এবার এভারেস্ট জয়ের স্বপ্ন

যে আত্মবিশ্বাস নিয়ে নিশাত বা ওয়াসফিয়া বাংলাদেশের জন্য পর্বত জয়ের গৌরব বয়ে এনেছেন, সেই আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন ইফফাত ফারহানা, ফৌজিয়া আহমেদ, শায়লা পারভীন, বিবি খাদিজা ও রেশমা নাহার। তারাও স্বপ্ন দেখেন সর্বোচ্চ সৃঙ্গ জয়ের

ইফফাত ফারহানা, ফৌজিয়া আহমেদ, শায়লা পারভীন, বিবি খাদিজা ও রেশমা নাহার। পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়া ছুঁয়ে দেখার স্বপ্ন দেখেন তারা। কিন্তু কীভাবে সম্ভব? কিছু করতে গেলেই ‘না’ শুনতে হয়, মানতে হয় নানা নিয়ম-রীতি, সেই নারীদের পক্ষে কি আদৌ পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়ায় ওঠার স্বপ্ন যৌক্তিক? পাঠক মনে আছে নিশ্চয়, সেই পুরনো ধ্যান-ধারণা এরই মধ্যে ভেঙে দিয়েছেন নিশাত মজুমদার। বাংলাদেশের হয়ে নারী হিসেবে প্রথম জয় করেছেন এভারেস্ট। তার মতো এ পাঁচজনেরও এভারেস্ট জয়ের স্বপ্ন। আর তাদের স্বপ্ন পূরণে সাহায্য করছে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী ফাউন্ডেশন।
বাংলাদেশের পাহাড়ে এবং হিমালয়ে ট্র্যাকিংয়ের অভিজ্ঞতা অর্জনের পর বাংলাদেশের পাঁচ নারীর একটি দল ভারতের উত্তর কাশীতে নেহরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেইনিয়ারিংয়ে ২৮ দিনের মৌলিক পর্বতারোহণ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এখানেই শেষ নয়, নেহরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেইনিয়ারিংয়ে প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে ভারতের কয়েকটি পাহাড়-পর্বত সফলভাবে আরোহণও করেছেন তারা। তাদের গল্পই বলে সক্ষমতা ও দৃঢ়প্রত্যয়ের কথা।
ইফফাত ফারহানার কথাই ধরা যাক। ২০১২ সালে বাংলাদেশের প্রথম নারী এভারেস্টজয়ী নিশাত মজুমদারকে দেখে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। চার বছর আগে ইফফাত বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্র্যাকিং ক্লাবের সদস্য হন। ইফফাত বলেন, যে কোনো পর্বতারোহণের জন্য মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি প্রয়োজন। সে লক্ষ্যেই আমরা রমনা পার্কে নানা শারীরিক চর্চা শুরু করি। ল্যাডার ক্রসিং, ক্রেভাস ক্রসিংসহ নানা প্রশিক্ষণ আমরা নিয়েছি। এরপর আস্তে আস্তে ট্র্যাকিংয়ের প্রস্তুতি।’ এ দলের আরেক সদস্য ফৌজিয়া আহমেদ বলেন, বিভিন্ন সময় বেড়াতে গিয়ে যখন পাহাড় দেখেছি তখন থেকেই এসব পাহাড় জয়ের শখ আমার। প্রশিক্ষণে ৯২ জন অংশ নিই, তার মধ্যে ৮৫ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করি। এর অংশ হিসেবে গেল বছর আমরা কেওক্রেডাংয়ে গিয়েছিলাম। এ বছর প্রশিক্ষণের আগে ১ মাসের প্রস্তুতি সম্পন্ন করি। ২৫ কেজি বোঝা নিয়ে পাহাড়ে ট্র্যাকিংসহ আরও নানা ধরনের প্রশিক্ষণ আমরা স¤পন্ন করেছি।’ তার মতে, পর্বতারোহণের এ বীজ যদি স্কুল থেকে আমাদের মনে বপন করা যায়, তবে পর্বতারোহণে নারীদের অংশগ্রহণের সংখ্যা আরও বেশি হবে।
