ঘুরে এলাম দুইটি পাতা ও একটি কুড়ির শহর

ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

আমরা ৮০ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে আছেন বাংলাদেশ কালচারাল ক্লাব, অ্যাডভেঞ্চার ক্লাব, ডিবেটিং ক্লাব, ফটোগ্রাফি অ্যান্ড মিডিয়া ক্লাব ও স্পোর্টস ক্লাবের সদস্যরা। সবাই ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষার্থী। অ্যাডভেঞ্চার ক্লাব প্রতি সেমিস্টারে শিক্ষার্থীদের নিয়ে দেশের প্রতœতাত্ত্বিক স্থানগুলো ভ্রমণ করে আসছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছেন বাকি ক্লাবের সদস্যরা। তাই ভ্রমণটা অন্যরকম। ২৭ নভেম্বর ৮০ জন শিক্ষার্থী ঢাকা থেকে ২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে যাই শ্রীমঙ্গলে। চোখজুড়ানো সৌন্দর্য ধরা দেয় আমাদের কাছে। সত্যিই শ্রীমঙ্গল সৌন্দর্যের লীলাভূমি। সেখানে গিয়ে জানা গেল শ্রীমঙ্গলে আছে ৪৭টি চা বাগান। ফলে শ্রীমঙ্গলকে দুইটি পাতা ও একটি কুড়ির শহর বলা হয়। শ্রীমঙ্গলে মনিপুরি, খাশিয়া ও টিপরা সম্প্রদায়ের লোকজন বসবাস করেন। এলাকাটা ঘুরে বোঝা যায়, এসব সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের জন্য বিখ্যাত। তাদের জীবনযাপন ও ঐতিহ্য আমাদের সবাইকে আকর্ষণ করেছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমাদের ভ্রমণের আরেকটি গন্তব্য ছিল হবিগঞ্জ জেলার চুনাড়–ঘাট উপজেলায় অবস্থিত সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান। এখানে উঁচু-নিচু টিলার বাঁকে বাঁকে সবুজের সমারোহ। চা বাগানের অভ্যন্তরে শ্রমিকরা দলবেঁধে বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করছেন। কেউ চা বাগানের পরিচর্যা করছেন, কেউ চা তুলছেন, কেউবা শুকনো ডালপালা কুড়াচ্ছেন। পাহাড়ের ঢালুতে বোনা গাছের ছায়া বৃক্ষ হিসেবে লাগানো হয়েছে শিল কড়ই। চা বাগানে মাঝে মাঝে পাখির  ডাক, বুনো প্রজাপতি ও ঘাসফড়িঙের দুরন্তপনা ইত্যাদি অবারিত সৌন্দর্য এখানকার মায়াবী প্রকৃতিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
সাতছড়ি থেকে আমরা ফিনলের চা বাগানে বেড়াতে যাই। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চা বাগান এটি। জেমস ফিনলে ২৫০ বছরের পুরনো স্কটিশ কোম্পানি। ১৯ শতকের শেষের দিকে বিশ্বের এ অংশে চা শিল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। ফিনলে টি গার্ডেনের উল্টো পাশে অবস্থিত বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান কার্যালয়। ১৯৫৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে ফলনশীলতা ও গুণগতমান বৃদ্ধি, চা শিল্পের উন্নয়ন ও উৎকর্ষে বিজ্ঞানভিত্তিক পরামর্শ এবং সহায়তা দান, চা শিল্পে গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি বিস্তার করাই এ প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য। উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞান চা শিল্পের অগ্রগতি এবং উন্নয়নে এ প্রতিষ্ঠানটি অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে। যাই হোক, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কাটে এখানেই। দুপুরে খাওয়ার জন্য শ্রীমঙ্গল শহরে কুটুমবাড়ি রেস্টুরেন্টে যাই।
খাওয়ার পর আমরা দ্বিতীয় গন্তব্যস্থলে যাত্রা শুরু করি। লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্ক মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় ২ হাজার ৭৪০ হেক্টর জমির ওপর অবস্থিত। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ সরকার এটিকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করে। উঁচু-নিচু ভঙ্গুর পথ পেরিয়ে উদ্যানে যেতে হয়। রাস্তার দুইধারে নাম না জানা হরেক রকমের গাছ। অরণ্য নিস্তব্ধতার মাঝে পাখির কাকলি ও বুনো সৌন্দর্যের হাতছানি প্রত্যক্ষ করি। এখানকার পরিবেশ শান্ত-স্নিগ্ধ। এ যেন শিল্পীর তুলিতে ক্যানভাসে আঁকা মায়াবী প্রকৃতি দিয়ে ঘেরা ছবি। লাউয়াছড়ার আশপাশে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন উপজাতীয় সম্প্রদায় বসবাস করে। পরন্ত বিকালে শিক্ষার্থীদের সাত রঙের চা খাওয়ার বাসনা পূরণ করার জন্য উদ্যানের ভেতর উঁচু টিলায় ‘সাত রঙা চা কেবিনে’ প্রবেশ করি। কেবিনের পাশ দিয়ে রেলপথ সিলেটের দিকে চলে গেছে। দেখতে দেখতে আমাদের সময় ফুরিয়ে এলো। পশ্চিমের আকাশে গোধূলির রঙ আস্তে আস্তে ফিকে হতে শুরু করেছে। রক্তিম সূর্য আর আবির মাখানো পশ্চিম আকাশটাকে পেছনে ফেলে আমাদের গাড়ি সামনের দিকে এগোতে লাগল। আকাশে অসংখ্য তারা, চারদিকে জমাট অন্ধকার। এরই মাঝে শ্রীমঙ্গলের আলিঙ্গন থেকে নিজেদের ছাড়িয়ে আমরা মনে মনে আগামী দিনে অন্য কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনায় লিপ্ত হয়ে পড়ি।


আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ পেলেন ৯০ প্রাণী
পোলট্র্রির বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, সঠিকভাবে রোগবালাই নির্ণয়, চিকিৎসা এবং রোগ
বিস্তারিত
সবার উপরে বাবা-মা
যে-কোনো মানুষের গায়ে হাত তোলাই অপরাধ। আর সন্তান হয়ে বাবা-মায়ের
বিস্তারিত
স্মৃতির মানসপটে যুক্তরাজ্য সফর
বিদেশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়তো অনেকেরই হয়ে থাকে। তবে কলেজের প্রতিনিধি,
বিস্তারিত
ব্যবসার ধারণা : গড়তে চাইলে
নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা
বিস্তারিত
৭৫ শতাংশ বৃত্তিতে আইটি ও
বিভিন্ন কারণে যারা আইটিতে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত তাদের
বিস্তারিত
লক্ষ্য যখন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিপরীতে ক্রমাগত উর্বরা জমির পরিমাণ কমছে। জনসংখ্যার এ
বিস্তারিত