ঐরাবতের মজার গাড়ি

হাতিটা বলল আজব গাড়ি নয়, এটা আমার মজার গাড়ি। আমি আমার মজার গাড়ি নিয়ে দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়াই। তুমি কোথায় যেতে চাও বলো?

রিআশা নার্সারিতে পড়ে। স্বরবর্ণ ব্যঞ্জনবর্ণ শিখছে। লিখতে ও পড়তে পারে। তবে অল্প অল্প। সে নিজের নামও লিখতে পারে। স্কুলে বাড়ির কাজ দিয়েছে স্বরবর্ণ লেখা। তাই সে বসে বসে স্বরবর্ণ লিখছে। লিখতে লিখতে ক্লান্ত হয়ে শুয়ে শুয়ে পড়ছে রিআশা। অ তে অজগর, আ তে আম, ই তে ইুঁদর...।

এমন সময় একটা শব্দ শুনতে পেল রিআশা। মনে হচ্ছে ট্রেনের শব্দ। দূরে কোথাও ট্রেন চলছে। দূরে নয়তো, শব্দটা খুব কাছে মনে হচ্ছে। রিআশা চমকে ওঠে। এ কোন জায়গা! এটা কী? কিছুই বুঝতে পারছে না সে। মনে হচ্ছে সে একটা ট্রেনে বসে আছে। কিন্তু সে তো খাটে শুয়ে বই পড়ছিল। ট্রেন এলো কোথা থেকে! ট্রেনটা ছুটছে তো ছুটছে। ট্রেন তো রেললাইন দিয়ে চলে! কিন্তু রেললাইন তো দূরের কথা, মাঠ-ঘাট কিছুই মানছে না ট্রেনটা। কিছুই বুঝতে পারছে না সে। ঝকাঝক শব্দে ট্রেন ছুটছে তো ছুটছেই...।

এ কী, চারপাশ অন্ধকার। মাঝে মাঝে কোথাও লাইট জ্বলছে। মনে হচ্ছে এখন অনেক রাত। দূরে কোথাও বাঁশি বাজছে। রিআশা চমকাল। ট্রেনটা এখন বনের মধ্যে। একি! সে তো ট্রেনে নয়। মনে হচ্ছে এটি একটি গাড়ি। গাড়িটি দেখতে ট্রাকের মতো। রিআশা আবার চমকাল। এটা আসলে কী! সেকি ট্রেনে নাকি ট্রাকে! কিছুই বুঝতে পারছে না। গাড়িটা ছুটেই চলেছে। সে তো খেয়ালই করেনি গাড়িটা চালাচ্ছে কে? একি গাড়িটা চালাচ্ছে একটা হাতি! রিআশা এবার একটু ভয় পেল। গাড়ি চালাচ্ছে হাতি! এও কি সম্ভব! কার্টুনে না হয় সবাই সব পারে! কিন্তু এ তো বাস্তব। বাস্তবে হাতি গাড়ি চালাবে কীভাবে!

রিআশার মনে পড়ল গত ঈদে দাদার বাড়িতে সে ট্রেনে চড়ে গিয়েছিল। অনেক মজা হয়েছিল। বাবা তাকে পুরো ট্রেন ঘুরিয়ে দেখিয়েছিলেন। কিন্তু হাতিকে ট্রেন চালাতে দেখে সে ভয় পেল। মনে সাহস নিয়ে বললÑ কে তুমি? হাতিটা বলল আমি এ গাড়ির ড্রাইভার।

রিআশা বলল, হুম সে তো বুঝলাম তুমি এ গাড়ির ড্রাইভার। কিন্তু তোমার নাম কী?
হাতিটা বললো আমি ঐরাবত।
ও আচ্ছা আমার নাম রিআশা। তুমি এ আজব গাড়ি নিয়ে কোথায় যাচ্ছ?
হাতিটা বলল আজব গাড়ি নয়, এটা আমার মজার গাড়ি। আমি আমার মজার গাড়ি নিয়ে দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়াই। তুমি কোথায় যেতে চাও বলো?

