আজ তরুণদের গঠনমূলক কাজ দেখে দেশের মানুষ আশাবাদী হন। অসহায় মানুষের পাশে তাদের দাঁড়ানোর ফলেই হয়তো রক্ষা পায় প্রচ- শীতে অসহায় মৃত্যু পথযাত্রী অশীতিপর বৃদ্ধ মানুষটির জীবন। খালি গায়ে থাকা মানুষটি উষ্ণতার আবেশে কৃতজ্ঞতার চাহনিতে আপ্লুত হয়ে পড়েন। আর ছোট্ট পথশিশু

শীতার্তদের প্রতি তারুণ্যের ভালোবাসা

কনকনে শীতের সকালে শহরে উঁচু দালানে বাস করা তরুণটি গায়ে কম্বল জড়িয়ে ফেসবুকে শীতের তীব্রতা নিয়ে শুধু স্ট্যাটাসই দেন না, নিত্যনতুন ফ্যাশনেবল হুডি আর বিভিন্ন ডিজাইনের শীত বস্ত্র গায়ে দেয়া সে তরুণটি ঠিকই সময় বের করে বন্ধুদের নিয়ে অসহায় শীতার্ত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ান। গৃহহীন যে মানুষটির কাছে জীবনের প্রতিটি দিন দুই বেলা খাবার জোগাড় করাই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, অনেকগুলো তালি দেয়া মলিন আর ছেঁড়া কাপড় গায়ে দিয়ে শীতের রাতে সে যখন রাস্তার পাশে কম্পমান অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়ে; তখন কোনো একজন তরুণ পরম মমতায় তার গায়ে কম্বল জড়িয়ে দেন।
তবে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যক্তি উদ্যোগে বা বন্ধুরা মিলে এমনভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ করা সম্ভব হয় না, সেজন্য প্রয়োজন হয় সামাজিক কোনো সংগঠনের। যেখানে সমমনা বন্ধুরা মিলে একসঙ্গে শীত বস্ত্র সংগ্রহ করেন, নিজেদের হাত খরচের টাকা বাঁচিয়ে ও সামর্থ্যবান মানুষের কাছ থেকে প্রাপ্ত আর্থিক সহায়তা নিয়ে অসহায় মানুষের জন্য শীতবস্ত্র জোগাড় করেন। তারপর কোনো একটি স্থান ঠিক করে নির্দিষ্ট তারিখে সবাই মিলে শীতবস্ত্র বিতরণ করতে যান।
প্রগতির পরিব্রাজক দল (প্রপদ) এমনই একটি সামাজিক সংগঠন। ‘অর্থ, বস্ত্র, শ্রম দিয়ে শীতার্তদের পাশে দাঁড়ান’ সেøøাগান নিয়ে তারা ১৯৯৬ সাল থেকে শীতার্ত সহযোগিতা কার্যক্রম শুরু করে। সংগঠনটিতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করা শিক্ষার্থী কৌশিক জানান, বর্তমানে দেশব্যাপী ২৯টি জেলায় তাদের কার্যক্রম রয়েছে। সংগঠনটি তরুণদের স্বেচ্ছাশ্রমে উদ্বুদ্ধ করে থাকে, তাদের স্বেচ্ছাসেবীরা বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ আর পাড়া-মহল্লায় গিয়ে শীতের কাপড় সংগ্রহ করেন। তারপর সংগ্রহ করা কাপড় তারা পৌঁছে দেন উত্তরবঙ্গের হাড়কাঁপানো শীতের সঙ্গে লড়তে থাকা অতিদরিদ্র মানুষের কাছে।   
সাকসেস ফাউন্ডেশন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন গঠনমূলক কাজ করে থাকে। সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়কারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মোশাররফ হোসেন জানান, কিছুদিন আগে তারা রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার একটি গ্রামে ৬০০ কম্বল ও শীত বস্ত্র নিয়ে গিয়েছিলেন।
‘ছোট্ট প্রয়াস’ নামে শিক্ষার্থীদের আরেকটি সংগঠন ‘ডু সামথিং ফর ইয়োর সোসাইটি’ সেøøাগান নিয়ে যাত্রা শুরু করে ২০১০ সালে। সংগঠনটির একজন উদ্যোক্তা রায়হান ফিরদাউস জানান, তারা গত তিন বছর তিনটি স্থানে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন। শীতের কম্বল নিয়ে তারা প্রথমে ছুটে গেছেন ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা, পরের বছর আবারও গেছেন একই জেলার ফুলপুরে। তার পরের বছর পঞ্চগড়ের বীরগঞ্জ গ্রামে দুইটি টিমে ভাগ হয়ে তারা শীতবস্ত্র বিতরণ করে এসেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হলগুলোয় শীতবস্ত্র সংগ্রহ করার জন্য বক্স দেয়া থাকে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে। শিক্ষার্থীরা সাগ্রহেই সেসব বক্সে শীতবস্ত্র রেখে দেয়, যা পরবর্তী সময়ে পৌঁছে যায় শিক্ষার্থীদের সংগঠনগুলোর মাধ্যমে অসহায় শীতার্ত মানুষের কাছে।
