ফেসবুক টুইটার ইনস্টাগ্রাম গুগলপ্লাস

‘তুমি আছ তুমি নেই’

ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম ও গুগল প্লাস যেগুলোকে বলা হয় সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। তৈরি হয়েছে নতুন প্লাটফর্ম বন্ধুত্ব স্থাপনের। কেউ কেউ এ যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যবহারে খুঁজে পাচ্ছেন পুরনো বন্ধুদের। এতে উল্লাস তাদের বাঁধভাঙা। গল্পের সেই ‘মেলায় হারিয়ে যাওয়া ভাই’ খুঁজে পাওয়ার মতো যেন। এমন অভিজ্ঞতার কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী সৈয়দ সাব্বির। তিনি জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন ফেসবুক ছিল না। তবে এখন ফেসবুকের কল্যাণে তারা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পুরনো বন্ধুদের খুঁজে পেয়েছেন।’ আবার যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবেই এটিকে বেশ উপযোগী মনে করছেন তিনি। তার এ কথার সঙ্গে একমত বাহাউদ্দিন আলম রবিন। যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফেসবুকের কল্যাণেই এখন দেশের বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। আর টুইটার, ইনস্টাগ্রাম ও গুগলপ্লাস ব্যবহার করে বিদেশি অনেক বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ হয়ে থাকে বলে জানান তিনি। এ তো গেল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভালো দিক। এর খারাপ দিক কি নেই, যা দিয়ে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন? বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে, তবে এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এমন মানুষের বা তরুণের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। আমেরিকার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসেফ ফাউন্ডেশন তাদের এক গবেষণায় দেখিয়েছে, প্রতি চারজনে কমপক্ষে একজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দ্বারা প্রতারণার স্বীকার হচ্ছেন। অনেকেই ফাঁদে পড়ছেন প্রতারক চক্রের। কারও বন্ধুত্বের সম্পর্ক নষ্ট হচ্ছে। আবার নতুন বন্ধু গড়ে উঠছে। এ নিয়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ মোহিত কামাল বলেন, ‘আমরা সবাই এখন গ্লোবালাইজেশনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। ফলে এগুলো গ্লোবালাইজেশনের ফসল। সেটা কতখানি ইফেক্টিভ, সেটা একবার ভাবা উচিত। ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি শুধু ভার্চুয়ালি আর একজিস্ট করছে না। এটা বাস্তব জীবনেও প্রভাব ফেলছে। অনেকভাবে এটি দিয়ে আমরা উপকৃত যেমন হচ্ছি, তেমনই ক্ষতিগ্রস্তও হচ্ছি।’ মোহিত কামালের কথার সঙ্গে অনেকটাই মিলে যায় বিজিএমইএ ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন টেকনোলজির শিক্ষার্থী ফারহা নুরের কথা। সম্পর্ক ভাঙাগড়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভূমিকা অন্যতম বলা যায়। আমার ধারণা, সামাজিক যোগাযোগের অন্যসব মাধ্যম থেকে ফেসবুক এক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে আছে। আমার পরিচিত অনেকই এর দ্বারা ক্ষতির স্বীকার হয়েছেন। 
‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে সম্পর্ক গড়ে উঠছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেখানেও তার সঙ্গেই বন্ধুত্বটা গাঢ়, যে ব্যক্তি জীবনেও বন্ধু। আমার মনে হয়, নতুন বন্ধুত্ব খুব কমই গড়ে ওঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।’ এ কথাগুলো নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফি সোসাইটির সদস্য তানজিল জিসারদের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কতক্ষণ সময় কাটানো হয়? এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, ‘বেশ ভালোই সময় যায় ফেসবুকে। সেটা নেহাত কম নয়। এটা এক ধরনের নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, যাকে বলা হচ্ছে ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি। কিন্তু আমাদের জন্য এটা কতখানি ভালো বা মন্দ সেটা বলা কঠিন। অনেকই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’ তবে এ কথার সঙ্গে একমত নন ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এইচআর ফোরামের সভাপতি সাকিয়া শাম্মা। তার মতে, ‘এ সময়ে আরেকটি বড় জায়গা হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। এখন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব।’ পাল্টা যুক্তি আছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইংলিশ লিটারারি ক্লাবের সদস্য শামছুল আমরিন রক্সির। তিনি মনে করেন, ‘বন্ধু গড়ে ওঠে; কিন্তু বাস্তব জীবনের বন্ধুত্বের সম্পর্কের চেয়ে এটা অনেক হালকা।’ হালকা আর গাঢ় এ নিয়ে বিস্তর বিতর্ক আছে, তবে সবাই যে জায়গায় একমত, তা হলো বুঝেশুনে বন্ধুত্ব স্থাপন করা।


আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ পেলেন ৯০ প্রাণী
পোলট্র্রির বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, সঠিকভাবে রোগবালাই নির্ণয়, চিকিৎসা এবং রোগ
বিস্তারিত
সবার উপরে বাবা-মা
যে-কোনো মানুষের গায়ে হাত তোলাই অপরাধ। আর সন্তান হয়ে বাবা-মায়ের
বিস্তারিত
স্মৃতির মানসপটে যুক্তরাজ্য সফর
বিদেশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়তো অনেকেরই হয়ে থাকে। তবে কলেজের প্রতিনিধি,
বিস্তারিত
ব্যবসার ধারণা : গড়তে চাইলে
নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা
বিস্তারিত
৭৫ শতাংশ বৃত্তিতে আইটি ও
বিভিন্ন কারণে যারা আইটিতে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত তাদের
বিস্তারিত
লক্ষ্য যখন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিপরীতে ক্রমাগত উর্বরা জমির পরিমাণ কমছে। জনসংখ্যার এ
বিস্তারিত