ভাষা দিবস উদযাপনে আলেমদের এগিয়ে আসতে হবে

ভাষা শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় 
দান-সদকা ও অনির্ধারিত নফল ইবাদতের মাধ্যমে ভাষা দিবস উদযাপন করা যেতে পারে

আল্লাহ আমাদের যে ভাষায় কথা শিখিয়েেেছন তা হলো, আমাদের মাতৃভাষা। মাতৃভাষার স্বীকৃতি দিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের ভাষা ও বর্ণের ভিন্নতা আল্লাহর সৃষ্টি নৈপুণ্যের অন্যতম নিদর্শন।’ (সূরা রুম : ২২)। এ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীর মানুষের ভাষা ও বর্ণের ভিন্নতাকে তাঁর একটি নিদর্শন বলে আখ্যায়িত করেছেন। ভাষার জ্ঞান ও হৃদয়গ্রাহী বর্ণনায় বক্তব্য উপস্থাপন করার যোগ্যতা ও দক্ষতা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। মাতৃভাষার গুরুত্ব ও তাৎপর্য প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, ‘আমি নিজের বাণী পৌঁছানোর জন্য যখনই কোনো রাসুল পাঠিয়েছি, সে তাঁর সম্প্রদায়ের ভাষায় বাণী পৌঁছিয়েছে। যাতে সে তাদের খুব ভালো করে পরিষ্কারভাবে বোঝাতে পারে।’ (সূরা ইবরাহিম : ৪)। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) লেখেন, ‘আল্লাহর অপার করুণা, তিনি বান্দার সুবিধার জন্য নবীদের স্বজাতির ভাষায় প্রেরণ করেছেন।’ হজরত আবু জার (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মহিমান্বিত আল্লাহ প্রত্যেক নবীকে নিজ উম্মতের ভাষাভাষী করে প্রেরণ করেছেন।’ (মুসনাদে আহমাদ : ২০৯০১)। হজরত কাতাদা (রহ.) বলেন, ‘প্রত্যেক নবী তার কওমের ভাষায় কথা বলত। আমাদের নবী (সা.) কথা বলতেন আরবি ভাষায়। তাঁর মাতৃভাষা ছিল আরবি।’ (তাফসিরে মাজহারি)। 
মাতৃভাষা বাংলাকে প্রতিষ্ঠিত রাখার জন্য ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আমাদের দেশের একদল সাহসী যুবক বুকের তাজা রক্তে রাজপথ রঞ্জিত করেছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো জাতি ভাষার জন্য প্রাণ দেয়নি। একমাত্র বাঙালি জাতিই ভাষার জন্য প্রাণ দিয়ে পৃথিবীতে মাতৃভাষার সম্মান আকাশচুম্বী করেছে। তাই পৃথিবীবাসী ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে গ্রহণ করেছে। ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা আমাদের একান্ত কর্তব্য। মনে রাখতে হবে, ভাষা ও শহীদদের প্রতি ভালোবাসা যেন দিবসকেন্দ্রিক না হয়ে যায়। প্রতিনিয়ত তাদের জন্য মৌখিক ও অন্তরের দোয়া অব্যাহত থাকা চাই। 
একমাত্র দোয়া এবং দান ছাড়া অন্য কিছু পরোলকপ্রাণে শান্তি আনে না। ভাষা শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দান-সদকা ও অনির্ধারিত নফল ইবাদতের মাধ্যমে ভাষা দিবস উদযাপন করা যেতে পারে। শরিয়তের নির্ধারিত সীমায় ভাষা দিবস উদযাপনে আলেম ও ধর্মপ্রাণদের এগিয়ে আসা সময়ের দাবি।

শ্রুতিলিখন : মাওলানা আবুল হোসেন পাটওয়ারী


খবরটি পঠিত হয়েছে ১৯০০ বার

ঈদের দিন কী করব
ঈদুল ফিতর মুসলমানদের এক গুরুত্বপূর্ণ ও অনাবিল আনন্দের উৎসব।
বিস্তারিত
গরিবের ঈদ সদকায়ে ফিতর
অসহায় গরিব, ফকির, মিসকিন তথা জাকাত  পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিরাই ফিতরার
বিস্তারিত
মানবতার ঈদ
সুদীর্ঘ একটি মাস আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে সিয়াম সাধনা ও আত্মত্যাগের
বিস্তারিত
ঈদ উদযাপন ও বিধিবিধান
‘হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী
বিস্তারিত
মানুষের ভালোবাসা দোয়া নাও
হজরত বেলাল (রা.) ছিলেন ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন। তার মুখে জড়তা
বিস্তারিত
সুফি কোষ
  ‘শাওয়াল’ আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো উঁচু করা, উন্নতকরণ,
বিস্তারিত