ভ্রমণে দেখি স্রষ্টার নিদর্শন

জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে সফরের গুরুত্ব অপরিসীম। পাঠ্যবইয়ে কোনো একটি ঐতিহাসিক বিষয় অধ্যয়নের পাশাপাশি ঘটনা সম্পৃক্ত স্থানটি স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করলে নিজের জানার আত্মবিশ্বাসের ভিত্তিটা আরও মজবুত হয়। ভেতরের অন্ধকার ও গোঁড়ামি দূর হয়। হৃদয়ের মধ্যে আলো আসে। এক্ষেত্রে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য শিক্ষা সফরের উদ্যোগ নেয়া হলেও মাদরাসার ছাত্রছাত্রীরা অনেক পিছিয়ে আছে। শিক্ষা সফরের মাধ্যমে একটি অঞ্চলের জাতি-গোষ্ঠীর ইতিহাস-ঐতিহ্য, কৃষ্টি-কালচার সম্পর্কে জানা যায়। পারস্পরিক ভাষা ও সংস্কৃতির আদান-প্রদান হয়। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্য কমে আসে। আল্লাহ সুবহানু তায়ালার সৃষ্টি ও তাঁর গুণ ক্ষমতা সম্পর্কে উপলব্ধি করা যায়। সফরের জন্য কোরআনে তাগিদও দেয়া হয়েছে। এরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের আগেও (বহু জাতির) বহু উদাহরণ অতীত হয়ে গেছে, সুতরাং (এদের পরিণতি দেখার জন্য) তোমরা পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াও এবং দেখ, (আল্লাহপাক ও তাঁর বিধান) মিথ্যা প্রতিপন্নকারীদের পরিণতি কী হয়েছিল!’ (সূরা আলে ইমরান : ১৩৭)। ‘(হে নবী) আপনি তাদের বলুন, তোমরা এ পৃথিবীতে ঘুরেফিরে দেখ, যারা (নবী-রাসুলদের) মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, তাদের কী (ভয়াবহ) পরিণাম হয়েছে।’ (সূরা আনআম : ১১)। 
কোরআনের ১৩টি সূরায় সফরের প্রসঙ্গটি নানাভাবে এসেছে। আসমান, জমিন, পাহাড় ও সমুদ্রের সর্বত্রই আল্লাহর নিদর্শনগুলো ছড়িয়ে আছে। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘(হে নবী) আপনি বলুন, তোমরা আল্লাহর জমিনে পরিভ্রমণ করো এবং দেখ, কীভাবে আল্লাহ তায়ালা তাঁর সৃষ্টিকে অস্তিত্বে আনেন এবং কীভাবে আবার তিনি তা পুনর্বার সৃষ্টি করেন; নিঃসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা সবকিছুর ওপর প্রবল ক্ষমতাবান।’ (সূরা আনকাবুত : ২০)।  এসব নিদর্শন দেখার মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি মনের মধ্যে ভয়ের সৃষ্টি হয়। ঈমান মজবুত হয়। আমল ও ইবাদতের অনুপ্রেরণা সৃষ্টি হয়। দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হয়। এছাড়া সফর অবস্থায় প্রত্যেক ব্যক্তিই মুসাফির। আর মুসাফিরের দোয়া আল্লাহ কবুল করেন। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘এরা কি জমিনে চলাফেরা করেনি, (করলে) তারা অতঃপর দেখতে পেত তাদের পূর্ববর্তী লোকদের পরিণাম কী হয়েছিল; তারা সংখ্যায় এদের থেকে ছিল অনেক বেশি। শক্তি, ক্ষমতা এবং জমিনে রেখে যাওয়া কীর্তিতেও তারা (ছিল) অনেক প্রবল, কিন্তু তারা যা কিছু কাজকর্ম করেছে, তা তাদের কোনোই কাজে আসেনি।’ (সূরা মোমিন : ৮২)। তাই সফরের উদ্দেশ্য শুধু আনন্দ উদযাপন নয়, মূল উদ্দেশ্য হতে হবে শিক্ষা অর্জন এবং আল্লাহর নেয়ামত দেখে আল্লাহর পরিচয় লাভ। 
সফরের জন্য শারীরিক সুস্থতা একান্ত প্রয়োজন। ছাত্রাবস্থায় সফরের উত্তম সময়। এ সময় শরীরে শক্তি থাকে। মনের মধ্যে তারুণ্যের জোয়ার উচ্ছ্বাস থাকে। ছাত্রছাত্রীরা জাদুঘর, প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থান, গুণিজন, কবি-সাহিত্যিক ও আধ্যাত্মিক মহাপুরুষের সমাধি ঘুরে দেখলে দেশের প্রতি আত্মোপলব্ধি বৃদ্ধি পাবে। ছাত্রছাত্রীদের ইতিহাস-ঐতিহ্য চর্চার প্রতি মনোযোগ বৃদ্ধি পাবে। ছাত্ররা ইতিহাস-ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখার চেষ্টা করবে। সুতরাং স্কুল-কলেজের পাশাপাশি মাদরাসাগুলোতেও বাধ্যতামূলক শিক্ষা সফরের উদ্যোগ নেয়া উচিত।


পবিত্র শবে মেরাজ কবে, জানা
১৪৪১ হিজরি সনের পবিত্র শবে মেরাজের তারিখ নির্ধারণ এবং রজব
বিস্তারিত
মাতৃভাষার নেয়ামত ছড়িয়ে পড়ুক
ভাষা আল্লাহ তায়ালার বিরাট একটি দান। ভাষার রয়েছে প্রচ- শক্তি;
বিস্তারিত
ন তু ন প্র
বই : আল-কুরআনে শিল্পায়নের ধারণা লেখক : ইসমাঈল হোসাইন মুফিজী প্রচ্ছদ :
বিস্তারিত
উম্মতে মুহাম্মদির মর্যাদা
আল্লাহ তায়ালা যে বিষয়কে আমাদের জন্য পূর্ণতা দিয়েছেন, যে বিষয়টিকে
বিস্তারিত
যেভাবে সন্তানকে নামাজি বানাবেন
হাদিসে এরশাদ হয়েছে ‘তোমরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ অধীনদের ব্যাপারে দায়িত্বশীল। আর
বিস্তারিত
আবু বাকরা (রা.)
নোফায় বিন হারেস বিন কালাদা সাকাফি (রা.)। তার উপনাম আবু
বিস্তারিত