মক্কা শরিফের জুমার খুতবা

ইসলাম প্রচারকের জন্য সূরা ত্বহার শিক্ষা ও উপদেশ

আল্লাহর পথের আহ্বায়ক কখনও ভীত হয় না। কারণ আল্লাহ তার সঙ্গে আছেন। দাওয়াতের শুরু লগ্নে মুসা ও হারুন (আ.) এর উদ্দেশে এ কথা আল্লাহই বলেছেন, ‘তারা বলল, হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা আশঙ্কা করি যে, সে আমাদের প্রতি জুলুম করবে কিংবা উত্তেজিত হয়ে উঠবে। আল্লাহ বললেন, ত

এক মহান সূরা, যা নাজিল হয়েছিল দাওয়াতের পথে রাসুলুল্লাহ (সা.) এর হাত ধরতে এবং তাকে তাবলিগের পথে ওঠাতে। এটি অবতীর্ণ হয়েছিল যখন রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন অসহায়। তাঁর সাহাবি অল্প। তাদের ধরা হচ্ছে এবং শাস্তি দেয়া হচ্ছে। কোরাইশরা তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে। কষ্ট দিচ্ছে। আখ্যায়িত করছে তাঁকে জাদুকর ও পাগল। উপরন্তু তার রব তাঁকে আদেশ দিচ্ছেন দাওয়াত ও তাবলিগের। ‘হে চাদরাবৃত ব্যক্তি, উঠুন এবং সতর্ক করুন।’ এদিকে রোম-পারস্যের মতো কাফের জাতিগোষ্ঠী তাকে বেষ্টন করে আছে।
তখন কল্পনার দিগন্তে উদয়ই হয়নি বদর বা মক্কা বিজয় কিংবা নানা গোত্রের কাছে প্রতিনিধি পাঠানোর ভাবনা। রাসুলুল্লাহ (সা.) জানেন না ‘গায়ব’ তার জন্য কী লুকিয়ে রেখেছে। জানেন না আল্লাহ তাকে যে দাওয়াতের দায়িত্ব দিয়েছেন তার ভবিষ্যৎ কী। যখন তাকে মিথ্যাবাদী ঠাওরাচ্ছে স্বজাতি অথচ তিনি মহাসত্যবাদী ও বিশ্বস্ত। সত্যবাদীর জন্য আশপাশের লোকদের মিথ্যাবাদী বলার চেয়ে পীড়াদায়ক আর কিছু হয় না। আর রাসুলুল্লাহ (সা.) একজন মানুষ বৈ নন। তিনি চিন্তিত হন ও ব্যথা পান। ‘আমার জানা আছে যে, তাদের উক্তি আপনাকে দুঃখিত করে। অতএব, তারা আপনাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে না, বরং জালেমরা আল্লাহর নিদর্শনাবলিকে অস্বীকার করে।’ (সূরা আনআম : ৩৩)। ‘আমি জানি যে আপনি তাদের কথাবার্তায় হতোদ্যম হয়ে পড়েন। অতএব আপনি পালনকর্তার সৌন্দর্য স্মরণ করুন এবং সেজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যান। পালনকর্তার ইবাদত করুন, যে পর্যন্ত আপনার কাছে নিশ্চিত কথা না আসে।’ (সূরা হিজর : ৯৭-৯৯)। এমতাবস্থায় নাজিল হয় সূরা ত্বহা। ‘আপনাকে ক্লেশ দেয়ার জন্য আমি আপনার প্রতি কোরআন অবতীর্ণ করিনি। কিন্তু তাদেরই উপদেশের জন্য যারা ভয় করে। এটা তাঁর কাছ থেকে অবতীর্ণ, যিনি ভূম-ল ও সমুচ্চ নভোম-ল সৃষ্টি করেছেন। তিনি পরম দয়াময়, আরশে সমাসীন হয়েছেন। নভোম-লে, ভূম-লেÑ উভয়ের মধ্যবর্তী স্থানে এবং সিক্ত ভূগর্ভে যা আছে, তা তাঁরই। যদি তুমি উচ্চকণ্ঠেও কথা বল, তিনি তো গুপ্ত ও তদপেক্ষাও গুপ্ত বিষয়বস্তু জানেন। আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য ইলাহ নেই। সব সৌন্দর্যম-িত নাম তাঁরই। আপনার কাছে মুসার বৃত্তান্ত পৌঁছেছে কি?’ (সূরা ত্বহা : ২-৯)।
এ সূরায় আল্লাহ রাসুল (সা.) এর জন্য দুই প্রত্যয়ী নবীর উপমা উপস্থাপন করেছেন। প্রথম মুসা (আ.), যিনি আল্লাহর পথে দাওয়াতে অসীম সাহসী ছিলেন। ‘আপনি সবর করুন, যেমন উচ্চ সাহসী পয়গম্বররা সবর করেছেন।’ (সূরা আহকাফ : ৩৫)। দ্বিতীয় আদম (আ.), যিনি আমাদের সবার পিতা। আল্লাহ তাঁকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন এবং নিজ ফেরেশতাদের দিয়ে তাকে সালাম করিয়েছেন। ‘আমি এর আগে আদমকে নির্দেশ দিয়েছিলাম। অতঃপর সে ভুলে গিয়েছিল এবং আমি তার মধ্যে দৃঢ়তা পাইনি।’ (সূরা ত্বহা : ১১৫)। কিন্তু আল্লাহ তাকে নির্বাচিত ও মনোনীত করেছেন, যেমন করেছেন মুসা (আ.) কে। ‘এরপর তার পালনকর্তা তাকে মনোনীত করলেন, তার প্রতি মনোযোগী হলেন এবং তাকে সুপথে আনয়ন করলেন।’ (প্রাগুক্ত : ১২২)। আল্লাহ মুসা (আ.) কে নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি তোমাকে মনোনীত করেছি, অতএব যা প্রত্যাদেশ করা হচ্ছে, তা শুনতে থাক। আমিই আল্লাহ, আমি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। অতএব আমার ইবাদত করো এবং আমার স্মরণার্থে নামাজ কায়েম করো।’ (প্রাগুক্ত : ১৩-১৪)। এখানে আল্লাহর মহান দুই আদেশ হলো তাওহিদ ও সালাত। ‘আমার ইবাদত করো এবং আমার স্মরণার্থে নামাজ কায়েম করো।’ সুতরাং যে দাওয়াতই তাওহিদ ও সালাতের গুরুত্বনির্ভর হবে, তাই নবীদের পথের দাওয়াত বলে গণ্য হবে। ‘বলে দিন, এই আমার পথ। আমি আল্লাহর দিকে বুঝে-সুঝে দাওয়াত দেইÑ আমি এবং আমার অনুসারীরা। আল্লাহ পবিত্র। আমি অংশীবাদীদের অন্তর্ভুক্ত নই।’ (সূরা ইউসুফ : ১০৮)।
