কবিতাবিষয়ক প্রবন্ধাবলি

কবিতা হলো সাহিত্যের উচ্চমার্গীয় শাখা। এটা একটা দার্শনিক বিষয়ও বটে। আর তাই সাহিত্যের যে কোনো বিষয়ের চেয়ে কবিতার ওপর আলোচনা আলাদা একটা গুরুত্ব পায়। এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের হাতে আসে সর্বজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষাবিদ যতীন সরকারের একটি বিশ্লেষণধর্মী গ্রন্থ ‘কবিতাবিষয়ক প্রবন্ধাবলি’। কবিতার নানা দিক নিয়ে তিনি আলোচনা করেছেন। শুধু কি কবিতা তিনি কথা বলেছেন কবিদের নিয়েও।
জীবনানন্দ দাশ বলেছিলেন, ‘সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি’। এই বক্তব্যটির দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদী মনোবিজ্ঞানের আলোকে ব্যাখ্যা করেছেন যতীন সরকার। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কেউ কেউ কেন কবি হয় এর উত্তর খুঁজতে গিয়ে লেখক পাভলভপন্থী মনোবিজ্ঞানীদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। এই আলোচনায় ধরা পড়ে নজরুল এবং জীবনানন্দের ব্যক্তিক পার্থক্য। লেখক সিদ্ধান্তে আসেনÑ কোনো প্রকৃত কবিই শেষ পর্যন্ত শুদ্ধতম কবি থাকতে পারেন না। আবার এই বইটির মধ্যে একটা নান্দনিক গদ্য চোখে পড়ে। ‘কবিতায় আর্কেডিয়া সন্ধান’ নামক এই প্রবন্ধে আর্কেডিয়া নিয়ে কথা বলতে গিয়ে লেখক যে দুইজনের প্রসঙ্গ এনেছেন তারা হলেন রফিক আজাদ এবং বশীর আল হেলাল। রফিক আজাদের ‘চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া’ পড়ে বশীর আল হেলালের যে মুগ্ধতা ছিল, সেটা উপজীব্য হয়েছে এখানে। আর্কেডিয়ার সন্ধান করেই লেখক থেমে থাকেননি, বরং তিনি কবিতাভাবনাকে আরও বিস্তৃত করেছেন। তিনি লিখেছেন আফ্রিকার কবিতার পাঠোত্তর ভাবনা, যা পাঠ করে সমৃদ্ধ হওয়ার একটা সুযোগ রয়েছে।
তবে কবিতা নিয়ে যত কথাই বলি না কেন, একটা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সেটা হলোÑ কবিতার সঙ্গে কি গণমানুষের সংযোগ ঘটছে? বিশেষত রবীন্দ্র-পরবর্তী যুগে অবশ্যই না। এ বিষয়টি নিয়ে মিশ্র আলোচনা হতে পারে। তবে এই গ্রন্থে লেখক যতীন সরকার চমৎকার একটি বিষয়ের অবতারণা করেছেন। বিষয়টির কারণ হিসেবে বলতে গিয়ে লেখক স্বীকারোক্তি দিয়েছেন ‘বাঁধতে পারিনি সাঁকো’ প্রবন্ধে। এ প্রবন্ধটিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ বলা যেতে পারে। সাঁকো বাঁধা বলতে তিনি গণমানুষের সঙ্গে কবিতার সংযোগ বা সাঁকো বাঁধার কথা বলেছেন। যেমনটা আমরা দেখেছি রবীন্দ্রনাথের মধ্যে ‘বিশ্ব সাথে যোগে’র প্রবলতর ইচ্ছা। এই প্রবন্ধে লেখক কবিতার আধুনিকতা নিয়ে কথা বলেছেন, আধুনিকতার আপেক্ষিকতা নিয়ে কথা বলেছেন। তবে যারা রবীন্দ্রনাথকে আধুনিকতার শত্রু মনে করেন, তাদের তিনি আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে আধুনিকতা শুরু হয়েছিল রবীন্দ্রনাথের হাত ধরেই। তিনি মূলত খুঁজেছেন একজন সাঁকো বন্ধনকারীকে, তিনি খুঁজেছেন সাঁকো বাঁধার উপাদান।

