বিশ্ববিদ্যালয়ের হল লাইফ

ক্লাসের বাইরে গণরুমেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুগভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। এক রুমে একসঙ্গে এতগুলো ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যে মিথস্ক্রিয়া গড়ে ওঠে, তা পড়াশোনার নতুন পরিবেশকে খুব স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক আনন্দময় করে তোলে আর গণরুমে যে বন্ধুত্ব হয়, তা পুরো ক্যাম্পাস লাইফেই টিকে থাকে

বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া শিক্ষার্থীদের হলে থাকার অভিজ্ঞতার সঙ্গে অন্য কিছুর তুলনাই হয় না। ক্যাম্পাস লাইফে হলে থেকে পড়াশোনা করার অনেক সুবিধা রয়েছে, এছাড়া সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলিতে অংশগ্রহণসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর কার্যক্রমে হলের শিক্ষার্থীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারেন।
হলে ওঠার জন্য প্রথম বর্ষই উপযুক্ত সময়। কেননা এ সময়ে নবীন শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের সবকিছুর সঙ্গে খুব সহজেই মানিয়ে নেন। যদিও প্রথম বর্ষে হলে সিট পাওয়া খুব কঠিন, তাই অধিকাংশ নবীন শিক্ষার্থীকে গণরুমেই থাকতে হয়। এ গণরুমে থাকার অভিজ্ঞতা সত্যি অসাধারণ। ক্লাসের বাইরে গণরুমেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুগভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। এক রুমে একসঙ্গে এতগুলো ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যে মিথস্ক্রিয়া গড়ে ওঠে, তা পড়াশোনার নতুন পরিবেশকে খুব স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক আনন্দময় করে তোলে আর গণরুমে যে বন্ধুত্ব হয়, তা পুরো ক্যাম্পাস লাইফেই টিকে থাকে। এমনকি দ্বিতীয় বর্ষে সিট পাওয়ার পর গণরুমের সবাই ভিন্ন ভিন্ন রুমে চলে গেলেও গণরুমের স্মৃতিটা মনের মধ্যে গেঁথে থাকে, তাই গণরুম ছেড়ে চলে আসার পরও অনেকেই গিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেন ও তাদের গণরুমে থাকার অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীমউদ্দীন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ফিরোজ আহাম্মেদ তার গণরুমের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন ঠিক এভাবে, ‘এখানে প্রথমে একে অপরকে অপরিচিত মনে হলেও পরবর্তী সময় তারাই সবচেয়ে কাছের বন্ধু হয়ে যান। যেমন যে কোনো কাজ সবাই মিলে একসঙ্গে করা, রাতের বেলা বন্ধুরা মিলে ক্যাম্পাসে ঘুরতে যাওয়া। রুমে কোনো বিশেষ কারণ ছাড়াই চানাচুর, পেঁয়াজ, মরিচ আর তেল দিয়ে মুড়ি পার্টির আয়োজন করা, গভীর রাতে গাছে চড়ে ফল পেড়ে খাওয়া, দলবেঁধে নীলক্ষেতে মামা হোটেলে খেতে যাওয়া ইত্যাদি মজার মজার অভিজ্ঞতা গণরুমে হয়ে থাকে।’ 
গণরুমে রাত জেগে আড্ডা দিয়েও শিক্ষার্থীরা সকাল ৮টায় ক্লাস করতে যান, যা সত্যি প্রশংসনীয়। শিক্ষার্থীরা হলো ক্যান্টিনে সকালের নাশতা অথবা হলের ভেতরের টং দোকানগুলো থেকে খিচুড়ি, ডিম বন, দই চিঁড়া, নুডলস প্রভৃতি খেয়ে ক্লাসে যান। দুপুরে খাবারটা হলে এসেই খান অথবা কলা ভবন ক্যাফেটেরিয়া, যা ডাকসু ভবনে অবস্থিত সেখানে কিংবা টিএসসিতে খেয়ে থাকেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্পমূল্যে খাবার পাওয়া যায়। এছাড়াও সেন্ট্রাল লাইব্রেরির সামনে বা হাকিম চত্বরে অনেকেই দুপুরের খাবার খান। অন্যদিকে একটু বেশি টাকা খরচ করে আইবিএ ক্যান্টিন বা এফবিএস ফুড কোর্টেও কেউ কেউ দুপুরের খাবার খান। আবার আইইআর বা আইএমএল ক্যান্টিনেও দুপুরের খাবার পাওয়া যায়। এছাড়া শিক্ষার্থীরা যে কোনো হলেই দুপুরের খাবার খেতে পারেন, তবে মেয়েদের অন্য হলে খাবার খেতে আইডি কার্ড দেখাতে হয়। 
অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের পরিচালনায় হলগুলোতে মেস রয়েছে, যেখানে টাকা জমা দিয়ে কার্ড করে সদস্য হতে হয়। শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই নির্দিষ্ট সময়ে মেস পরিচালনার জন্য একজন ম্যানেজার হন, যিনি মেস সদস্যদের টাকা সংগ্রহসহ সদস্যদের মধ্যে বাজার করার দায়িত্ব ভাগাভাগি করে দেন। 
ক্যাম্পাসের পানি পাতাল থেকে উঠানোর ফলে খেতে কোনো সমস্যা হয় না। এছাড়া ডাকসুতে অবস্থিত কলা ভবন ক্যাফেটেরিয়া ও টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ায় কমমূল্যে নাশতাসহ এক টাকায় চা পাওয়া যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি হলেই ডিবেটিং ক্লাব ও স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন বাঁধন রয়েছে। এক্ষেত্রে আবাসিক শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিতর্কচর্চা করে দেশসেরা বিতার্কিকে পরিণত হওয়ার সুযোগটি সহজেই পেয়ে থাকেন, যা অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটু কষ্টকর হয়ে যায়। কেননা হল ডিবেটিং ক্লাবের সেশনগুলো রাতেই হয়ে থাকে।
এছাড়া হলে ডিপার্টমেন্টভিত্তিক সংগঠন রয়েছে, সাম্প্রতিক কুইজ ক্লাবেরও যাত্রা শুরু হয়েছে, যেখানে সাধারণ জ্ঞানচর্চা করা হয়। হল লাইব্রেরিতে শিক্ষার্থীরা ডিপার্টমেন্টের বই ছাড়াও সহ-পাঠ্যক্রমিক বই অধ্যয়ন করতে পারেন। হলের পত্রিকা রুমে সাত থেকে আটটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা স্ট্যান্ডে গেঁথে দেয়া থাকে, এছাড়া বিভিন্ন সাপ্তাহিক ও পাক্ষিক ম্যাগাজিনগুলোও পত্রিকা রুমে থাকে।
হলের গেমস রুমে শিক্ষার্থীরা টেবিল টেনিসসহ ক্যারম বোর্ড, দাবা ইত্যাদি খেলে থাকেন। প্রতিটি হলেই বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে, যেখানে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারেন। 
স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসে হল থেকে বাসে করে শিক্ষার্থীরা সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মহান শহীদদের শ্রদ্ধা জানান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবসও পহেলা বৈশাখে হলের শিক্ষার্থীদের জন্য হল থেকে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। ছেলেদের হলে আবাসিক ও দ্বৈতাবাসিক কার্ড করতে হয়, তবে মেয়েদের হলে শুধু আবাসিক কার্ড করা হয়। 
মেয়েদের হলেও ছেলেদের হলের মতো সব সুবিধার পাশাপাশি প্রতি ফ্লোরেই চুলার ব্যবস্থা থাকে, যেসব শিক্ষার্থী হল ক্যান্টিনে খান না; তারা সেখানে রান্না করেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর সুযোগ-সুবিধাও বলতে গেলে একই রকম। বিশেষ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য খুব কাছ থেকে উপভোগ করতে পারেন। 
বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো প্রাকৃতিক পরিবেশের মাঝেই অবস্থিত, যা শিক্ষার্থীদের সুস্থ দেহ ও মনে বিকশিত হয়ে পরবর্তী সময় দেশ ও জাতির জন্য ভূমিকা রাখতে উদ্বুদ্ধ করে।


আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ পেলেন ৯০ প্রাণী
পোলট্র্রির বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, সঠিকভাবে রোগবালাই নির্ণয়, চিকিৎসা এবং রোগ
বিস্তারিত
সবার উপরে বাবা-মা
যে-কোনো মানুষের গায়ে হাত তোলাই অপরাধ। আর সন্তান হয়ে বাবা-মায়ের
বিস্তারিত
স্মৃতির মানসপটে যুক্তরাজ্য সফর
বিদেশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়তো অনেকেরই হয়ে থাকে। তবে কলেজের প্রতিনিধি,
বিস্তারিত
ব্যবসার ধারণা : গড়তে চাইলে
নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা
বিস্তারিত
৭৫ শতাংশ বৃত্তিতে আইটি ও
বিভিন্ন কারণে যারা আইটিতে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত তাদের
বিস্তারিত
লক্ষ্য যখন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিপরীতে ক্রমাগত উর্বরা জমির পরিমাণ কমছে। জনসংখ্যার এ
বিস্তারিত