মহাজাগতিক রহস্যের রোমাঞ্চকর রূপায়ণ

বিজ্ঞানের বহু গতিপথ

এ বিশ্বব্রহ্মা-ে মানবীয় সীমানা কতটুকু? শতাব্দী আগে এ প্রশ্নের উত্তর ছিল ‘শুধুই পৃথিবী’। কিন্তু আজ মানুষ এটাও জানে যে, সূর্যের দূরতম গ্রহ প্লুটোর সবচেয়ে বড় উপগ্রহ ‘শ্যারন’ এর ১ হাজার কিলোমিটার প্রসারিত গিরিখাতের গভীরতা ৭ থেকে ৯ কিলোমিটার! সৌরজগতে এখন একের পর এক নিজের শক্তি পরীক্ষা করছে মানুষ। যখন-তখন সূর্যভিটার যত্রতত্র ঘুরে বেড়াচ্ছে সে, যেন এটা তার নিজের ঘর!
মানুষের এ বিজয়ের খবর কার না জানাতে ভালো লাগে! ‘বিজ্ঞানের বহু গতিপথ’ বইয়ে লেখক আসিফ সেসব খবরই জানাচ্ছেন অত্যন্ত প্রাঞ্জলভাবে। পেশাদার বিজ্ঞানবক্তা হিসেবেই তার মূল পরিচিতি। এখন পর্যন্ত ২৬২টি বক্তৃতা অনুষ্ঠানের সফল উদ্যোক্তা। বিজ্ঞানভীতির এ দেশে কসমিক ক্যালেন্ডার, সময়ের প্রহেলিকা, নক্ষত্রের জন্ম-মৃত্যু, প্রাণের উৎপত্তি ও বিবর্তন, আন্তনাক্ষত্রিক সভ্যতাবিষয়ক জটিল বিষয়ে দর্শনীর বিনিময়ে বক্তৃৃতার আয়োজন করে তিনি যে ‘দুঃসাহস’ দেখিয়েছেন, তাতে তার জনপ্রিয়তা প্রমাণিত।    
২১ এপ্রিল ১৯৯৫। নারায়ণগঞ্জ শিশুকল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে কিছু শ্রোতা বসে আছেন। তরুণ বক্তা কথা বলছেন বিজ্ঞান বিষয়ে। তার আলোচনার বিষয় ‘দ্বিতীয় পৃথিবীর সন্ধানে’। এখনকার মতো বক্তৃতায় ছিল না কোনো মাল্টিমিডিয়ার ব্যবহার, ছিল না দৃষ্টিগ্রাহী কোনো সøাইডের ব্যবহার। স্রেফ আসিফের মুখের কথা শুনতে ৫০ টাকা টিকিট কেটে এসেছিলেন শ্রোতারা। তারপর আসিফের আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।  
বিজ্ঞানের বহু গতিপথ ছাড়াও এরই মধ্যে তার আরও কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে। তার মধ্যে মহাজাগতিক বাস্তবতা নিয়ে লেখা কার্ল সাগান : এক মহাজাগতিক পথিক, জ্যামিতি বিষয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ এলিমেন্টসের প্রথম চার খ-ের অনুবাদ এবং এর বিশ্লেষণ ইউক্লিড ও এলিমেন্টস, সহজ-সরল ভাষায় উপস্থাপনা মহাজাগতিক আলোয় ফিরে দেখা এবং পৃথিবীর মহাজাগতিক ভাষা। আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্বের আলোকে সময়ের সরল ব্যাখ্যায় ভবিষ্যতে যাওয়া যাবে, যাবে না পেছনে ফেরা, খালেদা ইয়াসমিন ইতির সঙ্গে মহাবিশ্ব ও নক্ষত্রের জন্ম-মৃত্যু, নুসরাত জাহানের সঙ্গে আপেক্ষিকতার তত্ত্ব আসলে কী? বইগুলো প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও পৃথিবী-বিখ্যাত ১০টি বিজ্ঞানের অনুবাদ গ্রন্থের সম্পাদনা করেছেন তিনি। পাশাপাশি অত্যন্ত জনপ্রিয় বিজ্ঞান পত্রিকা সায়েন্স ওয়ার্ল্ড সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০০৯ সালের ২২ জুলাই