হ সূরার ভাষ্য : আল্লাহ তায়ালা নিদর্শন ও প্রমাণের মাধ্যমে দাওয়াতের পথে দাওয়াতকর্মীকে সাহায্য করেন। তার বাধা অপসারণ করে দেন। তার জন্য দুয়ার খুলে দেন। তাকে অকল্পনীয়ভাবে আপন অনুকম্পা দেখান। যাতে লাঠিও হয়ে যায় সাপ। ‘তোমার হাত বগলে রাখ, তা বের হয়ে আসবে নির্মল উজ্জ্বল হয়ে অন্য এক নিদর্শন রূপে; কোনো দোষ ছাড়াই।’ (সূরা ত্বহা : ২২)।
হ সূরায় উল্লেখ রয়েছে : আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর প্রয়োজন মানুষকে বরণকারী প্রশান্ত বক্ষের, আল্লাহর সাহায্য ও সহজীকরণের এবং আল্লাহর বার্তা পৌঁছে দেয়া জবানের। জবানটি হতে পারে কলম, পত্রিকা কিংবা ভিডিও বা দর্শন মাধ্যম। আরও প্রয়োজন ব্যক্তির, যে তার সহযোগী হবে এবং বাহুকে শক্ত করবে। এর আগে-পরে তার আরও দরকার আল্লাহর সঙ্গে গভীর যোগাযোগ। এই তো দাওয়াতকর্মীর উপকরণ। দাওয়াতদাতার ভূমিকায় মুসা (আ.) এর দোয়াগুলোয় লক্ষ্য করুন। ‘মুসা বললেন, হে আমার পালনকর্তা আমার বক্ষ প্রশান্ত করে দিন। এবং আমার কাজ সহজ করে দিন। এবং আমার জিহ্বা থেকে জড়তা দূর করে দিন। যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে। এবং আমার পরিবারের মধ্য থেকে আমার একজন সাহায্যকারী করে দিন। আমার ভাই হারুনকে। তার মাধ্যমে আমার কোমর মজবুত করুন। এবং তাকে আমার কাজে অংশীদার করুন। যাতে আমরা বেশি করে আপনার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করতে পারি। এবং বেশি পরিমাণে আপনাকে স্মরণ করতে পারি। আপনি তো আমাদের অবস্থা সবই দেখছেন। আল্লাহ বললেন, হে মুসা, তুমি যা চেয়েছ তা তোমাকে দেয়া হলো।’ (প্রাগুক্ত : ২৫-৩৬)।
হ সূরার বর্ণনা : আল্লাহর পথে দাওয়াতের মূল পুঁজি হলো নম্রতা ও কোমলতা। সবচেয়ে বড় আল্লাহদ্রোহীকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে আল্লাহর নির্দেশ, ‘তুমি ও তোমার ভাই আমার নিদর্শনাবলিসহ যাও এবং আমার জিকিরে শৈথিল্য করো না। তোমরা উভয়ে ফেরাউনের কাছে যাও সে খুব উদ্ধত হয়ে গেছে। অতঃপর তোমরা তাকে নম্র কথা বল, হয়তো সে চিন্তা-ভাবনা করবে অথবা ভীত হবে।’ (প্রাগুক্ত : ৪২-৪৪)।
হ সূরার বর্ণনা : দাওয়াতদাতাদের কর্তব্য এক কালেমায় ঐক্যবদ্ধ থাকা। একতার পথে আহ্বানকারীর চেয়ে অনৈক্যের পথিকও কম নয়। অথচ সবার কিতাব এক, নবী এক এবং লক্ষ্যও অভিন্ন। মিথ্যার আহ্বায়করা যেখানে পরস্পর ঐক্যবদ্ধ, সেখানে সত্যের প্রচারকদের ঐক্যে তো আরও সুদৃঢ় থাকা উচিত। মুসার বিপরীতে জাদুকররা বলেছিল, ‘অতএব, তোমরা তোমাদের কলাকৌশল সুসংবদ্ধ করো, অতঃপর সারিবদ্ধ হয়ে আস। আজ যে জয়ী হবে, সেই সফলকাম হবে।’ (প্রাগুক্ত : ৬৪)। বনি ইসরাঈলকে গো-বৎসের পূজা থেকে বারণ করতে গিয়ে হারুন (আ.) একতার স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। তাদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘হে আমার জাতি, তোমরা তো এই গো-বৎস দ্বারা পরীক্ষায় নিপতিত হয়েছ। তোমাদের পালনকর্তা দয়াময়। অতএব, তোমরা আমার অনুসরণ করো এবং আমার আদেশ মেনে চল।’ (প্রাগুক্ত : ৯০)। তেমনি মুসার কাছে কৈফিয়ত হিসেবে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি আশঙ্কা করলাম যে, তুমি বলবে, তুমি বনি ইসরাঈলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছ এবং আমার কথা স্মরণে রাখনি।’ (প্রাগুক্ত : ৯৪)।
হ সূরার বর্ণনা : আল্লাহর পথের আহ্বায়ক কখনও ভীত হয় না। কারণ আল্লাহ তার সঙ্গে আছেন। দাওয়াতের শুরু লগ্নে মুসা ও হারুন (আ.) এর উদ্দেশে এ কথা আল্লাহই বলেছেন, ‘তারা বলল, হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা আশঙ্কা করি যে, সে আমাদের প্রতি জুলুম করবে কিংবা উত্তেজিত হয়ে উঠবে। আল্লাহ বললেন, তোমরা ভয় করো না, আমি তোমাদের সঙ্গে আছি, আমি শুনি ও দেখি।’ (প্রাগুক্ত : ৪৫-৪৬)। তেমনি প্রতিটি দাওয়াতি মোমিনেরও কোনো ভয় নেই দুনিয়া ও আখেরাতে। ‘যে ঈমানদার অবস্থায় সৎকর্ম সম্পাদন করে, সে জুলুম ও ক্ষতির আশঙ্কা করবে না।’
(প্রাগুক্ত : ১১২)।

