আলোচনায় আশি ও নব্বই দশকের কবিতা

আশির দশকের শেষ থেকে নব্বই দশকজুড়ে বিশ্বব্যাপী মিডিয়া ও বিশ্বায়নের প্রসার, পরাশক্তির উত্থান, সেনা সরকারবিরোধী আন্দোলনসহ নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন নব্বইয়ের কবিতাকে প্রভাবিত করেছে
গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টায় অনুষ্ঠিত হয় ‘আশির দশকের কবিতা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি কুমার চক্রবর্তী। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ড. মাসুদুল হক এবং ড. আমিনুর রহমান সুলতান। সভাপতিত্ব করেন কবি রুবী রহমান।
প্রাবন্ধিক বলেন, আশির দশকের কবিদের হাতে এসব পরিবর্তন ভাবনার আবির্ভাব ঘটেছিল যা ছিল আগের কালপর্বের কবিতাচর্চার চেয়ে ভিন্ন, অভিনব ও মৌলিক একটি ঘটনা। কেননা তা বাতিল বা অবজ্ঞা করেছিল আগের কবিতাকরণকৌশলকে এবং ভাবনাকেও; চেষ্টা করেছিল নিজস্ব ও প্রতীকায়ন এবং অভিপ্রায়কে আবিষ্কার করতে। বাংলাদেশের পঞ্চাশ, ষাট, সত্তরের কবিতায় পশ্চিমি আধুনিকতাবাদ, পরাবাস্তববাদ ও ক্ষেত্রবিশেষে অস্তিত্ববাদী সংকরায়ণ ও অতিচর্চার যে অনুকরণসর্বস্ব প্রচেষ্টা ছিল, আশির দশক এসব পেন্ডোরাবাক্স থেকে বেরিয়ে এসে কবিতার নতুন পরিচয় সন্ধানে রত হয়েছিল। সম্ভবত এ অন্বেষণটি এখনও স্বতশ্চল আমাদের কবিতার বদ্বীপে, কেননা এই ধারণাটি প্রজন্মান্তরে এখনও চর্চিত। 
আলোচকরা বলেন, আশির দশকের কবিরা স্বভাবগতভাবে, মননগতভাবে এবং চৈতন্য দিয়ে কাব্যগঠনের ধারাটিকে সত্তর দশক থেকে পৃথক করে তুলেছিলেন। সত্তরের কবিতার সেøাগানধর্মিতা আশির দশকে আর পাওয়া যায় না। বাংলার লোক অনুষঙ্গ ও নাগরিক জীবনযাত্রা একত্র করার প্রবণতা দেখা যায় এ সময়ের কবিতায়। প্রাতিষ্ঠানিকতার বাইরে বেরিয়ে এসে ছোট কাগজকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের ভেতর দিয়ে পরিবর্তিত জীবনধারার সঙ্গে সংগতি রেখে আশির দশকের কবিরা তাদের নিজস্ব কবিসত্তাকে প্রকাশ করেছেন। 
সভাপতির বক্তব্যে কবি রুবী রহমান বলেন, আমাদের ভাবনার জগতে রাজনীতির যে বিস্তার রয়েছে তার ছায়াপাত ঘটেছে আশির দশকের কবিতাতেও। মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে বাংলাদেশের যে রাজনৈতিক পটভূমি তার সঙ্গে আশির দশকের কবিতা বিজড়িত। আশির দশকের কবিদের তৈরি পথ দিয়ে পরবর্তী প্রজন্মের কবিরা বাংলা কবিতার ধারাকে এতদূর নিয়ে এসেছে। 
একই মঞ্চে ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টায় অনুষ্ঠিত হয় নব্বইয়ের দশকের কবিতা শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি মোস্তাক আহমাদ দীন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ড. শহীদ ইকবাল এবং ড. এএম মাসুদুজ্জামান। সভাপতিত্ব করেন কবি সাজ্জাদ শরিফ। 
