আনন্দময় শিক্ষা সফর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের জন্য ২২ থেকে ২৭ জানুয়ারি সময়টি অন্য রকম আনন্দের দিন ছিল। কেননা চার দেয়ালে প্রথাগত শিক্ষার বাইরে সবাই প্রকৃতির কাছে এ কয়েকটা দিন একেবারেই মিশে গিয়েছিলেন।
বান্দরবান
২২ জানুয়ারি রাতে তারা যাত্রা শুরু করেন অপরাজেয় বাংলা থেকে। পরদিন খুব ভোরে বান্দরবান পৌঁছানোর পর হোটেলে সকালের নাশতা করে চাঁদের গাড়িতে করে সবাই রওনা দেন নীলগিরির উদ্দেশে। পাহাড়ি উঁচু রাস্তায় সবাই ব্যাপক আনন্দের সঙ্গেই ভ্রমণটি উপভোগ করেন। নীলগিরিতে গিয়ে মেঘেদের মাঝে পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখে সবাই অভিভূত হয়ে পড়েন। সেইসঙ্গে স্থানীয় দোকানগুলোয় মন ভরে পাহাড়ি কলা খেয়ে তারা কিছু সময়ের জন্য হলেও শহরের কেমিক্যাল মেশানো কলার কথা ভুলে থাকতে সক্ষম হন। নীলগিরি থেকে তারা চিম্বুক পাহাড়ে যান, শহরে বেড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের কাছে পাহাড়ি উঁচু রাস্তা বেয়ে উপরে ওঠার রোমাঞ্চটাই অন্যরকম ছিল। 
হোটেলে ফিরে দুপুরের খাবার খেয়ে তারা রওনা দেন স্বর্ণমন্দিরে। সোনালি রঙের প্রলেপে পুরো মন্দিরটিতে এক অন্যরকম সৌন্দর্য অনুভূতি বিরাজ করে, যা বিমোহিত করে তোলে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের। তারপর তারা রওনা দেন মেঘালয়ে, সেখানে পাহাড়ের মাঝে ঝুলন্ত সেতু শিক্ষার্থীদের মনে অন্য রকম ভালো লাগার আবেশ ছড়িয়ে দেয়। এবার বিস্তীর্ণ পাহাড়ের মাঝে সূর্যাস্ত দেখার পালা, সবাই চাঁদের গাড়িতে করে খুব দ্রুত রওনা দেন নীলাচলে। খোলা আকাশে পাহাড়ের মাঝে সূর্যাস্ত দেখে শিক্ষার্থীরা অপলক নয়নে সম্মুখপানে তাকিয়ে উপভোগ করেন প্রকৃতির এ নৈসর্গিক সৌন্দর্য।
কক্সবাজার
বান্দরবান থেকে শিক্ষার্থীরা গিয়েছিলেন কক্সবাজারে। বাস যখন কক্সবাজারে গিয়ে পৌঁছায়, তখন দূর থেকে সমুদ্রের গর্জন তাদের যেন আমন্ত্রণ জানাচ্ছিল। তারা হোটেলে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে রাতের সমুদ্র দেখতে বেড়িয়েছিলেন, সে এক অন্য রকম অভিজ্ঞতা। কীভাবে দূর থেকে ঢেউগুলো এসে তীরে আছড়ে পড়ছে, এ দৃশ্য চোখের সামনে না দেখলে কখনোই পুরোপুরিভাবে উপলব্ধি করা যাবে না। সমুদ্রের বিশালতা দেখে মুহূর্তেই যেন শিক্ষার্থীদের মনটা ভালো হয়ে যায়। বাসে করে দীর্ঘ রাস্তা ভ্রমণের ক্লান্তি ভাবটা তখন আনমনে কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছিল। 
হোটেলে ফিরে ঘুমিয়ে পরের দিন সকালে তারা নাশতা সেরে চলে গিয়েছিলেন কলাতলী সি বিচে। সেখানে গিয়ে তারা সমুদ্রে দাপাদাপি করে গোসলসহ ব্যাপক আনন্দ করেছেন। যারা সাঁতার পারেন না, তারা হাঁটু বা কোমর পানি পর্যন্ত নেমেছিলেন। তখন সমুদ্রে ভাটার সময় ছিল। সমুদ্র থেকে হোটেলে ফিরে শিক্ষার্থীরা দুপুরের খাবার খেয়ে রওনা দেন ইনানী সি বিচের উদ্দেশে। সেখানে গিয়ে সূর্যাস্ত দেখে সবাই বিমোহিত হয়ে পড়েন, সমুদ্র এত সুন্দর হয়? কী চমৎকার নান্দনিকতায় ঢেউগুলো আছড়ে পড়ছে তীরে এসে, এর কোনো বিরাম নেই। শুভ্র স্বপ্নিল সাদা রঙের ঢেউগুলো যেন অনন্তকাল ধরেই এভাবে রুটিনমাফিক আছড়ে পড়ছে তীরে এসে, আর সুবিশাল আকাশের সঙ্গে মিতালী ও বন্ধুত্বের মিশেলে প্রকৃতির এক অপরূপ অতুলনীয় সৌন্দর্যকে তুলে ধরছে।
সেন্টমার্টিন