২৫ সফর ১৪৩৮ হিজরি মক্কার মসজিদে হারামে প্রদত্ত জুমার খুতবার সংক্ষিপ্ত অনুবাদ আলী হাসান তৈয়ব


প্রাণীর প্রতি নবীজির মমতা
‘আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।’ (সূরা আম্বিয়া :
বিস্তারিত
স্রষ্টাকে খুঁজি সাগরের বিশালতায়
বিশাল জলরাশির উত্তাল তরঙ্গমালায় প্রবাহিত সমুদ্র আল্লাহর এক অপূর্ব সৃষ্টি।
বিস্তারিত
দুধপানের উপকারিতা
দুধের পুষ্টিগুণ বিচারে এটি মহান আল্লাহ তায়ালার বড় একটি নেয়ামত।
বিস্তারিত
পবিত্র শবে মেরাজ ২২ মার্চ
বাংলাদেশের আকাশে সোমবার রজব মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। বুধবার থেকে
বিস্তারিত
পবিত্র শবে মেরাজ কবে, জানা
১৪৪১ হিজরি সনের পবিত্র শবে মেরাজের তারিখ নির্ধারণ এবং রজব
বিস্তারিত
মাতৃভাষার নেয়ামত ছড়িয়ে পড়ুক
ভাষা আল্লাহ তায়ালার বিরাট একটি দান। ভাষার রয়েছে প্রচ- শক্তি;
বিস্তারিত