রিআশা কিছু না ভেবেই বলল, আমি আমার দাদার বাড়ি যেতে চাই। শোঁ শোঁ করে ছুটে চলল আজব গাড়ি। এক নিমিষেই পৌঁছে গেল রিআশার দাদার বাড়ি। রিআশা বলল, আমাদের আসতে তো সেই সকাল থেকে সন্ধ্যা হয়ে যায়। তুমি এত তাড়াতাড়ি কীভাবে পৌঁছে গেলে? হাতিটা বলল, এটা আমার মজার গাড়ি। তুমি মনে মনে যে জায়গায় যেতে চাইবে আমার মজার গাড়ি তোমাকে শোঁ শোঁ করে সে জায়গায় নিয়ে যাবে।

বাহ্ঃ তাহলে তো সত্যি এটা মজার গাড়ি। বলেই সে গাড়ি থেকে নেমে তার দাদার বাড়ির মধ্যে গেল। কিন্তু কেউ তো তাকে খেয়ালই করছে না। ও সবাইকে দেখতে পাচ্ছে। কিন্তু ওকে কি কেউ দেখতে পাচ্ছে না! ও শারমিন আপু বলে ডাকল; কিন্তু শারমিন কোনো উত্তরই দিচ্ছে না। রিআশা ডেকেই চলেছে। শারমিন আপু ও শারমিন আপু...।

এমন সময় মা ডাকল রিআশা... রিআশা। কি বলছ বিড়বিড় করে? স্কুলের সময় হয়ে গেছে, ওঠো ওঠো স্কুলে যেতে হবে। রিআশা তড়িঘড়ি করে ঘুম থেকে উঠে বসল। মনে মনে বলল, আমি কোথায়? শারমিন আপুকে ডাকলাম। মা এলো কোথা থেকে?

এবার মা রিআশাকে জিজ্ঞেস করলেন, বাড়ির কাজ করেছ? বলো দেখি ঐরাবত মানে কী? ঐরাবত মানে হাতি। মা বললেন সাব্বাশ। রিআশা বলল, আচ্ছা মা, হাতির নাম কী ঐরাবত? হাতি কি গাড়ি চালাতে পারে? মা হাসলেন। রিআশা মাকে জড়িয়ে ধরে বলেÑ ঐরাবত মানে কী মা? মা হেসে বললেন কেন তুমিই তো বললে ঐরাবত মানে হাতি।


শিশু বাথাইন্নাদের অন্যরকম জীবন
চারপাশে নদী। মাঝখানে জেগে ওঠা বিশাল চর। এর নাম-দমারচর। বঙ্গোপসাগরের
বিস্তারিত
অগ্নিশিখা
অগ্নিশিখা  মালেক মাহমুদ    অগ্নিশিখায় কুঁকড়ে গেছি  আছি মরার মতো  আগুন! আগুন! জ্বলছে আগুন আগুন জ্বলে
বিস্তারিত
বাংলা শকুনের গল্প
শুধু বাংলা শকুন নয়, এক সময় বাংলাদেশে সাত প্রজাতির শকুন
বিস্তারিত
বৈশাখ এলো
  বৈশাখ এলো বৈশাখ এলো গ্রীষ্মদুপুর কালো মেঘে ঘাপটি মেরে ঢেকে
বিস্তারিত
চৈতালী হাওয়া
চৈতালী হাওয়ায় গ্রীষ্ম কাটে গ্রীষ্ম যেনো কষ্টের, চৈত্রের দাহন অভিশাপের
বিস্তারিত
বকের বিড়ম্বনা
সবাই মিলে বকের বিরুদ্ধে বিচার নিয়ে গেল হুতুম প্যাঁচার কাছে।
বিস্তারিত