বন্ধুতা

সারা গাঁয়ে নানা ধরনের গাছ থাকলেও পিতরাজগাছ খুব কম। শুধু এ জঙ্গলেই কিছু গাছ আছে। সেগুলো অনেক বড়, অনেক ডালপালা। ফলও ধরে অনেক। তাই গাঁয়ের সব ছেলের নজর এ জঙ্গলের দিকে। সুমনরাও খোঁজ রাখে কবে ফল পাকবে। কারণ প্রথমদিকে সংগ্রহ করতে 
পারলে সবার আগে খেলা শুরু করা যাবে। আর অন্যরা হা 
হয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবে। খুব মজা হবে তখন

কারও পায়ে জুতা নেই। গরম কাপড়ও পরেনি কেউ। কাকডাকা ভোরে ঘর থেকে ওরা বের হলো। কারণ সময়মতো পৌঁছতে না পারলে একটাও পাওয়া যাবে না পিতরাজ ফল। 
গাছগুলো জঙ্গলের একেবারে ভেতরে বলে সহজে যাওয়া যায় না সেখানে। যেতে হলে লতানো কাঁটাগাছ আর ঝোপঝাড় মাড়াতে হয়। ভয়ও আছে। ঝোপে বাস করে নানা ধরনের পোকামাকড়, মৌমাছি, ভিমরুল। কয়েক দিন আগে দিনের বেলায় ঢুকতে গিয়ে মহাবিপদেই পড়েছিল তামের। ঝোপ ফাঁক করে যখন পিতরাজ গাছতলায় যাচ্ছিল, অমনি একঝাঁক ভিমরুল মাথার ওপর দিয়ে ভনভন শুরু করল। কিছুক্ষণ শুয়ে থাকার পরই রক্ষা পায় সে। তাই লতাপাতা একহাতে সরিয়ে দিয়ে ধীরে ধীরে জঙ্গলে ঢোকা শুরু করল আজ। প্রথমে ঢুকল শাহীন। পেছনে তামের, তারপর মারুফ। সারা রাত শিশির পড়ায় ভিজে আছে ছোট গাছ ও পাতা। ঘাসগুলোও হিম হয়ে আছে। পা দেয়া যায় না। ভীষণ ঠা-া।
সারা গাঁয়ে নানা ধরনের গাছ থাকলেও পিতরাজগাছ খুব কম। শুধু এ জঙ্গলেই কিছু গাছ আছে। সেগুলো অনেক বড়, অনেক ডালপালা। ফলও ধরে অনেক। তাই গাঁয়ের সব ছেলের নজর এ জঙ্গলের দিকে। সুমনরাও খোঁজ রাখে কবে ফল পাকবে। কারণ প্রথমদিকে সংগ্রহ করতে পারলে সবার আগে খেলা শুরু করা যাবে। আর অন্যরা হা হয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবে। খুব মজা হবে তখন। 
গেল বছরই এমনটা হয়েছিল। সুমনদের আগেই শাহীনরা সব ফল কুড়িয়ে নিয়েছিল। টানা ১০ দিন ওরা খেলেছিল সেই ফলগুলো দিয়ে। সুমনরাও কিছু ফল জোগাড় করেছিল। কম ফল হওয়ায় শাহীনরা আর ওদের খেলায় নেয়নি। 
সুমনরা এবার ঘোষণা দিয়েছিল, সবার আগে ফল জোগাড় করবে। গতকালও চুপে চুপে গাছতলা থেকে ঘুরে এসেছে ওরা। 
কোন পথ দিয়ে জঙ্গলে ঢুকবে, তাও ঠিক করে এসেছে। গোপনে ওদের সবকিছুই দেখে ফেলেছে তামের আর মারুফ। আবছা আলোয় সহজেই গাছতলে যাওয়া যাবে, সেই পথ ধরল ওরা। বেশিদূর এগোতে পারল না। একটা ঝোপের ফাঁক দিয়ে বের হওয়ার পরই আরেকটি বড় ঝোপ। ওই ঝোপটা লতানো কাঁটাগাছ এমনভাবে দখল করে নিয়েছে যে, বের হতে গিয়ে জামাটাই ছিঁড়ে গেল শাহীনের। শরীরে কাঁটা ফুটল কয়েকটা। রক্তও গড়িয়ে পড়ল বেশ। খুব কান্না পাচ্ছিল শাহীনের। সে পেছনে তাকিয়ে দেখল তামের নেই, মারুফও নেই আশপাশে।
জঙ্গলে ঢুকতে গিয়েই সুমনের কথা শুনতে পেল মারুফ ও তামের। গাছতলায় তাড়াতাড়ি যাওয়ার জন্য অন্য পথ ধরল ওরা। শাহীনকে কিছুই জানাল না। 
সহজ পথটা পেয়েও গেল। সূর্য তখন উঠি উঠি করছে। টকটকে লাল ফলগুলো দেখাও যাচ্ছে। তামের আর মারুফ তা কুড়িয়ে নিল। সব গাছ ঘুরল। দুইজনের পকেট যখন ভরপুর, তখনই গাছতলায় এসে হাজির সুমনরা। খুঁজে একটা ফলও পেল না ওরা। কান্না শুরু করে দিল। তাই তামের ও মারুফ কিছু ফল দিল ওদের।
শাহীনের শরীর থেকে তখনও রক্ত ঝরছিল। সুমন শিশিরভেজা ঘাস চিবিয়ে কেটে যাওয়া জায়গায় লাগিয়ে দিল। শাহীন মারুফ ও তামের অবাক হলো। সুমনকে জড়িয়ে ধরে ওরা সবাই একসঙ্গে বলে উঠলÑ আজ থেকে আমরা সবাই সবার বন্ধু। একসঙ্গে খেলব, একসঙ্গেই চলব। হ


বন্ধু
আবুল বলল, ‘আমাগো ভুল বুইঝ না ভাই। আমরা আসলে...’, ‘তোরা
বিস্তারিত
হেমন্ত দিন
হেমন্ত দিন হরেক রঙিন হরেক রঙের খেলা বনে বনে ফুল-পাখিদের
বিস্তারিত
এলিয়েন এসেছিল
হামীম বসা থেকে দাঁড়িয়ে পড়ল। বললÑ কে তুমি? -হ্যাঁ আমি
বিস্তারিত
হেমন্ত এসেছে
মাঠে মাঠে সোনা ধানে প্রাণটা ফিরে পেল সেদ্ধ চালের গন্ধ
বিস্তারিত
বাংলা মায়ের সবুজ প্রাণ
ইস্টি কুটুম মিষ্টি পাখির দুষ্ট ছানা আকাশ নীলে মেলছে খুশির নরম
বিস্তারিত
হেমন্তের নেমন্ত
ধানের ছড়ায় ঝুলছে সোনা আসলো ঋতু হেমন্ত শিশির কণা চিঠি
বিস্তারিত