বনের খাবারই ভালো

গাট্টু ভাবছে ছোট্ট খোকনের এত জেদ হয়, তাহলে বড়দের কী অবস্থা হবে? 
তাই গাট্টু ভাবল, মানুষ খাওয়ার দরকার নেই, নিজের জান নিয়ে বনেই 
ফিরে যাই। মানুষও ভালো থাকুক, আমিও ভালো থাকি

গাট্টু আর টেনির অনেক ভাব। ডালের ওপর টেনি বসেছে আর তলায় গাট্টু। তারা দুইজনে সুখ-দুঃখের কথা বলছে। গাট্টু হচ্ছে বাঘ আর টেনি হচ্ছে বানর। 
গাট্টু বলল, ‘দুই দিন ধরে পেটে কিচ্ছু পড়েনি, পানি খেয়ে আছি।’
কেন কেন?
হরিণগুলো ভয়-তরাসে হয়ে গেছে। একটা গাছের পাতা পড়লেই দৌড়ে পালায়।
টেনি বলে, খালে মাছ তো আছে।
গাট্টু বলে নেই। জেলেরা জাল টেনে সব ছেঁকে নিয়ে গেছে। টেনির দিকে তাকিয়ে বলে, ‘তুই খাসা আছিস ভাই। খাস ফলমূল, ঠ্যাং তুলে তারা আর পালাতে পারে না।’
তুই যে কী বলিস না, আমার খাবার জোগাড় করতেও অনেক কষ্ট, গাঁ-গ্রামে গিয়ে চরে ফিরে খাই, সেই জন্য তো বনে ফলের অভাব হয় না।
গাট্টু ধরে বসল, ‘আমিও গ্রামে যাব। যাইনি কখনও। তাই ভয় ভয় করে। কিন্তু না গিয়ে আর চলছে না।’ টেনি সাহস দিয়ে বলে, ‘কীসের ভয়? যে গাঁয়ে ইচ্ছে ঢুকে পড়বি, গরু-বাছুর, ছাগল-কুকুর, হাঁস-মুরগি দেদার ধরে ধরে খাবি। চাই-কী মানুষও’।
গাট্টু শিউরে উঠে বলে, ওরে বাবা, ওই জন্তুর শুনেছি বুদ্ধি সাংঘাতিক।
‘হলে হবে কী। হরিণের মতো দৌড়াতে পারে না। জোড়া শিং নেই গরুর মতো। বানর আমরা আঁচড়াই-কামড়াই, ওদের সে ক্ষমতা নেই, এমনকি কষে দাঁত খিঁচিয়ে খানিকটা ভয় দেখাবে, সেটুকুও পারে না। চারখানার জায়গায় পা মোটে দুটো। ঘাড় মটকানো অনেক সোজা, ধরলেই কাত।’
গাট্টুর ভয় তবুও যায় না। বলল-অজানা গাঁয়ে যাব না ভাই, তুই যে তল্লাটে যাস আমিও সেখানে যাব।
পরদিন টেনি আর গাট্টু রওনা হলো কাছের একটা গ্রামে। যাওয়ার সময় টেনি গাট্টুকে বলল, দেখিস পেটের ক্ষিদেয় আগে বেরিয়ে পড়িস না, ঝোপেঝাপে গা ঢাকা দিয়ে থাকবি। চারদিকে অন্ধকার হয়ে গেলে এরপর বের হবি। একটা খাসা জায়গা দেখে গাট্টু ঘাপটি মেরে রইল।
জানালা খোলা, ঘরের মধ্যে বাচ্চা ছেলে কাঁদছে। কান্না থামাতে মা অনেক চেষ্টা করছে। বলে ‘চুপ চুপ! শিয়াল এসেছে খোকন, কান্না থামাও। নয়তো ক্যাক করে টু’টি ধরে নিয়ে যাবে।’ বাচ্চা থামবে কী, কান্নার জোর আরও বাড়িয়ে দিল। গাট্টু ভাবছে একরত্তি মানুষের ছানা; কিন্তু সাহস কী বিষম! শিয়াল শুনে আমলে দিল না।
মা এবার বলে, ‘খোকনমণি, কেঁদো এসেছে রে, কানাচে আছে। চুপ চুপ!’
গাট্টুকেই বুঝি কেঁদো বলেছে। মন্দের ভালো। কিন্তু কান্নার আরও জোর বাড়ল। গাট্টু তাজ্জব, মানুষ নামের জন্তু কী দুর্দান্ত রে? এক ফোঁটা ছেলে তারও ঘুমানোর জন্য কী কী দরকার। 
কিছুতেই না পেরে মা এবার বাঘই এনে ফেলল। ‘খোকন রে, বাঘ এসে গেছে। যেমন-তেমন নয়, বাঘের রাজা রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হালুম করে ঝাঁপিয়ে পড়বেÑ চুপ চুপ!’
খোকন এবার কান্নার সঙ্গে পা-দাপানি করে। মা রেগে যায়, ‘তবে রে ছেলে, বড্ড জেদ হয়েছে তোমার?’
গাট্টু ভাবছে ছোট্ট খোকনের এত জেদ হয়, তাহলে বড়দের কী অবস্থা হবে? তাই গাট্টু ভাবল, মানুষ খাওয়ার দরকার নেই, নিজের জান নিয়ে বনেই ফিরে যাই। মানুষও ভালো থাকুক, আমিও ভালো থাকি। 
বনে আসার পর টেনি গাট্টুকে জিজ্ঞেস করল, কিরে খাওয়া-দাওয়া কেমন হলো?
আর খাওয়া! ছোট্ট খোকনের জিদ দেখেই তো ভয় পেলাম। আর বড়দের তো আরও বেশি জেদ হবে, আর তারা যদি আমাকে ধরে, তাহলে কী আমি বাঁচব? এ ভয়েই চলে বনে ফিরে এলাম। টেনি অবাক হয়ে বলে, কী?
গাট্টু ব্যাখ্যা করে বলে, মানুষ যেহেতু বনে আমাদের কামড়াতে আসে না, তাহলে আমরা কেন মানুষ কামড়াতে যাব? তার চেয়ে ভালো বনেই থাকি, বনের খাবারই খাই। হ


ভাইয়ের ভালোবাসা
রুহানকে ভাইয়ের ভালোবাসা বোঝানোর জন্যই মামার এই কৌশল। এ কথা
বিস্তারিত
শরৎ সাজ
শরৎ সাজ পাই খুঁজে আজ শিউলি ফোটা ভোরে পল্লী গাঁয়ের মাঠে
বিস্তারিত
মশারাজ্যে
প্যাঁপো লাফাতে লাফাতে বলল, ‘আমি আগেই সন্দেহ করেছিলাম, আপনি বিদেশি
বিস্তারিত
আবার শরৎ এলো
নদীর ধারে শাদা ফুলের দোলা,
বিস্তারিত
জাতীয় কবি
ছোট্টবেলায় বাবা মারা যান অসহায় হন ‘দুখু’ সংসারে তার হাল ধরা
বিস্তারিত
বিদ্রোহী নজরুল
চুরুলিয়ার সেই ছেলে তুমি  কবিতার নজরুল, রণাঙ্গনের বীর সৈনিক প্রাণেরই বুলবুল। কেঁদেছো তুমি দুখীর
বিস্তারিত