গ্রন্থমেলার কথা

গ্রন্থমেলার দ্বিতীয় সপ্তাহের শেষদিক ও তৃতীয় সপ্তাহ যেন ফাগুনের রঙ মেখে সেজেছিল। লেখক, পাঠক ও তরুণ-তরুণীর পদচারণায় মুখর ছিল গ্রন্থমেলার প্রতিটি প্রান্তর। আর পহেলা ফাল্গুনের পরের দিন ছিল বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। ভালোবাসা দিবস ও ফাগুনের বাতাস একসঙ্গে এসে লেগেছে গ্রন্থমেলার গায়ে। ফাগুন ও ভালোবাসা যেন হাতে হাত ধরে এসেছে গ্রন্থমেলার দ্বারে। আর তাই দর্শক ও ক্রেতার সরব উপস্থিতি গ্রন্থমেলাকে এক অনন্যরূপ দান করেছে।
বাঙালি চিরকালই উৎসবমুখী জাতি। আর অমর একুশের এ ফাল্গুনে ভালোবাসার দিন যেন সংযোজন করেছে অনন্যরূপ। কারণ এ ফাগুনে রচিত হয়েছেÑ বুকে যদি আগুন থাকে, তবে ফাগুনের কৃষ্ণচূড়ায় আগুনের প্রয়োজন নেই। তবে এতকিছুর মাঝে পাঠকের মনের খোরাক মেটাতে মেলার দ্বিতীয় সপ্তাহে এসেছে বেশ কিছু বই। বাংলা একাডেমির হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত মেলায় বের হওয়া নতুন বইয়ের সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়েছে।
নতুন আসা বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্যÑ প্রথমা থেকে প্রকাশিত আনিসুল হকের উপন্যাস ‘প্রিয় এই পৃথিবী ছেড়ে’। আকর্ষণ হিসেবে যুক্ত হয়েছেÑ হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী গুলতেকিন খানের উপস্থিতি। অবশ্য পুরো বছরটিতে তিনি আলোচিত-সমালোচিত ছিলেনÑ হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে তীব্র সমালোচনার কারণে। মেলায় এবার তার অনেক বইও বেরিয়েছে। তবে এর মধ্যে তিনি প্রমাণ করতে পেরেছেনÑ হুমায়ূন আহমেদ তাকে ইংরেজি পড়তে কিছুটা নিরুৎসাহিত করলেও তিনি ইংরেজি জানা ও বোঝার ক্ষেত্রে যথেষ্ট কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। আর তাই এবার তাম্রলিপি থেকে প্রকাশিত হয়েছে গুলতেকিন খান অনূদিত কাব্যগ্রন্থ ‘দূর দ্রাঘিমায়’। এখানে তিনি বিভিন্ন বিদেশি কবিতার অনুবাদ করেছেন ইংরেজি থেকে। মেলায় আকর্ষণ সংযোজিত হয়েছে ছোটদের বই নিয়ে। 
সবসময় ছোটদের বইয়ের প্রকাশকরা মেলায় বড় অঙ্কের ব্যবসার মুখ দেখেন। তাই বড় প্রকাশনাগুলো এবার শিশুসাহিত্যের অনেক বই করেছে। এর মাঝে ব্যতিক্রম ছিল না অবসর প্রকাশনও। এবার অবসর থেকে ফরিদুর রেজা সাগরের ‘সেরা সাত ছোট কাকু’ প্রকাশিত হয়েছে। ফরিদুর রেজা সাগর বর্তমান শিশুসাহিত্যে একটি অনন্য নামে পরিণত হয়েছেন। চ্যানেল আইয়ের সেই গোয়েন্দা কাহিনী ছোট কাকুর এবার নির্বাচিত গল্প নিয়ে সেরা সাত ছোট কাকু। বইটি ছোটদের মনে নিঃসন্দেহে আনন্দের খোরাক জোগাতে সহায়ক হবে।
সাধারণত লেখকরাই বা রাজনীতিবিদরা প্রবন্ধ ও নিবন্ধ রচনা করেন। কিন্তু এবার ফকির আলমগীর জাতীয় কিছু বিষয়ে আন্তরিকভাবে নিবন্ধ রচনা করেছেন। অনন্যা থেকে ফকির আলমগীরের ‘নির্বাচিত নিবন্ধ’ বাংলাদেশের সংস্কৃতি, গান ও ঐতিহ্যের সুন্দর রূপায়ণ করেছে। পাঠককে সত্য জানা ও জানানো একজন লেখকের দায়িত্ব। আর সেই দায়িত্ব ফকিল আলমগীর যথাযথভাবে পালনে সক্ষম হয়েছেন তার এই নির্বাচিত নিবন্ধ রচনায়। ভবিষ্যতের লেখালেখির যাত্রায় তার উপস্থিতি আরও ধারাবাহিক হবে বলে আশা করি। এরপর বলতে হয় সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক ভাইয়ের ব্যাপারে। যার লেখনীর ধার তার মৃত্যুর পরও চিরজাগুরুক হয়ে থাকবে বাংলা সাহিত্যে। যার মার্জিনে মন্তব্য পড়েÑ লেখালেখির হাতেখড়ি হয়েছে অসংখ্য লেখকের। যার পরানের গহিন ভেতর আমাদের এখনও নাড়িয়ে বেড়ায়। সেই হক ভাইয়ের গ্রন্থ বা সেই সৈয়দ শামসুল হকের ‘সীমানা ছাড়িয়ে’ এনেছে মাওলা ব্রাদার্স। সত্যিই হক ভাইহীন গ্রন্থমেলা শূন্য শূন্য মনে হয়। গ্রন্থমেলা বাংলা একাডেমি ও বাংলাদেশের লেখালেখি তাকে যেন প্রতিবিম্ব করে। 
