তর্কবিতর্ক ও কুতর্কে বুদ্ধদেব বসু

‘রজনী হলো উতলা’ দিয়ে বুদ্ধদেবের বিরুদ্ধে অশ্লীলতার যে অভিযোগ উঠে তা ছায়ার মতো লেগে থাকে তার সঙ্গে। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগ যেহেতু শেষাবধি ধোপে টেকেনি, এমনকি আদালতেও প্রমাণিত হয়নি; সুতরাং এগুলোকে তর্কবিতর্ক ও 
কুতর্কের অংশ হিসেবেই গণ্য করা হবে যুক্তিযুক্ত

রবীন্দ্রনাথের নোবেল পাওয়ার পর
বিশ্বসাহিত্যের দিকপাল-কর্ণধাররা যখন মুগ্ধ আধ্যাত্মবাদী দর্শনের সৃজন কাব্যে, তখন ঘরের মানুষরা তাকে বামন প্রমাণ করতেই ব্যতিব্যস্ত। খোদ কলকাতাতেই বিভিন্ন সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংসদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠান করে তুলাধুনা করা হয়েছে তাকে। বলা হয়েছে, এখন বিশ্বসাহিত্যের মান আজ কোথায়, কোন স্তরে গিয়ে ঠেকেছে, 
তা নাকি বোঝা যায় রবীন্দ্রনাথের মতো 
একজন কবির নোবেল প্রাপ্তিতে

বুদ্ধদেব বসুকে নিয়ে যত তর্কবিতর্ক ও কুতর্ক হয়েছে, বাংলা সাহিত্যে তা তুলনারহিত। লেখক বয়সের চৌহদ্দিতে এসবের আনাগোনা প্রবলভাবেই ছিল। হ্যাঁ, বুদ্ধদেবের চেয়ে উপেক্ষা-অবহেলা-বঞ্চনা-অস্বীকার-অশ্রদ্ধার মুখোমুখি হয়েছেন; কিন্তু তার মতো তর্কবিতর্ক ও কুতর্কে আক্রান্ত হননি কেউই।
নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পরও রবীন্দ্রনাথকে যেভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হয়েছে, তা পাঠে আমরা চমকিত হই না শুধু, লজ্জায় হই আড়ষ্ট-মূক। রবীন্দ্রনাথের মতো কবির পক্ষেই সম্ভব হয়েছে, সেসবে কর্ণ ও দৃষ্টিপাত না করে নিজের সৃজনপ্রবাহ অক্ষুণœ রাখা। ঠিক যেন প্রবহমান নদীর মতো, তাতে আবিলতা থাকবেই; কিন্তু সাগর সঙ্গমে যাওয়ার ব্রত থেকে হবে না ক্ষান্ত-ক্লান্ত। রবীন্দ্রনাথের নোবেল পাওয়ার পর বিশ্বসাহিত্যের দিকপাল-কর্ণধাররা যখন মুগ্ধ আধ্যাত্মবাদী দর্শনের সৃজন কাব্যে, তখন ঘরের মানুষরা তাকে বামন প্রমাণ করতেই ব্যতিব্যস্ত। খোদ কলকাতাতেই বিভিন্ন সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংসদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠান করে তুলাধুনা করা হয়েছে তাকে। বলা হয়েছে, এখন বিশ্বসাহিত্যের মান আজ কোথায়, কোন স্তরে গিয়ে ঠেকেছে, তা নাকি বোঝা যায় রবীন্দ্রনাথের মতো একজন কবির নোবেল প্রাপ্তিতে। রবীন্দ্রনাথকে ঘিরে তুখোড় বাকোয়াজদের এসব বাক্যবাণ কিন্তু আমাদের কাছে মোটেই প্যারাডক্স বা অমীমাংসিত রহস্য নয়। কারণ ঈর্ষাকাতর বাঙালির ঈর্ষারোগের শিকার হয়েছিলেন তিনি। বামনরা সবাইকে বামন ভাবতেই অভ্যস্ত। বনসাইয়ের বসবাস বনসাই পরিবারে। বামন বা বনসাইমশায় যদি হঠাৎ অবলোকন করে একটি বিশাল বটবৃক্ষ, তাহলে কী দশা হবে? সুতরাং সহজ তাফসির হলো, রবীন্দ্রনাথের সৃজন উচ্চতা দেখে উচ্চতাভীতি রোগে আক্রান্ত হয়েছিল রবীন্দ্র সমালোচনাকারীরা।