শায়লা পারভীন বীথির পাহাড়ে ওঠার গল্প শুরু হয় ২০১৪ সাল থেকে। বীথি জানান, ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বন্ধুদের সঙ্গে চট্টগ্রামের সীতাকু-ে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে যান। সেটা ছিল প্রথম পাহাড়ে ওঠা। সেখানে পরিচয় হয় বাংলাদেশের প্রথম পর্বত আরোহণ ক্লাব বিএমটিসির সভাপতি ও দুইবারের এভারেস্ট বিজয়ী এম এ মুহিতসহ অন্য সদস্যদের সঙ্গে। তিনি বলেন, আসলে পর্বত আরোহী হওয়ার স্বপ্ন আমি আগে দেখিনি। বিএমটিসিতে যোগ দেয়ার পর ২০১৫ সালের অক্টোবরে নেপালে হিমালয়ের ২০ হাজার ২৯৫ ফুট উঁচু ‘কেয়াজো-রি’ শিখর অভিযানে আমাকে ও ফৌজিয়া আহমেদকে বেস-ক্যা¤প দলে নেয়া হয়। সে অভিযানে আমি খুব ভালোভাবে ১৫ হাজার ৫০০ ফুট পর্যন্ত আরোহণ করি। সেখান থেকেই আমার স্বপ্নের শুরু।’
বিবি খাদিজা স্বপ্ন দেখার পাশাপাশি স্বপ্নপূরণ এবং সেই অর্জন দিয়ে আশপাশের সবাইকে অনুপ্রাণিত করতেই জয় করতে চান সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। খাদিজার মতে, আমাদের দেশে অনেক মেয়েরই স্বপ্ন থাকে চ্যালেঞ্জিং কাজ করার, কিন্তু সাহস, সামর্থ্য ও প্রয়োজনীয় সুযোগের অভাবে করতে পারে না। এটা ভেবে ভালো লাগে যে, আমরা প্রমাণ করেছি, স্বপ্ন দেখলে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করলে সফলতা আসবেই। আমার স্বপ্ন, মানুষের জন্য এমন কিছু করা, যাতে আমি পৃথিবী থেকে চলে গেলেও আমার কাজ থেকে যায়।’ রেশমা নাহারও খাদিজার মতোই স্বপ্ন ও বাস্তবতা দিয়ে নিজের অর্জনকে একটা মানদ-ে দাঁড় করাতে চান। প্রশিক্ষণ চলার সময়টা কেমন ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুরো প্রশিক্ষণটাই জীবনে অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ট্রেনিং হতো। পিঠের ওপর ২৫ কেজি ওজনের ভারি ব্যাগ নিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় ওঠা সত্যি কষ্টের কাজ ছিল। হার মানিনি। চোট পেয়েও আত্মবিশ্বাস নিয়ে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়েছি।’
যে আত্মবিশ্বাস নিয়ে নিশাত বা ওয়াসফিয়া বাংলাদেশের জন্য পর্বত জয়ের গৌরব বয়ে এনেছেন, সেই আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন ইফফাত ফারহানা, ফৌজিয়া আহমেদ, শায়লা পারভীন, বিবি খাদিজা ও রেশমা নাহার। তারাও স্বপ্ন দেখেন সর্বোচ্চ সৃঙ্গ জয়ের। আর এ স্বপ্ন জয়ের পথে সহযোগিতার জন্য ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন।


আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ পেলেন ৯০ প্রাণী
পোলট্র্রির বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, সঠিকভাবে রোগবালাই নির্ণয়, চিকিৎসা এবং রোগ
বিস্তারিত
সবার উপরে বাবা-মা
যে-কোনো মানুষের গায়ে হাত তোলাই অপরাধ। আর সন্তান হয়ে বাবা-মায়ের
বিস্তারিত
স্মৃতির মানসপটে যুক্তরাজ্য সফর
বিদেশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়তো অনেকেরই হয়ে থাকে। তবে কলেজের প্রতিনিধি,
বিস্তারিত
ব্যবসার ধারণা : গড়তে চাইলে
নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা
বিস্তারিত
৭৫ শতাংশ বৃত্তিতে আইটি ও
বিভিন্ন কারণে যারা আইটিতে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত তাদের
বিস্তারিত
লক্ষ্য যখন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিপরীতে ক্রমাগত উর্বরা জমির পরিমাণ কমছে। জনসংখ্যার এ
বিস্তারিত