বিশ্বনবী সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত

নেয়ামত। বাংলায় কৃপা, দয়া, প্রসন্নতা বা অনুগ্রহ বলা যায়। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন অগণিত নেয়ামত দ্বারা আচ্ছাদন করে রেখেছেন এ ধরাধাম। চন্দ্র-সূর্য, আলো-বাতাস, দিন-রাত, আগুন-পানি, তরুলতাÑ সবকিছুই তারই কৃপা, করুণা। তাই তো আল্লাহর অমোঘ ঘোষণা, ‘যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা করো, শেষ করতে পারবে না।’ (সূরা আহজাব : ১৮)। সত্যিই কারও সাধ্য নেই, তাঁর করুণার হিসাব করে শেষ করা। আল্লাহ তায়ালার এসব অগণিত অনুগ্রহের মধ্যে সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ অনুগ্রহ বা নেয়ামত হলেন ‘হজরত মুহাম্মদ (সা.)।’ যিনি সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব। যার সম্পর্কে স্রষ্টা নিজেই বলেন, ‘আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি।’ (সূরা আম্বিয়া : ১০৭)। তিনি ছিলেন কুলকায়েনাতের জন্য রহমত বা অনুকম্পা। শুধু মানবজাতি নয়, বরং জিন জাতিসহ সব সৃষ্টির প্রতি রহমত হয়ে এ ধরাধামে আবির্ভূত হয়েছেন। প্রশ্ন আসতে পারে, রাসুল (সা.) কি শুধু মুসলমানদের জন্য রহমত, নাকি কাফেরসহ সবাই রহমতের অন্তর্ভুক্ত? তার জবাব হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) এর বর্ণনা থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘যারা ঈমানদার, তাদের জন্য রাসুল (সা.) ইহকাল ও পরকালে (উভয়কালে) রহমত হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন, আর যারা মুসলমান নয়, তাদের জন্য শুধু ইহকালে রহমতস্বরূপ প্রেরিত। তাদের প্রতি রহমতের উদাহরণ হলো, তিনি বিদ্যমান থাকা অবস্থায় আল্লাহ তায়ালা ভূমিধস বা চেহারা বিকৃতির মতো কোনো কঠোর শাস্তি দিয়ে তাদের ধ্বংস করবেন না, যা বিভিন্ন নবীর উম্মতের বেলায় অস্বীকার করার কারণে ঘটেছিল।’
অন্যত্র মহান আল্লাহপাক বলেন, ‘তোমাদের কাছে এসেছেন তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রাসুল। তোমাদের দুঃখ-কষ্ট তাঁর পক্ষে দুঃসহ। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী, মোমিনদের প্রতি স্নেহশীল, দয়াময়।’ (সূরা তওবা : ১২৮)। এখানে স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে যে, রাসুল (সা.) ছিলেন, আল্লাহর অনুগ্রহের অন্যতম নমুনা। হাসান ইবনে ফজল বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা নবীদের মধ্য থেকে কোনো নবী বা রাসুলের মধ্যে দুইটি নামের সমাবেশ ঘটাননি, যা তাঁর নিজের মধ্যে রয়েছে। তবে হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর মধ্যে সে দুইটি নামের সমাবেশ ঘটানো হয়েছে। সে সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘মোমিনদের প্রতি স্নেহশীল, দয়াময় (রাউফুর রাহিম)’। এটা দ্বারা সহজেই প্রতীয়মান হয়, তিনি ছিলেন করুণাশীল। শুধু তাই নয়, আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং মহানবী (সা.) কে প্রেরণ করা অনুগ্রহ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং ঘোষণা করেন, ‘আল্লাহ ঈমানদারদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তাদের মাঝে তাদের নিজেদের মধ্য থেকে নবী পাঠিয়েছেন। তিনি তাদের জন্য তাঁর আয়াতগুলো পাঠ করেন। তাদের পরিশোধন করেন এবং তাদের কিতাব ও বিজ্ঞান শিক্ষা দেন। বস্তুত তারা ছিল পূর্ব থেকেই পথভ্রষ্ট।’ (সূরা আলে ইমরান : ১৬৪)।
আর কেন তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত হবেন না? কেননা হেদায়েত লাভ করা মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় করুণা বা দয়া। আর হজরত মুহাম্মদ (সা.) জনমভর অন্ধকার থেকে আলোর দিকে, ভ্রষ্টতা থেকে সঠিক পথের দিকে আহ্বান করে গেছেন। মহান রাব্বুল আলামিন সাক্ষ্য হিসেবে আরও বলেন, ‘আপনি যদি কর্কশ ও কঠিন হৃদয়ের অধিকারী হতেন, তাহলে তারা আপনার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত।’ (সূরা আলে ইমরান : ১৫৯)। সুতরাং বোঝা যায়, আল্লাহর রাসুল (সা.) সবার প্রতি ছিলেন কোমল, ভদ্র ও নম্র প্রকৃতির।
রাসুল (সা.) সদা সর্বদা ছিলেন রহমত বা করুণাস্বরূপ। যার বিদ্যমান থাকাটা আল্লাহর শাস্তিকে দূরীভূত করে দেয়। কোরআনুল কারিমে ঘোষণা এসেছে, ‘আল্লাহ কখনই তাদের ওপর শাস্তি অবতরণ করবেন না, যতক্ষণ আপনি তাদের মাঝে অবস্থান করবেন।’ (সূরা আনফাল : ৩৩)। এমনকি হাদিসে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেকে করুণা হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। যার বর্ণনা এসেছে এভাবে, ‘হজরত হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা নবী করিম (সা.) এর সঙ্গে মদিনার পথে আমার দেখা হয়। তখন তিনি বলেন, আমি মুহাম্মদ, আমি আহমদ এবং আমি করুণাময় নবী।’ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেন সেই নবী করিম (সা.) এর সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করার তৌফিক দান করেন। ওয়া সাল্লাল্লাহু আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মদ (সা.)।


প্রাণীর প্রতি নবীজির মমতা
‘আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।’ (সূরা আম্বিয়া :
বিস্তারিত
স্রষ্টাকে খুঁজি সাগরের বিশালতায়
বিশাল জলরাশির উত্তাল তরঙ্গমালায় প্রবাহিত সমুদ্র আল্লাহর এক অপূর্ব সৃষ্টি।
বিস্তারিত
দুধপানের উপকারিতা
দুধের পুষ্টিগুণ বিচারে এটি মহান আল্লাহ তায়ালার বড় একটি নেয়ামত।
বিস্তারিত
পবিত্র শবে মেরাজ ২২ মার্চ
বাংলাদেশের আকাশে সোমবার রজব মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। বুধবার থেকে
বিস্তারিত
পবিত্র শবে মেরাজ কবে, জানা
১৪৪১ হিজরি সনের পবিত্র শবে মেরাজের তারিখ নির্ধারণ এবং রজব
বিস্তারিত
মাতৃভাষার নেয়ামত ছড়িয়ে পড়ুক
ভাষা আল্লাহ তায়ালার বিরাট একটি দান। ভাষার রয়েছে প্রচ- শক্তি;
বিস্তারিত