টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র নিয়ে পড়তে চাইলে

বর্তমানে প্রাইভেট চ্যানেলগুলো বাণিজ্যিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন প্রোডাকশন হাউস গড়ে উঠছে। বৈচিত্র্যময় অনুষ্ঠান তৈরি হচ্ছে টেলিভিশনগুলোর জন্য। বিজ্ঞাপনও পিছিয়ে নেই, নতুন নতুন পণ্যের নতুন নতুন বিজ্ঞাপন তৈরি হচ্ছে। সব মিলিয়ে টেলিভিশনগুলো নেমে পড়েছে এক অঘোষি

মানুষের মনে স্বাধীনতা ও সাম্যের আকাক্সক্ষা জাগিয়ে তোলার একটি বড় মাধ্যম এ চলচ্চিত্র। আর এ মাধ্যমকে বুঝতে ও জানতে এর শিক্ষার বিকল্প নেই।
কারও দ্বিমত থাকার কথা নয় যে, বর্তমানে দেশে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিগুলোর খুব খারাপ অবস্থা। মানসম্পন্ন পরিচালকের বড় অভাব। এ সংকট নিরসনেই বাংলাদেশে টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র নিয়ে আনুষ্ঠানিক পড়াশোনা শুরু হয়। ২০০৩ সালে সর্বপ্রথম ‘গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’ চালু করে ‘ফিল্ম, টেলিভিশন অ্যান্ড ডিজিটাল মিডিয়া’ বিষয়ক বিভাগ। বর্তমানে বেশ ক’টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ নিয়ে পড়াশোনা করার ব্যবস্থা আছে। এর মধ্যে ২০১২ সাল থেকে চালু হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অধ্যয়ন বিভাগটি অন্যতম। এছাড়াও স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে এ বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। আরও প্রশিক্ষণের সুযোগ আছে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতিষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট’-এ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অধ্যয়ন’ বিভাগটিতে তৈরি করা হয়েছে অত্যাধুনিক রিসোর্স সেন্টার কাম সেমিনার লাইব্রেরি। যেখানে রয়েছে নানা ধরনের হাই রেজুলেশন ক্যামেরা এবং এডিটিং প্যানেলসহ দেশ-বিদেশের টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্রবিষয়ক নানা বিদেশি বইয়ের এক বিশাল আর্কাইভ। নির্মাণ কাজ চলছে একটি অ্যানিমেশন ল্যাব এবং পূর্ণাঙ্গ টেলিভিশন স্টুডিওর। বিভাগের চেয়ারপারসন প্রফেসর ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা খুব দ্রুতই আমাদের এ অত্যাধুনিক টিভি স্টুডিওর নির্মাণ কাজ শেষ করে বিভাগের তত্ত্বাবধানে একটি আইপি টিভি চালু করতে চাই, যেখানে বিভাগের শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে একটি টিভি স্টেশনের যাবতীয় কাজ শিখতে পারবে।’
বিভাগের চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির ভাষণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘দেশের ক্রমবর্ধমান টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির জন্য দক্ষ এবং প্রশিক্ষিত পেশাজীবী তৈরির জন্য এ বিভাগটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আমি আশা করি, তরুণ ছাত্ররা এ বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখবেন।’
বাংলাদেশ সরকার সংবাদপত্র ও চলচ্চিত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করেছে। বর্তমানে প্রাইভেট চ্যানেলগুলো বাণিজ্যিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন প্রোডাকশন হাউস গড়ে উঠছে। বৈচিত্র্যময় অনুষ্ঠান তৈরি হচ্ছে টেলিভিশনগুলোর জন্য। বিজ্ঞাপনও পিছিয়ে নেই, নতুন নতুন পণ্যের নতুন নতুন বিজ্ঞাপন তৈরি হচ্ছে। সব মিলিয়ে টেলিভিশনগুলো নেমে পড়েছে এক অঘোষিত প্রতিযোগিতায়। এমন একটি সময়ে টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র নিয়ে পড়াশোনার চাহিদা বাড়বেÑ এটাই স্বাভাবিক।
এরই মধ্যে ভারত মানসম্পন্ন চলচ্চিত্র দিয়ে বিশ্বের বাজার দখল করে ফেলেছে। পুনেতে অবস্থিত ‘ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট’ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন। অনেক দেরিতে হলেও অবশেষে আমাদের দেশে চালু হলো টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র নিয়ে আনুষ্ঠানিক পড়াশোনা। আশা করা যায়, এখান থেকে আমরা বিশ্বমানের চলচ্চিত্র তৈরির দিকে এগিয়ে যেতে পারব। এখানে শিক্ষার্থীরা ডকুমেন্টারি তৈরি থেকে শুরু করে ফিল্ম তৈরি, টকশো প্রযোজনাসহ বিভিন্ন প্রোডাকশনের ওপরই ব্যবহারিক ধারণা লাভ করবে।
এ বিষয় পড়ে ভালো কাজের সুযোগও রয়েছে। বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই খ-কালীন চাকরির সুযোগ পেয়ে থাকেন। স্নাতক পড়া শেষে দেশের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম, বিজ্ঞাপনী সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোয় কাজের সুযোগ পায়। এছাড়া ফ্রিল্যান্স চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমেও এ বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান আ জ ম শফিউল আলম ভূঁইয়া জানান, বিশ্বায়নের এ যুগে চলচ্চিত্র নিয়ে ক্যারিয়ার বিস্তৃত হয়েছে অনেক। দেশে-বিদেশে সিনেমা দুনিয়ায় কাজের সুযোগ আছে শিক্ষার্থীদের।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে চার বছর মেয়াদি স্নাতক, দুই বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পড়াশোনার সঙ্গে এমফিল, পিএইচডি ও বিভিন্ন সার্টিফিকেট কোর্স করার সুযোগ আছে। স্নাতক কোর্সে ভর্তির জন্য উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পর ‘খ’ ইউনিটে ও ‘ঘ’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। স্নাতকোত্তর কোর্সে ভর্তির জন্য স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি পাস হতে হয়।


আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ পেলেন ৯০ প্রাণী
পোলট্র্রির বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, সঠিকভাবে রোগবালাই নির্ণয়, চিকিৎসা এবং রোগ
বিস্তারিত
সবার উপরে বাবা-মা
যে-কোনো মানুষের গায়ে হাত তোলাই অপরাধ। আর সন্তান হয়ে বাবা-মায়ের
বিস্তারিত
স্মৃতির মানসপটে যুক্তরাজ্য সফর
বিদেশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়তো অনেকেরই হয়ে থাকে। তবে কলেজের প্রতিনিধি,
বিস্তারিত
ব্যবসার ধারণা : গড়তে চাইলে
নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা
বিস্তারিত
৭৫ শতাংশ বৃত্তিতে আইটি ও
বিভিন্ন কারণে যারা আইটিতে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত তাদের
বিস্তারিত
লক্ষ্য যখন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিপরীতে ক্রমাগত উর্বরা জমির পরিমাণ কমছে। জনসংখ্যার এ
বিস্তারিত