পাখিদের মন নিয়ে কথা

পাখিদেরও আছে নাকি মন? থাকাটাই তো স্বাভাবিক। কারণ, পাখিরাও তো প্রাণী। আর প্রত্যেক প্রাণীরই রয়েছে মনের অস্তিত্ব। কিন্তু আমরা ক’জনইবা পাখিদের সেই মনের অস্তিত্বকে বুঝতে পারি। পাখিবিদ ইনাম আল হক তেমনই একজন মানুষ, যিনি পাখিদের মনের কথা বুঝতে চেষ্টা করেন। আর তাই তিনি তার এবারের বইয়ের নাম দিয়েছেন ‘পাখিদেরও আছে নাকি মন।’ বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের উদ্যোগে প্রকাশিত বইটির প্রকাশক মাজেদা হক।
বইটি মূলত ভ্রমণকাহিনীভিত্তিক। ইনাম আল হক তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন কাদাচর, হাওর অঞ্চলের বিল, বিভিন্ন বনাঞ্চলসহ দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তর ঘুরে বেড়িয়েছেন পাখি দেখার জন্য। এই পাখি দেখতে গিয়ে কখনও জলদস্যু, কখনও বনদস্যু, কখনও পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন। আবার কখনও পড়েছেন শিকারিদের তোপের মুখে। এরকম নানা অভিজ্ঞতার কথাই তিনি বইটিতে তুলে ধরেছেন বৈঠকি ঢঙের লেখায়।
বইটিতে তিনটি অধ্যায় রয়েছে। প্রথম অধ্যায়ে আছে পাখির প্রাণ, দ্বিতীয় অধ্যায়ে পাখির মন ও তৃতীয় অধ্যায়ে রয়েছে পাখির অস্তিত্ব। কঠিন কোনো কথা ইনাম আল হক বইটিতে লেখেননি। কিংবা পাখিবিষয়ক বিশেষ কোনো জ্ঞানও তিনি দেয়ার চেষ্টা করেননি পাঠককে। সাধারণ ভাষায় ঠিক তিনি যা দেখেছেন, যা শুনেছেন তাই লিখেছেন এই বইয়ে।
বইয়ের মুখবন্ধে ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান লিখেছেন ‘ইনাম আল হকের অনেক পরিচয় আছে। তিনি একজন বিশিষ্ট আলোকচিত্রী, পর্বতারোহীদের সংগঠক, পক্ষীবিশারদ। তার লেখায় ও আলোকচিত্রে সুশোভিত এ বইটিতে আছে পাখিদের সম্পর্কে বিচিত্র কথা।’
বইয়ের ভূমিকায় ‘গৌরচন্দ্রিকা’ শিরোনামে ইনাম আল হক লিখেছেনÑ ‘বিদায়ি পাখিদের নিয়ে মনে মেলা কথা আছে। পাখি হারিয়ে গেলে আমি বিলাপ করিনে, পাখিটি যে এ দেশে ছিল তা লিখি। ছাপাখানায় এর পুনর্জন্ম হয়, টিকে থাকে কিছু দিন কাগজের কন্দরে, মানুষের মনে।’
পাখির প্রাণ অংশে বইয়ের প্রথম লেখার শিরোনামÑ প্রসন্ন সাঁঝের পাখি ও ভয়াল রাতের নদী। শীতের সময় জানুয়ারিতে উপকূলে পাখিশুমারি করতে গিয়ে ঝড়ের কবলে পড়া, পাখি শিকারিদের কাছ থেকে পাখি উদ্ধার করাসহ নানা বর্ণনা রয়েছে এ লেখায়। এ অধ্যায়ের চকাচকির চোখে বাংলাদেশ শিরোনামের লেখাটি পড়ে পাঠক জানতে পারবেন পাখির অন্য এক ভ্রমণ অভিজ্ঞতার কথা। পাখির মন অধ্যায়ের লেখাগুলোতে অতি সহজ ভাষায় লেখক তুলে ধরেছেন পাখিদের জীবনযাপন সম্পর্কে। এ অধ্যায়ের ‘পাখির পোশাকের মনসুন কালেকশন’ লেখাটি পাঠককে জানিয়ে দেবে পাখিদের বিচিত্ররকম সাজসজ্জার কথা। এছাড়া এ অধ্যায়ের ‘জীবনানন্দেরও ছিল নাকি মন, পাখির মতন’ শিরোনামের লেখাটি পাঠকদের মনে করিয়ে দেবে জীবনানন্দ দাশের কবিতায় পাখির উপস্থিতির কথা। জীবনানন্দ তার কবিতায় বাংলাদেশের নানা প্রজাতির পাখির বর্ণনা দিয়েছেন নানাভাবে, সেসব পাখির কথাই রয়েছে এ লেখায়।
পাখির অস্তিত্ব অধ্যায়ে বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া বা বিপন্ন পাখির কথা উঠে এসেছে। পরিবেশ নষ্টের কারণে বা শিকারিদের কারণে অনেক পাখি হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের দেশ থেকে। তেমন পাখির বর্ণনাই রয়েছে এ অধ্যায়ের লেখাগুলোয়। এছাড়া প্রতিটি অধ্যায়ে রয়েছে পাখি নিয়ে বিখ্যাতদের কথা। অন্যদিকে সাহিত্যের একটি বড় অংশ দখল করে আছে নানা পাখির বর্ণনা। ইনাম আল হক সাহিত্যের সেই অংশটুকু তার লেখায় তুলে এনেছেন খুবই যতেœর সঙ্গে।
অভিনেতা আফজাল হোসেন ও তানিয়া আহমেদ পাখি নিয়ে একটি গান রচনা করেছেন। গানটি গেয়েছেন এস আই টুটুল। তিনি বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের নামে গানটি উৎসর্গ করেছেন। বইয়ের শিরোনামটি এই গান থেকেই নেয়া হয়েছে। বইটির শুরুতে গানটিও দেয়া আছে। 
১৫৬ পৃষ্ঠার এ বইটি পুরোটাই রঙিন। প্রতিটি লেখার সঙ্গেই রয়েছে সংশ্লিষ্ট পাখি ও বর্ণনার ছবি। তিনটি অধ্যায়ে বিভিন্ন শিরোনামে মোট ২০টি লেখা রয়েছে বইটিতে। পাখির মতোই সুন্দর প্রতিটি শিরোনামও। বাংলাদেশের পাখিচর্চার পথিকিৃৎ কাজী জাকের হোসেন ও পক্ষী সংখ্যা সম্পাদক মীজানুর রহমানকে বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে। শিল্পী আনোয়ার হোসেনের ছবি অবলম্বনে প্রচ্ছদ করা এ বইটির দাম ৪৫০ টাকা।
পাওয়া যাবে : সন্ধি পাঠ, আজিজ সুপার মার্কেট, শাহবাগ ও প্রকৃতি, কনকর্ড এম্পোরিয়াম, কাঁটাবন, ঢাকা। হ

