শিশুর সুরক্ষাই আমার জীবনের ব্রত

আমি প্রত্যাখ্যান করছি সেসব আইন, সংবিধান, নীতিমালা, বিচার ব্যবস্থা আর পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে, যারা আমাদের শিশুদের সুরক্ষা করতে পারে না

কৈলাস সত্যার্থী। বিশিষ্ট শিশু অধিকার কর্মী। তার সংগঠন শৈশব বাঁচাও আন্দোলন (বাচপান) ২০১৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ৮০ হাজারেরও অধিক শিশুকে ক্রীতদাসত্বের বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে মুক্ত করেছে এবং তাদের পুনর্বাসন ও শিক্ষায় সহযোগিতা করেছে। তিনি গান্ধীর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে শিশুশ্রম বন্ধের দাবিতে এবং আর্থিক লাভের জন্য শিশুকে ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও আন্দোলন চালিয়ে আসছেন অসম সাহসের সঙ্গে। শিশু অধিকার নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনভেনশনেও তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। এ কারণে মালালা ইউসুফজাইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে তাকে ২০১৪ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। তার বিখ্যাত নোবেল ভাষণের কিছু অংশ এখানে দেয়া হলোÑ 

এমন একটি পুরস্কারে ভূষিত করে আজ আপনারা আমাকে যে সম্মান দেখিয়েছেন, এ সম্মান আমার নয় বরং যে শিশুরা আজও দাসত্বের জীবন কাটাচ্ছে, শ্রম দিতে বাধ্য হচ্ছে অথবা পাচারের শিকার হচ্ছেÑ এ সম্মান তাদের জন্য। তাই এ অনুষ্ঠানে এসে আমি আমার বসার জায়গাটির পাশে একটি চেয়ার খালি রেখেছি। সমাজে যাদের পক্ষে কথা বলার কেউ নেই, পেছনে পড়ে থাকা সেসব লাখো শিশুর জন্য ওই চেয়ারটি। 
নোবেল কমিটি বিজয়ীদের আমন্ত্রণ জানায় এখানে এসে বক্তৃতা দেয়ার জন্য; কিন্তু আমি তো বক্তৃতা দিতে পারি না। আমি বক্তৃতা দিতে আসিওনি। আমি এখানে এসেছি নীরবতার ভাষার প্রতিনিধিত্ব করতে, নিরপরাধীর কান্নার প্রতিনিধিত্ব করতে এবং অদৃশ্যমানের মুখচ্ছবির প্রতিনিধিত্ব করতে। আমি এখানে এসেছি শিশুদের কণ্ঠস্বর আর তাদের স্বপ্নের কথা আপনাদের জানাতে। কারণ তারা আমাদের শিশু, তারা সবাই আমাদের শিশু! 
আমার এ যাত্রা শুরু হয়েছে প্রভু বৌদ্ধ থেকে। এ যাত্রায় আরও শামিল ছিলেন গুরু নানক, মহাত্মা গান্ধী। আমার এ ক্ষুদ্র প্রয়াস তাদের রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজকে সমাপ্ত করার লক্ষ্যে। 
আমি দুনিয়াজুড়ে শিশুদের ভয়ার্ত এবং অবসন্ন চোখের দিকে তাকাই। পৃথিবীর কাছে উত্থাপিত তাদের জরুরি প্রশ্ন শুনতে পাই। উত্তর খোঁজার চেষ্টা করি। বেশিরভাগ সময়ে উত্তর খুঁজে পাই না। 
দুই বছর আগে আমি হিমালয়ের পাদদেশে গিয়েছিলাম। আমার সঙ্গে দেখা হয়েছিল এক ছোট্ট ও ক্ষীণকায় শিশুর সঙ্গে। সে আমাকে প্রশ্ন করল, পৃথিবী কি এতই গরিব যে আমাকে একটি খেলনা আর একটি বই কিনে দিতে পারে না? অথচ তার বদলে আমাকে বাধ্য করছে যন্ত্র আর অস্ত্র বহন করতে!
