নাঈমা খান -চেয়ারপারসন, খান টিউটোরিয়াল

সব শিক্ষা ব্যবস্থাতেই ভালো করা সম্ভব

আলোকিত বাংলাদেশ : খান টিউটোরিয়ালের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৫ সালে। এর আগে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের অবস্থা কেমন ছিল?
নাইমা খান : আমাদের কার্যক্রম একেবারে ছোট আকারে শুরু হয় ১৯৯৪ সালে অনেকটা অনানুষ্ঠানিকভাবে। সেটা কেমন ছিল একটু বলে নেয়া দরকার। কারণ আমাদেরটা কিন্তু একটি সাহয্যকারী প্রোগ্রাম। যাকে বলে টিউটোরিয়াল হোম। আমাদের প্রতিষ্ঠানে মূলত গুরুত্বপূর্ণ সেকশনগুলোর মধ্যে আছে থার্ড গ্রেড থেকে সিক্স গ্রেড, যেটাকে বলা হয় ‘কমনকোর’। যাদের একটা ফাইনাল হয় এপ্রিলে, এদের পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং সারা বছরের পড়াশোনার জন্য বেশকিছু শিক্ষার্থী আমাদের কাছে আসে। আরেকটা হলো, ভালো হাইস্কুলে ভর্তির প্রস্তুতির জন্য আসে আমাদের কাছে। আবার যারা হাইস্কুলে পড়ে তারাও আসে বিভিন্ন বিষয় দেখিয়ে নেয়ার জন্য। এছাড়া কিন্ডারগার্টেন থেকে সেকেন্ড গ্রেডেও ছেলেমেয়েদেরও গ্রুপ আছে।
২০০৫ সালের আগে আসলে এমন শিক্ষার সহযোগী প্রতিষ্ঠান ছিল না নিউইয়র্কে বাঙালি কমিউনিটিতে। এক আমেরিকান ভদ্রলোক পড়াতেন। তার কাছে অনেক বাঙালি যেত। আমরা মাত্র কয়েকজনকে পেয়েছি যারা তাদের সন্তানদের পাঠিয়েছেন ওই ভদ্রলোকের কাছে পড়তে। সেই আমেরিকানকে ৬০ থেকে ৮০ ডলার দিতে হতো প্রতি ঘণ্টায়। এটা মূলত এসএটির প্রস্তুতির জন্য। তখন মি. খান একটা স্কুলের ম্যাথ ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান ছিলেন। এটি ১৯৯৪ সালের কথা। তো আমাদের ছেলেকেও তখন হাইস্কুলে পঠানোর সময় হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই আমরা চেয়েছিলাম ও যেন একটা ভালো স্কুল পায়। তো তিনি হিসাব করে দেখলেন, এ পরীক্ষায় ভালো করা মানে হলো ভালো একটা হাইস্কুলে (যেখানে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ানো হয়) ভর্তি হওয়া এবং পরবর্তী জীবনের একটা নিশ্চিত রাস্তা তৈরি করে দেয়া। তিনি চিন্তা করলেন, যদি ১০ জন ছাত্রকে পড়ানো যায় এবং সেখান থেকে আটজন চান্স পায়, তাহলে তো বিশাল সাফল্য। সে বছরই তিনি আমাদের ছেলে ও একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেলের মেয়ে পড়ান এবং তারা চান্স পায়। এরপর অনেকেই আমাদের কাছে আসতে লাগলো। আমি তখন মি. খানকে এসিস্ট করতাম। এরপর আমরা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিলাম। এখন সপ্তাহে সাড়ে তিন হাজারের বেশি শিক্ষার্থী আমাদের কাছে পড়তে আসে।
ষষ আপনাদের এ সাফল্যের কারণটা কী বা এখন তো অনেক টিউটোরিয়াল হোম আছে নিউইয়র্কে। আপনাদের এখানে কেন আসছে ছেলেমেয়েরা?
ষ আমরা ওই বাচ্চাদের জন্য বই থেকে কোনো কিছু কপি করে দিই না। আমাদের সিনিয়রদের তৈরি নিজস্ব পঠন-পাঠন পদ্ধতি দিয়ে ছেলেমেয়েদের পড়ানো হয়। এটা ইউনিক। এটা আমেরিকার বাজারে প্রচলিত কোনো বইয়ে পাওয়া যাবে না। এছাড়া আমাদের প্রতিটা পরীক্ষার পর মা-বাবাদের সঙ্গে একটা সেশন থাকে যাকে আমরা প্যারেন্ট-টিচার কনফারেন্স সেশন বলি। সেখানে প্রত্যেকটি বাচ্চার মা-বাবাকে আলাদাভাবে বাচ্চার অবস্থা সম্পর্কে ব্রিফ করা হয়। এছাড়া প্রত্যেকটি বাচ্চার জন্য আলাদা করে যতœ নেয়া হচ্ছে এবং  পদ্ধতিটাও অন্যদের থেকে একেবারে আলাদা। ফলে গেল বছর ৩৩৬ জন চান্স পেয়েছে। আবার আমাদের খরচও কম। এটা মধ্যবিত্তদের কথা চিন্তা করেই করা। যেখানে একজন শিক্ষক ঘণ্টায় নিয়ে থাকেন ৬০ থেকে ৮০ ডলার, সেখানে আমরা ৪ ঘণ্টার জন্য নিচ্ছি ৬০ ডলার।
ষষ আপনার এখানে যেসব শিক্ষার্থী পড়ছে তারা সবাই কি বাংলাদেশী? বাংলাদেশীরা আলাদা সুবিধা পায় কি?