বুদ্ধদেব বসুকে নিয়ে এরকমটা হয়নি ঠিকই; কিন্তু অন্য যা কিছু হয়েছে তা আজও অদ্ভুত এক প্যারাডক্স বা অমীমাংসিত রহস্য। বুদ্ধদেব বসুর রবীন্দ্র বিরোধিতা বা সমালোচনা বেশ চাউর রয়েছে। অথচ বিপরীতে তার রবীন্দ্র-প্রেম নিয়ে কোনো আওয়াজ কিংবা এষণা নেই। বাংলা সাহিত্যে তিরিশের পঞ্চ পা-ব হিসেবে স্বীকৃত পঞ্চ কবি হলেন বুদ্ধদেব বসু, বিষ্ণু দে, প্রেমেন্দ্র মিত্র, জীবনানন্দ দাশ, অমীয় চক্রবর্তী। এদের মধ্যে বুদ্ধদেব বসুর রবীন্দ্র-বিরোধিতা ছিল প্রবল। কথা সত্যি। কিন্তু এত আপাত পাঠ-বিশ্লেষণ, প্রকৃত পাঠ-সিদ্ধান্ত হলো, এ বিরোধিতার মধ্যে তাকে খারিজ করে না দিয়ে, যুঝে নেয়ার প্রবণতাই ছিল মুখ্য। রবীন্দ্রনাথকে যে বুদ্ধদেব নানাভাবে সমালোচনায় বিদ্ধ করছেন, সেই রবীন্দ্রনাথকে তিনি অনর্গল আওড়ে যেতেন। রবীন্দ্র কবিতা, একটি-দুইটি নয়, অগণন ছিল তার মুখস্থ। বুদ্ধদেব বসুর রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে খোদ রবীন্দ্রনাথ কখনোই উষ্মা বা কোনো প্রকার বিদ্বেষ প্রকাশ করেননি। দুইজনের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন সময় চিঠিপত্র আদান-প্রদান হয়েছে। সমালোচনার জবাব দেয়া-নেয়া হয়েছে। কিন্তু আক্রমণাত্মক কিংবা আহত হওয়ার মতো কোনো শব্দ বা বাক্য ঠাঁই পায়নি। সতর্ক ছিলেন বোধ করি দুইজনেই, এ কারণে শব্দচয়ন ও শব্দ শাসনে তারা অভূতপূর্ব পারঙ্গমতার পরিচয় দিয়েছেন। এ কারণে তাদের সমালোচনা শেষ পর্যন্ত ছিল চলমান, প্রাণবান, সজীব ও স্বতঃস্ফূর্ত। রবীন্দ্রনাথকে বুদ্ধদেব বসু চেয়েছিলেন সমালোচনার মধ্য দিয়ে আবিষ্কার করতে। এ দ্বান্দিকতা তার একান্তই নিজস্ব। তাতে যে সোনা ফলেছে, তাতে স্পষ্টত। কারণ বুদ্ধদেবই প্রথম রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিতে সাহিত্য পুরস্কার দেয়ার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। রবীন্দ্রনাথের চিরপ্রয়াণ হলো ১৯৪১ সালে। ১৯৪৪ সালে বুদ্ধদেব বসু ‘কবিতা’ পত্রিকার সম্পাদকীয়তে লিখেন, ‘রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর অব্যবহিত পরে আমরা লিখেছিলাম যে বাংলায় সাহিত্য সৃষ্টির জন্য একটি পুরস্কার রবীন্দ্রনাথের নামে স্থাপিত হওয়া উচিত। এ সুযোগে সেই প্রস্তাব আবার উপস্থিত করছি। ভারতের অন্যান্য প্রদেশে বিবিধ সাহিত্য পুরস্কারের প্রবর্তন হয়েছে, অথচ যে বাংলাদেশ সাহিত্য বিষয়ে চির অগ্রণী, যে বাংলা ভাষায় রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, সেই দেশের ও সেই ভাষার সাহিত্যের জন্য আজ পর্যন্তও একটি পুরস্কারের ব্যবস্থা হলো না। রবীন্দ্র-মেমোরিয়াল কমিটি কি এ বিষয়ে উদ্যোগী হবেন?’