প্রাবন্ধিক বলেন, বিষয়-বৈচিত্র্য নিয়েই নব্বইয়ের দশকের কবিতা, নব্বইয়ের বিভিন্ন কবির কণ্ঠে সত্তরের মতো যৌথ শব্দস্রোতে সম্মিলিত চরণসজ্জায় কিংবা আশির দশকের মতো মিথের ব্যবহারে শুধু কালের কথা উঠে আসে না; কবিতা এখন হয়ে ওঠে আত্ম-অনুভূতি ও সত্তা-উপলব্ধির ব্যঞ্জনাগর্ভ স্বরগ্রাম। নব্বইয়ের দশকের পর আরও দেড় দশক অতিক্রান্ত, দশকের অনেক কবি এখনও সক্রিয়, শুরুর দিকে বিচ্ছিন্নতা ও অস্থিরতা কাটিয়ে তারা এখন স্থিতধী ও পরিণত, তাই তাদের নতুন কবিতা এখন আরও বেশি পাঠকদের আকৃষ্ট করে চলছে। 
আলোচকরা বলেন, বিগত চার দশকের অভিজ্ঞতা সঞ্চিত নব্বই দশকের কবিদের মনন, মেধা ও চিন্তায় বহু স্বরের সম্মিলন ঘটেছে। কবির মনের অন্তর্গত ভাব, ইঙ্গিতময়তা ও প্রতীকের মাধ্যমে প্রকাশের প্রবণতা দেখা যায় এ সময়ের কবিতায়। ফলে বস্তুর চেয়ে তার প্রতিভাস বা চেতনাকে ধারণ করার চেষ্টাই বেশি দেখা যায়। বিষয়বস্তুর গভীরতর স্তরে পৌঁছানোর জন্য অনেক কবিই বাস্তব জগৎ থেকে সরে গিয়ে পরাবাস্তব জগতে প্রবেশ করেছেন এবং কবিতাকে অবচেতনলোকের দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন। 
সভাপতির বক্তব্যে কবি সাজ্জাদ শরিফ বলেন, আশির দশকের শেষ থেকে নব্বই দশকজুড়ে বিশ্বব্যাপী মিডিয়া ও বিশ্বায়নের প্রসার, পরাশক্তির উত্থান, সেনা সরকারবিরোধী আন্দোলনসহ নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন নব্বইয়ের কবিতাকে প্রভাবিত করেছে। আশির দশকের কবিতার মূল প্রবণতাগুলোর সম্প্রসারণ ছাড়াও নব্বইয়ের দশকে দেখা যায় শ্লেষাত্মক কবিতার বিকাশ এবং বাক্যের স্বাভাবিক গঠন কাঠামো ভেঙে অসম্পূর্ণ বাক্য তৈরির প্রয়াস। ইঙ্গিতময় ও সংবেদনশীল নব্বই দশকের কবিতা বিষয়বৈচিত্র্যের কারণে আত্মউপলব্ধির একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে।


নৈসর্গ, পাহাড় ও নদীর কবি
কবি ও কথাসাহিত্যিক আফিফ জাহাঙ্গীর আলির জন্মদিন পহেলা জানুয়ারি। ১৯৭৮
বিস্তারিত
এলোমেলো
মনে করো কেউ তোমাকে ডাকেনি,  অথচ তুমি শুনতে পাচ্ছো অতল
বিস্তারিত
বুড়ি চাঁদ
সুগন্ধি রোমাল হাতে         তুমি মেপে গেলে ষাঁড়ের
বিস্তারিত
প্রেমিক হতে পারি না আজকাল
প্রেমিকার উষ্ণ চুম্বনে কৃষ্ণগৌড় ঠোঁটে  ভেসে ওঠে শোষিত মানুষের রক্তের দাগ! 
বিস্তারিত
এ মাটি
এ মাটি আমাকে দিয়েছে জীবনের যতো গান, বাতাসে রৌদ্রের ঝিলিমিলি প্রজাপতি
বিস্তারিত
নোনাজলের ঢেউ
যাবতীয় আয়োজন শেষে কত ভেঙেছি  এ নদীতে নোনাজলের মিছিলের ঢেউ  শব্দবাণে
বিস্তারিত