২৫ জানুয়ারি ভোর ৪টায় ঘুম থেকে উঠে শিক্ষার্থীরা বাসে করে টেকনাফে গিয়ে পৌঁছান। সেখানে গিয়ে সকালের নাশতা সেরে ক্রুজে করে তারা রওনা দেন সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে, বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে ক্রুজ যখন চলতে শুরু করল, তখন ক্রুজের দুই পাশ দিয়ে সিগালগুলো উড়ে উড়ে যাচ্ছিল আর শিক্ষার্থীরা পাখিগুলোকে চিপস, বিস্কুট, পাউরুটি আর মুড়ি ছুড়ে মারছিলেন। পাখিগুলো যেভাবে উড়ন্ত অবস্থায় মুখ দিয়ে খাবারগুলো গিলে খাচ্ছিল, তা এককথায় অসাধারণ; যা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। অনেকেই এ দৃশ্য ভিডিওধারণ করে রাখছিলেন।
২৫ জানুয়ারি দুপুরে সেন্টমার্টিনে এসে শিক্ষার্থীরা রিসোর্টে ওঠেন। সমুদ্র লাগোয়া রিসোর্টের উঠোনে দুইটি নারিকেল গাছের সঙ্গে বাঁধা দোলনায় দুলতে দুলতে সাগর দেখা শিক্ষার্থীদের মনে অন্য রকম ভালো লাগার আবেশ ছড়িয়ে দিচ্ছিল। শিক্ষার্থীরা বিকালে সাইকেলে করে বিচ এলাকাটি ঘুরে বেড়িয়েছেন, সেইসঙ্গে তারা সাগরের তীর ঘেঁষে স্থাপিত দোকানগুলো থেকে টুকটাক কেনাকাটাও সেরে নেন। রাতে তারা বারবিকিউ পার্টি ও ফানুশ ওড়ানোর ব্যবস্থা করেন।
পরদিন সকালে ইঞ্জিনচালিত নৌকা করে তারা রওনা দেন ছেঁড়া দ্বীপের উদ্দেশে। সেখানে তীরের কাছাকাছি এসে খেয়া নৌকায় করে তীরে ভেড়েন। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রবাল দ্বীপটিতে শিক্ষার্থীরা মহানন্দে ছোট ছোট শামুক ও ঝিনুক কুড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, আর সেই সঙ্গে মুহুর্মুহু ফটো তোলা অবিরাম চলতেই থাকে। ছেঁড়া দ্বীপই ছিল শিক্ষার্থীদের শেষ গন্তব্যস্থল, তারপর আবার সারা রাত বাস জার্নি করে তারা ২৭ জানুয়ারি সকালে ঢাকায় ফিরে আসেন।
প্রথমবারের মতো এ স্পটগুলো দেখার অভিজ্ঞতা কখনোই ভুলতে পারবেন না বলে জানান শিক্ষার্থী ফারহিন হায়দার পরমা। শিক্ষা সফরে শিক্ষকদের মধ্যে অধ্যাপক ড. আবদুল মুহিত, বিভাগীয় ছাত্র উপদেষ্টা দাউদ খান ও সহকারী অধ্যাপক আহম্মদ উল্লাহ গিয়েছিলেন। 
পুরো শিক্ষা সফরের আয়োজনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফিরোজ, তারিফ, ইজাজ, সিয়াম, সালেম, তাহেরা ও লিজা সবকিছুর ব্যবস্থা করেছেন।
এভাবেই প্রকৃতির কাছে স্মৃতির পাতায় সারা জীবন মনে রাখার মতো সময় শিক্ষার্থীরা কাটিয়ে এলেন, যা আসলে কখনোই ভুলার নয়।


খবরটি পঠিত হয়েছে ৪৭৪০ বার

ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষার সুযোগ-সুবিধা
ইউরোপের যে দেশেগুলোয় টিউশন ফি ছাড়া উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা যায়
বিস্তারিত
যারা স্বপ্ন বোনে সুতোয়
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস অনেক পুরনো। ১৯২১ সালে যার শুরু
বিস্তারিত
ইরানের ‘৩৫তম ফজর ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম
বৃত্তির অংশ হিসেবে তিনি বিমান ভাড়াসহ ইরানে থাকা-খাওয়া ও অভ্যন্তরীণ
বিস্তারিত
বিশ্বের কয়েকটি জনপ্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন
বিশ্বের জনপ্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করার ইচ্ছা সবারই থাকে। কিন্তু অর্থনৈতিক
বিস্তারিত
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে বর্ষবরণ
ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল
বিস্তারিত
ডাক্তার হতে চাইলে আগে জানতে
বড় হয়ে ডাক্তার হব! বিজ্ঞান শাখার অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের আজন্ম ইচ্ছা
বিস্তারিত