বুদ্ধদেব শুধু রবীন্দ্র পুরস্কার ঘোষণার আবেদন করেই ক্ষান্ত হলেন না, রবীন্দ্র পুরস্কার প্রবর্তনের পর তার নিয়মাবলি দেখে তিনি ক্ষুব্ধ হলেন। লিখলেন, ‘বকশিশ বলেই এসব কুশ্রী শর্ত গজাতে পেরেছে। সাহিত্যবোধ থাকলে বই দাখিল করার কথাই হয়তো উঠত না। বই দেশে কতই বেরোচ্ছে, তা থেকে বাছাই করাটাই বিচারকম-লীর কাজ। 
সাহিত্য পুরস্কারে সাহিত্যবিষয়ক শর্ত শুধু থাকতে পারে। বলা যেতে পারে এটা কবিতার জন্য, কী উপন্যাসের, কী সাধারণভাবে কল্পনাপ্রবণ সাহিত্যের জন্য। সময়ের বা ভাষার সীমায় আবদ্ধ করা যেতে পারে। কিন্তু এমন কোনো শর্ত হতে পারে না, যাতে উমেদারির দুর্গন্ধ।
১০ জন সাহিত্যিক মিলে দৈনিকপত্রে এর যে প্রতিবাদ জানিয়েছেন, তারপরও একটি কথা বলার আছে। কোনো কোনো সাহিত্যিক বা সাহিত্য প্রতিষ্ঠান রবীন্দ্র পুরস্কার ভা-রে চাঁদা দিয়েছিলেন। যখন দেখা গেল এ পুরস্কারের শর্ত রবীন্দ্রনাথের স্মৃতির পক্ষেও গ্লানিকর, তখন সেই চাঁদার টাকা তারা ফেরত চাইলে কি অন্যায় হয়?’
১৯৫৫ সালে সদ্য প্রবর্তিত সরকারি রবীন্দ্র পুরস্কার প্রদানের পদ্ধতি নিয়ে বুদ্ধদেব বসু লিখলেন চিত্তাকর্ষক এক অভিমত, যার প্রেক্ষাপট সাড়ে ছয় দশক আগের হলেও, এখনও চেতনাগ্রাহী-ভাবোদ্রেক হওয়ার মতো। তিনি লিখলেন, “রবীন্দ্র স্মৃতি পুরস্কার বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, সাহিত্য এবং সাহিত্যিকের পক্ষে তার চেয়ে অপমানজনক কোনো দলিল আমাদের চোখে পড়েনি। লেখকদের এর জন্য ‘প্রার্থী’ হতে হবে : পাবলিক সার্ভিস কমিশনে চাকরির আবেদনপত্রের মতো জীবনীপঞ্জি লিখে দিতে হবে (জন্মের তারিখ, বিদ্যালয়টির নাম সুদ্ধ)Ñ শুধু তা-ই নয়, দুইজন সুপরিচিত বৈজ্ঞানিক বা সাহিত্যিকের সুপারিশপত্র সঙ্গে না থাকলে সেই ‘আবেদন’ বিবেচিত হবে না।” বারো কপি পুস্তকও প্রেরিতব্য। বলা বাহুল্য, ‘পুরস্কার’ আর ‘আবেদন’ পরস্পরবিরোধী শব্দ, যাকে পুরস্কার বলা হচ্ছে, তার মধ্যে কোনো গুণপনা বা সৎকর্মের জন্য সম্মাননার ভাবটাই প্রধান, সেই সম্মান যথাস্থানে অর্পণ করাতেই দাতার গৌরব এবং তা যদি সম্পূর্ণরূপে অযাচিত না হয়, যদি প্রাপক তার জন্য কখনও একটি করে আঙুলও নাড়েন, তাহলে সব জিনিসটা একদিকে হয়ে ওঠে ভিক্ষাবৃত্তি, অন্যদিকে ঔদ্ধত্য। লেখকের জীবনী-তথ্য; এমনকি তিনি জীবিত না মৃত, এসব প্রশ্নই অবান্তর : শুধু পূর্ব বছরের মধ্যে প্রকাশিত পুস্তক হওয়া চাই, এ শর্তটিও নিতান্তই অর্থহীন। তাছাড়া একটি পুস্তকইবা হতে হবে কেন? কোনো কোনো ক্ষেত্রে লেখকের সমগ্র রচনাকেই অভিন্দন জানানোর প্রয়োজন ঘটতে পারে, তা থেকে একটি গ্রন্থকে বিচ্ছিন্ন করতে গেলে মূল্যবোধ বিনষ্ট হয়। এরকম ছিদ্রবহুল বিজ্ঞপ্তি যে প্রকাশিত হতে পারল, আর তা নিয়ে কোনো আন্দোলনও হলো না এতেই বোঝা যায়, আমরা এখনও সভ্য জগতের বহুদূরবর্তী কোনো মরুভূমিতে বাস করছি। অন্তত সাহিত্যিকরা এর নিঃশব্দ এবং ফলপ্রসূ প্রতিবাদ জানাতে পারেন অসহযোগ পন্থা অবলম্বন করে : কিন্তু হয়তো এত দিনে বহু আবেদনপত্র যথোচিত সুপারিশ এবং বারো কপি করে পুস্তক সমেত যথাস্থানে পৌঁছে গেছে।
