতবার সংক্ষিপ্ত ভাষান্তর করেছেন মাহমুদুল হাসান জুনাইদ


প্রাণীর প্রতি নবীজির মমতা
‘আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।’ (সূরা আম্বিয়া :
বিস্তারিত
স্রষ্টাকে খুঁজি সাগরের বিশালতায়
বিশাল জলরাশির উত্তাল তরঙ্গমালায় প্রবাহিত সমুদ্র আল্লাহর এক অপূর্ব সৃষ্টি।
বিস্তারিত
দুধপানের উপকারিতা
দুধের পুষ্টিগুণ বিচারে এটি মহান আল্লাহ তায়ালার বড় একটি নেয়ামত।
বিস্তারিত
পবিত্র শবে মেরাজ ২২ মার্চ
বাংলাদেশের আকাশে সোমবার রজব মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। বুধবার থেকে
বিস্তারিত
পবিত্র শবে মেরাজ কবে, জানা
১৪৪১ হিজরি সনের পবিত্র শবে মেরাজের তারিখ নির্ধারণ এবং রজব
বিস্তারিত
মাতৃভাষার নেয়ামত ছড়িয়ে পড়ুক
ভাষা আল্লাহ তায়ালার বিরাট একটি দান। ভাষার রয়েছে প্রচ- শক্তি;
বিস্তারিত