‘ভার্চুয়াল’ বিশ্বাসের কাছে নতজানু হয়ে নিজের ক্ষতি করছে অনেকে

ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম ও গুগলপ্লাস ইন্টারনেটের নতুন এক দিগন্ত। এগুলো ব্যবহার করে অনেকই ভালো কিছু করছেন। লেনদেন বাড়ছে, বাড়ছে যোগাযোগ। গ্লোবালাইজেশনের একটি বড় ইমপ্যাক্ট পড়েছে ইন্টারনেট-ভিত্তিক এসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এটি শুধু তরুণরা ব্যবহার করছে তা নয়, সব বয়সীই এসব ব্যবহার করছে। যেমনÑ আমিও ব্যবহার করি। এর মাধ্যমে আমার দেশের বাইরে থাকা বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি। আবার নতুন নতুন বন্ধুও হচ্ছে। এখন কথা হলো, এটার শুধু পজিটিভ ইমপ্যাক্টই কি এ সোসাইটিতে পড়ছে? না। এই যে আমরা আঙুল টিপে টিপে যে বন্ধুত্ব তৈরি করছি সেটার কারণে কিন্তু বাস্তব জীবনে বন্ধুত্বের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, এটি মানতেই হবে। আবার ব্যক্তি পর্যায়ে বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ নষ্ট হচ্ছে।
আবার অনকেই আছেন যারা এর মাধ্যমে অ্যাবিউজের স্বীকার হচ্ছেন। ধরুন যারা বাসায় একা থাকে বা বাস্তব জীবনে যার বন্ধুর সংখ্যা অনেক কম, তারা অনেকেই এ মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলছেন। পরিতাপের বিষয় হলো, এ ভার্চুয়াল মিডিয়ায় যাকে তিনি বিশ্বাস করছেন তার দ্বারা প্রতারিত হচ্ছেন। এ সংখ্যাটা নেহাত কম নয়, গণমাধ্যমের কল্যাণে এমন অনেক খবরই আমাদের চোখে পড়ে। 
ইন্টারনেট অগণিত ব্যবহার আছে। এর অনত্যম প্রধান অপব্যবহার হলো ‘চাইল্ড অ্যাবিউজ’। এর মাধ্যমে অনেক শিশু-কিশোর ভিক্টিম হচ্ছে। বলা যায়, সেটি মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়ে গেছে। যারা এ অ্যাবিউজের শিকার হচ্ছে তাদের মনোজগতে যে নেতিবাচক প্রভাবটা পড়ছে সেটা কি আমরা একবারও বিবেচনা করে দেখেছি? আবার এ প্লাটফর্মগুলোয় (অশ্লীল সাইটগুলো) অনেক ছেলেমেয়েই প্রফেশনালি পারফর্ম করছে। এগুলো আমাদের ছেলেমেয়েরা দেখছে। তাদের ভেতরে এক ধরনের নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়। কারণ তারা চাইলেও এমন আচরণ করতে পারে না। এর ফলে বাস্তবিক অর্থেই এক ধরনের হতাশা তৈরি হয়। এ থেকে হানিহানি হয়, সম্পর্ক নষ্ট হয়। তরুণদের মাঝে যেমন হয় তেমনি বড়দের মাঝেও হয়। সম্পর্ক ভেঙে যায়। এমন অনেক কেস স্টাডি আসে আমাদের কাছে। এসবের ফলে যে শুধু বন্ধুত্ব নষ্ট হচ্ছে তা নয়, অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক সম্পর্কও নষ্ট হচ্ছে। ডিভোর্সের হার বাড়ছে, নারীরা নির্যাতিত হচ্ছে। এগুলো একটির সঙ্গে আরেকটি সম্পর্কিত। এ ওয়েবসাইটগুলো, এ গ্লোবালাইজেশন, এ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমÑ প্রত্যেকটি একটির সঙ্গে আরেকটি সম্পর্কিত। এগুলো শুধু সম্পর্কিত নয়, একটি আরেকটির সঙ্গে ‘এ প্লাস বি হোলস্কয়ার’র মতো করে যুক্ত। তার মানে হলো, এসব ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাবগুলো অনেক বড় আকারে পরে ব্যক্তি জীবনে এবং সেটা সামাজিক জীবনেও পরে। ফলে আমরা ভুল পথে পরিচালিত হই।
আবার এর ম্যাধমে আমরা বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি। এটি ভালো দিক। কিন্তু আমরা সেটাকে যখন গ্রহণ করছি তখন আমাদের বিবেচনা করতে হবে, এগুলো কী আমাদের? আমাদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা।
এখন একটু বিবেচনা করা যাক। এ ভার্চুয়াল মিডিয়া আমাকে যে বন্ধুত্ব দিচ্ছে সেটা নিশ্চয় আমাদের বাস্তব জীবনের বন্ধুত্ব নষ্ট করে দিচ্ছে, শুধু তা-ই নয়। আমাদের প্রত্যেকটি সম্পর্কের দাবিকেও নষ্ট করে দিচ্ছে। অনেকই এ ভার্চুয়াল বিশ্বাসের কাছে নতজানু হয়ে নিজের ক্ষতি করছে। যেমনÑ এর মাধ্যমে অনেকেই ব্ল্যাকমেইলের স্বীকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আকাশ সংস্কৃতির নেতিবাচক জায়গাগুলোতে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। নিজেদের সচেতন হতে হবে।     (অনুলিখিত)


আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ পেলেন ৯০ প্রাণী
পোলট্র্রির বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, সঠিকভাবে রোগবালাই নির্ণয়, চিকিৎসা এবং রোগ
বিস্তারিত
সবার উপরে বাবা-মা
যে-কোনো মানুষের গায়ে হাত তোলাই অপরাধ। আর সন্তান হয়ে বাবা-মায়ের
বিস্তারিত
স্মৃতির মানসপটে যুক্তরাজ্য সফর
বিদেশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়তো অনেকেরই হয়ে থাকে। তবে কলেজের প্রতিনিধি,
বিস্তারিত
ব্যবসার ধারণা : গড়তে চাইলে
নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা
বিস্তারিত
৭৫ শতাংশ বৃত্তিতে আইটি ও
বিভিন্ন কারণে যারা আইটিতে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত তাদের
বিস্তারিত
লক্ষ্য যখন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিপরীতে ক্রমাগত উর্বরা জমির পরিমাণ কমছে। জনসংখ্যার এ
বিস্তারিত