উপর্যুক্ত প্রতিবাদ পত্রে অনুমিত হয়, বুদ্ধদেব বসুর স্বাতন্ত্র্য-সাহস ও রবীন্দ্রপ্রেমের অত্যুজ্জ্বল আলোক শিখা। অবশ্য তিনি যে অন্ধকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন, সেই অন্ধকার এখন অমাবস্যা রূপে বিরাজমান। এখনও বেশিরভাগ পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে রয়ে গেছে বই জমা নেয়া-দেয়ার নির্লজ্জ রীতি, যা শুধু অশোভন নয়, অপমানও বটে। যদিও লেখক-সাহিত্যিকরা পুরস্কারের নামে প্রবর্তিত এ ‘করপোরেট চপেটাঘাত’কে সানন্দেই নিয়েছেন-নিচ্ছেন। কারণ এখন বুদ্ধদেব বসুর মতো শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়িয়ে কোনো কিছু করা বা বলার মতো সব্যসাচী লেখকের বড়ই অভাব। 
বুদ্ধদেবের রবীন্দ্রপ্রেমের এ মোজেজা আমাদের অহংকৃত করে। দেশে কিংবা বিদেশবিভুঁইয়ে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে কতভাবেই না সমালোচিত হয়েছেন তিনি। রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কিত তার বক্তব্য লেখাকে ভুলভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। কিন্তু তিনি কক্ষচ্যুত হননি। চোখের বালির সমালোচনার পর বিদ্রƒপবান সোজাসুজি ছোড়া হয়েছে তার দিকে।
বুদ্ধদেবের এ অনড় অবস্থান যে শুধু তার রবীন্দ্র অনুধ্যানে, তা নয় কিন্তু। তিনি নিজে লেখনীতেও এ চর্চা বহাল রেখেছিলেন। তার প্রথম গল্প ‘রজনী হলো উতলা’ কল্লোল পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ার পর চারিদিকে পড়ে যায় ঢিঢি রব। অভিযোগ ওঠে অশ্লীলতার। ‘রজনী হলো উতলা’ তার লেখক জীবনের প্রারম্ভিক লগ্নটাকে বাস্তবিকেই উতলা করে দেয়। পেরেশানে পড়েন তিনি। কিন্তু তা যে ক্ষণকালের মেঘের মতো হাওয়ার ফুৎকারে হারিয়ে যায়। বুদ্ধদেব ফিরে আসেন স্বকীয়তায়, সাহসী-শুভ্র-অনিন্দ্য এক দুলদুলের বেশে।
আঠারো বছর বয়সে প্রথম গল্প লেখার পর কুড়িতে এসে লিখলেন প্রথম উপন্যাস ‘সাড়া’। সেখানেও হাজির হয় শ্লীল-অশ্লীলের দ্বন্দ্ব। বুদ্ধদেব জীবনীকা সমীর সেনগুপ্ত জানাচ্ছেন : ‘লেখক জীবনের প্রায় শুরু থেকেই যৌবনে পৌঁছার আগে থেকে বুদ্ধদেবের পেছনে তাড়া করে ফিরেছে।’ 
বুদ্ধদেব ‘সাড়া’ উপন্যাস যার নতুন সংস্করণের ভূমিকায় লিখেছিলেন, “আজকের দিনের পাঠকরা শুনে নিশ্চয়ই বিস্মিত হবেন যে, প্রথম প্রকাশকালে ‘সাড়া’ চিহ্নিত হয়েছিল অশ্লীলতার দুঃসহ নিদর্শনরূপে। কেউ এতে ঈডিপাস এষণা আবিষ্কার করেছিলেন, কেউবা অজাচার।”
