সরদার জয়েন উদ্দীনের জন্মশতবার্ষিকী আলোচনা

গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে ৮ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টায় অনুষ্ঠিত হয় সরদার জয়েন উদ্দীনের জন্মশতবার্ষিকী শীর্ষক আলোচনা। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কথাসাহিত্যিক হরিশংকর জলদাস, অধ্যাপক বায়তুল্লাহ কাদেরী, সরদার জয়েন উদ্দীনের ছেলে জ্যোতি জয়েন উদ্দীন এবং মোবাশ্বিরা ফারজানা মিথিলা। সভাপতিত্ব করেন ড. মোহাম্মদ জয়নুদ্দীন।
সরদার জয়েন উদ্দীন : জীবনদর্শন ও সাহিত্যসাধনা শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করে প্রাবন্ধিক বলেন, বিভাগ-পরবর্তীকালে ঢাকাকেন্দ্রিক কথাসাহিত্যের ভুবনে একটি উজ্জ্বল ও বিশিষ্ট নাম সরদার জয়েন উদ্দীন। বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে, ভাষা ও সংস্কৃতির ক্রান্তিকালে, বাংলা সাহিত্যে তার দীপ্র আবির্ভাব। সাতচল্লিশ-উত্তর কালখ-ে পাকিস্তানি-প্রভাবিত গদ্যের জঞ্জাল থেকে আমাদের সাহিত্যকে সম্মিলিত সাধনায় যারা উদ্ধার করেছিলেন সরদার জয়েন উদ্দীন তাদের অন্যতম। জীবনে স্থিত হওয়ার সুযোগ তেমন পাননি, সব সময় তাকে তাড়িয়ে বেড়িয়েছে অভাব ও দারিদ্র্য, সর্বদা ছিল পেশাগত অনিশ্চয়তাÑ তবু তিনি আপস করেননি কখনও, নিজেকে কখনও গুটিয়ে নেননি সৃজনভুবন থেকে। তিনি বলেন, সাংবাদিকতা এবং সাহিত্যের জগতে সরদার জয়েন উদ্দীন সর্বদা ছিলেন প্রগতির পক্ষে, মানবতার পক্ষে। একসময় পঞ্চাশ-ষাটের দশকে ঢাকার সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চায় অবশ্য উচ্চার্য নাম ছিল সরদার জয়েন উদ্দীন; কিন্তু পরিবর্তমান রুচি ও সমাজস্রোতে এখন তিনি প্রায়-বিস্মৃত এক নাম। তবে যারা সৎ পাঠক, তাদের চেতনায় জয়েন উদ্দীন সর্বদা জেগে থাকবেন। জেগে থাকবেন এ কারণে, কেননা তার সাহিত্যে আছে গণমানুষের কল্যাণাকাক্সক্ষা, আছে তাদের মুক্তি-আকুতির কথা। 
আলোচকবৃন্দ বলেন, সরদার জয়েন উদ্দীন বাংলাদেশের কথাসাহিত্যে এক উজ্জ্বল নাম। এদেশের গ্রাম-সমাজ, বিচিত্র পেশাজীবী মানুষ তার গল্প ও উপন্যাসে ফুটে উঠেছে গভীর পর্যবেক্ষণে, সুনিপুণ শিল্প-আঙ্গিকে এবং দরদি ভাষায়। শিশুসাহিত্যেও তিনি এক অবশ্য-উচ্চার্য নাম। সংগঠক হিসেবেও তিনি অনন্য। এদেশে প্রাতিষ্ঠানিক গ্রন্থমেলার সূত্রপাতে তার পরিকল্পনা ও ভূমিকা অবিস্মরণীয়। 
সভাপতির বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ জয়নুদ্দীন বলেন, সরদার জয়েন উদ্দীন বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যাওয়ার মতো লেখক নন। তিনি আমাদের সাহিত্যের পথিকৃৎ লেখকদের একজন। এদেশের কথাসাহিত্যে মাটি ও মানুষের কথা সবলভাবে সঞ্চার করে তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন, থাকবেন শতবর্ষ পেরিয়েও। 
কথাসাহিত্যিক সরদার জয়েন উদ্দীনের জন্ম ১৯১৮ সালে পাবনার কামারহাটি গ্রামে। পিতা তাহেরউদ্দিন বিশ্বাস, মা রাবেয়া খাতুন। শিক্ষাজীবন খলিলপুর হাই স্কুল, পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে। কর্মজীবনে তিনি সেনাবাহিনীর কেরানি, সাংবাদিক, সম্পাদক ও সরকারি চাকুরে। তবে এসব পরিচয় ছাপিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য একজন কথাসাহিত্যিক। তিনি শিশু-কিশোর ম্যাগাজিন ‘সেতারা’ ও ‘শাহীন’ এর সম্পাদক ছিলেন কিছু দিন। এর মধ্য দিয়ে তিনি সাহিত্য রচনা করে গেছেন। সমকালীন সমাজের সংকট, মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, গ্রামীণ সমাজের অবহেলিত মানুষের বেদনা, জমিদার, জোতদার ও মহাজনের শোষণ-নিপীড়ন ছিল তার সাহিত্য রচনার বিষয়বস্তু। তার উল্লেখযোগ্য রচনা : উপন্যাসÑ ‘আদিগন্ত’, ‘পান্নামতি’, ‘নীল রং রক্ত’, ‘অনেক সূর্যের আশা’, ‘বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ’; ছোটগল্প : ‘নয়ন ঢুলি’, ‘বীরকণ্ঠীর বিয়ে’, ‘খরস্রোত’, ‘বেলা ব্যানার্জীর প্রেম’, ‘অষ্টপ্রহর’; শিশুসাহিত্য : ‘উল্টোরাজার দেশ’, ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’, ‘অবাক অভিযান’। ‘অনেক সূর্যের আশা’ উপন্যাসের জন্য তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী পুরস্কার পান। ১৯৬৭ সালে পান বাংলা একাডেমি পুরস্কার। ১৯৮৬ সালের ২২ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। 


খবরটি পঠিত হয়েছে ১৯৬০ বার

গ্রন্থমেলার কথা
গ্রন্থমেলার দ্বিতীয় সপ্তাহের শেষদিক ও তৃতীয় সপ্তাহ যেন ফাগুনের রঙ
বিস্তারিত
বিজ্ঞানের বহু গতিপথ
এ বিশ্বব্রহ্মা-ে মানবীয় সীমানা কতটুকু? শতাব্দী আগে এ প্রশ্নের উত্তর
বিস্তারিত
মেলায় আসা নতুন বই
বটেশ্বর বর্ণন : বাংলাদেশের গণমাধ্যম : ঘরে বাইরে। লেখক চিন্ময়
বিস্তারিত
জাতিসংঘ ও বাংলাদেশের সম্পর্কের নানা
বাংলাদেশে জাতিসংঘে তথ্য কেন্দ্রের অধিকর্তা হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন কাজী
বিস্তারিত
পৌরাণিক বাগধারা
বাগধারার জন্ম হয় মুখে মুখে। সাধারণত কোনো ঘটনা থেকেই জন্ম
বিস্তারিত
প্রবাসী লেখকের বই
গ্রন্থমেলায় এসেছে প্রবাসী লেখক কাজী জহিরুল ইসলামের ৭টি নতুন
বিস্তারিত