ষ না। আমাদের টিউটোরিয়াল হোমের সব শিক্ষার্থী বাংলাদেশী নয়। এটি নির্ভর করে এলাকার ওপর। আমাদের ১০টি এলাকায় আছে এর ব্রাঞ্চ। এখানে সব দেশের শিক্ষার্থীরা পড়ছে। না, বাংলাদেশীদের আলাদা করে কোনো সুবিধা দেয়া হয় না। আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অফার দিচ্ছি, সেটা সবার জন্য সমান। আবার মি. খানের নামে স্কলারশিপও চালু আছে।
ষষ আমাদের দেশ থেকে যারা যেতে চায় আমেরিকায় পড়তে, বিশেষ করে আন্ডারগ্র্যাডে তাদের জন্য বড় একটা বাধা এসএটি। এ পরীক্ষা কীভাবে ভালো করতে পারে এখানকার শিক্ষার্থীরা?
ষ বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা ইংরেজিতে ভয়টা বেশি পায়। তার মানে সমস্যাটা ইংরেজিতে। আমাদের দেশের ছেলেমেয়েদের তো অঙ্ক নিয়ে সমস্যা নেই। তারা অঙ্ক পারছে। এজন্য ইংরেজি পড়ার অভ্যাসটা বাড়াতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় যদি প্রতিদিন ইংরেজি পত্রিকা পড়ে। এ পরামর্শ আমরা ওখানকার ছেলেমেয়েদেরও দিয়ে থাকি। 
আবার দেখুন, এসএটির প্রস্তুতি কিন্তু সবাই আলাদা করে নেয়। যে আমেরিকায় থাকে তাকেও ভালো স্কুলে ভর্তির জন্য আলাদা করেই প্রস্তুতি নিতে হয় এসএটির জন্য। তারাও হোমে গিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে বা বাসায় টিচার রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাংলাদেশেও তাই। এখানেও বিভিন্ন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষার্থীরা ভালো করছে এসএটিতে। হ্যাঁ, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যারা ইংলিশ মিডিয়ামে পড়েছে তারা অনেক সুবিধা পায়। কারণ ইংরেজিটা তাদের জন্য সহজ হয়ে যায়।
ষষ আপনার কথায় চলে এলো ভালো করে প্রস্তুতির জন্য কোচিং সেন্টারের কথা। শিক্ষার্থীদের ভালো করার জন্য কি কোচিং সেন্টার জরুরি?
ষ দেখুন একটি বাচ্চাকে স্কুল যেভাবে টেককেয়ার করে সেটা দিয়ে আসলে হয় না। এ টেককেয়ার দিয়ে হয়তো ১০ জনে তিনজন ভালো করে। এটা বাংলাদেশে যেমন, বাইরে আমেরিকায়ও তেমন। বিভিন্ন বাচ্চার বিভিন্ন ধরনের দুর্বলতা থাকে। হ্যাঁ, এটাও ঠিক, সবার লাগে না আবার অনেকেরই লাগে আলাদা কেয়ার। এজন্যই হোমটিউটর বা টিউটোরিয়াল।
আলোকিত বাংলাদেশ : আপনি বাংলাদেশে পড়েছেন, বড়ও হয়েছেন। এ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?
নাইমা খান : সব শিক্ষা ব্যবস্থাতেই ভালো করা সম্ভব। এটি নির্ভর করে স্কুলের বা প্রতিষ্ঠানের ওপর। আমাদের এখানে অনেক এডুকেশন সিস্টেম আছে। ইংলিশ মিডিয়াম, মাদরাসা শিক্ষা, সাধারণ শিক্ষা। সবই ভালো সেখানে ছেলেমেয়েরা কতখানি ভালো করবে, এটা নির্ভর করে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তার কতখানি টেককেয়ার করছে, যেখানে সে পড়ছে। আমার জানা মতে, অনেক স্কুল আছে যাদের রেজাল্ট ঈর্ষণীয়। এখানকার বেশ কয়েকটি ইংরেজি মিডিয়াম স্কুল আছে যেগুলো বেশ ভালো করছে।


আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ পেলেন ৯০ প্রাণী
পোলট্র্রির বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, সঠিকভাবে রোগবালাই নির্ণয়, চিকিৎসা এবং রোগ
বিস্তারিত
সবার উপরে বাবা-মা
যে-কোনো মানুষের গায়ে হাত তোলাই অপরাধ। আর সন্তান হয়ে বাবা-মায়ের
বিস্তারিত
স্মৃতির মানসপটে যুক্তরাজ্য সফর
বিদেশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়তো অনেকেরই হয়ে থাকে। তবে কলেজের প্রতিনিধি,
বিস্তারিত
ব্যবসার ধারণা : গড়তে চাইলে
নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা
বিস্তারিত
৭৫ শতাংশ বৃত্তিতে আইটি ও
বিভিন্ন কারণে যারা আইটিতে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত তাদের
বিস্তারিত
লক্ষ্য যখন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিপরীতে ক্রমাগত উর্বরা জমির পরিমাণ কমছে। জনসংখ্যার এ
বিস্তারিত