গাজী মুনছুর আজিজ


আরব ছোটগল্পের রাজকুমারী
সামিরা আজ্জম ১৯২৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ফিলিস্তিনের আর্কে একটি গোঁড়া
বিস্তারিত
অমায়ার আনবেশে
সাদা মুখোশে থাকতে গেলে ছুড়ে দেওয়া কালি  হয়ে যায় সার্কাসের রংমুখ, 
বিস্তারিত
শারদীয় বিকেল
ঝিরিঝিরি বাতাসের অবিরাম দোলায় মননের মুকুরে ফুটে ওঠে মুঠো মুঠো শেফালিকা
বিস্তারিত
গল্পের পটভূমি ইতিহাস ও বর্তমানের
গল্পের বই ‘দশজন দিগম্বর একজন সাধক’। লেখক শাহাব আহমেদ। বইয়ে
বিস্তারিত
ধোঁয়াশার তামাটে রঙ
দীর্ঘ অবহেলায় যদি ক্লান্ত হয়ে উঠি বিষণœ সন্ধ্যায়Ñ মনে রেখো
বিস্তারিত
নজরুলকে দেখা
আমাদের পরম সৌভাগ্য, এই উন্নত-মস্তকটি অনেক দেরিতে হলেও পৃথিবীর নজরে
বিস্তারিত