আমার সঙ্গে দেখা হয়েছিল এক সুদানি শিশু সৈন্যের সঙ্গে, যাকে মৌলবাদী মিলিশিয়ারা অপহরণ করেছিল। অপহরণের পর প্রথম ট্রেনিং ছিল তার বন্ধু ও পরিবারকে হত্যা করা এবং এটা করতে তাকে বাধ্য করা হয়েছিল। সে আমাকে আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নটি করল, ‘আমার কী অপরাধ?’
শিশুদের স্বপ্নকে অবজ্ঞা করার চেয়ে জগতে বড় কোনো হিংস্রতা নেই! 
আমার জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো এজন্য নিজেকে উৎসর্গ করা যে, প্রত্যেক শিশু ‘শিশু’র মতো স্বাধীন হবে। বেড়ে ওঠা এবং বিকশিত হওয়ার স্বাধীনতা পাবে। খেতে, ঘুমাতে এবং দিবালোক দেখার ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবে। স্বাধীনভাবে হাসবে এবং কাঁদবে। স্বাধীনভাবে খেলবে। স্বাধীনভাবে স্কুলে যাবে এবং পড়বে। সর্বোপরি স্বাধীনভাবে স্বপ্ন দেখবে। 
প্রত্যেক মহান ধর্ম শিশুদের যতেœর কথা বলেছে। যিশু খ্রিস্ট বলেছেন, শিশুদের আমার কাছে আসতে দাও, তাদের বাধা দিও না। তারাই ঈশ্বরের সাম্রাজ্যের আসল বাসিন্দা। কোরআন বলেছে, ক্ষুধার জন্য তোমরা তোমাদের শিশুদের হত্যা কর না।
আমি প্রত্যাখ্যান করছি সেসব মসজিদ, মন্দির, গির্জাকে যেখানে আমাদের শিশুদের স্বপ্নের কোনো জায়গা নেই। আমি প্রত্যাখ্যান করছি সেই গরিব পৃথিবীকে যে পৃথিবীর এক সপ্তাহের সামরিক খরচ দিয়ে সব শিশুকে স্কুলে পৌঁছে দেয়া যায়! আমি প্রত্যাখ্যান করছি সেসব আইন, সংবিধান, নীতিমালা, বিচার ব্যবস্থা আর পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে, যারা আমাদের শিশুদের সুরক্ষা করতে পারে না। 
একটি অনুরোধ, এ মুহূর্তে এখানে উপস্থিত সবাই কিছুক্ষণের জন্য বুকের বাঁ পাশে একটু হাত রেখে চোখটা বন্ধ করুন। অনুভব করার চেষ্টা করুন, প্রত্যেকের মধ্যে একটি শিশু আছে। 
বন্ধুরা, এ সময়ে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় যে সংকটটি মানবতার দরাজার কড়া নাড়ছে সেটা হলো ‘অসহিষ্ণুতা’। এ সংকট থেকে শিশুদের রক্ষা করতে ‘চলুন আমরা এক্ষুণি বেরিয়ে পড়ি!’
ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্ত 
ভাষান্তর-মোঃ সাইদুর রহমান


আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ পেলেন ৯০ প্রাণী
পোলট্র্রির বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, সঠিকভাবে রোগবালাই নির্ণয়, চিকিৎসা এবং রোগ
বিস্তারিত
সবার উপরে বাবা-মা
যে-কোনো মানুষের গায়ে হাত তোলাই অপরাধ। আর সন্তান হয়ে বাবা-মায়ের
বিস্তারিত
স্মৃতির মানসপটে যুক্তরাজ্য সফর
বিদেশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়তো অনেকেরই হয়ে থাকে। তবে কলেজের প্রতিনিধি,
বিস্তারিত
ব্যবসার ধারণা : গড়তে চাইলে
নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা
বিস্তারিত
৭৫ শতাংশ বৃত্তিতে আইটি ও
বিভিন্ন কারণে যারা আইটিতে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত তাদের
বিস্তারিত
লক্ষ্য যখন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিপরীতে ক্রমাগত উর্বরা জমির পরিমাণ কমছে। জনসংখ্যার এ
বিস্তারিত