যতীন সরকারের এ বইটিতে আরও বেশ কয়েকটি প্রবন্ধ রয়েছে যেগুলোকে সমৃদ্ধ মূল্যায়ন বলা যায়। দিলওয়ারের কবিতার বিষয়বস্তু নিয়ে তিনি আলোচনা করেছেন। প্রেম, প্রকৃতি, স্বদেশ, সমকাল এসবই দিলওয়ারের কবিতার বিষয়বস্তু। লেখক এখানে এসব নিয়েই আলোচনা করেননি, কথা বলেছেন তার দিলওয়ারের সীমাবদ্ধতা নিয়েও। সংগীতমুখর এই জনপদে শাহ আবদুল করিমের গান সর্বকালেই জনপ্রিয় ও আলোচিত। লেখক এ বইয়ে তার গানকে আখ্যা দিয়েছেন সর্বহারার দুঃখ জয়ের মন্ত্ররূপে। এছাড়াও বাংলা ভাষার প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতীকে নিয়ে একটা গদ্য রয়েছে বইটিতে। অন্য প্রবন্ধগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্যÑ ‘আধুনিকবিষয়ক কুসংস্কার ও নজরুল বিচার’, ‘লোকায়ত বাংলার প্রজ্ঞাবান কবি পাগল দ্বিজদাস’, ‘কাব্যের অনুবাদ নিয়ে ভাবনাচিন্তা’ প্রভৃতি। এছাড়া লেখকের একটি সাক্ষাৎকারও থাকছে। বইটির মাধ্যমে পাঠক আরও একজন কবিকে জানতে পারবেন, যে কবি ভালোবাসার স্বপ্ন দেখতে দেখতে ১৯৬২ সালে উন্মত্ত সাম্প্রদায়িকতার ছুরিকাঘাতে নিহত হন। তিনি হলেন সিলেটের কবি প্রজেশ কুমার রায়। তিনি আজ বিস্মৃত। লেখক যতীন সরকার পরম মমতায় তাকে আবার তুলে এনেছেন পাঠকের সামনে। তিরিশের দশকে ‘যাত্রারম্ভ’ নামের একটি কাব্যগ্রন্থ দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন কবি প্রজেশ কুমার রায়।
সব মিলিয়ে কবিতার নানা বিষয় নিয়ে যতীন সরকারের এই গ্রন্থটির ?আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। এবারের একুশে গ্রন্থমেলায় বইটি প্রকাশ করেছে আলোঘর প্রকাশন। মূল্য ৪৫০ টাকা। প্রচ্ছদ করেছেন শতাব্দী জাহিদ।
সুদেব চক্রবর্তী


নৈসর্গ, পাহাড় ও নদীর কবি
কবি ও কথাসাহিত্যিক আফিফ জাহাঙ্গীর আলির জন্মদিন পহেলা জানুয়ারি। ১৯৭৮
বিস্তারিত
এলোমেলো
মনে করো কেউ তোমাকে ডাকেনি,  অথচ তুমি শুনতে পাচ্ছো অতল
বিস্তারিত
বুড়ি চাঁদ
সুগন্ধি রোমাল হাতে         তুমি মেপে গেলে ষাঁড়ের
বিস্তারিত
প্রেমিক হতে পারি না আজকাল
প্রেমিকার উষ্ণ চুম্বনে কৃষ্ণগৌড় ঠোঁটে  ভেসে ওঠে শোষিত মানুষের রক্তের দাগ! 
বিস্তারিত
এ মাটি
এ মাটি আমাকে দিয়েছে জীবনের যতো গান, বাতাসে রৌদ্রের ঝিলিমিলি প্রজাপতি
বিস্তারিত
নোনাজলের ঢেউ
যাবতীয় আয়োজন শেষে কত ভেঙেছি  এ নদীতে নোনাজলের মিছিলের ঢেউ  শব্দবাণে
বিস্তারিত