বাংলাদেশ থেকে দৃশ্যমান শতাব্দীর শেষ পূর্ণ সূর্যগ্রহণ অবলোকনের জন্য আসিফের উদ্যোগেই ‘ডিসকাশন প্রজেক্ট’কে সমন্বয় করে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, নালন্দা বিদ্যালয়, সমন্বিত শিক্ষা-সংস্কৃতি কার্যক্রম ফুলকী, অলিয়ঁস ফ্রঁসেস দো ঢাকা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি পঞ্চগড়ের মাধুপাড়া গ্রামে সফলভাবে লাখ মানুষের অংশগ্রহণে এ অবলোকন সফলভাবে সম্পন্ন করেন। এছাড়া বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনের ভাবনা নিয়ে নদীর বাঁকে বাঁকে : ব্লু মুন-২০১২, লিওনিদ উল্কাবৃষ্টি তারই তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়। দেশ টিভিতে প্রচারিত বিজ্ঞানবিষয়ক অনুষ্ঠান  ক্লিক ইওএ জ্ঞান এর প্রথম ২৬ পর্বের গবেষণা ও তত্ত্বাবধানে তিনি ছিলেন।
‘বিজ্ঞানের বহু গতিপথ’ বইয়ে মহাবিশ্বের মহারহস্যের সন্ধান করার চেষ্টা করা হয়েছে। সুখপাঠ্য গদ্যে সাবলীলভাবে আলোচনা করা হয়েছে মহাজাগতিক তত্ত্ব ও তথ্য। মানুষকে কি কখনও ভিনগ্রহীদের মোকাবিলা করতে হবে? কল্পবিজ্ঞানের এমন প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে এ বইয়ে। আরও আলোচনা করা হয়েছে, গ্যালাক্সির ত্রিমাত্রিক মানচিত্র, এলিয়েনের সন্ধানে, পালতোলা মহাকাশযান, মানবজাতির গ্রহণযোগ্য ভবিষ্যৎ, জুরাসিক পার্কের সন্ধান, ডায়নোসরের সভ্যতা, বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলভা-ার, বিজ্ঞান থেকে অপবিজ্ঞানের ফারাক, আগামীর ভাবনায় কল্পবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন অচেনা-অজানা বিষয়ে। বিজ্ঞান বিষয়ে অনাগ্রহী পাঠককেও আগ্রহী করে তোলার ক্ষমতা রাখে এ বই।    
আসিফ তার বিবর্তনের পথে ইতিহাসের বাঁকে গ্রন্থের জন্য ২০১৫ সালে বাংলা একাডেমি প্রবর্তিত হালিমা-শরফুদ্দীন বিজ্ঞান পুরস্কার (১৪২০-১৪২১) লাভ করেন। বর্তমানে তিনি মহাবৃত্ত নামে একটি বিজ্ঞানবিষয়ক জার্নালের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করছেন।


খবরটি পঠিত হয়েছে ৪৩২০ বার

তবুও তুমি তোমার শহরের খাঁচায়
আমি তো জীবনকে বেঁধে রাখতে পারি না। জীবন আসে মুসাফিরের
বিস্তারিত
দূরত্ব মাপিনি
আসাদ চৌধুরী দূরত্ব মাপিনি মরার র্ফুসুত্ নাই, হাতের জমানো কাজে শরীর
বিস্তারিত
তোমার সৌন্দর্যের অন্তরালের রহস্যগাথা
তোমার চোখ আমার চোখের চেয়ে অনেক অনেক সুন্দর। তোমার চোখের
বিস্তারিত
আমি জেনারেল
১ আমি জেনারেল হাবীবুল্লাহ সিরাজী। আমার কাছে সংবাদ আছে শস্য,
বিস্তারিত
প্রহর গুনি
  প্রহর! সে তো কেটেই যাবে কোনমতে। হোক তা মন্দ
বিস্তারিত
ডুবসাঁতার
শামস আরেফিন ডুবসাঁতার  মনপোড়া ঘ্রাণ কেবল নাকে আসে না আসে চাঁদের
বিস্তারিত