এক্ষেত্রে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরাও পিছিয়ে নেই। তারাও শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে শীতবস্ত্র সংগ্রহ করছেন। যেমন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে দেখা গেল গ্রাউন্ড ফ্লোরের এক প্রান্তে বক্সে শীতার্ত মানুষের জন্য বস্ত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। শুধু ঢাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোই নয়, ঢাকার বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরাও শীতবস্ত্র বিতরণে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। এই যেমন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ‘ফাইট ফর উইন্টার’ শিরোনামে শীতবস্ত্র বিতরণ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এভাবেই নিজ নিজ ডিপার্টমেন্ট, ফ্যাকাল্টি, হল বা সামাজিক কোনো সংগঠনের মাধ্যমে তরুণরা শীতার্ত মানুষের জন্য কাজ করছেন।
শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক নয়, বরং এলাকাভিত্তিক সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমেও তরুণরা অসহায় শীতার্ত মানুষের জন্য কাজ করছেন। যেমন ঢাকার মোহাম্মদপুরে অ্যাকশন ফর সোশ্যাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডেভেলপমেন্ট (অ্যাসেড) এমনই একটি সংগঠন যারা তরুণদের সঙ্গে নিয়ে শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে থাকে।
ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপ আর ইনস্টাগ্রামের এ যুগে তরুণরা যখন আত্মকেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে তখন অসহায় মানবতার পাশে তাদের এমন কার্যক্রম সত্যিকার অর্থেই আশাবাদী হওয়ার মতো। তবে তরুণদের মাঝেই কেউ কেউ সমালোচনা করে বলেন, এসব আসলে লোক দেখানো কাজ। এসব শীতবস্ত্র বিতরণ করার কাজ করলে সবার কাছ থেকে বাহবা পাওয়া যায়, ফেসবুকে ছবি আপলোড দিলে গো অ্যাহেড, কনগ্র্যাচুলেশন্স, ব্রাভো ইত্যাদি কমেন্টসহ প্রচুর লাইক পড়ে। কিন্তু তরুণদের মাঝে যারা এমন মানবতাবাদী কার্যক্রমে জড়িত আছেন, তারা ভালোবাসার জায়গাটি থেকেই জীবনের মূল্যবান সময় ব্যয় করে এ ধরনের উদ্যোগে সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করেন। তাই এমন ভিত্তিহীন সমালোচনায় তারা দমে যান না, বরং হাসিমুখেই সব তরুণকে আহ্বান জানান, শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে।
আজ তরুণদের গঠনমূলক কাজ দেখে দেশের মানুষ আশাবাদী হন। অসহায় মানুষের পাশে তাদের দাঁড়ানোর ফলেই হয়তো রক্ষা পায় প্রচ- শীতে অসহায় মৃত্যু পথযাত্রী অশীতিপর বৃদ্ধ মানুষটির জীবন। খালি গায়ে থাকা মানুষটি উষ্ণতার আবেশে কৃতজ্ঞতার চাহনিতে আপ্লুত হয়ে পড়েন। আর ছোট্ট পথশিশুটিও শীতের কাপড় গায়ে জড়িয়ে আবারও পথের ধারে বন্ধুদের সঙ্গে খেলায় মেতে উঠতে পারে একটি শীতবস্ত্র পেয়ে। এভাবেই উষ্ণতার আবেশে তারুণ্যের ভালোবাসার বন্ধনে বাংলাদেশে প্রতিটি শীতের সকাল আসে মানবতার জয়গান নিয়ে।


আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ পেলেন ৯০ প্রাণী
পোলট্র্রির বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, সঠিকভাবে রোগবালাই নির্ণয়, চিকিৎসা এবং রোগ
বিস্তারিত
সবার উপরে বাবা-মা
যে-কোনো মানুষের গায়ে হাত তোলাই অপরাধ। আর সন্তান হয়ে বাবা-মায়ের
বিস্তারিত
স্মৃতির মানসপটে যুক্তরাজ্য সফর
বিদেশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়তো অনেকেরই হয়ে থাকে। তবে কলেজের প্রতিনিধি,
বিস্তারিত
ব্যবসার ধারণা : গড়তে চাইলে
নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা
বিস্তারিত
৭৫ শতাংশ বৃত্তিতে আইটি ও
বিভিন্ন কারণে যারা আইটিতে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত তাদের
বিস্তারিত
লক্ষ্য যখন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিপরীতে ক্রমাগত উর্বরা জমির পরিমাণ কমছে। জনসংখ্যার এ
বিস্তারিত