পরিত্যাক্ত ঘোষণার ৮ বছর পার

মুন্সীগঞ্জে কলেজের ছাত্রাবাস অপসারণ হয়নি

প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি সার্থকতা ব্যার্থতার মধ্যে ইতোমধ্যে ৭৯ বছরে পা দিয়েছে দেশের অন্যতম প্রাচীন বিদ্যাপিঠ সরকারী হরগঙ্গা কলেজ।কলেজটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে কিছুটা সমালোচনা থাকলেও  সৃষ্টি করেছে অসংখ্য বরেন্য ব্যক্তিত্ব। 
অজ্ঞতার অন্ধকার কুসংস্কার দূরীকরণে, আর্দশ শিক্ষা লাভের মাধ্যমে প্রকৃত মানুষ সৃষ্টি করতে শিক্ষার আলো সবর্ত্রই ছড়িয়ে দিতে মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ি উপজেলা ধীপুর ইউনিয়নের রাউতভোগ গ্রামের আশুতোষ গাঙ্গুলী পিতা স্বগীয় হরনাথ গাঙ্গুলী এবং মাতা স্বগীয় গঙ্গামনি দেবীর নামের প্রথমাংশ মিলিয়ে ১৯৩৮ সালে ১৮ ডিসেম্বর হরগঙ্গা কলেজ প্রতিষ্টা করা হয়। 
অবিভক্ত বাংলা তৎকালীন বাংলার প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ১০.৭০ একর জমির ওপর কলেজর ভিত্তিপ্রস্তর স্থপান করেন। যা ১৯৮০ সালে জাতীয় করণ করা হয়। এ কলেজের ঝুকিপুর্ণ পুরনো ছাত্রাবাসটি আট বছর আগে পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হলেও এখন পর্যন্ত ভেঙ্গে অপসারণ করা হয়নি। 
প্রশাসনিক স্থবিরতায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর থেকে অনুমতি না আসায় ছাত্রাবাসটি অপসারণের কাজ শুরু করতে পারেনি কলেজ প্রশাসন। 
অন্যদিকে ছাত্রদের অন্য ছাত্রাবাসটির অবস্থা শোচনীয়। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, গোমট হলরুম, নোংরা ওয়াশরুম, পানি সংকটের মধ্যে চলছে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ছাত্রদের ছাত্রাবাস জীবন।  ছাত্রাবাস সংকটের কারণে তাই অন্য জেলার ছাত্রদের থাকতে হচ্ছে বাসা ভাড়া করে মেসে। এতে শিক্ষার্থীদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি খরচ। 
কলেজ প্রতিষ্ঠার পর স্থানীয় ছাত্রছাত্রী ছাড়াও আশপাশের জেলাগুলো থেকে ছাত্রছাত্রী ভর্তি হতে থাকে। তাই দুরদুরান্ত  থেকে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য কলেজ প্রাঙ্গনে ১৯৪০ সালে একটি তিন তলা ছাত্রাবাস নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘ সময়ের ব্যবহার করা এ ছাত্রাবাসটি  সংস্কারের উদ্যোগ না থাকায় ২০০৮ সালের ফেব্রয়ারি মাসে ছাত্রাবাসটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ছাত্রদের হল থেকে নামিয়ে দেয়া হয়।পরিত্যক্ত ভবন সরিয়ে নেয়ার অনুমতি চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত অনুমোদন না পাওয়ায় ভবনটি ভাঙ্গার কাজ শুরু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
পুরাতন ছাত্রাবাসটি পরিত্যাক্ত ঘোষণার পর দুরের অন্য জেলা থেকে হরগঙ্গা কলেছে পড়তে আসা ছাত্ররা পড়েছে আবাসন সংকটে। এদিকে ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া শহীদ জিয়াউর রহমান ছাত্রাবাসটির অবস্থাও শোচনীয়। ১০০ আসনের এ ছাত্রাবাসের স্যাঁত স্যাঁতে দেয়াল, ভাঙ্গা বেসিন, দরজা ভাঙ্গা নোংরা টয়লেটসহ নানা দুর্ভোগের মধ্যে কাটাচ্ছে তাঁদের ছাত্রাবাস জীবন। তবে এ ছাত্রাবাসটি সংস্কারের কাজ চললেও পুরোপরি এখনও শেষ করা হয়নি। এদিকে ছাত্রাবাসে জায়গা না পেয়ে ময়মনসিংহ, চাঁদপুর, শরিয়তপুর, মাদারিপুর, ফরিদপুর কুমিল্লাসহ অন্যান্য জেলা থেকে আসা ছাত্রদের বাধ্য হয়ে থাকতে হচ্ছে মেসে। এতে তাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি খরচ। তাই ছাত্রদের দাবি ছাত্রাবাস সঙ্কট দূর করার জন্য খুব দ্রুত পুরাতন ছাত্রাবাসটি ভেঙ্গে নতুন ছাত্রাবাস নির্মাণের। সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মো: সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠানটি উচ্চ মাধ্যমিক থেকে স্নাতকোত্তরে উন্নিত হয়েছে।এখানে বহু শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।পুরাতন ছাত্রাবাসটি অপসারণ করে নতুন আরেকটি ছাত্রাবাস এবং ছাত্রীদের জন্য একটি আধুনিক হল করার অনেক প্রয়োজনীয়তা হলেও তা এখনও করা যায়নি।
প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী কলেজের পুরাতন পরিত্যাক্ত ছাত্রাবাসটি অপসারনের দাবি করে আসছে দীর্ঘ দিন ধরে। 
সরকারী হরগঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ ড.মীর মাহফুজুল হক জানান, ২০০৮ সাল থেকে বার বার চিঠি দিয়ে যোগাযোগ করা হলেও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর থেকে  নির্দেশনা না আসায় ছাত্রাবাসটি অপসারণের পরবর্তী করণীয় পদক্ষেপ নেয়া যাচ্ছে না।


খবরটি পঠিত হয়েছে ৮৫৮০ বার

ঝালকাঠি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশ
ঝালকাঠি জেলায় বাঁশ বাগানের পরিমাণ অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। এরফলে পরিবেশের
বিস্তারিত
নলছিটিতে ২৫ একর জমিতে সূর্যমুখীর
নলছিটি উপজেলার কুশংগল ইউনিয়নের শেওতা গ্রামের প্রতিদিন বিকেলে মানুষের ঢল
বিস্তারিত
ঝালকাঠির কলার কদর দেশে-বিদেশে
কলা ছোট-বড় সবারই প্রিয় একটি পুষ্টিকর খাদ্য। রোগীর বিশেষ পথ্য
বিস্তারিত
সখীপুরে কবুতরে সফলতা
টাঙ্গাইলের সখীপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড়ের দুলাল প্লাজা নামের একটি বাড়ির
বিস্তারিত
ফরিদগঞ্জে সেতু আছে, নেই রাস্তা
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১০নম্বর গোবিন্দপুর (দক্ষিণ) ইউনিয়নের নলডগী গ্রামে ৩০
বিস্তারিত
গাজনার বিল বহুমূখী প্রকল্পের কাজ
বেড়া পানি উন্নয়ন বিভাগের তত্বাবধানে সেনাবাহিনী পরিচালিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ
বিস্তারিত