এবারে ঐতিহ্য প্রকাশনীর স্টল একটু ভেতরে অবস্থান করলেও ভালো বইয়ের সমাহারে সমৃদ্ধ। ঐতিহ্য রবীন্দ্র রচনাবলির বিশাল সংস্করণ নিয়ে এলেও এবারে মেলায়, বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুর বাণী সংবলিত তাদের এ প্রকাশনা সত্যিই নতুন সংযোজন। বইটিতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, সততা ও নির্বাচিত রাজনৈতিক বাস্তবতার কিছু বাণী সংযোজন করা হয়েছে। নিঃসন্দেহে তা পাঠককে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে পরিচয় হতে সহায়তা করবে। এছাড়াও ঐতিহ্য বুলবুল সরোয়ারের ‘রুবাইয়াত’ প্রকাশ করেছে। রুবাইয়াত কবিতা ফার্সি সাহিত্যে শুরু হলেও ইদানীং আমরা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এর সরব উপস্থিতি দেখছি। মূলত শেখ শাদির রুবাইয়াত, তারপর মির্জা গালিবের রুবাইয়াত আমাদের ভালোলাগাকে সংক্রমিত করেছে মন থেকে মনে। হৃদয় থেকে হৃদয়ে। বিশেষ করে কলকাতার আবু সাঈদ আবদুল্লাহ গালিবের রুবাইয়াত আমাদের মোহগ্রস্ত করে। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা দেখিÑ বুলবুল সরোয়ারের ‘রুবাইয়াত’, করেছে ঐতিহ্য। 
বরাবরের মতো প্রেমের ঔপন্যাসিক বা রোমান্টিক উপন্যাসের জনক হিসেবে খ্যাত ইমদাদুল হক মিলনের বই ‘রাত দুপুরে’ প্রকাশ করেছে অনন্যা। ইমদাদুল হক মিলনের বই প্রতিবারই ভালো বিক্রি হয়। তার নুরজাহান উপন্যাসের মতো শ্রম ও মেধাঘন উপন্যাস আমরা অনেক দিন ধরে দেখছিলাম না। এবার লেখক-পাঠকের সেই মনের চাহিদা বুঝতে পেরেছেন। বুঝতে পেরেছেন বলেই এবারের অনন্য উপন্যাস লিখেছেন। তাছাড়া প্রায় প্রতিদিনই মেলায় তার উপস্থিতি, পাঠকদের অটোগ্রাফ প্রদান, ভক্তদের সঙ্গে ছবি বা সেলফিতে অংশগ্রহণ মেলায় এক অনন্য পরিবেশ সৃষ্টি করে। 
চন্দ্রাবতী প্রকাশন রুচিশীল প্রকাশনার প্রতিনিধিত্বকারী একটি প্রকাশন। মেলায় এবার এসেছে সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের ‘বিচিত্র সাদের গল্প’ বই। সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ইংরেজি সাহিত্যে অধ্যাপনা করার পরও বাংলা গদ্য সাহিত্যে তার সরব উপস্থিতি সবসময় প্রতীয়মান। তার গল্পের স্বর ও ভাষা আলাদা। কিন্তু পাঠকপ্রিয়তা কম হলেও লিখে যাচ্ছেন অবিরত। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হয়েও ভালো লেখা যায়, ভালো জানা যায়Ñ তার প্রমাণ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ শিক্ষক। এবারে বিজ্ঞান বক্তা ও বিজ্ঞান লেখক আসিফের নতুন বই এসেছে ‘বিজ্ঞানের বহু গতিপথ’। বইটি প্রকাশ করেছে আলোঘর প্রকাশনা। বইটি স্কুল-কলেজ; এমনকি যারা বিজ্ঞানমুখী চিন্তাচেতনা লালন করেন, তাদের জন্য এ বইটি পাঠ্য বলে মনে করি। বিজ্ঞানের নানা অনাবিষ্কৃত রহস্য নিয়ে লেখা সহজেই তরুণদের মন আকর্ষণ করতে পারবে। এবার পাঠক, লেখক ও প্রকাশকদের বিকিকিনি এবং সরব উপস্থিতি ভালোই হয়েছে। 


সুন্দরবনের পর্যটক প্রহরী বনদস্যু বাঘ
চিরকাল সুন্দরবনের প্রিস্টিন সৌন্দর্য বজায় রাখা ও পর্যটকের সংখ্যা সীমিত
বিস্তারিত
মুহাম্মদ ফরিদ হাসান
মনপাখির মৃত্যু নিশ^াসের ভেতর মনপাখির দীর্ঘ ওড়াউড়ি শেষে মেঘের বাসায় মুখ
বিস্তারিত
নিশীথ দাস
ডিসটেমপার লাগাও পৃথিবীর রঙ চটে যাচ্ছে  ঘা থেকে বাকল মৃত্যুগুলো জীবন
বিস্তারিত
নোবেল ও প্রকৃত সাহিত্যের জয়
ইশিগুরো তার উপন্যাস ‘দ্য রিমেইনস অব দ্য ডে’ রচনা করেন
বিস্তারিত
বিপণন
বাজার মাতাল করে নেমেছে ঢলÑ ক্রেতা ও বিক্রেতা একই লোক,
বিস্তারিত
উত্তর জানালা
আমার সুখ গেছে শালুক ফোটা   নির্জন জলাধারে মন তাই এলোমেলো অসুখের
বিস্তারিত