শুধু তাই নয়, অশ্লীলতার এ অভিযোগ আদালত পর্যন্ত গড়িয়ে পুলিশে গিয়ে থামে। তাকে পুলিশ গ্রেফতার করে। আনন্দবাজার এ নিয়ে সম্পাদকীয় পর্যন্ত লিখে, “উপন্যাসের নর-নারীরা কীভাবে প্রেম নিবেদন বা হৃদয় বিনিময় করিব, তাহার ‘হুদ্দা’ যদি পুলিশ নিয়ন্ত্রিত হয়, তাহা হইলে বাঙলা সাহিত্যের অতি শোচনীয় দুর্দ্দিন সমাগত হইয়াছে, বুঝিতে হইবে। শ্রীমান বুদ্ধদেব বসু উচ্চশিক্ষিত; বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান তিনি পাইয়াছেন এবং অল্প বয়সেই বাঙলা সাহিত্যে তাহার রচনাগুলি একটি বিশেষ স্থান অধিকার করিয়াছে। পা-িত্য ও প্রতিভা সত্ত্বেও তিনি দরিদ্র বলিয়াই যে এইভাবে নির্যাতিত হইলেন, ইহা অত্যন্ত দুঃখের কথা।”
দরিদ্র; কিন্তু সব্যসাচী বুদ্ধদেব এ ঘটনার পরও ‘সেল্ফ সেন্সরশিপ’, যাকে বলে তা তিনি কখনোই গ্রহণ করেননি। আপস করেননি সৃজনশীলতার সঙ্গে। এমনকি তার কবিতা পত্রিকাতেও অশ্লীলতা রয়েছে বলে উঠেছে বিস্তর সব অভিযোগ। একষট্টি বছরে এসে বুদ্ধদেব লিখেছিলেন উপন্যাস ‘রাত ভরে বৃষ্টি’। এর বিরুদ্ধেও উঠে অশ্লীলতার অভিযোগ। মুখোমুখি হতে হয় আদালতের। 
‘রজনী হলো উতলা’ দিয়ে বুদ্ধদেবের বিরুদ্ধে অশ্লীলতার যে অভিযোগ উঠে তা ছায়ার মতো লেগে থাকে তার সঙ্গে। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগ যেহেতু শেষাবধি ধোপে টেকেনি। এমনকি আদালতেও প্রমাণিত হয়নি। সুতরাং এগুলোকে তর্কবিতর্ক ও কুতর্কের অংশ হিসেবেই গণ্য করাই হবে যুক্তিযুক্ত। 
বুদ্ধদেব বোধ করি এ কারণেও বিশেষভাবে মূল্যায়িত হওয়ার দাবি রাখেন যে, তাকে ঘিরে তর্কবিতর্ক ও কুতর্কে কূল কিংবা কিনারা না থাকলেও, তিনি ছিলেন সৃজনশীলতায় ধ্যানমগ্ন সেই ঋষি, পৃথিবীর কোনো ঝড়ঝাপটাই যাকে বাধাগ্রস্ত বা ব্রতভঙ্গ করতে অপারগ-অক্ষম।


আরব ছোটগল্পের রাজকুমারী
সামিরা আজ্জম ১৯২৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ফিলিস্তিনের আর্কে একটি গোঁড়া
বিস্তারিত
অমায়ার আনবেশে
সাদা মুখোশে থাকতে গেলে ছুড়ে দেওয়া কালি  হয়ে যায় সার্কাসের রংমুখ, 
বিস্তারিত
শারদীয় বিকেল
ঝিরিঝিরি বাতাসের অবিরাম দোলায় মননের মুকুরে ফুটে ওঠে মুঠো মুঠো শেফালিকা
বিস্তারিত
গল্পের পটভূমি ইতিহাস ও বর্তমানের
গল্পের বই ‘দশজন দিগম্বর একজন সাধক’। লেখক শাহাব আহমেদ। বইয়ে
বিস্তারিত
ধোঁয়াশার তামাটে রঙ
দীর্ঘ অবহেলায় যদি ক্লান্ত হয়ে উঠি বিষণœ সন্ধ্যায়Ñ মনে রেখো
বিস্তারিত
নজরুলকে দেখা
আমাদের পরম সৌভাগ্য, এই উন্নত-মস্তকটি অনেক দেরিতে হলেও পৃথিবীর নজরে
বিস্তারিত